আর্সেনিকাম এল্বাম (Arsenicum Album)

Arsenicum Album (আর্সেনিকাম এল্বাম)
১: সমনাম: সাদা অর্সেনিক, এসিডাম আর্সেনিকাম, অর্সেনিয়াম এসিড, অর্সেনিক ট্রাই অক্সাইড।
২: উৎস: খনিজ।
৩: প্রুভার: ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান, ডা. হেরিং, ডা. ব্ল্যাক, ডা. রথ।
৪: ক্রিয়াস্থল : কিডনি, রক্ত, হৃদপি-, রক্ত সঞ্চালন, যকৃত, ফুসফুস, স্নায়ু, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি, মেমব্রেন।
৫: ঔষধের নিজস্ব কথা:
১ম কথা: নিদারুণ দুর্বলতা, অস্থিরতা ও মৃত্যুভয়।
২য় কথা: মধ্যদিবা বা মধ্যরাতে বৃদ্ধি কিংবা মধ্যদিবা এবং মধ্যরাতে বৃদ্ধি।
৩য় কথা: প্রবল পিপাসা সত্ত্বেও ক্ষণে ক্ষণে স্বল্প পানি পান এবং পানি পান মাত্রই বমি।
৪র্থ কথা: জ্বালা ও দুর্গন্ধ।
৬: মানসিক লক্ষণ:
চরিত্র: সান্তনায় বৃদ্ধি, ধনলিপ্সা-(৩), লোভী-(৩), কটুভাষী, লাজুক, অসন্তুষ্ট, সন্দেহযুক্ত-(৩), অভিসম্পাত দেয়, হিংসুক, বোকার ন্যায় ব্যবহার, ছুড়ে ফেলে জিনিসপত্র, ছিদ্রান্বেষী (৩), প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না, ঘৃণাপরায়ণ, খুঁতখুঁতে-(৩), অপরের মুখে থুতু দেয়। চমকে ওঠা: ঘুমের মধ্যে। ভ্রান্ত বিশ্বাস: ভুলে যায়। কথা: অসংলগ্ন, বিড়বিড় করে। ক্রন্দন: ঘুমের মধ্যে। ভয়: সাপের, মৃত্যুর, ভূতের। ইচ্ছা: হত্যা করার, চুরি করার, দংশন প্রবৃত্তি-(৩) বিরূপ ভাব: স্ত্রীর প্রতি।
৭: জিহ্বার লক্ষণ:
১ম গ্রেড: সাদা, বাদামি, লাল, কিনারাদ্বয় লাল, প্রান্ত লাল, শুষ্কতা, খাঁজপড়া, ফাটলযুক্ত।
২য় গ্রেড: কালো, স্ফীতি, জিহ্বাকণ্টক খাড়া হয়ে থাকে, মসৃণ চকচকে বার্নিস করার ন্যায়, চিকন, ম্যাপের মতো তালি তালি।
৩য় গ্রেড: হলদে, মূলদেশ হলদে, কম্পন, পুরু অনুভূতি।
৮: পার্শ্ব:
১ম গ্রেড: ডানে, বামে।
৩য় গ্রেড: একপাশে, ডানের পর বামে, বামের পর ডানে।
৯: গঠন:
১ম গ্রেড: শীর্ণতা, শিশুদের শীর্ণতা।
২য় গ্রেড: মেদ প্রবণতা।
১০: মল:
১ম গ্রেড: ভুক্তদ্রব্যযুক্ত, দুর্গন্ধ।
২য় গ্রেড: কঠিন শ্লেষ্মাযুক্ত বা পিচ্ছিল, নিষ্ফল মলবেগ ও কুন্থন।
৩য় গ্রেড: গুটি গুটি, বৃহৎ।
১১: মূত্র:
জ্বালা: মূত্র ত্যাগকালে। বর্ণ: হালকা হলুদ। গন্ধ: দুর্গন্ধ। তলানি: শ্লেষ্মা।
১২: শয়ন ও নিদ্রা:
১ম গ্রেড: নিদ্রাহীনতা, ঘুম ঘুম ভাব।
২য় গ্রেড: গভীর নিদ্রা, অতৃপ্তিকর নিদ্রা, বসে বসে ঘুমায়।
৩য় গ্রেড: উপুড় হয়ে, মাথার নীচে হাত রেখে ঘুমায়, চিৎ হয়ে, কুকুরর ন্যায় কুণ্ডলী হয়ে।
১৩: স্বপ্ন:
