Lycopodium (লাইকোপোডিয়াম): গুরুত্বপূর্ণ রুব্রিকসহ

৭১। লাইকোপোডিয়াম ক্ল্যাভেটাম (Lycopodium)। D.H.M.S. ( 4th year). ♣ সমনামঃ ক্লাব মস, নেকড়ের থাবা, ভেজিটেবল সালফার। ♣ মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, টিউবারকুলার, সিফিলিটিক। ♣ সাইডঃ ডানপাশ, ওপরে ডানপাশ নিচে বামপাশ, ডানপাশ হতে বামপাশ, বামপাশ। ♣ কাতরতাঃ গরমকাতর। ♣ উপযোগিতাঃ যাদের তীক্ষ্মবুদ্ধি অথচ দেহ দুর্বল ও কৃষ্ণকায়, দেহের ওপরভাগ শুকনো অথচ নিচের দিক সামান্য শোথগ্রস্থ; যকৃত ও ফুসফুসের রোগে ভোগে জীবনের শুরু ও শেষভাগে অর্থাৎ শিশু ও বৃদ্ধদের অসুখে উপযোগী। ♣ ক্রিয়াস্থলঃ পরিপোষণতন্ত্র, পরিপাক স্থল, খাদ্যের প্রবেশ পথ, চামড়া, মূত্রযন্ত্রগগুলো, বুক, গলা, ডিম্বাশয়, মস্তিষ্ক, ফুসফুস, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি, স্নায়ুমণ্ডল, জননেন্দ্রিয়, যকৃত। ♣ বৈশিষ্ট্যঃ ০১. বৃদ্ধি – বিকেল ৪টা হতে রাত ৮টা। ০২. রোগের গতি ডানদিক হতে বামদিকে যায়। ০৩. উন্মুক্ত হলে রোগের উপশম। ০৪. গরম পানীয়ে উপশম, ঠান্ডা খাবার ও ঠান্ডা পানীয়ে রোগের বৃদ্ধি। ০৫. নাকের পাতা পাখার মতো ওঠা-নামা করে। ♣ সারসংক্ষেপঃ শীর্ণতা, যকৃত ও ফুসফুসের রোগে ভোগে জীবনের শুরু ও শেষভাগে। উত্তাপের ঝলকাবোধ। অপরাহ্ন ৪টা হতে রাত ৮টা, সাধারণভাবে ঠান্ডায়, আহারের পরে, বায়ু উৎপন্ন করে এরূপ খাদ্যে, বিছানায় শুলে, ঋতুস্রাবের আগে ও সঞ্চালন আরম্ভকালে বাড়ে। মাঝরাতের পর, গরম খাদ্যে, শুলে থাকলে উপশম পরে বাড়ে, ঘামে ও মুক্ত বাতাসে কমে। উৎকন্ঠা, ভয়, কৃপণতা, হিংসুক, ধনলিপ্সা, স্নায়বিকতা, ক্রোধোন্মাত্ত, প্রলাপ, স্বপ্ন দেখে, জড়বুদ্ধি। প্রভুত্বব্যাঞ্জক বা হিংসার সাথে উন্মাদনা। তৃপ্তিসহকারে খাওয়ার পর পেটের ডান হাইপোকন্ড্রিয়াতে বা যকৃত বা লিভারে ব্যথা হয়। ডানাঙ্গে রোগাক্রমণ বা প্রথমে ডানাঙ্গে পরে বামাঙ্গে আক্রান্ত হয়। নাকের পাতা পাখার মতো ওঠা-নামা করে। ♣ অনুভূতিঃ মনে হয় যেনো গরম বল দু ‘স্তন হতে গড়িয়ে পিঠের দিকে যাচ্ছে, গড়াতে গড়াতে পায়ের মাঝ দিয়ে গোড়ালিতে পড়ছে ; পর্যায়ক্রমে বরফের বলেরও এরূপ অনুভূতি। ♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) হাঁপানির ক্ষেত্রে নাকের পাতাগুলো পাখার মতো নড়াচড়া করে। ২) প্রস্রাব করার সময় পেটে হাত দিয়ে চাপ দিতে হয়। ৩) শীর্ণ বালক শিশুদের শুকনো কাশি হয়। ৪) উদরি বা পেটের শোথ হতে সার্বদৈহিক দূর্বলতা হয়। < বৃদ্ধিঃ অপরাহ্ন ৪টা হতে রাত ৮টা, সঙ্গমকালে, সাধারণভাবে ঠান্ডায়, আহারের পরে, পেট ভরে আহারে, সীম ও বাঁধা কপিতে, ঠান্ডা