Hepar Sulph (হিপার সালফ): গুরুত্বপূর্ণ রুব্রিকসহ

৫৪। হিপার সালফিউরিস ক্যাল্কেরিয়াম (Hepar Sulph)।
D.H.M.S. ( 2nd year).
♣ সমনামঃ সালফুরেট অফ লাইম, হিপার সালফার, হ্যানেম্যানস ক্যালসিয়াম সালফাইড।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, টিউবারকুলার।
♣ সাইডঃ ডানপাশ, ওপরে ডানপাশ নিচে বামপাশ।
♣ কাতরতাঃ শীতকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ জৈব উত্তাপের অভাব, সালফারের মতো হিপার সালফও সোরা ও গন্ডমালা দোষযুক্ত ব্যক্তিদের, পক্ষে উপযোগী। জবুথবু, শ্লেষ্মাধাতু (সর্দিকাশিতে ভোগে)। যাদের চুল পাতলা, হাল্কা, কাজকর্মে নড়াচড়ায় ধীরগতি, পেশিগুলো নরম ও থলথলে তাদের পক্ষে উপযোগী।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ নার্ভ সমূহ, সংলগ্ন টিসুসমূহ, শ্লৈস্কিক ঝিল্লি, শ্বাস-প্রশ্বাস ঝিল্লিসমূহ, গ্ল্যান্ড, কিডনি, চর্ম, নাকের গোড়া ও নাকের হাড়, শোষণ ও ক্ষরণকারী যন্ত্র।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অত্যানুভূতি। এ লক্ষণ ওষুধের সর্বত্র বিরাজমান। “কোনো কষ্ট চামড়ার ওপর ঘটছে যা সামান্য স্পর্শেও অত্যানুভূতি পূর্ণ, রোগী পরিধেয় বস্ত্রের সংস্পর্শও সহ্য করতে পারে না কিন্তু স্পর্শকাতরতা শুধু স্পর্শের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বাতাসে রয়েছে অত্যানুভূতি ; রোগী বাতাসের সামান্য প্রবাহ ও সহ্য করতে পারে না এবং দুর্ঘটনাবশত যদি হাত বিছানার চাদরের বাইরে থাকে তবে রোগ লক্ষণের বৃদ্ধি : শব্দ ও গন্ধেরর প্রতি স্পর্শকাতর।
♣ সারসংক্ষেপঃ জৈব উত্তাপের অভাব, শ্লেষ্মাধাতু, সোরা ও গন্ডমালা দোষযুক্ত। শীতার্ততা, অত্যন্ত স্পর্শকাতরতা। শরীরের কোনো অঙ্গে বায়ুপ্রবাহের অনুভুতি। রাতে, খোলা বাতাসে, সাধারণভাবে ঠাণ্ডায়, ঠান্ড পানাহারে, শুষ্ক আবহাওয়ায়, চাপে, অনাচ্ছাদনে, স্পর্শে, ঘুমের সময়ে ও পরে বাড়ে। গরম খাদ্যে, বিছানায় শুলে, উনুনের গরমে, গরম আচ্ছাদনে ও আহারের পরে কমে। ক্ষিপ্রতা ও হঠকারিতা, ক্রোধ, প্রতিকূল-আচারী, তাড়াতাড়ি করে, অতিশয় আবেগযুক্ত, কাঁদে, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা। টক-ঝাল প্রভৃতি উগ্রদ্রব্য খাবার ইচ্ছা। প্রতি শীতকালে নির্দিষ্ট সময়ে আঙুলহাড়া হয়। কাঁটা ফোটার মতো ব্যথা।
♣ অনুভূতিঃ গলার মাঝে মাছের তারকাঁটা বা মাছের কাঁটা থাকার অনুভুতি।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) চেহারার ক্ষতে বাতাসের প্রতি অত্যানুভূতি। ২) মাঝরাতের পর পিঠে ঘাম হয়।
< বৃদ্ধিঃ রাতে, খোলা বাতাসে, সাধারণভাবে ঠাণ্ডায়, ঠাণ্ডা বাতাসে, ঠাণ্ডা লাগালে, ঠাণ্ডা লাগালে পরে, দেহের কোনো অংশে ঠাণ্ডা লাগালে, হাত বিছানার বাইরে রেখে, শুষ্ক আবহাওয়ায়, চাপপ্রয়োগে, ঘুমের সময়ে ও পরে, ঠাণ্ডা বস্ত্ততে, অনাচ্ছাদনে, একাঙ্গে, ঘুম থেকে জাগরণে, ঠাণ্ডা বস্ত্ত খাদ্যে ও পানিয়ে, আক্রান্ত স্হানে স্পর্শে ।
> হ্রাসঃ আহারের পরে, গরম খাদ্যে, বিছানায় শুলে, উনুনের গরমে, গরমে, গরম আচ্ছাদনে বিশেষতঃ মাথা (সোরিন, সাইলি) ।
