Calcarea phos (ক্যাল্কেরিয়া ফস): গুরুত্বপূর্ণ রুব্রিকসহ

২৮। ক্যাল্কেরিয়া ফসফরিকাম (Calcarea phos)
D.H.M.S. (2nd year).
♣ সমনামঃ ক্যালসিয়াম ফসফেট, ফসফেট অফ লাইম, ক্যালসিয়াম ফসফোরিকাম।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, টিউবারকুলার।
♣ সাইডঃ ডানপাশ, ডানপাশ হতে বামপাশে, বামপাশ হতে ডানপাশ।
♣ কাতরতাঃ শীতকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ কৃশ/শুকনো ব্যক্তি, খর্বতা, শীর্ণতা, জৈব উত্তাপের অভাব ও ঠান্ডা লাগার প্রবণতা। শিশু এবং বয়োপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের রক্তশূন্য, রঙ কালো, চুল কালো, চোখের মণি কালো, দেহে চর্বি জমা না হয়ে বরং রোগা পাতলা গড়ন। হাত ও পা শীর্ণ, পেট ও মাথা বড়ো।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ অপুষ্টে, ব্রেইন, স্নায়ু, অস্হি, গ্রন্থি, দাঁত, ডান দিকে ও রক্তের ওপরে, মাথার ঊর্ধ্বভাগ, বক্ষ।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ ক্যালকেরিয়া ফসের রোগী সাধারণত কৃশ। ক্যালকেরিয়া কার্বের শিশু হলো মোটা থলথলে। উভয়েরই তলপেট বড়ো ; কিন্তু ক্যালকেরিয়া ফসের রোগী তুলতুলে। ক্যালকেরিয়া কার্বের রোগী ডিম অধিক পছন্দ : ক্যালকেরিয়া ফসে লবণ অথবা ধুমায়িত মাংস পছন্দ।
♣ ফিজিওলজিক্যাল কাজঃ ক্যাল্কেরিয়া ফস প্রধানতঃ পোষণ ক্রিয়ার অভাব হেতু রোগে বেশি প্রয়োগ হয়। দেখতে ব্যারা-কার্বের মতো নির্বোধ নিশ্চেষ্ট বলে বোধ হয়। শিশুর বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের গঠনের সাদৃশ কিছুই উন্নতি হয় না। ঠান্ডা অথবা ঠান্ডা বায়ুর স্পর্শে সারা শরীরে কনকনানি যন্ত্রণা উপস্থিত হয়।
♣ সারসংক্ষেপঃ শুকনো, খর্বতা, শীর্ণতা, জৈব উত্তাপের অভাব ও ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতাযুক্ত, পরিপোষণ ক্রিয়ার অভাব হেতু রোগ ও যে সব যুবক-যুবতী দ্রুত বেড়ে ওঠে । স্ক্রোফিউলা বা ধাতুগত দুর্বলতা ও উদরাময় । ঠাণ্ডা বাতাসে, আহারের পরে, ঋতুস্রাবের আগে ও প্রারম্ভে, দৈহিক ও মানসিক পরিশ্রমে বাড়ে । গ্রীষ্মকালে, শুয়ে থাকলে, একপাশে চেপে শুলে ও গরম খাদ্যে উপশম । অস্হিরতা ও স্নায়বিকতা, ভ্রমন প্রবৃত্তি, অতৃপ্ত, অলসভাব, ভয়, উৎকণ্ঠা ও অনিচ্ছাকৃত দীর্ঘশ্বাস। রক্তল্পতার ক্ষেত্রে মূত্রনালি দিয়ে পুরনো প্রকৃতির সাদাটে বর্ণের স্রাব বেরোয় । ঋতুকালে মুখমণ্ডলে উদ্ভেদ ।
♣ অনুভূতিঃ
(১) অনুভূতি যেনো সে বাতকর্ম করবে কিন্তু পারে না।
(২) “পাছা ও পিঠ যেনো নিথর ” তার সাথে একটি অস্বস্তি অনুভূতি ।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ রক্তাল্পতার ক্ষেত্রে মূত্রনালি দিয়ে পুরনো প্রকৃতির সাদাটে বর্ণের স্রাব বেরোয়।