১ম গ্রেড: দুর্ঘটনা সম্বন্ধে, উৎকণ্ঠাকর, মৃতব্যক্তি, কষ্টকর অবস্থা, ভীতিকর।
২য় গ্রেড: বিপদ, বিব্রত হওয়ার, অগ্নির, দুর্ভাগ্যের, বিষাদময়, ঝড়ের, বজ্রের সহিত ঝড়ের, বিরক্তি উৎপাদক, পানির।
৩য় গ্রেড: প্রণয় সম্পর্কিত, কালো মূর্তি, বিড়াল, জাগ্রত হওয়ার পর নিদ্রা গেলে পূর্ববর্তী স্বপ্নই অপ্রতিহতভাবে চলতে থাকে, অন্ধকারের, মৃত্যু, কঠিন পরিশ্রম করার, অবাস্তব ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নের, সুখকর, কেউ ভয় দেখাচ্ছে, সুস্পষ্ট বা সজীব, পানি হতে বিপদের।
একক লক্ষণ: কালো ভূত-প্রেতের, কালো পানির।
১৪: ঘর্ম:
১ম গ্রেড: প্রভূত ঘর্ম, ঠাণ্ডা ঘর্ম, ঘর্মে বৃদ্ধি।
৩য় গ্রেড: আক্রান্ত অঙ্গে।
১৫: স্নানে:
২য় গ্রেড: আক্রান্ত অঙ্গে জলে উপশম।
৩য় গ্রেড: উপশম।
১৬: কাতরতা:
১ম গ্রেড: শীতকাতর।
১৭: পিপাসা:
প্রকৃতি: পিপাসা-(৩), জ্বালাকর,তীব্র-(২), অত্যধিক-(৩), অদম্য-(৩)। শীতাবস্থার : পূর্বে-(৩), সময়-(১), পরে-(৩) জ্বর: জ্বরের সময়-(৩)
ঘর্ম: ঘর্মের সময়-(৩)
পরিমাণ: বেশী করে-(৩), বেশী করে পুনঃপুন-(১), অল্প অল্প করে-(৩), বার বার অল্প অল্প-(৩)
পিপাসাহীনতা: পিপাসাহীনতা-(২), জ্বরের সময়-(২)
১৮: ক্ষুধা:
১ম গ্রেড: বর্ধিত, অভাব
২য় গ্রেড: খাদ্যে অনীহা ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও
৩য় গ্রেড: সামান্য আহারেই পরিতৃপ্তি।
একক লক্ষণ: শীতাবস্থার পর ক্ষুধার বৃদ্ধি।
১৯: ইচ্ছা:
১ম গ্রেড: মিষ্টি, গরম খাবার, গরম পানীয়।
২য় গ্রেড: দুধ, টক, কফি, রুটি, ঠাণ্ডা খাবার।
৩য় গ্রেড: ঝাল জিনিস, চর্বি, ফল, গরম স্যুপ, তরল খাবার, শাক-সব্জি
২০: অনিচ্ছা:
১ম গ্রেড: ফল
২য় গ্রেড: মাংস, মিষ্টি, চর্বি
৩য় গ্রেড: দুধ
২১: অসহ্য খাদ্য
১ম গ্রেড: ঠাণ্ডা খাবারে, ফল, তরল খাবার, খারাপ মাংস।
২য় গ্রেড: মাখন, পুরাতন পনির, চর্বি, বরফ জমানো খাদ্য, মাংস, দুধ, টক খাদ্য।
৩য় গ্রেড: সীম ও মটরে, কফি পানে, বিয়ার, বাঁধাকপি, পচা মাছ, বায়ু উৎপন্ন করে এমন খাদ্য, মধু, মাংস রান্নার গন্ধে, চা, শাক-সবজি, মিষ্টি।
২২: উপযুক্ত খাদ্য:
২য় গ্রেড: দুধ,
৩য় গ্রেড: ঠাণ্ডা পানীয়ে, কফি পানে।
২৩: মায়াজম:
সোরিক (++), সিফিলিটিক (++), সাইকোটিক (++), টিউবারকুলার (+++)
২৪: হ্রাস-বৃদ্ধি:
বৃদ্ধি: আক্রান্ত পার্শ্বে শয়ন করলে, বেলা ১ হতে ২টার মধ্যে, রাতে দ্বিতীয় প্রহরের পর, ঠাণ্ডায় এবং শীতল বস্তু পানাহারে।
উপশম: উত্তাপে।
২৫: অনুপূরক: All-s. Carb-v. Natr-s. Phos. Pyrog. Thuj.
