Cina Maritima (সিনা ম্যারিটিমা): গুরুত্বপূর্ণ রুব্রিকসহ

৩৯। সিনা ম্যারিটিমা (Cina)।
D.H.M.S. (1st year).
♣ সমনামঃ ওয়ার্মসিড, আর্টিমিশিয়া, সেরিগান।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, টিউবারকুলার।
♣ সাইডঃ বামপাশ, ওপরে ডানপাশ নিচে বামপাশ।
♣ কাতরতাঃ গরমকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ উত্তেজনাপ্রবণতা : শিশু, অত্যন্ত খিটখিটে, রাগী বদমেজাজি।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ডের স্নায়ুমন্ডলী, উদর, পাকস্হলী, চোখ, মিউকাস মেমব্রেনগুলো।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ সিনার প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছেঃ মানসিক ও শারীরিক অসহিষ্ণুতা – দেহ ও মনের সর্বোচ্চ স্পর্শকাতরতা। গার্নেসি বলেন, সিনা সেই সব লক্ষণে প্রযোজ্য যেই সব রোগলক্ষণের সাথে হাইতোলা বিদ্যমান থাকে, যা কোনো কোনো রোগলক্ষণের আগে আসে।
♣ ফিজিওলজিক্যাল কাজঃ সিনার কৃমির ওপর সরাসরি কোনো কাজ নেই- কী করে কৃমি নাশ করে তা নিচে বর্ণিত হলোঃ সিনার দ্বারা নিচের পেটের সকল যন্ত্র সবল হয় ও উদরযন্ত্র এবং উদরের গ্রন্হিজ স্নায়ুগুলো এমনভাবে সঠিক সক্রিয় থাকে যে খাদ্যনালির শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি হতে আর বিকৃত স্রাব বেরোতে পারে না, অতি স্বাভাবিকভাবেই স্রাব বেরিয়ে আসে সুতরাং কৃমিগুলো ঐ স্বাভাবিক স্রাবে জীবন ধারণের উপযুক্ত কোনো খাদ্য না পেয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে মলের সাথে বেরিয়ে পড়ে।
♣ সারসংক্ষেপঃ উত্তেজনাপ্রবণাতা: শিশু, অত্যন্ত খিটখিটে, রাগী বদমেজাজী। মানসিক ও শারীরিক অসহিষ্ণুতা এবং স্পর্শকাতরতা। অস্হির ঘুম। শিশু ওপুর হয়ে পেটের ওপর শুয়ে থাকে অথবা ঘুমের সময় পেটের নিচে হাত, কনুই অথবা হাঁটু থাকে। প্রতে, খোলা বাতাসে, স্পর্শে, ঘুমের সময়, অপরিচিত লোক দেখলে, মিষ্টি জিনিস খেলে ও রাগের পর বাড়ে। ওপুর হয়ে শুলে, সঞ্চালনে, চোখ ধোলে, শিশুকে কোলে নিলে ও ঘর্ষণে কমে। মিষ্টি ও বিভিন্ন অপাচ্য খাদ্য খাওয়ার ইচ্ছা। মায়ের দুধে অনিচ্ছা। কাঁদেঃ উচ্চ চিৎকার করে, অঙ্গভঙ্গি করে ও ঔদাসীনতা। পর্যাক্রমে ক্ষুধাহীনতা ও রাক্ষুসে ক্ষুধা। নাক সড়সড় করা; ভয়ানকভাবে অবিরত নাক ঘষা ও ঘন ঘন ঢোঁক গেলা এবং ঘুমের মাঝে দাঁত কড়মড় করা, চমকে ওঠা ও ওপুর হয়ে শুয়ে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কন্ঠরোধক কাশি। রোগলক্ষণের সাথে হাইতোলা বিদ্যমান থাকে।
♣ অনুভূতিঃ খাদ্য গ্রহণের পর আক্ষেপিক হাঁপানি যা অগ্রহণীয়, “অনুভূতি যেনো স্টার্নাম পিঠের অতি নিকটে, শ্বাস-প্রশ্বাস আটকে ধরছে ও উৎকন্ঠা ও ঘাম ঘটাচ্ছে”।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) আদরে ঔদাস্য/ উৎসাহহীনতা। সন্ধ্যায় শিশুরা লাফাতে থাকে।
২) ছেড়া ছেড়া ছোট শস্যকণার মতো সাদা শ্লেষ্মাযুক্ত মল। ৩) কাশির আগে হাত-পা শক্ত বা আড়ষ্ট হয়ে যায়। ৪) শিশুদের প্রতিবাদ করার বা দ্বিমত পোষণ করার প্রবণতা।
< বৃদ্ধিঃ প্রাতে, খোলা বাতাসে, একপাশে চেপে শুলে, স্পর্শে, ঘুমের সময়, তার দিকে তাকালে, পূর্ণিমায়, বিরক্তিতে, হাই তুললে, রোদে, গ্রীষ্মে, ঠান্ডা পানি ও বাতাসে, কোনো বস্তুর দিকে একভাবে তাকালে, শিশুকে আদর করলে, রাতে, পানিপানে, কথা বললে, হাসলে, মাঝ রাতের আগে, অপরিচিত লোক দেখলে, টীকা দিলে, মিষ্টি জিনিস খেলে, রাগের পর, বেশি খেলে, হস্তমৈথুনে।