♣ < বৃদ্ধিঃ প্রাত ৬টায়, অপরাহ্ন ৪টায়, ভোরে ও সন্ধ্যায়, বায়ু প্রবাহে, ঠাণ্ডা বাতাসে, খোলা বাতাসে, সাধারণভাবে ঠাণ্ডায়, ঠাণ্ডা লাগার পরে, আর্দ্র আবহাওয়ায়, আবহাওয়া পরিবর্তনে, পূর্ব বায়ুতে, ভেজা ঠাণ্ডায়, লস অফ ফ্লুইডস, রসালো ফল ভক্ষণে, সঞ্চালনে, দাঁতওঠার ও প্রথম ঋতুদর্শনের সময়, ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটা, গর্ভাবস্হায়, মানসিক পরিশ্রমে, পীড়ার কথা ভাবলে, টুপির চাপে, রাতের খাবারের পর শুয়ে পড়লে, দৈহিক পরিশ্রমে, তুষারযুক্ত বাতাসে, খাদ্য: আহারের পরে, ঋতুস্রাবের আগে ও প্রারম্ভে, শীতল পানীয়ে, ঠাণ্ডা খাদ্যে, বরফ জমানো খাদ্যে।
♣ > হ্রাসঃ গ্রীষ্মকালে, গরমে, শুকনো আবহাওয়ায়, শুয়ে থাকলে, একপাশে চেপে শুলে, বিছানায় শুলে, চুম্বক শক্তিতে, গরম খাদ্যে।
♣ কারণঃ শরীর অতিবৃদ্ধি, কোনো দ্রব্য উত্তোলনে, ওপরে ওঠা, দুঃখ, প্রেমে ব্যর্থতা, পানিতে ভেজা, বিরক্তিকর বিষন্ন, ভালোবাসায় বঞ্চিত, একুইট রোগের পর রক্ত স্বল্পতা এবং দুর্বলতা, অতিরিক্ত পড়াশুনা, অতিরিক্ত যৌনক্রিয়া, দুঃসংবাদ, ভগন্দরের অস্ত্রক্রিয়া।
♣ ইচ্ছাঃ চুরুট, ধূম্র শুষ্ক মাংসাদি, লবণাক্ত, কাঁচা খাদ্য, কুটু খাদ্য।
♣ অনিচ্ছাঃ ধূমপান।
♣ বিতৃষ্ণাঃ খোলা বাতাসে।
♣ প্রয়োগঃ
(১) করোটির সম্মুখ হাড়ের ক্যাল্ক-কার্ব এবং সম্মুখ ও পেছনে উভয় দিকের হাড়ের পীড়ায় ক্যাল-ফস ক্রিয়াশীল। ——- ডাঃ ফ্যারিংটন।
(২) ঠান্ডায় সর্দিসহ আমবাত। —- ডাঃ গারেন্সি।
= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা ক্যাল্ক- ফস প্রয়োগ করতে পারবো।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুব্রিকঃ
১) উৎকন্ঠা ( Anxiety) : A= অ্যাকোন, আর্জ-নাই, আর্স, আর্স-আই, অরাম, বেল, বিসমা, ব্রায়ো, ক্যাক্টা, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস, ক্যাল্ক-সাল, ক্যাম্ফ, ক্যানা-ই, কার্বো-সাল, কার্বো-ভে, কস্টি, চায়না, কোনি, আই, ক্যালি-আর্স, ক্যালি-কা, ক্যালি-সাল, লাইকো, মেজের, ন্যাট-আর্স, ন্যাট্র-কা, নাই-অ্যাসি, ফস, সোরিন, পালস, রাস, সিকেলি, সালফ, ভিরেট।
২) অসন্তুষ্ট (Discontented ), অসুখী (Displeased), অতৃপ্ত (Dissatisfied): অ্যানাকা, ক্যাল্ক-ফস, মার্ক, ন্যাট্র-মি।
৩) বিমূঢ় ( Dollness) / অলসভাব ( Sluggishness) : আর্জ-নাই, ব্যাপটি, ব্যারা-কা, ব্যারা-মি, বেল, ব্রায়ো, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস, ক্যাল্ক-সাল, কার্বো-ভে, জেলস, গ্রাফ, গুয়াই, হেলি, হায়োস, ক্যালি-ব্রো, ক্যালি-কা, লরো, লাইকো, ন্যাট-আর্স, ন্যাট্র-কা, ন্যাট্র-মি, নাক্স-ম, ফস-অ্যাসি, পিক্রি-অ্যাসি, পালস, সেনেগা, সিপি, সাইলি, স্ট্যাফি, স্টিলি, সালফ, টিউবার।
৪) অলসভাব: শিশুদের- A= আর্জ-নাই, ব্যারা-কা, ক্যাল্ক-ফস, সালফ। B= ক্যাল্ক, লাইকো, মেডো, সাইলি।
৫) মানসিক পরিশ্রমে বৃদ্ধি (Exertion) : – A- আর্জ-মেট, আর্জ-নাই, অরাম, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস, ইগ্নে, ক্যালি-ফস, ল্যাকে, লাইকো, ন্যাট্র-কা, ন্যাট্র-মি, নাক্স-ভ, সেলিনি, সিপি, সাইলি, স্ট্যাফি।