২৬: পরবর্তী ঔষধ: Aran. Arn. Apis. Bell. Ac. fluor. Bar-c. Cact. Calc-ph. Cham. Chin. Cic. Ferr. Hep. Iod. Ipec. Kali-b. Lach. Lyc. Merc. Ntr-s. Nux. Hpos. Ran-sc. Sulph. Thuja. Verat.
২৭: শত্রুভাবাপন্ন: –
২৮: প্রতিষেধক:
Chin. Sul. Camph. Carb-c. Chin. Euph. Ferr. Graph. Hep. Iod. Ipec. Kali-b. Merc. Nux. Nux-m. Op. Samb. Sulph. Tabac. Verat.
২৯: ক্রিয়াকাল : ৬০-৯০ দিন.
• রোগ লক্ষণ -১. যৌন :
১। লিঙ্গোচ্ছ্বাস- সকালে, শুক্রপাতের পর, কদাচিৎ।
২। অসম্পূর্ণ লিঙ্গোচ্ছ্বাস-(১)
৩। লিঙ্গোচ্ছ্বাসের অভাব-(১)
৪। কামপ্রবৃত্তি- বর্ধিত, শুক্রপাতের পর।
৫। কারণ- সিফিলিস, স্বপ্নদোষ, ঘন ঘন প্রস্রাব।
• রোগ লক্ষণ -২. শুক্রপাত :
১। রাতে শুক্রপাত ২। উদরাময়কালে ৩। স্বপ্ন ব্যতীত ৪। মলত্যাগকালে ৫। জাগ্রত হলে।
• রোগ লক্ষণ -৩. পুনঃপুন প্রস্রাব : (১)
১। প্রকৃতি- প্রভূত, মূত্রনালীতে জ্বালাসহ মূত্রত্যাগ, অনৈচ্ছিক মূত্রত্যাগ।
২। কখন- রাত্রে, শীতাবস্থায়।
৩। বর্ণ- হালকা হরিদ্রা বর্ণ, লাল, ঘোলাটে।
৪। গন্ধ- অপ্রীতিকর।
৫। তলানি- শর্করা।
• রোগ লক্ষণ -৪. গনোরিয়া : (১)
১। মূত্রনালীতে জ্বালাকর বেদনা ২। লিঙ্গে জ্বালাকর বেদনা ৩। লিঙ্গমুণ্ডে জ্বালাকর বেদনা ৪। লিঙ্গাগ্রত্বকে জ্বালা।
• রোগ লক্ষণ -৫. ঋতুস্রাব:
প্রকৃতি- অনুপস্থিত, বিদাহী/ ছাল উঠে যায়, পুনঃপুন (অতিশীঘ্র), মাসিকের অনুরূপ। ব্যথা- কষ্টকর রজঃশূল। সময়- স্বল্পকালস্থায়ী, দীর্ঘস্থায়ী। পরিমাণ- প্রচুর, সামান্য। প্রচুর – বাতধাতুগ্রস্থদের। ঘনত্ব- পাতলা। বর্ণ- উজ্জ্বল লাল, কালচে, ফ্যাকাশে স্রাব¯্রাব। গন্ধ- দুর্গন্ধ। অবরুদ্ধ- (২)
একক লক্ষণ- বাতধাতুগ্রস্থদের প্রচুর ঋতুস্রাব।
• রোগ লক্ষণ -৬. জরায়ুর বহিনির্গমন : (১)
• রোগ লক্ষণ -৭. শ্বেতপ্রদর :
১। শ্বেতপ্রদর বিদাহী, ছাল উঠে যায় ২। রক্তাক্ত ৩। জ্বালাকর ৪। ঋতুস্রাবের সময়, পরে, ঋতুস্রাবের পরিবর্তে ৫। দুর্গন্ধ ৬। দাঁড়িয়ে থাকলে ৭। ঘন ৮। পাতলা, জলের ন্যায় ৯। সাদা ১০। হলদে।
• রোগ লক্ষণ- ৮. স্তন : স্তন ছোট-(১)
• রোগ লক্ষণ-৯. আঁচিল :
২য় গ্রেড- আঁচিল। একটি ক্ষতের চক্র দ্বারা পরিবেষ্টিত, শুষ্ক।
