Thyroidinum (থাইরয়েডিনাম)

৯৮.১। Thyroidinum (থাইরয়েডিনাম)
#নিজস্বকথা:
১। দেহ ও মনের খর্বতা।
২। অতিরিক্ত মোটা হতে থাকুক বা ফুলতে থাকা কিংবা অতিরিক্ত রক্তহীনতা ও শীর্ণতা।
৩। চর্মরোগ ও চুল উঠে যাওয়া।
৪। উম্মাদ ভাব এবং অনিদ্রা।
# চরিত্রগত লক্ষণ:
১. দেহ ও মনের খর্বতা। উন্মাদ ভাব এবং অনিদ্রা। অঘোরে ঘুম ও অস্থিরতাসহ বিষাদ পর্যায়ক্রমে উপস্থিত, উত্তেজনা প্রবণ, অল্প প্রতিবাদে উত্তেজিত হয়, সামান্য কারণে চটে উঠে। উত্তেজিত উত্তেজনার পরেই মানসিক অবসাদ। হতবুদ্ধি ভাব, রাতে ভয়ের অভিব্যক্তি। অত্যন্ত কোপন স্বভাব, অল্পে অসন্তুষ্ট, সর্বদাই বিষন্ন, সর্বদাই বিরক্ত, অকারণে কাঁদে, উলঙ্গ হয়, আত্মহত্যার ইচ্ছা।
২. অতিরিক্ত মোটা হতে থাকা কিংবা অতিরিক্ত রক্তহীনতা, প্রবল দূর্বলতা ও শীর্ণতা। রোগী সময় সময় সাংঘাতিক রুপে রক্তহীন হয়ে পড়ে ও শরীর কঙ্কালসার হয়।
৩. চর্ম রোগ এবং চুল উঠিয়া যাওয়া।
৪. থাইরয়েড গ্রন্থির দূর্বলতা থেকে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি দ্রব্য খাওয়ার প্রবৃত্তি জন্মে।
৫. অত্যন্ত শীতার্ত ।
৬. মিষ্টি দ্রব্যে আকাঙ্খা।
৭. রক্তাল্পতা, শীর্ণতা, পেশী সংক্রান্ত দূর্বলতা, ঘাম, মাথা ধরা, মুখ ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্নায়ুবিক কম্পন, ঝিন্ঝিন্ করার অনুভূতি ও পক্ষাঘাত সৃষ্টি করে। হৃৎক্রিয়া ঘাড়ে, চক্ষুগোলক বহির্নির্গত ও প্রসারিত হয়। শ্লৈষ্মিক শোথ ও গলগন্ডসহ জড়বুদ্ধি রোগে ভাল কাজ করে।
৮ . স্ত্রীলোকের ঋতু এক বৎসর যাবৎ বন্ধ থাকলে ও এই ঔষধ সেবনে এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় ঋতু আবির্ভাব সম্ভব হইয়া থাকে। ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে স্তনে দুগ্ধ ক্ষরণ বেড়ে যায়। ঋতুস্রাব -পরিমানে প্রচুর, দীর্ঘস্থায়ী, অল্প বয়সেই রজ:লোপ।
৯. ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে স্তনে দুগ্ধ ক্ষরণ বেড়ে যায়।
১০. ঠান্ডা পানির পিপাসা।
১১. রাত্রে, গাড়িতে বমি ভাব, ঠান্ডায় -বৃদ্ধি।
১২. ক্ষীণ, অবিরাম নাড়ী। সামনে ঝুকিলে বুক ধড়ফড়ানি বেড়ে যায়, বুক ধড়ফড়ানির জন্য বিছানায় শুয়ে থাকতে পারে না। দ্রæত নাড়ী (ন্যাজা)। বুকে উদ্বেগ বোধ- যেন বুক সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য পরিশ্রমে বুক ধড়ফড়ানি। হৃৎপিন্ডে প্রবল ব্যথা। সামান্য কারণেই হৃৎপিন্ডের প্রবল উত্তেজনা জন্মে। হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া দূর্বল, সেই সাথে আঙ্গুলের অবশতা।
১৩. ফ্যাকাশে চেহারার রোগীদের ওপর, উজ্জ্বলবর্ণ চেহারার রোগীদের চেয়ে ভাল কাজ করে।
১৪. কৃষ্ণবিন্দু দর্শনসহ ক্রমশ: দৃষ্টিশক্তির ক্ষীণতা (কার্বন সালফ)।
১৫. পেট ফাঁপা ও তলপেটে অত্যধিক বায়ু সঞ্চয়।
১৬. রোগীর হৃৎপিন্ড দূর্বল ও রক্তচাপ অধিক থাকিলে বা রোগী যক্ষাপ্রবণ হইলে মূল ঔষধ অধিক মাত্রায় কখনও ব্যবহার করিবে না।
