(23) Lachesis (ল্যাকেসিস)

♣ সমনামঃ বুশ মাস্টার স্নেক, সুরুকুকু।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, সিফিলিটিক, টিউবারকুলার।
♣ সাইডঃ বামপাশ, উপরে বামপাশ নিচে ডানপাশ, বামপাশ হতে ডানপাশ।
♣ কাতরতাঃ গরমকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ রক্ত ও পিত্তধাতু প্রধান। মোটাসোটা লোক অপেক্ষা যারা রোগা, দেহ শুকিয়ে গেছে তাদের বেশি প্রয়োজন হয়, যারা রোগে ভোগে দৈহিক ও মানসিক উভয়দিকেই পাল্টে গেছে তাদের পক্ষে উপযোগী।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ স্নায়ুমণ্ডলের ওপর এর মুখ্যক্রিয়া প্রকাশ করে; নার্ভস-মিউটেনাস, ভ্যাসোমোটর, সিমপ্যাথেটিক, নিউমোগ্যাসট্রিক, মন, গলমধ্য, শোষণ, ক্ষরণ, রক্তসঞ্চালন ক্রিয়া, রক্ত, হার্ট, গলা, শ্বাসযন্ত্র, ওভারি, স্ত্রীজননেন্দ্রিয়, বামদিক, মস্তক শীর্ষ ।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ ল্যাকেসিসেরর সর্বোচ্চ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্চে- ১. বৃদ্ধি নিদ্রায়। ২. দেহের ওপরিভাগে স্পর্শাধিক্য তার সাথে স্পর্শ ও সংকোচনে অসহ্য।
৩. বামপাশে রোগের আক্রমণ এবং বাম থেকে ডানে যায়। ৪. হ্রাস স্রাব শুরু হলে।
♣ ফিজিওলজিক্যাল কাজঃ ১. এটি মস্তিষ্কে রক্তাধিক্য উৎপন্ন করে অনুভাবক স্নায়ুর কাজ নষ্ট করে এবং অচৈতন্যতা উৎপন্ন করে। ২. এটি ফুসফুস ও পাকাশয়িক স্নায়ুর উপর ক্রিয়া প্রকাশ করে গলার আক্ষেপ এবং পাকাশয় হতে বমি উৎপন্ন করে।
৩. এটি কশেরুকা মজ্জার ক্রিয়া প্রকাশ করে আক্ষেপ, তড়কা এবং অবসন্নতা উৎপন্ন করে থাকে। ৪) এটি রক্তের উপর ক্রিয়া প্রকাশ করে তাকে দ্রুত পচনাবস্তায় পরিণত করে। ৫) এটি গায়ের চামড়ায় কালশিরা, গ্যাংরীন, রক্তস্রাব এবং ন্যবা উৎপন্ন করে। ৬) এটি ডিম্বাশয়দ্বয়কে দুর্বল করে স্বল্প এবং বিলম্বে রজঃস্রাব প্রকাশ করে।
♣ সারসংক্ষেপঃ রক্ত ও পিত্তপ্রধান ধাতুু। চোখ কালো, উৎসাহশূন্য ও আলসে প্রকৃতির রোগী। নির্গমনে নিবৃত্তি। উত্তাপের ঝলকাবোধ, শয্যা কঠিন মনে হওয়ার অনুভূতি। প্রাতে, রাতে, ঠান্ডা ও গরম খাদ্যে, ঋতুস্রাবের আগে ও পরে, ঘুমের শুরুতে, পরে ও ঘুম থেকে জাগরণে, সামান্য স্পর্শে, আহারের পরে ও মানসিক পরিশ্রমে বাড়ে। পোশাক ঢিলা করে দিলে, স্রাব হলে, আহারকালে, শক্ত চাপে ও অঙ্গ ধোলে কমে। প্রলাপ ও বাচালতা, কামুকতা, উৎকন্ঠা ও নৈরাশ্য, সন্দেহপরায়নতা, হিংসা, ঈর্ষাপরায়ণতা, ভয়, বিষন্নতা, স্মৃতিশক্তির ক্রিয়াশীল বা দুর্বলতা, অলসভাব ও ভ্রান্ত বিশ্বাস। তার স্ত্রী বা সন্তানদেরকে কোনো কিছু উপহার দেয়ার মানসিকতা থাকে না। রোগাক্রমণ বামপাশ, বামপাশ থেকে ডানপাশ।