৩য় গ্রেড- জ্বালাকর, পুঁজোৎপত্তিকর।
• রোগ লক্ষণ- ১০. খুস্কি : (২)
১। চুলকানীযুক্ত খুস্কি ২। চুলকালে রক্তপাত হয় ৩। মোটা ও ভারী খুস্কি ৪। ক্ষতযুক্ত, শুষ্ক ৫। মাথায় ময়দার ন্যায় ভূষি ভূষি খুস্কি ও চটায় আবৃত ৬। খুস্কি কপাল পর্যন্ত ছড়ায় ৭। মাথার ত্বকে বেদনা, স্পর্শ অসহ্য।
• রোগ লক্ষণ- ১১. ঘামাচি :
১। প্রকৃতি- থোকা থোকা, চুলকানিযুক্ত, লাল বর্ণের, পুঁজবটি, জ্বালাকর, কাপড় খুললে চুলকানি বাড়ে।
২। হ্রাস- আঁচড়ালে।
৩। বৃদ্ধি- আঁচড়ালে।
৪। অঙ্গ- মুখমন্ডলে, হস্তপদাদির নিচের অংশে।
৫। একক লক্ষণ- পায়ের পাতায়।
• রোগ লক্ষণ- ১২. দাদ : (৩)
১। অনুভূতি- জ্বালাকর চুলকানি-(৩), জ্বালাকর-(৩), চুলকানিকর-(৩), হুলবিদ্ধবৎ যাতনাযুক্ত, ছিন্নকর যাতনাযুক্ত।
২। বৃদ্ধি- চুলকানি কাপড় খুললে, আঁচড়ালে।
৩। হ্রাস- আঁচড়ালে।
৪। আকৃতি- শুষ্ক, মামড়ি ঢাকা, ধূসর বর্ণ, আটা মাখানোর ন্যায়-৩, আর্দ্র, লালবর্ণ, আঁইশযুক্ত, সাদা আঁইশযুক্ত।
৫। শুষ্ক আটার ন্যায় পদার্থযুক্ত, হরিদ্রাভ, বর্তুলাকার বিসর্পিকা।
৬। সময়- শীতকালে।
৭। স্রাব- পুঁজোৎপত্তিকর।
• রোগ লক্ষণ- ১৩. ব্রণ : (২)
১। পাটলবর্ণ মুখ দূষিকা ২। কপালে, চুলকানিযুক্ত ৩। পুঁজযুক্ত ৪। শীতকালে।
• রোগ লক্ষণ- ১৪. মেস্তা :
ছাইবর্ণ, নীলাভ, চক্ষুদ্বয়ের চারধারে নীলাভ বৃত্ত, বাদামী বর্ণ, বর্ণ পরিবর্তিত হয়, কৃষ্ণাভ, বিশ্রী দেখতে, মৃত্তিকা বর্ণ, ধূসরাভ, সীসক বর্ণ, ফ্যাকাসে, লালবর্ণ, সীমাবদ্ধ স্থানে লালবর্ণ, পিঙ্গলবর্ণ।
• রোগ লক্ষণ- ১৫. শ্বেতী :
সাদা হয়ে যায়, সাদা দাগ দাগ, অজীর্ণতা লক্ষণে, যকৃত প্রদাহ, বমি বমি ভাব, উদরাময়ের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে কোষ্ঠবদ্ধতা, বংশগত উপদংশ পীড়া হেতু, চর্মে ছাল ওঠে।
• রোগ লক্ষণ- ১৬. সোরিয়াসিস : (২)
১। অঙ্গ- হাতে, হাতের পিছনে, মাথায়।
২। প্রকৃতি- সকল দিকে ছড়িয়ে পড়ে, হাতে পুরাতন সোরিয়াসিস , উপদংশাক্রান্ত।
৩। মামড়ি- ছাল ওঠে, ছাল ওঠে চুল ধংস হয়ে যায়, হরিদ্রা বর্ণের, আর্দ্র-(৩)
• রোগ লক্ষণ- ১৭. হাম : (২)।
১। আঁশ ২। চুলকানী ৩। ব্যথা ৪। থোকা থোকা ৫। জ্বালাকর ৬। লাল ৭। পুঁজোৎপত্তি।
