আর্সেনিক আলবাম সম্বন্ধে কয়েকটি কথা

করোনা ভাইরাস উপদ্রব সহ সব ধরনের মহামারী, ডেঙ্গু, SARS (মারাত্মক তীব্র শ্বাসপ্রশ্বাস সিন্ড্রোম), Prophylaxis (প্রতিষেধক)এর জন্য —আর্সেনিক অ্যালবাম- 200, বাঞ্ছনীয়

আজ যে আর্সেনিক এ্যালবাম ৩০, কেনার জন্য হাজার হাজার লাখো লাখো মানুষ ঘুরছে, দৌড়াচ্ছে,
এই সূক্ষ্ম, ডাইনামিক আর্সেনিক ঔষধটি কিন্তু হ্যানিমান ক্রুড আর্সেনিক থেকে তৈরি করেছিলেন এবং প্রুভিং করেছিলেন ১৮০৫ সালের আগেই, কিন্তু ১৮০৫ সালে তিনি ল্যাটিন ভাষায় প্রথম যে মেটিরিয়া মেডিকা বই পাবলিশ করেছিলেন সেই বই– ” ফ্রাগমেন্টা ডি ভিরিবুস মেডিকামেন্টারাম পজিটিভিস শিবে ইন স্যানো করপরী হিউম্যানো অবজারভেটিস ” বইয়ে আর্সেনিক দেন নি, এমন কি ১৮১১ সালে যখন মেটিরিয়া মেডিকা পিউরা পাবলিশ করেন, সেই বইয়েও তিনি আর্সেনিক ঢুকান নি, অনেক পরে ১৮১৬ সালে তিনি মেটিরিয়া মেডিকা পিউরার দ্বিতীয় ভলিউমে আর্সেনিক ঢোকান, ফলে আর্সেনিক ক্রুড বিষ থেকে তৈরী হওয়া হোমিওপ্যাথিক সূক্ষ শক্তিকৃত ঔষধ দীর্ঘ ১১ বছর ধরে মানব কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।
কারণ ? কারণ—- ভয়, কিসের ভয়?
১৮১০ সালে অর্গানন বই বেরোনোর পর থেকে তার উপরে যে সব শারীরিক ও মানসিক আক্রমণ চলছিলো, হোমিওপ্যাথি নিয়ে যা সব চক্রান্ত চলছিলো, তখনকার অর্থোডক্স চিকিৎসকরা যেভাবে তার পিছনে লেগেছিলো, তাতে দূরদর্শী হ্যানিমানের মনে হয়েছিল —-আর্সেনিকের কথা শুনলে তাকে “পয়জন ডক্টর”, বলে আরও বিদ্রুপ ও বিব্রত করবে, অর্থোডক্সরা সাধারণ লোকজনদের ক্ষেপিয়ে দেবে এবং নানা রকম সমস্যায় ফেলবে, তবু শেষ রক্ষা হয় নি, জার্মানীর ডাঃ রথ নামে একজন আর্সেনিক মেটিরিয়া মেডিকা পিউরাতে দেওয়ার সাথে সাথেই কিছুটা বাঁদরনাচ নেচেছিল।
১৮১৬ সালের পরে অবশ্য ১৮২৮ সালে হ্যানিমান পুনরায় তার ক্রনিক ডিজিজ বইয়ে আর্সেনিক ঢুকিয়েছিলেন, সেইজন্য ক্রনিক ডিজিজে আর্সেনিক সম্মন্ধে লিখতে প্রথম লাইনটাই আছে তার—-
As I write down the word Arsenic, momentous memories seize upon my soul,
(অার্সেনিক সম্মন্ধে লিখতে বসলেই স্মৃতির সরণী আমার আত্মাকে, মননকে বড্ড ধাক্কা দেয়),
আর আজ করোনা ভাইরাস মোকাবিলার জন্য আর্সেনিককে প্রোফাইলেকটিক মেডিসিন হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বটে, কিন্তু এর আগে ১৮৪৯ সালে কলেরার প্রফাইলেকটিক হিসাবে এডিনবার্গ শহরের ডাঃ রাসেল, এবং লিভারপুল শহরের ডাঃ ড্রিসডেল আর্সেনিককে কলেরার মহান প্রতিষেধক এবং প্রতিকার মূলক ঔষধ হিসাবে বিবৃতি দিয়েছিলেন ও ব্যবহার করেছিলেন,