♣ কারণঃ পারদের কুফলে, শুষ্ক ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়, আঘাত, চর্মরোগ চাপা পড়ে, তামাক, ধুসপানে, আমবাত।
♣ ইচ্ছাঃ ভেনেগার, অম্ল,মদ, ঝাল, চাটনি, উচ্চ আস্বাদযুক্ত খাবার।
♣ অনিচ্ছাঃ চর্বি জাতীয় খাবার।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ অ্যাসে-অ্যাসি, আর্স, বেল, ক্যামো, আয়োড, কেলি-আয়োড, মার্ক-স, সাইলি।
♣ এটি ক্রিয়ানাশকঃ নাই-অ্যাসি, ক্যাল্ক, আই, ক্যালি-আই, কড লিভার ওয়েল ।
♣ সতর্কীকরণঃ হিপার সালফ এর উচ্চশক্তি বিরূপ প্রতিক্রিয়াশীল ফুসফুসের কোষাচ্ছাদিত যক্ষ্মায় (কেন্ট) ।
উচ্চতম শক্তির উপকারিতা দেখা যায় যখন রোগীর মধ্যে ধাতুগত লক্ষণ উপস্হিত থাকে ।
♣ প্রয়োগঃ ১) হিপার কখনই দেয়া যাবে না, যখন রোগীর চামড়া গরম ও শুষ্ক থাকে। কারণ তরুণ উপসর্গগুলোর পুনঃ পুুনঃ ফিরিয়ে আনতে এটি অধিক মাত্রায় তৎপর এবং শ্লেষ্মার ক্ষরণের পরিমান কমে যায়, কাশি শুষ্কতায় পরিণত হয়। -থাইজেন্ড রেমেডিজ। ২) হিপার সালফার ও সাইলিসিয়া: এই দুইটি ওষুধেরই নিম্ন শক্তিতে পুঁজোৎপত্তি এবং উচ্চ শক্তিতে পূঁজ শোষণ করিবার ক্ষমতা আছে । -ডা. দিলীপ গঙ্গোপাধ্যায়।
= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা হিপার সালফ প্রয়োগ করতে পারবো।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুব্রিকঃ (ক্যান্ট রেপার্টরী অনুযায়ী)
১.১) ক্রোধ: এরূপ যেনো কাউকে ছুরি মারতে পারে – A= পিপার। B= চায়না, মার্ক, নাক্স-ভ।
১.২) ক্রোধ: প্রচন্ড – A= অ্যাকোন, অ্যানাকা, অরাম, ক্যামো, হিপার, নাই-অ্যাসি, নাক্স-ভ, স্ট্যাফি, ট্যারেন্টু।
৩) প্রতিবাদ (Contradict) করার প্রবৃত্তিযুক্ত – A= হিপার ।
৪) তাড়াতাড়ি করে: খাওয়ার সময়- A= কস্টি, হিপার, সাল-অ্যাসি। B= ল্যাকে। C= ক্যালাডি, কফি, পাইপা-মে ।
৫) দ্রুত ক্রিয়াশীল (Impetuous)- A= হিপার, নাই-অ্যাসি, নাক্স-ভ সিপি।
৬) স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা (Memory weakness of)- A= অ্যাম্ব্রা, আর্জ-নাই, আর্স, ব্যারা-কা, বিউফো, বিউফো-সা, কার্বো-সাল, কস্টি, কলচি, কোনি, গ্লোন, হেলি, হিপার, হায়োস, ক্যালি-ফস, ল্যাকে, লাইকো, মেডো, মার্ক, নাই-অ্যাসি, নাক্স-ম, ফস-অ্যাসি, ফস, প্ল্যাটি, প্লাম্বা, সিপি, ভিরেট।
৭) চমকে ওঠে: ঘুমাতে গেলে- A= আর্স, বেল, হিপার, লাইকো, সালফ।
৮) প্রচণ্ড: অতিশয় আবেগযুক্ত: ব্যথা হতে- A= অরাম, ক্যামো, হিপার।
৯.১) কাঁদে : কাশির আগে- ব্রায়ো, হিপার। B= আর্নি, বেল। C= অ্যান্টি-টা, আর্স, বোরা।
৯.২) কাঁদে: কাশির সময়- A= হিপার। B= বেল, ক্যাহিঙ্কা, সিনা।
১০) রাতে (Night) বাড়ে- A= অ্যাকোন, আর্জ-নাই, আর্নি, আর্স, আর্স-আই, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-আই, ক্যাল্ক-ফস, ক্যাল্ক-সাল, কার্বো-অ্যানি, কার্বো-সাল, ক্যামো, চায়না, সিন্নাবে, কফি, কলচি, কোনি, সাইক্লে, ডালকা, ফেরাম, ফেরা-আর্স, ফেরা-আই, গ্র্যাফ, হিপার, হায়োস, আয়োড, ইপি, ক্যালি-আর্স, ক্যালি-বাই, ক্যালি-কা, ক্যালি-আই, ল্যাকে, লিলি-টা, ম্যাগ-কা, ম্যাগ-মি, ম্যাঙ্গে, মার্ক, নাই-অ্যাসি, ফস, প্লাম্বা, সোরিন, পালস, রাস,রোমেক্স, সিপি, সাইলি, স্ট্রনসি, সালফ, ট্যালু, জিঙ্ক ।