খাদ্যে, বায়ু উৎপন্ন করে এরূপ খাদ্যে, পিঁয়াজে, বিছানায় শুলে, একপাশে চেপে শুলে, ঋতুস্রাবের আগে, সঞ্চালন আরম্ভকালে, চাপপ্রয়োগে, জাগরণে, বসাবস্হায়, স্পর্শে, মুক্তবাতাসে, গরম ঘরে, আবরণে। > হ্রাসঃ মাঝরাতের পর, খোলা বাতাসে, পোষাক ঢিলা করে দিলে, ঠান্ডা লাগালে, আহারকালে, গরম খাদ্যে, শুয়ে থাকলে উপশম পরে বাড়ে, ঘামে, ঘোড়ায় চড়ায়, উদ্গারে, প্রস্রাব করার পর, বিছনার গরমে। ♣ কারণঃ ভয়, রাগ, অপমান অথবা পুঞ্জিভূত অসন্তোষ হয়ে বিরক্তি ভাব, উৎকন্ঠা, জ্বর, হস্তমৈথুন, তামাক বা সাদা পাতা বা জর্দা চিবানো, মদ, কোনো ভারী জিনিস তোলা, গাড়িতে চড়া, অতিরিক্ত যৌনক্রিয়া। ♣ ইচ্ছাঃ খোলা বাতাস, মিষ্টি, ঝিনুক, মদ, গরম পানীয়ে। ♣ অনিচ্ছাঃ কফি, তামাক, রুটি, মাংস, ঝোল, সিদ্ধ গরম খাবার। ♣ শত্রুভাবাপন্নঃ কফি, নাক্স-ভ, জিঙ্ক। ♣ ক্রিয়ানাশকঃ অ্যাকোন, ক্যাম্ফ, কস্টি, ক্যামো, গ্র্যাফ, পালস, ওপি, কফি, নাক্স-ভ। ♣ এটি ক্রিয়ানাশকঃ চায়না, মার্ক, ক্লোরিন। ♣ সতর্কীকরণঃ এটি একটি সুগভীর ও দীর্ঘক্রিয় ওষুধ, উন্নতি শুরু হলে কখনও পূনঃপ্রয়োগ করবে না। —– ডা. এলেন। = উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা লাইকো প্রয়োগ করতে পারবো। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুব্রিকঃ (ক্যান্ট রেপার্টরী অনুযায়ী) ১) ক্রোধ: অপ্রকাশিত মনোদুঃখসহ- A= ইগ্নে, লাইকো, স্ট্যাফি। B= ককুল, কলো, ন্যাট্র-মি, ফস-অ্যাসি। ২) প্রতিবাদ ( Contradiction) সহ্য করতে পারে না- A= অরাম, ইগ্নে, লাইকো, সিপি । B= ব্রায়ো, ককুল, ফেরাম, হেলোনি, নাক্স-ভ, সাইলি । ৩) ভিরুতা (Cowardice) – A= জেলস, লাইকো । B= অ্যাকোন, ব্যারা-কা, ব্রায়ো, চায়না, পালস, র্যানান-বা, সাইলি, ভিরেট। ৪.১) ভয়: একাকি থাকলে- A= আর্জ-নাই, আর্স, ক্রোটন, হায়োস, ক্যালি-কা, লাইকো, ফস। ৪.২) ভয়, মানুষের/মনুষ্য-ভীতি (Anthropophobia)- A= লাইকো, ন্যাট্র-কা। B= অরাম, প্ল্যাটি, পালস। ৫) হাস্য করে: ঘুমের মাঝে- A= লাইকো । B= হায়োস, সাইলি, স্ট্র্যামো। ৬.১) ভুল করে: কথা বলতে- ভুল শব্দাংশ ব্যবহার করে- A= লাইকো । B= কস্টি, সেলিনি । ৬.২) ভুল করে: লিখতে- A= ল্যাকে, লাইকো থুজা। B= অ্যামন-কা, ক্যাল্ক-ফস, ক্যানা-স্যাট, ক্যামো, চায়না, ক্যালি-ব্রো, ক্যালি-ফস, ন্যাট্র-মি, নাক্স-ভ, স্যাম্বুল । ৭) প্রচণ্ড ক্রোধ (Rage, fury)/ ক্রোধান্দ্ধ, সাময়িক উন্মত্ততা (Frantic, frenzy)/ প্রচণ্ড ক্রোধ (Fury)- A= অ্যাগারি, বেল, ক্যান্থা, হায়োস, ল্যাক-ক্যান, লাইকো, মস্কাস, ওপি, স্ট্যামো, ভিরেট। ৮) অতি-ইন্দ্রিয়ভোগ হতে রোগ (Sexual) A= ক্যাল্ক, লাইকো, নাক্স-ভ, ফস-অ্যাসি, ফস, সিপি, স্ট্যাফি । ৯.