৬) ভয় ( Fear) / আতঙ্ক ( Dread) : A= অ্যাকোন, আর্জ-নাই, অরাম, বেল, বোরা, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক- ফস, কার্বো-সাল, সাইকু, গ্রাফ, ক্যালি-আর্স, লাইকো, লাইসি, ন্যাট্র-কা, ফস, প্লাটি, সোরিন, সিপি, স্ট্র্যামো।
৭) নির্বুদ্ধিতা ( Idiocy)- B= ইথু, ব্যারা-কা, ব্যারা-মি, ক্যাল্ক-ফস, হেলি, ফস।
৮) অস্হিরতা, স্নায়বিকতা (Restlessness, nervousness) /অস্হির (Fidgety) – অ্যাকোন, অ্যানাকা,আর্জ-নাই,আর্স,আর্স-আই,ব্যাপটি,বেল,ক্যাল্ক,ক্যাল্ক -ফস,ক্যাম্ফ,সিমিসি,সাইকু, কলো, কুপ্রা, কুপ্রা-আর্স,ফেরাম, ফেরা-আর্স, হায়োস, লাইকো, মার্ক, প্লাম্বা, পালস, রাস, সিকেলি,সিফি, সাইলি,স্ট্যাফি, স্ট্র্যামো, সালফ,ট্যারেন্টু,জিঙ্ক ।
৯) দীর্ঘশ্বাস ফেলে ( Sighing) – A= ক্যাল্ক-ফস, সিমিসি, ইগ্নে।
১০) ভ্রমণ প্রবৃত্তি ( Travel, desire to) : A= ক্যাল্ক -ফস। B= হিপ্পো, আই।
১১) ঘুরে বেড়াতে চায় ( Wander, desires to) – B= ক্যাল্ক-ফস। C= সিমিসি, মার্ক, ভিরেট।
১২) খোলা বাতাসে বিতৃষ্ণা – A= অ্যামন-কা, ব্যাপটি, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস, ক্যামো, ককুল, কফি, ইগ্নে, ক্যালি-কা, ন্যাট্র-মি, নাক্স-ভ, পেট্রো, রুমেক্স, সাইলি, সালফ।
১৩) ররক্তাল্পতা ( Anaemia) – A= আর্স, বোরা, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস, চায়না, ফেরাম, ফেরা-আর্স, গ্রাফ, হেলি, ক্যালি-আর্স, ক্যালি-কা, ক্যালি-ফস, ম্যাঙ্গে, মেডো, মার্ক, ন্যাট্র-মি, নাই-অ্যাসি, ফস, প্লাম্বা, পালস, স্কুই, স্ট্যাফি, সালফ।
১৪) সাধারণভাবে ঠান্ডায় বাড়ে (Cold in general agg)- আর্স,অরাম, ব্যারা-কা, ক্যান্হা, ক্যামো, হিপার, ক্যালি-আর্স, ক্যালি-বাই, ক্যালি-কা, লাইকো, মস্কাস,নাক্স-ভ, ফস-অ্যাসি, পাইরো, রাস, স্যাবাডি, সিপি, সাইলি, সাল-অ্যাসি।
১৫)ঠান্ডা বাতাসে বাড়ে- অ্যাগারি, অ্যালি-স্যা, আর্স, অরাম, ব্যারা-কা, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস, ক্যাম্ফ, কস্টি, সিমিসি, হিপার, হাইপেরি, লাইকো, ম্যাগ-ফস, নাক্স-ভ, সোরিন, রাস, সিপি, সাইলি,।
১৬) খর্বতা ( Dwarfishness) – A= ব্যারা-কা, ক্যাল্ক-ফস, সালফ।
১৭) আহারের পরে- A= অ্যালোজ, আর্স। ব্রায়ো, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস, কস্টি, কলোফা, কোনি, ক্যালি-বাই, ক্যালি-কা, ল্যাকে, লাইকো, ন্যাট্র-মি, নাক্স-ভ, ফস, পালস, রিউমেক্স, সিপি, সাইলি, সালফ।
১৮) শীর্ণতাঃ শিশুদের (পুয়ে পাওয়া) – আর্স, আর্স-আই, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস,আই, ন্যাট্র-মি, সাইলি।
১৯) কৃশ/ শুকনো ব্যক্তি ( Leam people) : A= অ্যাম্ব্রা, ক্যাল্ক-ফস, সিকেলি, সালফ।
#সংকলনে: ডা.এইচ.এম.আলীমুল হক
ডিএইচএমএস (বিএইচবি), কিউএইচসিবি (বিইউবি)
চেম্বার: আলহক্ব হোমিও ফার্মেসী, মৌচাক, মিজমিজি
সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শের জন্য: ১০০টাকা বিকাশ করুন
(বিকাশ পার্সনাল: ০১৯১৬-৫১১ ৩৩৭) তারপর কল করুন
এই নাম্বারে: 01616-511337, 01816-511337