আর্সেনিক এ্যালবাম মানেই তো-
★ মৃত্যুভয় ও উৎকন্ঠা খুব বেশী,
★ পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন থাকে, বা থাকতে চায়,
★ খুব খুঁতখুঁতে স্বভাবের,
★ অত্যাধিক মানসিক অস্থিরতা,
★ খুব দূর্বলতা,
★ খুব পিপাসা, বারে বারে জল খেতে চায়, কিন্তু একবারে বেশী খায় না,
★ দুপুরের দিকে এবং মাঝরাতে কষ্টগুলির সাধারণতঃ বৃদ্ধি হয়,
★ শীত বেশী, গরমে সব কষ্টের উপশম হয়, তবে মাথার ব্যাপার হলে ঠান্ডায় আরাম,
★ সকল ডিসচার্জ বা স্রাব ভীষণ দূর্গন্ধ,
★ শরীরে জ্বালা, বা সকল ব্যথার চরিত্র জ্বালাকর, যা গরমে বা গরম সেঁকে ভাল লাগে,
★ রোগের ব্যাপারে খুব হতাশ হয়ে পড়ে, মনে হয় সে আর বাঁচবে না, বাড়ীর লোকদের বলে তার জন্য বৃথা খরচ করে আর লাভ নেই, টাকাটা রাখলেই বরং তাদের পরে কাজে লাগবে,
ব্যাস, মেটিরিয়া দখল করতে পাতার পর পাতা লাগে না,
উপরের সিমপটমসগুলি হৃদয়ঙ্গম হলে আর্সেনিক সিলেকশন করতে অসুবিধা হয় না,

আর্সেনিকের একটি প্রধান লক্ষন কি?
আগেও বলেছি—
★ মৃত্যুভয়,
★ তীব্র উৎকন্ঠা,
★ তীব্র মানসিক অস্থিরতা,
★ মাঝদিবা বা মাঝরাতে বৃদ্ধি,
★ শীতকাতরতা,
★ অল্প অল্প করে বারবার জলপান,
★ জ্বালা, গরম কয়লার মতন শরীরে বা এ্যাফেকটেড অংশে জ্বালা,
★ নিদারুন দূর্বলতা,
এই প্রত্যেকটা সিমপটমের উপরে আরও ২/১ টা কোন না কোন ঔষধ আছে, মানে পাওয়া যাবে,
কিন্তু যে সিমপটমটা আর্সেনিকের একেবারে নিজস্ব, আর কোন ঔষধই নেই
(Only and only to Arsenic Alb),
তা হল—
Great Prostration,
with rapid sinking of the vital forces,
may cause fainting.
শুধু Prostration নয়,
Great Prostration নয়,
Great prostration with rapid sinking of the vital forces,
which may cause fainting,
নিদারুন দূর্বলতার সাথে জীবনীশক্তি সংঘাতিকভাবে লোপ পেয়ে যায়, মনে হয় যেন রোগী এখনিই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে,
তার মানে Weakness বা Prostration — Out of sufferings,
★এই দূর্বলতা ও জীবনীশক্তির হ্রাস- তার রোগের সাথে মানায় না,
★এই দূর্বলতা ও জীবনীশক্তির হ্রাস- এই রোগে তার হওয়া উচিত নয়,
★এই দূর্বলতা ও জীবনীশক্তির হ্রাস এই রোগে হয়, এমন কথা কোন প্রাকটিস অব মেডিসিনে বলাও নেই,
★ এ এক বিষম দূর্বলতা, অসহনীয় দূর্বলতা, জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনের দূর্বলতা, যেমন—
★ সামান্য ১ দিনের জ্বরে রোগী মাথা তুলতে পারছে না, কথা বলতে পারছে না, সোজা হয়ে বসে থাকতে পারছে না, মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে, — এরকম তো কারুর হয় না, এ রকম তো হওয়ার কথা নয়,
★ দুই/তিন বার পাতলা পায়খানার পরে রোগী কাঁপছে, দূর্বলতায় চোখে অন্ধকার দেখছে, তার হাতের ও পায়ের আঙুলে খিল ধরছে, ডাকলে সে সাড়া দিচ্ছে না, মনে হচ্ছে এখুনি বোধ হয় সে মারা যাবে, এখুনি মনে হয় তার জীবনদীপ নিভে যাবে, এরকম ত সাধারণত কারুর হয় না,
তাই বলা হচ্ছে — সাংঘাতিক বা নিদারুণ দূর্বলতা, যে দূর্বলতা অঙ্কে মেলে না, যে দূর্বলতা অতি দ্রুত জীবনীশক্তির পারদকে একেবারে নীচে নামিয়ে দেয়, যে দূর্বলতা রোগীকে নিস্তেজ ও মৃতবৎ করে দেয়,
ডাঃ নরেন ব্যানার্জী হেডিংয়ে নিদারুন দূর্বলতার সাথে জীবনীশক্তির এই সাংঘাতিক বিপর্যয় বলেন নি কিন্তু দূর্বলতা বিশ্লেষণ করার সময় সামান্য উদাহরণ দিয়েছেন।
ডাঃ হেনরি এ্যালেন তার ক্লাসিক বই কিনোটস অব দ্য লিডিং রেমিডিস বইয়ে আর্সেনিকের ছবি আঁকতে গিয়ে একেবারে প্রথমেই লিখেছেন—
★ Great Prostration,
★with rapid sinking of the vital forces,
★ fainting.
সামান্য ব্যাপারেই, সামান্য রোগে, সামান্য ভোগান্তিতেই এক নিদারুন দূর্বলতা রোগীর জীবনীশক্তিকে পরাভূত করে তাকে শুইয়ে দিতে পারে, বা নিস্তেজ করে দিতে পারে, যা কোন হিসাবে মেলে না —
কেন এমন হল, বা হচ্ছে,
— এই সিমপটম সমগ্র মেটিরিয়ার মধ্যে আর কোন ঔষধেই নেই,
জেলসিমিয়ামে রোগের সাথে দূর্বলতা থাকে বটে, তবে সে দূর্বলতা এমন মারণ দূর্বলতা নয়, এমন নিদারুন দূর্বলতা নয়, তার বড়জোর একটু ঘুমঘুম ভাব থাকে, সেখানে তাই কেউ নিদারুন দূর্বলতার সাথে জীবনীশক্তির সাংঘাতিক বিপর্যয় লেখেনি, লেখেনি— Great Prostration with rapid sinking of the vital forces,

