(6) Kali Phos (ক্যালি ফস)

♣ সমনামঃ পটাসিয়াম ফসফেট, ফসফেট অব পটাস, পটাস ফসফাস । ।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, টিউবারকুলার।
♣ কাতরতাঃ শীতকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ শীর্ণতা, জৈব উত্তাপের অভাব। এটা একটি স্নায়ুমণ্ডলীর পক্ষে শ্রেষ্ট উত্তেজক ওষুধ। ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা, দুর্বলতা এবং ক্লান্তি। বিশেষভাবে অল্পবয়স্কদের পক্ষে উপযোগী। দৈহিক স্নয়ু-মণ্ডলীর পীড়িত অবস্হা স্নায়ুশশক্তির অভাব থেকে রোগের উদ্ভব হয়; স্নায়বিক দুর্বলতা, মানসিক ও দৈহিক অবসাদ রোগে এটা দ্বারা উৎকৃষ্ট ফল পাওয়া যায়।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ স্নায়ু, মস্তষ্ক, রজ্জু ।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ শুসলারের মতো- কেলি ফস, ব্রেইন, স্নায়ু, মাংসপেশি, রক্ত (কণিকা ও রক্তরস) কোষে বিদ্যমান এবং কোষের অভ্যন্তরীণ তরল পদার্থের থাকে এবং এসব অনুর গতিতে যদি কোনো বিঘ্ন ঘটে তবে উৎপন্ন হয়- যথাক্রমে (১) চিন্তা কোষগুলোর মাঝে হতাশা, উৎকণ্ঠা, ভীতি, অশ্রুপূর্ণ বা ছিঁচ কাঁদুনে, গ্রহ-পীড়া, সন্ধিগ্ধপূর্ণ বা সন্দেহপরায়ণ, জনতাভীতি, ও দুর্বল স্মৃতিশক্তি। (২) যেসব স্নায়ু দ্বারা ধমনি ও শিরাদির নাড়ি; পরে বাধাপ্রাপ্ত। (৩) সেনসরি নার্ভে : পক্ষাঘাতের অনুভুতি ও তার সাথে বেদনা। (৪) গতি বিধায়ক স্নায়ুতে ; মাংসপেশি ও স্নায়ুতে দুর্বলতা এমনকি পক্ষাঘাত । (৫) সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুর পরিপোষণকারী তন্তুতে পরিপোষণে বাধা ; ক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য হলো মনের অবসন্নতা ; মানসিক সংঘাত হতে উৎপন্ন রোগ, অবসাদ-বায়ু, হিস্টিরিয়া, ধাতুদুর্বলতা, স্নায়ুবিক অনিদ্রা, উত্তেজিত দুর্বলের আক্ষেপ এটি আরোগ্য করে : সেপটিক অবস্হা ও দূষিত জ্বর এবং রক্তস্রাব, বিগলিত ক্ষত রোগ, স্কার্ভি, গলিত স্যঙ্কার, কার্বাঙ্কলস, টাইফয়েড, টাইফাস জ্বর, অহগতিশীল অবস্হা, ক্রমাগত মাংসপেশির শীর্ণতা, পাকস্হলীর গোলকার ক্ষত (সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুর পরিপোষণকারী তন্তুর ক্রিয়ার বাধার ফলে) টাক (শুসলারে মতে একই কারণে)।
♣ সারসংক্ষেপঃ শীর্ণতা, জৈব উত্তাপের অভাব। ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা, দুর্বলতা এবং ক্লান্তি। সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুর পরিপোষণকারী তন্ত্ততে পরিপোষণে বাধা। সামান্য স্পর্শও রোগীকে চমকিয়ে দেয়। সঙ্গমের পরে, সাধারণভাবে ঠাণ্ডায়, অতিরিক্ত যৌনক্রিয়ার পর, দাঁড়ালে, মানসিক পরিশ্রমে, স্পর্শে, শীতকালে ও আহারের পর বাড়ে। ঋতু আরম্ভ হলে, উদ্গারে, গরমে, নিদ্রায়, ধীরে ধীরে সঞ্চালনে, আমোদ-প্রমোদে ও কোনো কিছুতে হেলান দিলে কমে। বিষণ্নতা, চমকে ওঠে, ভয়, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা, অধৈর্যভাব, ঔদাসীনতা, খিটখিটে, ধর্মানুরাগ ও গৃহকাতরতা। মানসিক ও শারীরিক অবসন্নতা, সকল স্রাব অতিশয় দুর্গন্ধময় ও অনিদ্রা। অতিরিক্ত কাজ করা হতে অসহায়ত্বভাব বা স্বল্পবাক হয়ে যাওয়া।
♣ অনুভূতিঃ ১) মনে হয় যেনো জিব তালুর সাথে এঁটে রয়েছে । ২) যেনো একটি বল গলার ওপরের দিকে ওঠছে। ৩) আঙুলের আগা অবশ।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) প্রসবোত্তর জ্বরকালীন উন্মাদনা। ২) স্নায়বিক মহিলাদের প্রচুর পরিমাণে ঋতুস্রাব হয়।
< বৃদ্ধিঃ প্রাতে, পূর্বাহ্নে, সন্ধাকালে, রাতে, খোলা বাতাসে, সঙ্গমের পরে, সাধারণভাবে ঠাণ্ডায়, সঞ্চালন আরম্ভকালে, অতিরিক্ত যৌনক্রিয়ার পর, দাঁড়ালে, দ্রুত প্রকোপ বাড়ে, বিষাদিত হলে, উত্তেজিত হলে, মানসিক পরিশ্রমে, মানসিক বা শারীরিক অবসাদে, স্পর্শে, ঠাণ্ডায়, বয়োঃসন্ধিকালে, সঙ্গমে, খাবারের পর, ক্রমাগত সঞ্চালনে, গোলমালে, শব্দে, ঋতুস্রাবের আগে, স্হিরভাবে থাকলে, ঘুমে, বসে থাকার পর ওটে বসলে, একাকী থাকলে, আলো, বিশ্রামকালে, ঠাণ্ডা বাতাসে, শীতকালে, আর্দ্র আবহাওয়ায়, আহারের পর।
> হ্রাসঃ ঋতু আরম্ভ হলে, শয়নে, বসলে কোমর বেদনা, নুয়ে থাকলে শূলবেদনা, উদ্গারে, গরমে, নিদ্রায়, আহারে, ধীরে ধীরে সঞ্চালনে, মানসিক প্রফুল্লতায়, অনেক লোকে ভিড়ে, আমোদ-প্রমোদ, দাঁড়ালে, হাত সঞ্চালনে, কোনো কিছুতে হেলান দিলে, বিশ্রামে, পুষ্টিকর খাবারে।
♣ কারণঃ জৈব তরল পদার্থের ক্ষয়, রক্তে জীবানুসংক্রমণ, হস্তমৈথুন, দুঃসংবাদ।
♣ ইচ্ছাঃ লোকসঙ্গ।

= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা ক্যালি-ফস প্রয়োগ করতে পারবো।

2 Comments