• রোগ লক্ষণ- ১৮. একজিমা (৩)
১। অঙ্গ : মস্তকে, মুখমণ্ডলে, পুংজননেন্দ্রিয়ে, হস্তপদাদি, হাতে, নিম্নাঙ্গে, পায়ে।
২। আকৃতি : লাল, তামাটে, তালিতালি, ছড়ানো ছড়ানো।
৩। অনুভূতি : জ্বালাকর, ছিন্নকর বেদনাযুক্ত, চিড়িকমারা বেদনাযুক্ত, দুর্গন্ধ।
৪। ধরন : আর্দ্র, সিফিলিসজাত, ছাল ওঠা, মামড়িযুক্ত, সাংঘাতিক প্রকৃতির, শীতকালে।
৫। স্রাব : নির্গত হয়, ক্ষতকর, চুল ধ্বংস করে ফেলে, পুঁজোৎপত্তিকর, আঁচড়ানোর পর, হলুদ।
৬। চুলকানি : চুলকায়, পোশাক ছাড়লে, রাত্রে, ছাল তুলে ফেলে, ছাল তুলে ফেললে হ্রাস।
• রোগ লক্ষণ- ১৯. অর্শবলি : (৩)
চরিত্র- নীলাভ, রক্তসঞ্চয়যুক্ত, মাতালদের, বাহ্য বলি, আভ্যন্তরিক, চুলকানি, বৃহৎ, অবরুদ্ধ, চাপা পড়া। বৃদ্ধি- রাত্রে, হাঁটলে। হ্রাস- বাহ্যিক উত্তাপে। রক্ত- রক্ত যায়। সরলান্ত্র- ফাটা। ব্যথা- জ্বালাকর।
• রোগ লক্ষণ- ২০. আঘাত :
অঙ্গ- হাতের আঙ্গুলে শবব্যবচ্ছেদজনিত ক্ষত, গোড়ালিতে। হ্রাস- গরম। বৃদ্ধি- ঠাণ্ডায়।
• রোগ লক্ষণ- ২১. কানের স্রাব : (২)
ঘনত্ব- রসানি সদৃশ, পাতলা। রং- রক্তাক্ত, হলদে। গন্ধ- পচা, দুর্গন্ধ, মড়ার ন্যায়।
• রোগ লক্ষণ- ২২. শুষ্ক কাশি : (৩)
প্রকৃতি- হাঁপানি সদৃশ, আক্ষেপিক, খক খক শব্দযুক্ত, আবেশে আবেশে, হুপ হুপ শব্দযুক্ত, শ্বাসরোধকর, বাঁশীর ন্যায় শব্দকারী। গয়ার- প্রচুর। কারণ- ধূলা হতে, ঠাণ্ডা বাতাস, কথা বললে, ঠাণ্ডা লেগে। বৃদ্ধি- শয়নে, গোসলে, সঞ্চালনে। হ্রাস- সঞ্চালনে। সময়- রাত্রে। অন্যান্য- কণ্ঠনালীতে সুড়সুড়ি করে।
• রোগ লক্ষণ- ২৩. কোষ্ঠবদ্ধতা : (৩)
চরিত্র- উদরাময়ের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে, নিষ্ফল মলবেগ ও কুন্থন। কারণ- কঠিন মল হেতু, সরলান্ত্র আকুঞ্চন, সঙ্কোচন, অবরোধ।
• রোগ লক্ষণ- ২৪. জন্ডিস : (২)
১। মুখম-ল হলদে ২। সবিরাম জ্বরের পর ৩। চর্মে হলুদ দাগ দাগ ৪। হালকা হরিদ্রা বর্ণ প্রস্রাব ৫। ঘর্মে কাপড়ে হলদে দাগ লাগে ৬। বিবমিষা, খাদ্যের চিন্তায় বিবমিষা ৭। খাদ্যের গন্ধে বিবমিষা ৮। ক্ষুধার অভাব ৯। কোষ্ঠবদ্ধতা ১০। উদরে পূর্ণতাবোধ ১১। মুখের স্বাদ তিক্ত ১২। বিস্বাদ উদ্গার ১৩। যকৃতে বেদনা।