১১) বড়ো ফোড়া (Abscesses)- ক্যাল্ক-আই, ক্যাল্ক-সাল, হিপার, ল্যাকে, মার্ক, সাইলি।
১৩) খোলা বাতাসে বাড়ে- A= সিনা, ককুল, গুয়াই, হিপার, ক্যালি-কা, মার্ক, নাক্স-ভ, রোমেক্স, সাইলি, সালফ।
১৪) সাধারণভাবে ঠান্ডায় বাড়ে (Cold in general agg)- A= আর্স, ব্যারা-কা, ক্যাল্ক-আর্স, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফ্লু, ক্যাল্ক-ফস, ক্যাল্ক-সিলি, ক্যাপসি, কস্টি, চায়না, ডালকা, গ্র্যাফ, হিপার, হাইপেরি, ক্যালি-আর্স, ক্যালি-কা, ক্যালি-ফস, লাইকো, ম্যাগ-ফস, মস্কাস, ন্যাট্র-আর্স, নাই-অ্যাসি, নাক্স-ভ, ফস, সোরিন, পাইরো, র্যানান-বা, রাস, রিউমেক্স, স্যাবাডি, সিপি, সাইলি, স্পাইজে, স্ট্রনসি।
১৫) ঠান্ডা বাতাসে বাড়ে- অ্যাগারি, অ্যালি-স্যা, আর্স, অরাম, ব্যারা-কা, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস, ক্যাম্ফ, কস্টি, সিমিসি, হিপার, হাইপেরি, লাইকো, ম্যাগ-ফস, নাক্স-ভ, সোরিন, রাস, সিপি, সাইলি।
১৬) ঠান্ডা লাগালে বাড়ে- A=আর্স, অরাম, ব্যারা-কা, ক্যান্থা, ক্যামো, হিপার, ক্যালি-আর্স, ক্যালি-বাই, ক্যালি-কা, লাইকো, মস্কাস, নাক্স-ভ, ফস-অ্যাসি, পাইরো, র্যানান-বা, রাস, স্যাবাডি, সিপি, সাইলি, সাল-অ্যাসি ।
১৭) দেহের কোনো অংশে ঠান্ডা লাগালে বাড়ে – A= হিপার, রাস, সাইলি।
১৮) হাত বিছনার বাইরে রেখে বাড়ে – A= ব্যারা-কা, হিপার, রাস।
১৯) শুষ্ক আবহাওয়ায় বাড়ে – A= অ্যাকোন, অ্যাসের, কস্টি, হিপার, ক্যালি-কা, নাক্স-ভ।
২০) আঘাত (Iinjuries) চোট লাগা পড়ে যেতে থেঁতলে যাওয়াসহ (including blows falls and bruises) A= আর্নি, কোনি, হিপার, হাইপেরি, পালস, রাস, সাল-অ্যাসি।
২১) বিছানায় শুলে উপশম- A= ব্রায়ো, সাইকু, ককুল, হিপার, নাক্স-ভ, স্কুই, স্ট্যানা।
২২) সংবেদনশীলতা: অভ্যন্তরীণভাবে – A= ক্যান্হা, কস্টি, সাইকু, হিপার, ল্যাকে, ন্যাট্র-মি, ফস,পালস, সাইলি, স্ট্রনসি, স্ট্র্যামো।
২৩) সংবেদনশীলতা: ব্যথায় – A= অরাম, ক্যামো, কফি, কলচি, হেলি, হিপার, ইগ্নে, ল্যাকে, লাইকো, নাই-অ্যাসি, নাক্স-ভ, ওলিয়ে, ফস, সোরিন, পালস, সিপি, সাইলি, স্ট্যাফি।
২৪) স্পর্শে প্রকোপ বাড়ে (Touch agg.) –
A= অ্যাগারি, অ্যাপিস, আর্জ-মে, অ্যাসাফ, বেল, ক্যামো, ককুল, কফি, কলচি, ক্রোট-কা, কুপা, হিপার, হায়োস, ক্যালি-আর, ক্যালি-কা, লাইকো, নাই-অ্যাসি, রডো, সাইলি, স্ট্যাফি, সালফ।
২৫) উনুনের গরমে উপশম – A= আর্স, ব্যারা-কা, হিপার, ইগ্নে, ম্যাগ-ফস, রাস, সাইলি।
২৬) ঠান্ডা বাতাসে বাড়ে – A= বেল, হিপার, নাক্স-ভ।
লেখক-Dr. Moin Uddin সূত্র-অনলাইন কালেকশন
-ডা. এইচ এম আলীমুল হক, আলহক্ব হোমিও ফার্মেসী,
মুক্তিস্মরণী (চিটাগাংরোড), শিমরাইল মোড়,
সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০১৯২০-৮৬৬ ৬১০