১) উচ্চ চিৎকার করে : ঘুমের মাঝে- বোরা, লাইকো, পালস, জিঙ্ক । ৯.২) উচ্চ চিৎকার : মূত্রত্যাগেরর আগে- A= বোরা, লাইকো। B= সার্সা। C= ল্যাকে, নাক্স-ভ । ১০) ভীরুতা (Timidity)/বিব্রত (Embarrassed)- A= ব্যারা-কা, ক্যাল্ক-কা, ক্যাল্ক-সাল, ক্যালি-কা, লাইকো, ন্যাট্র-কা, পেট্রো, ফস, প্লাম্বা, সালফ । ১১) প্রচণ্ড, অতিশয় আবেগযুক্ত (Violent )- A= অরাম, বেল, সাইকু, হায়োস, নাক্স-ভ, স্ট্যামো। ১২.১) কাঁদে, অশ্রুপূর্ণ ভাব (Weeping, tearful mood, etc.)/ ফোঁপিয়ে ফোঁপিয়ে কাঁদে (Sobbing) – A= অ্যাপিস, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-সাল, কার্বো-সাল, কস্টি, সাইকু, গ্র্যাফ, ইগ্নে, ক্যালি-ব্রো, ল্যাক-ক্যান, লাইকো, ন্যাট্র-মি, ক্যালাডি, প্ল্যাটি, পালস, সিপি, সালফ, ভিরেট । ১২.২) কাঁদে শীতাবস্হায়- A= বেল, ক্যাল্ক, ক্যামো, লাইকো, পালস, ভয়োলা-ও। ১২.৩) কাঁদে: ধন্যবাদ দিলে- লাইকো । ১৩.১) অপরাহ্নে (Afternoon) বাড়ে- A= বেল, ক্যালি-নাই, লাইকো, পালস, রাস, সিপি, সাইলি, সিনাপি-না, থুজা, জিঙ্ক। ১৩.২) অপরাহ্ন ৪টায় : বাড়ে- A= লাইকো। B= কস্টি, কলো, হেলি। ১৩.৩) অপরাহ্ন ৪টা হতে ৮টা : বাড়ে- A= লাইকো। B= হেলি। C= অ্যালু, বোভি, ম্যাগ-মি, নাক্স-ম, সালফ। ১৪) মধ্য রাতের পর উপশম : A= লাইকো । ১৫) খোলা বাতাসে : এতে আকাঙ্ক্ষা – A= অরাম, অরাম-মি ক্যাল্ক-আই, কার্বো-ভে, ক্রোকা, আই, ক্যালি-আই, ক্যালি-সাল, লাইকো, পালস, সালফ। ১৬) বেদনার স্কল্পানুভূতি (Analgesia) – A= ককুল, লাইকো, ওলিয়ে, ওপি, ফস-এসিড, স্ট্র্যামো। ১৭) কৌষিক অর্বুদ – A= আর্স-আই, কোনি, লাইকো, মার্ক। ১৮) অস্হিক্ষত- A= অ্যাসাফ, ফ্লু-অ্যাসি, ক্যালি-আই, লাইকো, মার্ক, সাইলি, থেরেডি। ১৯) পোশাক অসহ্যবোধ হয় ( Clothing, intolerance of/ইনটলার্যানস অফ) – A- আর্জ-নাই, ক্যাল্ক, ক্রোট-ক্যাল্ক, ল্যাকে, লাইকো, নাক্স-ভ, ওনোস, স্পঞ্জি। ২০) সাধারণভাবে ঠান্ডায় বাড়ে-(Cold in general agg)- A= আর্স, ব্যারা-কা, ক্যাল্ক-আর্স, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফ্লু, ক্যাল্ক-ফস, ক্যাল্ক-সিলি, ক্যাপসি, কস্টি, চায়না, ডালকা, গ্র্যাফ, হিপার, হাইপেরি, ক্যালি-আর্স, ক্যালি-কা, ক্যালি-ফস, লাইকো, ম্যাগ-ফস, মস্কাস, ন্যাট্র-আর্স, নাই-অ্যাসি, নাক্স-ভ, ফস, সোরিন, পাইরো, র্যানান-বা, রাস, রিউমেক্স, স্যাবাডি, সিপি, সাইলি, স্পাইজে, স্ট্রনসি। ২১) আক্ষেপ : দেহের ডান পাশে- A= লাইকো। B= বেল, নাক্স-ভ। ২২) আহারের পরে বাড়ে- A- অ্যালোজ, আর্স, ব্রায়ো,ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস, কস্টি, কলো, কোনি, ক্যালি-বাই, ক্যালি-কা, ল্যাকে, লাইকো, ন্যাট্র-মি, নাক্স-ভ, ফস, পালস, রিউমেক্স, সিপি, সাইলি, সালফ। ২৩.