(34) Secale cor (সিকেলি কর)

♣ সমনামঃ আরগোট, আরগোট অব রাই, কম্পার রাই, রাই সরিষাজাত রোগা উদ্ভিদ।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, সিফিলিটিক, টিউবারকুলার।
♣ সাইডঃ ডানপাশ, ওপরে বামপাশ।
♣ কাতরতাঃ গরমকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ স্নায়ুপ্রধান ধাতুবিশিষ্ট, কৃশ/ শুকনো ব্যক্তি, খর্বতা, রোগা পাতলা, দূর্বল ভগ্নস্বাস্থ্য, খিটখিটে, নার্ভাস প্রকৃতি, ফ্যাকাসে, গায়ের রঙ, মুখ চোখ চুপসে গেছে এমন প্রকৃতির স্ত্রীলোকদের পক্ষে উপযোগী । যে সব মহিলাদের মাংসপেশিতন্তু অত্যন্ত শিথিল, দেহের সবকিছুই শিথিল ও উন্মুক্ত হয়ে গেছে। স্তনদুগ্ধপায়ী শিশু, বুড়ো ব্যক্তি, প্রতিক্রিয়ার অভাব।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ মন, মস্তিষ্ক, মেরুমজ্জা, মাংসপেশি, রক্তনালি, জরায়ু, রক্ত, স্নায়ু, কর্ড ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ রক্ত সঞ্চালনে বাধা প্রাপ্তির ফলে শরীরে বরফের মত ঠান্ডা হয়ে যায় অথচ অন্তঃজ্বালা থাকে। কিন্তু গায়ে কোন কাপড় সহ্য করতে পারে না। রাক্ষুসে ক্ষুধা ও অদম্য পিপাসা।
♣ ফিজিওলজিক্যাল কাজঃ এর কাজকে দু ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে- প্রথমতঃ স্নায়বিক বিধান সংক্রান্ত, দ্বিতীয়তঃ রক্ত সঞ্চালন সংক্রান্ত । স্নায়বিক বিধান সংক্রান্ত সিকেলি করে অদ্ভূত রকম খেঁচুনি উৎপন্ন হয় এবং এ খেঁচুনি সিকেলি করের একটি সর্বপ্রকার লক্ষণ- একবার শরীর আড়ষ্ট হয়ে শক্ত হয়, এ প্রকারে পেশিগুলো পর্যায়ক্রমে আড়ষ্ট এবং শিথিল হতে থাকে- কিন্তু এরূপ অবস্হা বিশেষভাবে হাতের আঙুলে বেশি প্রকাশ পায়। হাত মুঠা করে অথবা হাতের আঙুলগুলো বাইরের দিকে বেঁকে যায়। মুখমণ্ডলের পেশির আনর্তন হতে থাকে এবং মুখমন্ডলে খেঁচুনি আরম্ভ হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। নিচের পেটের পেশি টেনে ধরে প্রস্রাব অবরোধ হয়, ভীষণ বমনোদ্রেক অথচ বমি কিছুই হয় না, পাকস্হলী ভীষণভাবে সংকোচন হতে থাকে।
♣ সারসংক্ষেপঃ স্নায়ুপ্রধান ধাতুবিশিষ্ট, শুকনো ব্যক্তি, শরীর বরফের মত ঠান্ডা অথচ অন্তঃজ্বালা থাকে। জ্বালা ও গরমকাতরতা। পোকা হাঁটার মতো অনুভূতিঃ অঅভ্যন্তরীণ। গরমে, উষ্ণতায়, বিছানায় শুলে, স্টোভ বা উনুনের গরমে, আবরণে, মাসিক স্রাবের আগে ও গর্ভাবস্হায় বাড়ে। ঠান্ডা বাতাসে, অনাচ্ছাদনে, ঠান্ডা প্রয়োগে, পাখার ও খোলা বাতাসে কমে। অস্থিরতা, স্নায়বিকতা, অবিশ্বাসযুক্ত, দুশ্চিন্তাপূর্ণ, উৎকন্ঠা, উৎসাহহীনতা, লজ্জাহীনতা, স্ত্রীদের কামোন্মাদ, প্রলাপ ও ভ্রান্তবিশ্বাস। শরীর বরফের মতে ঠান্ডা সে সাথে চটচটে ঘাম ও নীলাভতা, আবরণ সহ্য করতে পারে না। নর্তন বা কম্পন প্রথম চেহারায় শুরু হয় তারপরে সারা শরীরে শুরু হয়। জরায়ু ও মলদ্বারের শিথিলতা। রাক্ষুসে ক্ষুধা ও অদম্য পিপাসা।
♣ অনুভূতিঃ ১) শরীরের জ্বালা মনে হয় যেনো আগুনের স্ফুলিঙ্গ চারদিক হয়ে গায়ে পড়ছে ।
২) উত্তাপের অনুভূতি।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) মলত্যাগকালে জিব সূক্ষ্ণাগ্র দেখায় । ২) পায়ের পাতায় গ্যাংরিনে জ্বালাকর ও ছিন্নকর ব্যথা হয়। ৩) ঋতুস্রাব ৭দিন হতে ৯দিন পর্যন্ত দীর্ঘস্হায়ী হয়। ৪) হালকা গঠনের স্ত্রীলোকদের ম্যাট্রোরেজিয়া/ অতিরজ:স্রাব। ৫) অতিরজঃকালে নিদ্রাতুর অবস্হা / ঘুম ঘুমভাব।
< বৃদ্ধিঃ পূর্বাহ্নে, রাতে, রাত ৩টা, খাদ্য: রুটিতে, সঞ্চালনে স্পর্শে, কোনো কিছু স্পর্শ করলে প্রকোপ বাড়ে, গরমে, উষ্ণতায়, মুক্তবাতাসে, বিছানায় শুলে, স্টোভ বা উনুনের গরমে, আবরণে, উত্তাপে, দেহের রসরক্ত ক্ষয়ে, ঋতুকালে, মাসিক স্রাবের আগে, গর্ভাবস্থায়।
> হ্রাসঃ ঠাণ্ডা বাতাসে, অনাচ্ছাদনে, আক্রান্ত অঙ্গ দুললে, ঠাণ্ডা প্রয়োগে, হাত পা জোরে টানটান করলে, ঠাণ্ডা পানিতে গোসলে, ঘর্মস্রাবে, ঘর্ষণে, পাখার ও খোলা বাতাসে ।
♣ কারণঃ অতিরিক্ত ইন্দ্রিয় ইচ্ছা, গ্রীষ্মকাতরতা, দুধ, ঘাম এবং লুকিয়া স্রাব অবরুদ্ধে, আঘাত হতে গ্যাংগ্রীন, ভারী বস্তু ওঠানোর জন্য গর্ভস্রাব, নিঃসরণযোগ্য কোনো স্রাব চাপা পড়লে ।
♣ ইচ্ছাঃ অম্ল খাদ্য দ্রব্য, লেবু, মদ, ঠাণ্ডা পানীয়, মিষ্টি।
♣ অনিচ্ছাঃ খাদ্য, মাংস, পানীয়, চর্বি।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ ক্যাম্ফ, ওপি।

= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা,সিকেলি কর্নিউটাম প্রয়োগ করতে পারবো।