—– আমাদের এক সহকর্মীদের মতামত,
১) গত ১২ বছরে হোমিওপ্যাথি ও মানব স্বাস্থ্যের ব্যাপক গবেষণায়, আমি মেসেনটেরিক গ্রন্থি ও লিম্ফটিক ড্রেনেজের কাজ ও স্বাস্থ্যের উপর মনোযোগ দিয়েছি । যেহেতু আমি জীবাণু তত্ত্ব গ্রহণ করি না, আমি অনুভব করি যে শরীরের সমস্ত রোগ শরীরের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ সঞ্চালন, রক্ত সঞ্চালন, লিম্ফটিক নিষ্কাশন, হজম এবং এক্সক্রিটরি অঙ্গের ফাংশন সহ ।
দয়া করে আমাদের গবেষণা ও ক্লিনিকাল অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ গতিবিদ্যা হোমিওপ্যাথি সফটওয়্যার থেকে নেওয়া হয়েছে ।
২) আমি আমার আর্সেনিকাম অ্যালবামের সুপারিশ শুরু করছি অধিকাংশ মহামারীর জন্য প্রফিল্যাকটিক হিসেবে, এর কার্যকলাপের উপর ভিত্তি করে মেসেনটেরিক গ্রন্থিগুলোর চিকিৎসা এবং যক্ষ্মা চিকিৎসার জন্য ।
৩) যেহেতু সারা বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ অতিরিক্ত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার করেছে, যা শরীরের মধ্যে সব ধরনের সঞ্চালন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, এই কারণেই আমি রুব্রিক বেছে নিয়েছি – ঔষধের পর নেশা, এবং আর্সেনিকাম অ্যালবাম আলপ্যাথিক বিষাক্ত প্রভাব কভার করে শরীরের উপর ড্রাগ ।
৪) আর্সেনিকাম অ্যালবাম ঘটনা যক্ষ্মা এর প্রতিকার, যেহেতু আমাদের অধিকাংশই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় গত ৩-৪ প্রজন্মের মধ্যে যক্ষ্মা বা মারাত্মক শ্বাসপ্রশ্বাসের রোগের পারিবারিক ইতিহাস আছে ।
৫) আর্সেনিকাম অ্যালবাম, ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রতিকার হওয়ার পাশাপাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জার সময় বা পরে নিউমোনিয়ার প্রতিকার, এবং, করোনা ভাইরাসের বর্তমান মহামারীর জন্য রিপোর্ট করা লক্ষণ ইনফ্লুয়েঞ্জা অভিন্ন, কিন্তু মারাত্মক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া সম্ভাবনা নিয়ে, আর্সেনিকাম অ্যালবাম এই সব লক্ষণ কভার করে ।
৬). আর্সেনিকাম অ্যালবাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে গলা ব্যথা প্রযোজ্য আমার গবেষণা এবং হোমিওপ্যাথি অধ্যয়নের উপর ভিত্তি করে, এগুলো আমার prophylaxis জন্য সুপারিশ ।
সুতরাং, আমি আমার সকল হোমিওপ্যাথিক সহকর্মীদের বিনীতভাবে অনুরোধ করছি দয়া করে আমার সুপারিশ পর্যালোচনা করুন এবং আপনার জ্ঞান এবং হোমিওপ্যাথি অনুশীলনের উপর ভিত্তি করে জটিল পর্যালোচনা দিন ।
নোট —- এটি হোমিওপ্যাথিক দর্শন এবং রুব্রিকস এর উপর ভিত্তি করে গবেষণা, এটি কোন চিকিৎসার সুপারিশ নয়, এটা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের তথ্যের জন্য, যে কোন সংক্রামক রোগ থেকে যে কোন চিকিৎসা বা সুরক্ষার জন্য,
মন্তব্য, আলোচনা, acceptibility জন্য পোস্ট করা হয়েছে, হোমিওপ্যাথিক ভ্রাতৃত্ব থেকে,

—– ডঃ রাবিন বর্মন,