• রোগ লক্ষণ- ২৫. টিউমার : (১)
চরিত্র- স্তনে জ্বালাকর ব্যথাযুক্ত টিউমার, বিগলিত টিউমার, নাকে শক্ত টিউমার। ধরন- রক্তময় টিউমার, কিলয়েড, জড়ুল। অঙ্গ- উদরে, মস্তিষ্কে, স্তনে সিস্ট, আঙ্গুলে, মস্তকে, নাকে, নাকের ভিতরে, ওভারিতে সিস্ট, ওভারিতে। একক লক্ষণ- নাকে শক্ত টিউমার।
• রোগ লক্ষণ- ২৬. পলিপাস :
চরিত্র- হাঁচি, নাকের ভিতরে ক্ষত, প্রদাহ, অবরোধ। অনুভূতি- চুলকানো, নাসিকার ভিতরে বেদনা, জ্বালাকর ও তীব্রবেদনা, কপালের ভিতরে বেদনা। স্রাব- সর্দি, নাসাপথে রক্তস্রাব। ঘ্রাণশক্তি- বিরক্তিকর গন্ধ, লুপ্ত।
• রোগ লক্ষণ- ২৭. পক্ষাঘাত :
চরিত্র- বেদনাশূণ্য, উপরদিকে প্রসারিত হয়, আংশিক, একটি মাত্র অঙ্গে, রক্ত বিষাক্ততাজনিত, প্রসারণ পেশীতে, পক্ষাঘাত অনুভূতি, বেদনাশূণ্য। অঙ্গ- এক অঙ্গে, উপরাঙ্গসমূহে, হাতে, হাঁটুতে, পায়ের পাতায়, পদাঙ্গুলিতে।
• রোগ লক্ষণ- ২৮. বমি : (৩)
সময়- সকালে, রাতে, নির্দিষ্টকালে আগত, রাতে সবুজ বমি, সকালে শ্লেষ্মা বমি, সকালে পানি বমি, সকালে সাদা বমি।
প্রকৃতি- সহজেই হয়, আহারকালে হঠাৎ, পিত্তবমি, মাতালদের, অবিরত, যাতনাকর, আবেশে আবেশে, অকস্মাৎ, তীব্র, কটু বিদাহী, অণ্ডলালাবৎ, চাপ চাপ রক্তবমি, মাতালদের রক্তবমি, কফি চূর্ণের ন্যায় বমি, সব কিছুই বমি, বিষ্ঠাবৎ বমি, ক্রিমি বমি।
ধরন- কষ্টকর, রক্ত, খাদ্যবস্তু, শ্লেষ্মা, পানির ন্যায়, পুনঃপুন, ফেনা ফেনা, চকচকে, তেলের ন্যায়, তরল, দুগ্ধ, দুধের ন্যায়, দুর্গন্ধ বমি, দড়ির ন্যায় বমি, আঠালো বমি।
শর্ত (এই অবস্থায় সমস্যাটি দেখা দেয়)- আক্ষেপের পরে, কাশলে, উদরাময়ের পূর্বে, উদরাময়ের সময়, পানীয় পানের পর, শীতল পানি পানের পর, আহারের পরে, শিরঃপীড়াকালে, গর্ভকালে, উত্তাপ অবস্থায়, শীতাবস্থার পূর্বে, পানি পানের পরক্ষণেই, অতি অল্প পরিমাণে পানি পান করলে, সঞ্চালনে, বুক ধড়ফড় করা সহ, ঘর্মকালে, মাথা তুললে, বিছানায় উঠে বসলে, বিছানা হতে উঠার পর, মলত্যাগের পূর্বে, মলত্যাগ কালে, শীতাবস্থার সময়ে পিত্ত বমি, জ্বরকালে পিত্ত বমি, ঘর্মকালে পিত্ত বমি, উঠার পর পিত্ত বমি, শীতাবস্থার পূর্বে খাদ্যবস্তু বমি, আহারকালে খাদ্যবস্তু বমি, আহারের পরক্ষণেই খাদ্যবস্তু বমি।
