(20) Graphites (গ্রাফাইটিস)

♣ সমনামঃ ব্ল্যাক-লেড, গ্র্যাফাইট, সূর্মা।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, টিউবারকুলার, সিফিলিটিক।
♣ সাইডঃ বামপাশ, ওপরে ডানপাশ নিচে বামপাশ, ডান থেকে বামে।
♣ কাতরতাঃ শীতকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ জৈব উত্তাপের অভাব। যে সব মহিলারা মোটা হতে থাকেন, যারা দিনের পর দিন কোষ্টকাঠিন্যে ভোগেন, যাদের ঋতুস্রাব দেরিতে হওয়ার ইতিহাস থাকে তাদের পক্ষে উপযোগী। সরল-সোজা ব্যক্তি। সব বিষয়ে অত্যন্ত সাবধানতা অথচ ভীতু এবং বিষাদগ্রস্ত, সর্বদা মৃত্যুচিন্তা করে। গীতবাদ্যে কান্না উপস্থিত হয়।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ মন, পরিপাকতন্ত্র, মূত্রনালি, জননেন্দ্রিয়, জরায়ু, রক্ত সঞ্চালন, চামড়া, লসিকাগ্রন্থি, সন্ধিস্হল, শৈষ্মিক ঝিল্লি, গ্রন্হি, ভাঁজের জায়গা, কান, কানের পেছনে, সঙ্কোচন সন্ধি, বহিরাঙ্গ, নখ।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে – উদ্ভেদ থেকে ক্ষরিত রস মোটা, মধুর মতো তরল, এমন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উদ্ভেদ শরীরে যেখানেই হোক না কেন গ্র্যাফাইটিস তার একমাত্র রিমেডি।
♣সারসংক্ষেপঃ জৈব উত্তাপের অভাব স্থুলতা ও কোষ্ঠাবদ্ধতা। ফাটা চামড়া ও চটচটে রস। অবিরাম অনুভূতি, যেনো মুখমন্ডলে মাকড়সার জাল রয়েছেে। রাতে, ঠান্ডা লাগালে পরে, সাধারণভাবে ঠান্ডায়, ঋতুস্রাবের প্রারম্ভে, ঋতুস্রাবকালে ও ঋতুস্রাবের পরে ও গরম ঘরে বাড়ে। আহারের পরে, গরম পানাহারের, শব্দে, চলন্ত রেল গাড়িতে ( বধিরতা) ও ঢেঁকুর ওঠলে কমে। শঙ্কা ও সতর্কতা, আলস্য, উত্তেজনাপ্রবণতা, মানসিক অবসাদ ও বিষন্নতা, কাঁদে। মাছ, মাংস, মিষ্টি, লবণ ও সংগীতে অনিচ্ছা। হাঁচির কারণে চোখের পাতা খোলা রাখে বা চোখের পাতা খোলা রাখলে হাঁচি হয়।
♣ অদ্ভূদ লক্ষণঃ রোগী গোলমালে বা গাড়িতে চড়ায় ও গড়গড় শব্দে ভাল শুনতে পায়।
♣ অনুভূতিঃ ১) যেনো মুখমন্ডলে মাকড়সার জাল রয়েছেে। ২) টেনে লম্বা করার ও ঠান্ডা লাগার অনুভূতি।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) হাঁচির কারণে চোখের পাতা খোলা রাখে বা চোখের পাতা খোলা রাখলে হাঁচি হয়। ২) সহবাসের পর পায়ের শীতলতা।
< বৃদ্ধিঃ প্রাতে, রাতে, মধ্য রাতের আগে, বায়ু প্রবাহে, খোলা বাতাসে, ঠান্ডা বাতাসে, ঠান্ডা লাগালে, ঠান্ডা লাগালে পরে, আর্দ্র আবহাওয়ায়, ঠান্ডাস্থানে প্রবেশ করলে, শরৎকালে, উত্তাপে, সঙ্গমকালে ও পরে, সাধারণভাবে ঠান্ডায়, আহারের আগে ও আহারকালে, ঠান্ডা খাদ্যে, মিষ্টান্নে, উপবাসকালে, ঝাঁকুনি লাগায়, ব্যথাযুক্ত পাশে শুলে, ঋতুস্রাবের প্রারম্ভে, ঋতুস্রাবকালে ও ঋতুস্রাবের পরে, সঞ্চালনে, নিদ্রাকারক ওষুধে, ঘুমের আগে, ঘুমের শুরুতে, ঘুমের সময়ে, অনাচ্ছাদনে বাড়ে, হাঁটলে বাড়ে, বায়ুতে, বিছানায় শুলে, গরম ঘরে, আলোতে,ঠান্ডায়, ঠান্ডা ঝাপ্টায়, রাতে, বিছনার গরমে, সঙ্গীতে, গরম, গরম আবহাওয়ায়, উদ্ভেদ অবরুদ্ধে, গোসলে।
> হ্রাসঃ আহারের পরে, গরম খাদ্যে, গরম পানীয়ে, শুয়ে থাকলে, শুয়ে থাকার পরে, চুম্বক শক্তিতে, ঘামের পরে, মুক্তবাতাসে, বিছানায় শুলে, মদে, চাপে, ঠান্ডা প্রয়োগে, ভ্রমণে পর, বিশ্রামে, চলন্ত রেল গাড়িতে, গরম দুধ পানে, স্পর্শে, খাবার পর, ঢেঁকুর ওঠলে, অন্ধকারে, শব্দে, চলন্ত রেল গাড়িতে ( বধিরতা), শরীর আবৃত রাখলে।
♣ কারণঃ অতিরিক্ত রতিক্রিয়া অথবা শুক্রক্ষয়, জৈব তরল পদার্থের ক্ষয়, দুঃখ, বিরক্তি, চামড়ার উদ্ভেদ অবরুদ্ধে, ভয়, শোক, ক্ষুধা, ভারি বোঝে তোলা, পেশি ও কন্ডুরাগুলোতে চাপ লাগার কুফল।
♣ ইচ্ছাঃ ঠান্ডা পানীয়ে, গরম দুধ, ঘরে শান্ত হয়ে থাকতে।
♣ অনিচ্ছাঃ মাছ, মাংস, মিষ্টি, লবণ, সংগীত ও সংগমে ( পুরুষের তুলনায় মহিলাদের অধিক) অনিচ্ছা, খাদ্যে অরুচি।
♣ অসহ্যঃ ফুলের গন্ধ, সংগীত।
♣ শত্রুভাবাপন্নঃ আর্স, আয়োড, লাইকো, রাস।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ সুরাসার, অ্যাকোন, আর্স, নাক্স-ভ, চায়না।
♣ এটি ক্রিয়ানাশকঃ আর্স, আই, রাস।
♣ সতর্কীকরণঃ ক্ষয়দোষযুক্ত, রোগীর ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন ( সালফ, ফস, সাইলি)। গভীর অ্যান্টি-সোরিক।
♣ প্রয়োগঃ ১) গ্র্যাফাইটিস পুনঃ পুনঃ প্রয়োগ কদাচিৎ করতে হতে পারে। এমনকি মধ্যবর্তী কোনো ওষুধ ব্যবহারের পরেও।— ডা. এইচ সি মরো।
২) চর্মরোগের ইতিহাস বর্তমান থাকলে, যে কোনো রোগলক্ষণে গ্রাফাইটিসের কথা একবার চিন্তা করা প্রয়োজন।

= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা গ্র্যাফাইটিস প্রয়োগ করতে পারবো।