♣ অনুভূতিঃ ১) মাথার চাঁদিতে ভারবোধ। ২) গলায় রুটির টুকরো আটকে থাকার অনুভূতি, খেকারি দিয়ে শ্লেষ্মা বের করলে উপশম হয়।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) মলবেগ আসে তবে মলত্যাগ হয় না। ২) হিংসুটে আচরণের পর হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। ৩) আরক্ত জ্বরের পর চামড়ায় শোথজাত ফোলা।
< বৃদ্ধিঃ প্রাতে, রাতে, শরৎকালে, ঠান্ডা খাদ্যে, গরম খাদ্যে, ঝাঁকুনি লাগায়, বিছানায় শুলে, ঋতুস্রাবের আগে ও পরে, নিদ্রাকারক ওষুধে, চাপপ্রয়োগে, ঘুমের শুরুতে, পরে ও ঘুম থেকে জাগরণে, বাতাসে, বসন্তকালে, সামান্য স্পর্শে, আহারের পরে, উপবাসকালে, মদ জাতীয় উত্তেজক পদার্থে, মানসিক পরিশ্রমে।
> হ্রাসঃ খোলা বাতাসে, পোশাক ঢিলা করে দিলে, গরম খাদ্যে, টক ফলে, শুয়ে থাকার পরে, ওপুড় হয়ে শুলে, বিছানায় শুলে, একপাশ চেপে শুলে, ঋতুস্রাবকালে, চাপে, আহারকালে, বাহ্য উত্তাপে, শয়নে, রজঃস্রাবান্তে, উদ্গারে, স্রাব হলে, ঠান্ডা পানীয়ে, অঙ্গের স্নানে, আস্তে আস্তে বাতাস দিলে।
♣ কারণঃ পারদের অপব্যহার, আঘাত, দীর্ঘ দিনের শোক, বিরক্তি, ক্রোধ, ভয়, ঈর্ষা, ব্যর্থ প্রেম, ঋতুস্রাব লোপ-অবরুদ্ধে, বিষাক্ত ক্ষত এর কুফলে, স্রাব অবরূদ্ধে, বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে, মদ, রোদ, উত্তপ্ত আবহাওয়া, আঘাতজনিত সন্ধিস্থলে নীলবর্ণ ফোলা, হস্তমৈথুন, মচকানো, ঝড়ো আবহাওয়া, বায়ু প্রবাহ।
♣ ইচ্ছাঃ মদপানীয়, কফি, ঝিনুক, শামুক, শুক্তি, মদ।
♣ অনিচ্ছাঃ রুটি, পানীয়, মাতার দুধ, তামাক।
♣ অসহ্যঃ পোশাক, মদ, কফি, অম্ল।
♣ শত্রুভাবাপন্নঃ অ্যাসি-অ্যাসে, কার্বো-অ্যাসি, নাই-অ্যাসি, অ্যামন-কা, ডালকা, সোরিন, সিপি।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ অ্যালু, আর্স, বেল, ক্যাল্ক, কার্বো-ভে, সিড্রন, ক্যামো, ককুল, কফি, হিপার, লিডাম, মার্ক, অ্যাসিড-নাই, নাক্স-ভ, ওপি, অ্যাসিড-ফস, রাস, সিপি, ট্যারেন্টু, অ্যালি-স্যা, অ্যামন-কা, সুরা, টক।
♣ এটি ক্রিয়ানাশকঃ বিউফো, ক্রোটেল, রাস।
♣ সতর্কীকরণঃ ল্যাকেসিস একটি দীর্ঘক্রিয় ওষুধ এবং এর অপব্যহার হলে কুফল সারাটা জীবন থেকে যায়। —– ডা. কেন্ট।

= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা ল্যাকেসিস প্রয়োগ করতে পারবো।