বর্ণ- কালো, সবুজ, বাদামী আভাযুক্ত রক্তবমি, কৃষ্ণাভ রক্তবমি, হরিদ্রাভ সবুজ বমি, সাদা, হলদে।
স্বাদ- তিক্ত, টক।
কারণ- ঋতুস্রাব অবরুদ্ধ হয়ে, দুধ খাওয়ার পর, আইসক্রিম খাওয়ার পর, গাড়ীতে চড়লে, সূপ পানের পর, ক্ষণিক আচ্ছন্নতার পর, অজ্ঞানতার সময়, শিরোঘূর্ণনকালে।
একক লক্ষণ- ক্ষণিক আচ্ছন্নতার পর, উঠার পর পিত্ত বমি।
• রোগ লক্ষণ- ২৯. বাত ব্যথা : (৩)
চরিত্র- গেঁটেবাতজনিত বেদনা, তরুণ, নিদ্রাকালে, সঞ্চরণশীল। অঙ্গ- সন্ধিতে বেদনা, অস্থিতে, উপরাঙ্গসমূহে, ডান দিকে, কারণ- ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়। অনুভূতি- কামড়ানির ন্যায়, জ্বালাকর, টেনে ধরার ন্যায়, দাঁত দিয়ে কাটার ন্যায়, ক্ষতবৎ বা থেঁতলানোর ন্যায়, মচকে যাওয়ার ন্যায়, সূচীবিদ্ধবৎ, ছিন্নকর।
• রোগ লক্ষণ- ৩০. মাথা ব্যথা : (৩)
চরিত্র- নির্দিষ্টকালে আগত শিরঃপীড়া। স্থান- একপার্শ্বে, ডান পার্শ্বে, বাম পার্শ্বে। সময়- প্রাতঃকালে, ঋতুস্রাবকালে, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত, বিকাল ২টা। কারণ- শীতল বাতাস, জৈব তরল পদার্থের ক্ষয়হেতু। অনুভূতি- রন্ধ্রকর, জ্বালাকর, ফেটে যাওয়ার ন্যায়, খিল ধরার ন্যায়, চূর্ণ করার ন্যায়, কেটে ফেলার ন্যায়, টেনে ধরার মত, খাঁজকাটার ন্যায়, বর্শাবিদ্ধ করার ন্যায়, চাপনবৎ বা ফেটে যাওয়ার ন্যায়, ক্ষততাবোধযুক্ত, থেঁতলানোর ন্যায়, চাপনে অত্যনুভূতি, সূচীবিদ্ধকর, বিহ্বলকর, হতবুদ্ধিকর, ছিন্নকর, বিদীর্ণকর, কষে ধরা বা টেনে ধরার ন্যায়। হ্রাস- খোলা বাতাসে, শীতল বাতাসে। বৃদ্ধি- গরম গৃহে।
• রোগ লক্ষণ- ৩১. সরলান্ত্র বহিনির্গমন : (২)
শর্ত- আক্ষেপকর, সরলান্ত্র হতে রক্তস্রাবের পর, মলত্যাগের পরে,
বেদনাকর।
• রোগ লক্ষণ- ৩২. সায়েটিকায় বেদনা : (২)
সময়- প্রাতে, রাত্রে, মধ্যরাত্রের পর। পাশ- গোড়ালিতে আরম্ভ হয়। বৃদ্ধি- ঠাণ্ডায়, ঠাণ্ডা বাহ্যপ্রয়োগে। উপশম- পা মুড়িলে, চাপনে, উত্তাপে, শয্যার উত্তাপে। কারণ- ঠাণ্ডা ভিজা ঘরে বাস করা হেতু। অনুভূতি- কামড়ানির ন্যায়, রন্ধ্রকর, জ্বালাকর, টেনে ধরার ন্যায়, দাঁত দিয়ে কাটার ন্যায়, সূচীবিদ্ধবৎ, ছিন্নকর, জ্বালাসহ।
