(21) Hepar Sulph (হিপার সালফ)

♣ সমনামঃ সালফুরেট অফ লাইম, হিপার সালফার, হ্যানেম্যানস ক্যালসিয়াম সালফাইড।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, টিউবারকুলার।
♣ সাইডঃ ডানপাশ, ওপরে ডানপাশ নিচে বামপাশ।
♣ কাতরতাঃ শীতকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ জৈব উত্তাপের অভাব, সালফারের মতো হিপার সালফও সোরা ও গন্ডমালা দোষযুক্ত ব্যক্তিদের, পক্ষে উপযোগী। জবুথবু, শ্লেষ্মাধাতু (সর্দিকাশিতে ভোগে)। যাদের চুল পাতলা, হাল্কা, কাজকর্মে নড়াচড়ায় ধীরগতি, পেশিগুলো নরম ও থলথলে তাদের পক্ষে উপযোগী।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ নার্ভ সমূহ, সংলগ্ন টিসুসমূহ, শ্লৈস্কিক ঝিল্লি, শ্বাস-প্রশ্বাস ঝিল্লিসমূহ, গ্ল্যান্ড, কিডনি, চর্ম, নাকের গোড়া ও নাকের হাড়, শোষণ ও ক্ষরণকারী যন্ত্র।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অত্যানুভূতি। এ লক্ষণ ওষুধের সর্বত্র বিরাজমান। “কোনো কষ্ট চামড়ার ওপর ঘটছে যা সামান্য স্পর্শেও অত্যানুভূতি পূর্ণ, রোগী পরিধেয় বস্ত্রের সংস্পর্শও সহ্য করতে পারে না কিন্তু স্পর্শকাতরতা শুধু স্পর্শের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বাতাসে রয়েছে অত্যানুভূতি ; রোগী বাতাসের সামান্য প্রবাহ ও সহ্য করতে পারে না এবং দুর্ঘটনাবশত যদি হাত বিছানার চাদরের বাইরে থাকে তবে রোগ লক্ষণের বৃদ্ধি : শব্দ ও গন্ধেরর প্রতি স্পর্শকাতর।
♣ সারসংক্ষেপঃ জৈব উত্তাপের অভাব, শ্লেষ্মাধাতু, সোরা ও গন্ডমালা দোষযুক্ত। শীতার্ততা, অত্যন্ত স্পর্শকাতরতা। শরীরের কোনো অঙ্গে বায়ুপ্রবাহের অনুভুতি। রাতে, খোলা বাতাসে, সাধারণভাবে ঠাণ্ডায়, ঠান্ড পানাহারে, শুষ্ক আবহাওয়ায়, চাপে, অনাচ্ছাদনে, স্পর্শে, ঘুমের সময়ে ও পরে বাড়ে। গরম খাদ্যে, বিছানায় শুলে, উনুনের গরমে, গরম আচ্ছাদনে ও আহারের পরে কমে। ক্ষিপ্রতা ও হঠকারিতা, ক্রোধ, প্রতিকূল-আচারী, তাড়াতাড়ি করে, অতিশয় আবেগযুক্ত, কাঁদে, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা। টক-ঝাল প্রভৃতি উগ্রদ্রব্য খাবার ইচ্ছা। প্রতি শীতকালে নির্দিষ্ট সময়ে আঙুলহাড়া হয়। কাঁটা ফোটার মতো ব্যথা ।
♣ অনুভূতিঃ গলার মাঝে মাছের তারকাঁটা বা মাছের কাঁটা থাকার অনুভুতি।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) চেহারার ক্ষতে বাতাসের প্রতি অত্যানুভূতি। ২) মাঝরাতের পর পিঠে ঘাম হয়।
< বৃদ্ধিঃ রাতে, খোলা বাতাসে, সাধারণভাবে ঠাণ্ডায়, ঠাণ্ডা বাতাসে, ঠাণ্ডা লাগালে, ঠাণ্ডা লাগালে পরে, দেহের কোনো অংশে ঠাণ্ডা লাগালে, হাত বিছানার বাইরে রেখে, শুষ্ক আবহাওয়ায়, চাপপ্রয়োগে, ঘুমের সময়ে ও পরে, ঠাণ্ডা বস্ত্ততে, অনাচ্ছাদনে, একাঙ্গে, ঘুম থেকে জাগরণে, ঠাণ্ডা বস্ত্ত খাদ্যে ও পানিয়ে, আক্রান্ত স্হানে স্পর্শে ।
> হ্রাসঃ আহারের পরে, গরম খাদ্যে, বিছানায় শুলে, উনুনের গরমে, গরমে, গরম আচ্ছাদনে বিশেষতঃ মাথা (সোরিন, সাইলি) ।
♣ কারণঃ পারদের কুফলে, শুষ্ক ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়, আঘাত, চর্মরোগ চাপা পড়ে, তামাক, ধুসপানে, আমবাত।
♣ ইচ্ছাঃ ভেনেগার, অম্ল,মদ, ঝাল, চাটনি, উচ্চ আস্বাদযুক্ত খাবার।
♣ অনিচ্ছাঃ চর্বি জাতীয় খাবার।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ অ্যাসে-অ্যাসি, আর্স, বেল, ক্যামো, আয়োড, কেলি-আয়োড, মার্ক-স, সাইলি।
♣ এটি ক্রিয়ানাশকঃ নাই-অ্যাসি, ক্যাল্ক, আই, ক্যালি-আই, কড লিভার ওয়েল ।
♣ সতর্কীকরণঃ হিপার সালফ এর উচ্চশক্তি বিরূপ প্রতিক্রিয়াশীল ফুসফুসের কোষাচ্ছাদিত যক্ষ্মায় (কেন্ট) ।
উচ্চতম শক্তির উপকারিতা দেখা যায় যখন রোগীর মধ্যে ধাতুগত লক্ষণ উপস্হিত থাকে ।
♣ প্রয়োগঃ ১) হিপার কখনই দেয়া যাবে না, যখন রোগীর চামড়া গরম ও শুষ্ক থাকে। কারণ তরুণ উপসর্গগুলোর পুনঃ পুুনঃ ফিরিয়ে আনতে এটি অধিক মাত্রায় তৎপর এবং শ্লেষ্মার ক্ষরণের পরিমান কমে যায়, কাশি শুষ্কতায় পরিণত হয়। -থাইজেন্ড রেমেডিজ। ২) হিপার সালফার ও সাইলিসিয়া: এই দুইটি ওষুধেরই নিম্ন শক্তিতে পুঁজোৎপত্তি এবং উচ্চ শক্তিতে পূঁজ শোষণ করিবার ক্ষমতা আছে । -ডা. দিলীপ গঙ্গোপাধ্যায়।

= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা হিপার সালফ প্রয়োগ করতে পারবো।