(29) Phosphorus (ফসফরাস)

♣ সমনামঃ ইয়োলো ফসফরাস, রেড ফসফরাস।
♣ রোগপ্রবণতাঃ টিউবারকুলার, হেমোরেজিক।
♣ সাইডঃ বামপাশ।
♣ কাতরতাঃ শীতকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ লম্বা পাতলা কৃশ একহারা গড়ন, রক্তপ্রধান, গায়ের রঙ ফর্সা চকচকে, চোখের পাতার চুল, মাথার চুল হালকা ও সুন্দর বা লাল চুল, বোধশক্তি দ্রুত ও তীব্র অনুভুতি সম্পন্ন ব্যক্তি- এমন লোকদের অসুখে উপযোগী। অল্পবয়সী অথচ দ্রুত বেড়ে ওঠে ও কুঁজো হয়ে যায় (কুঁজো হয়ে হাঁটে- সালফ), যাদের গায়ের চামড়া হলদে ফ্যাকাসে হয়ে যায় বা রক্তশূন্যতায় ভোগে ও যেসব বৃদ্ধদের সকালে উদরাময় হয় তাদের এ ওষুধ উপযোগী।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ মাথা, ফুসফুস, হার্টগহ্বর, রক্ত সঞ্চালন, রক্ত, রক্তনালি, ধমনি, মিউকাস মেমব্রেন, পাকস্হলী, উদর, নার্ভাস-ব্রেন, কর্ড, অস্হি-চেয়াল, পায়ের হাড়, মেরুদণ্ড, লিভার।
♣ ফিজিওলজিক্যাল কাজঃ এর কাজ স্নায়ুমণ্ডলের ওপর অত্যন্ত অধিকরূপে প্রকাশ পায়, লোহা যে প্রকার রক্তের ওপর, চুন যে প্রকার হাড়ের ওপর-‘সে প্রকার কাজ এর স্নায়বীয় বিধানের ওপর। জীবনীশক্তির মূল প্রদেশ মস্তিষ্ক এবং কশেরুকা মজ্জাকে (Spinal cord) আক্রমণ করে এর যাবতীয় সংলগ্ন যন্ত্রগুলোকে নিস্তেজ এবং অসাড় করে ফেলে, দুর্বলতা, কাঁপা, অবশভাব, পক্ষাঘাত সবই একে একে প্রকাশ পায়- এক কথায় বলতে হলে স্নায়বীয় বিধানের রোগে ফসফরাস একটি অদ্বিতীয় ওষুধ।
♣ সারসংক্ষেপঃ জৈব উত্তাপের অভাব। শীর্ণতা, রক্তপ্রধান ধাতু বিশিষ্ট ব্যক্তি। তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, লম্বা, পাতলা একহারা চেহারা। রক্তস্রাবের প্রবণতা। শূন্যবোধ- মাথায়, বুকে, পাকস্হলীতে, এবং নিচের সারা পেটে । প্রাতে, প্রাতরাশের পর, সন্ধাকালে, রাতে, আবহাওয়া পরিবর্তনে, সাধারণভাবে ঠাণ্ডায়, গরম খাদ্যে, শুয়ে থাকলে, ঘুমের আগে ও জাগরণে বাড়ে। আহারের পরে, শীতল পানীয়ে, মর্দনে কমে। উদ্বিগ্ন ও অস্হিরতা, ভয়, উত্তেজনা, উৎসাহহীনতা, ঔদাসীনতা, অত্যানুভূতিযুক্ত, অলসভাব ও ধীরতা। রাক্ষুসে ক্ষুধা, জ্বালা ও শূন্যতাবোধ। গরম পানি দিয়ে পা ধোলে সার্বদৈহিক লক্ষণের, উপশম হয়। অধিকাংশ পীড়ার সাথে মাথাঘোরা।
♣ অনুভূতিঃ শূন্যবোধ- মাথায়, বুকে, পাকস্হলীতে এবং নিচের সারা পেটে।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) ভয় হতে অজীর্ণতা। ২)ঠাণ্ডা পানি পানে পাকস্হলীতে জ্বালাকর ব্যথা হয়। ৩) ঠাণ্ডা খাবার খেলে উদরাময়ের উপশম হয়। ৪) গরম পানি দিয়ে পা ধোলে সার্বদৈহিক লক্ষণের উপশম হয়।
< বৃদ্ধিঃ প্রাতে, সন্ধাকালে, রাতে, মধ্য রাতের আগে ও পরে, প্রাতরাশের পর, আবহাওয়া পরিবর্তনে, সাধারণভাবে ঠাণ্ডায়, আহারের পরে, গরম খাদ্যে, শুয়ে থাকলে, বিছানায় শুলে, ঘুমের আগে, ঘুম থেকে জাগরণে, প্রকোপ বাড়ে, দ্রুত ও বায়ুতে ।
> হ্রাসঃ আহারের পরে, খাদ্য, শীতল পানীয়ে, শুয়ে থাকলে, ওপুড় হয়ে শুলে, চিৎ হয়ে শুলে, একপাশে শুলে, ঋতুস্রাবকালে, মর্দনে, নিচে বসতে গেলে, ঘুমের সময়ে, বিছানায় শুলে, মদে, দাঁড়লে, আহারে, নিদ্রায়, ঠাণ্ডা খাবার, ঠাণ্ডা পানীয়, মুখমণ্ডল ঠাণ্ডা পানিতে ধোয়া, চৌম্বক শক্তিতে, বিশ্রামে, ডানপাশে শয়নে, খাবার পর, খোলা ঠাণ্ডা বাতাসে, ঘুমালে ।
♣ কারণঃ অতি-ইন্দ্রিয়ভোগ, ক্রোধ, ভয়, বিরক্তি, দুঃখ, মানসিক পরিশ্রম, উত্তেজনা, উদ্বেগ, সঙ্গীত, বৃষ্টিতে ভেজা,
♣ ইচ্ছাঃ ঠাণ্ডা খাদ্য এবং পানীয়, বরফ, জুস, লবণ, অম্ল, মদ, ফল।
♣ অনিচ্ছাঃ মিষ্টি, মাংস, ফোটানো দুধ, মাছ, কফি, চা, গরম খাদ্য, চর্বি, ধুমপান, মাখন।
♣ শত্রুভাবাপন্নঃ অ্যাপিস, কস্টি ।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ আর্স, ক্যাল্ক, ক্যাম্ফ, ক্যামো, কফি, মেজি, নাক্স-ভ, সোরি, সিপি, টেরিবিণ্হ।
♣ প্রয়োগঃ যক্ষ্মা রোগের বহু রোগীর পক্ষে, রোগের শেষ অবস্হায় খুব উচ্চ শক্তিতে ফসফরাস একটি বিপজ্জনক ওষুধ ।

= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা ফসফরাস প্রয়োগ করতে পারবো।