• রোগ লক্ষণ-৩৩. জ্বরের লক্ষণ :
প্রকৃতি : সর্দি জ্বর, বিলেপী জ্বর, প্রদাহিক জ্বর, প্রসবান্তিক জ্বর, বিরাম : স্বল্প বিরাম, বিরামসহ অপরাহ্নে, বিরামসহ রাত্রে, বিরামসহ শিশুদের, সবিরাম পুরাতন, পুনঃপুন প্রত্যাগত, আক্রমণ : আক্রমণগুলি ক্রমশ: প্রখরতর হতে থাকে, আক্রমণগুলি অনিয়মিত, সময় : সকালে, পূর্বাহ্নে, অপরাহ্নে, সন্ধ্যায়, শীত : শীত ব্যতীত, শীত সহ, শীতশীত ভাব সহ, পর্যায়ক্রমে শীতসহ, কম্পন : পর্যায়ক্রমে উত্তাপসহ কম্পন, ঘাম : ঘর্মাবস্থা অনুপস্থিত, উত্তাপ : প্রবল, আভ্যন্তরিক, বাহ্যিক শীত শীতভাব সহ আভ্যন্তরিক উত্তাপ, আভ্যন্তরিক জ্বালাকর উত্তাপ, অঙ্গ : বাহ্যিক শীতলতা সহ, দেখাদেয় : মলত্যাগের সময়, মলত্যাগের পর, অবস্থাগুলি পরপর আসে : শীতের পর উত্তাপ তারপর ঘর্ম, তৎসহ ঘাম, ইচ্ছা / পছন্দ : অনাবৃত হতে, অনিচ্ছা / অপছন্দ : অনাবৃত হওয়ায়, বৃদ্ধি : সঞ্চালনে, হ্রাস : অনাবৃত হলে,
• রোগ লক্ষণ-৩৪. কানের স্রাব (২)
ঘনত্ব- রসানি -সদৃশ, পাতলা রং- রক্তাক্ত, হলদে গন্ধ- পচা, দুর্গন্ধ,মড়ার ন্যায় গন্ধ।
• রোগ লক্ষণ-৩৫. হাইতোলা:
শর্ত : শীতাবন্থার পূর্বে, শীত করার সময়, সান্ধ্যভোজনের পরে, আহারের পর,
• রোগ লক্ষণ-৩৬. UNCONSCIOUSNESS : (অজ্ঞানতা):
সময়: সন্ধ্যাকালে। প্রকৃতি: বারবার আক্রমণ, অসম্পূর্ণ। শর্ত: শীতাবস্থার পূর্বে, শীতাবস্থার সময়, জনাকীর্ণ গৃহমধ্যে, পরিশ্রমের পর, সামান্যমাত্র সঞ্চালনে, মলত্যাগের পূর্বে। কারণ: উদরাময়ের পর। রোগের সাথে: অস্থিরতার সঙ্গে পর্যায়ক্রমে জ্বরকালে, একদৃষ্টে তাকানোর সঙ্গে, শিরোঘূর্ণন কালে।
একক লক্ষণ: অস্থিরতার সঙ্গে পর্যায়ক্রমে জ্বরকালে, উদরাময়ের পর।
• রোগ লক্ষণ-৩৭. নাক ডাকা:
বয়স : বৃদ্ধলোকের। বৃদ্ধি : ঠাণ্ডা লাগানোর পর। কারণ : নাকবন্ধ থাকলে।
• রোগ লক্ষণ-৩৮. টনসিলের স্ফীতি:
ক. পার্শ্ব : ডানে, বামে, উভয়টি
চ. কারণ : টনসিলে ক্ষত থাকলে, টনসিলে প্রদাহ হলে,
জ. বৃদ্ধি : ঠাণ্ডা বাতাসে, আদ্র আবহাওয়ায়
ঝ. হ্রাস : উষ্ণতায়
• রোগ লক্ষণ-৩৯. স্বরভঙ্গ সমস্যার লক্ষণ- সময়- দিবাভাগে দেখাদেয়- সর্দির সময়।

-ডা. আহাম্মদ হোসেন ফারুকী।