১৭. গলগন্ড শরীরের দক্ষিণ দিকে বেশী প্রকাশ পায়।
১৮. মুখ হতে লালা নির্গত হয়।
১৯. যে সব শিশু স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠে না। স্মৃতি শক্তির উন্নতি করে।
২০. মস্তিষ্কে হালকা বোধ করে। সামনের কপালে অনবরত মাথা ধরা। চক্ষু তারকা উজ্জ্বল। মুখাবয়ব রক্তিমাভ, ঠোঁট জ্বালাকর।
২১. জিভ পুরু লেপাবৃত। পূর্ণতা ও উত্তাপবোধ। মুখে মন্দ আস্বাদ।
২২. গলগহŸর শুকনো, রক্তাধিক্যহেতু ক্ষতবৎ ও জ্বালা, বাঁ দিকে অধিক।
২৩. ডিম্বকোষে অনবরত ব্যথা অনুভব।
২৪. রোগীণি অত্যন্ত ফ্যাকাসে, রক্তশূন্য, দূর্বল অথচ খুব ক্ষুধা।
২৫. শুকনো ক্লেশকর কাশি, অত্যল্প ও কষ্টকর শ্লেষ্মা উৎক্ষেপ ও গলকোষে জ্বালা।
২৬. টিপিলে শোথের উপর টোল পড়ে না।
২৭. স্তন গ্রন্থিতে অর্বুদ। জরায়ুতে সৌত্রিক অর্বুদ। যে সব বালকের অন্ডকোষ ঝুলে পড়ে না।
২৮. ত্বকে বিসর্চিকা, সেই সাথে মেধাধিক্য (বর্ধনশীল অবস্থায় নয়)। ত্বক শুকনো ও অনুজ্জ্বল। হাত পা ঠান্ডা। জরায়ুতে সৌত্রিক তন্ত্রু সঞ্চয়। ফোলা স্থান পিঙ্গল বর্ণ । গ্রন্থি ফোলা ও পাথরের মত শক্ত। রোগ আরোগ্য হইতে চায় না। কামলা রোগের সাথে চুলকানি। উদ্ভেদ নেই অথচ চুলকানি, রাত্রে বাড়ে।
২৯. পা দুটো ফুলে যায়, এই ঔষধে পায়ে প্রচুর ঘাম হয়ে সারিয়ে তুলেছে।
৩০. জ্বরের উত্তাপাবস্থায় রোগী অত্যন্ত গরম কাতর ও তৃষ্ণার্থ হয়। সামান্য নড়াচড়ায়, সামান্য পরিশ্রমেই প্রচুর ঘাম বের হয়।
৩১. মেদরোগে সাবধানতার সাথে ব্যবহার করবে, কারণ মেদবহুল হৃৎপিন্ডে এর দ্বারা সৃষ্ট দ্রæত স্পন্দন ক্রিয়া হয়ত সহ্য করিতে পারবে না।
৩২. বাতজ গ্রন্থি প্রদাহ ও সাথে মেদ প্রবণতা; শাখা প্রশাখার শীতলতা ও খিলধরা। নিম্নাঙ্গের ত্বক থেকে খোলস উঠে। হাত পা ঠান্ডা। কামড়ান ব্যথা। পায়ের স্ফীতি। হাত পা ও সর্বাঙ্গের কম্পন।
৩৩. মূত্রপ্রবাহ বাড়ে; বহুমূত্র, মূত্রে কিছুটা অন্ডলালা ও শর্করা। উত্তেজনাপ্রবণ ও স্নায়ুবিক প্রকৃতির দূর্বল শিশুদের অসাড়ে মূত্রত্যাগ। মূত্রে ভায়োলেট ফুলের গন্ধ, মূত্রনালীতে জ্বালা, ইউরিক এসিডের প্রাচুর্য।
৩৪. মাথার টাক পড়ে ও ভ্রæর চুল উঠে যায়।
৩৫. ক্ষিদে থাকে না আবার প্রচন্ড ক্ষিদে দুইই থাকে।
৩৬. হজমের গোলমাল হতে উদরাময়।
৩৭. অদম্য ঘুম ঘুম ভাব ও অনিদ্রা দুইই দেখা যায়।
৩৮. ডায়াবেটিস মেলিটাসের রোগীতে যে ক্ষেত্রে রোগ লক্ষণ দ্রæতগতিতে বাড়ে ও প্রচন্ড দূর্বলতা দেখা দেয়।
৩৯. গলগন্ড, বহুমূত্র, শোথ, রিকেট, উন্মাদ, বন্ধ্যাত্ব, হৃৎশূল, স্ত্রীরোগ, প্রথম যৌবনে ঋতুস্রাব অল্প, নিম্ন রক্তচাপ।
#সংকলনে: ডা.এইচ.এম.আলীমুল হক
ডিএইচএমএস (বিএইচবি), কিউএইচসিবি (বিইউবি)
চেম্বার: আলহক্ব হোমিও ফার্মেসী, মৌচাক, মিজমিজি
সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শের জন্য ১০০টাকা বিকাশ করুন এই নাম্বারে ০১৯১৬-৫১১ ৩৩৭ (পার্সনাল)। তারপর কল করুন এই নাম্বারে: 01816-511337 (সকাল ৯.৩০ থেকে রাত ৯.৩০ পর্যন্ত নামাজের সময় ছাড়া)