১) শীর্ণতাঃ (Emaciation) – অ্যাব্রোটে, আর্স, ব্যারা-কা, ক্যাল্ক, চায়না, ফেরাম, গ্র্যাফ, হেলি, আই, লাইকো, ন্যাট্র-মি, নাই-অ্যাসি, নাক্স-ভ, ফস, প্লাম্বা, সেলি, সাইলি,স্ট্যানা, সালফ, টিউবার। ২৩.২) শীর্ণতা : জৈব তরল পদার্থের ক্ষয় হেতু- A= চায়না, লাইকো, সেলি। ২৩.৩) শীর্ণতা : বৃদ্ধ ব্যক্তির – A= ব্যারা-কা, আই, লাইকো। ২৩.৪) শীর্ণতা : ক্রমশঃ শুকিয়ে যাচ্ছে এরূপ বালকের- A= অরাম, লাইকো, টিউবার। ২৪) খাদ্য : ঠান্ডা খাদ্যে বাড়ে/ গরম খাদ্যে উপশম- A= আর্স, ডালকা, ল্যাকে, লাইকো, নাক্স-ভ, রাস, সাইলি। ২৫) ঋতৃস্রাবের আগে ( Menses, before)- A= বোভি, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস, কুপা, ল্যাকে, লাইকো, ন্যাট্র-মি, পালস, সিপি, সালফ, ভিরেট, জিঙ্ক। ২৬) বুড়ো ব্যক্তি – A= অ্যাম্ব্রা, অরাম, ব্যারা-কা, কোকা, ক্যালি-কা, লাইকো, ওপি, সিকেলি, সেলি। ২৭) অতিরিক্ত যৌনক্রিয়ার পর ( Sexual excesses, after) – A= ক্যাল্ক, কস্টি, কোনি, ক্যালি-ফস, লাইকো, নাক্স-ভ, ফস-অ্যাসি, ফস, সেলি, সিপি, সাইলি, স্ট্যাফি, সালফ। ২৮) ডান দিক ( Right) : A- আর্জ-মে, আর্স, অরাম, ব্যাপটি, বেল, ব্রায়ো, ক্যাল্ক, ক্যান্থা, চেলিডো, কলো, কোনি, ক্রোট-কা, ক্রোট-হ, লাইকো, নাক্স-ভ, পালস, স্যাঙ্গুই,সার্সা, সিকেলি। ২৯.১) দুর্বলতা/ক্লান্তি (Weakness, enervation) – সকালে- অ্যাগারি, আর্স, ল্যাকে, লাইকো, ফস-অ্যাসি, সিপি ২৯.২) দুর্বলতা/ক্লান্তি: নির্গত হবার পর- A= অ্যাসে-অ্যাসি, লাইকো, ন্যাজা, নাক্স-ভ, ফস-অ্যাসি, ফস, প্লাম্বা, পালস, সাইলি, স্ট্যাফি। ২৯.৩) দুর্বলতা/ক্লান্তিঃ ঘাম হতে- A= ব্রায়ো, ক্যাম্ফ, কার্বো-অ্যানি, চায়না, ফেরাম, ফেরা-আই, গ্র্যাফ, হায়োস, ইগ্নে, আই, লাইকো, মার্ক, ফস, সোরিন, স্যাম্বু, টিউবার। -ডা. এইচ এম আলীমুল হক, আলহক্ব হোমিও ফার্মেসী, মুক্তিস্মরণী (চিটাগাংরোড), শিমরাইল মোড়, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ। ০১৯২০-৮৬৬ ৬১০ ♣ ক্রিয়ানাশকঃ অ্যাকোন, ক্যাম্ফ, কস্টি, ক্যামো, গ্র্যাফ, পালস, ওপি, কফি, নাক্স-ভ। ♣ এটি ক্রিয়ানাশকঃ চায়না, মার্ক, ক্লোরিন। ♣ সতর্কীকরণঃ এটি একটি সুগভীর ও দীর্ঘক্রিয় ওষুধ, উন্নতি শুরু হলে কখনও পূনঃপ্রয়োগ করবে না। —– ডা. এলেন। = উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা লাইকো প্রয়োগ করতে পারবো।
One Comment