> হ্রাসঃ শুয়ে থাকার পরে, ওপুর হয়ে শুলে, একপাশে চেপে শুলে, অবিরত সঞ্চালনে, চোখ ধোলে, শিশুকে কোলে নিলে, ঘর্ষণে, মাথা নাড়ালে, দোল দিলে।
♣ কারণঃ কৃমি বিশেষতঃ গোল কৃমি, মিষ্টি খেলে, অতিরিক্ত আহারে, অপাচ্য খাবার খেলে, যেমন- কয়লা, চারকল, চক, পাথরের টুকরো ইত্যাদি, হাই ওঠা।
♣ ইচ্ছাঃ মিষ্টি, ঠান্ডা পানীয়, ক্ষুধামান্দ্য ; আবার রাক্ষুসে ক্ষুধা।
♣ অনিচ্ছাঃ দুধ, মায়ের দুধ, স্পর্শে।
♣ অসহ্যঃ মিষ্টি।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ আর্নিকা, ক্যাম্ফ, চায়না, ক্যাপ্সি, ক্যামো, ইপি, মার্ক, পাইপা, নাইগ্রা।
♣ এটি ক্রিয়ানাশকঃ ক্যাপসি, চায়না, মার্ক।
= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা সিনা প্রয়োগ করতে পারবো।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুব্রিকঃ ( ক্যান্ট রেপার্টরী অনুযায়ী)
১) খাম খেয়ালিভাব ( Capriciousness) / খেয়ালী ( Fitful) / প্রত্যাখান করে, যা চেয়েছিল ( Refuses things asked for)- A= ব্রায়ো, ক্যামো, সিনা, ক্যালি-কা, স্ট্যাফি।
২) অঙ্গভঙ্গি করে : হাত দিয়ে বিছানা খূঁটে/ শষ্যাবস্ত্র খোঁটা ( Carphologia) / শয্যা খোঁটে ( Picking) – A= হায়োস, স্ট্র্যামো। B= আর্নি, আর্স, বেল, সিনা, কলচি, হেলি, আই, ক্যালি-ব্রো, লাইকো, মিউ-অ্যাসি, ন্যাট্র-মি, ওপি, ফস-অ্যাসি, ফস, সোরিন, রাস, জিঙ্ক।
৩) মুখভঙ্গী করে ( Grimaces) – B= কুপ্রা, স্ট্র্যামো। C= বেল, সিনা, হেলি, হায়োস, ওলিয়ে, নাক্স-ম, প্লাটি, ভিরেট-ভি।
৪) উত্তেজনাপ্রবণতা; শিশুদের- A= ক্যামো, সিনা, ম্যাগ-কা। B= ক্যাল্ক-ফস, আই, সাইলি।
৫) জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলে ( Throws things away) – A= স্ট্যাফি। B= সিনা, ক্রিয়ো।
৬) কেউ স্পর্শ করুক এরূপ ইচ্ছে করে না ( Toudhed, aversion to being) – A= অ্যান্টি-ক্রু, ক্যামো, ক্যালি-কা, ট্যারেন্টু। B= অ্যাকোন, অ্যাগারি, অ্যান্টি-টা, আর্নি, বেল, ব্রায়ো, চায়না, সিনা, কফি, ক্যালি-আই, ল্যাকে, মেডো, সাইলি, থুজা।
৭.১) কাঁদেঃ বিনা কারণে – A= অ্যাপিস, পালস, সালফ। B= সিনা, লাইকো।
৭.২) কাঁদেঃ কাশির পরে- B= আর্নি, বেল, ক্যাপসি, সিনা, হিপার, ওপি।
৮) প্রাতে (Morning) বাড়ে- A= অ্যাগারি, অ্যামন-মি, আর্জ-মে, আর্স-আই, অরাম, ব্রায়ো, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফ্লু, কার্বো-অ্যানি, কার্বো-সাল, কার্বো-ভে, ক্যামো, চেলিডো, সিনা, ক্রোকা, ক্যালি-বাই, ক্যালি-নাই, ল্যাকে, ন্যাট-আর্স, ন্যাট্র-মি, নাই-অ্যাসি, নাক্স-ভ, ওনোস, পেট্রো, ফস-অ্যাসি, ফস, পালস, রডো, রাস, রোমেক্স, সিপি, স্পাইজে, স্কুই, সালফ, ভ্যালের ।
৯) খোলা বাতাসে বাড়ে- A= সিনা, ককুল, গুয়াই, হিপার, ক্যালি-কা, মার্ক, নাক্স-ভ, রোমেক্স, সাইলি, সালফ।
১০) নর্তন রোগ ( Chorea)- A= অ্যাগারি, আর্টি-ভা, ক্যাল্ক, কস্টি, সাইকু, চায়না, সিমিসি, সিনা, কুপ্রা, ইগ্নে, মাইগেল, স্ট্র্যামো, ট্যারেন্টু।
১১.১) আক্ষেপ/ খিচুঁনি ( Convulsions) – A= আর্স, আর্টি-ভাল, অ্যাট্রো, বেল, বিউফো, কস্টি, ক্যামো, সাইকু, সিনা,কুপ্রা, হায়োস, লোবে, নাক্স-ম, নাক্স-ভ, ওপি, প্লাটি, স্ট্র্যামো, স্ট্রিকনি।
১১.২) আক্ষেপ: শিশুদের – A= আর্টি-ভা, বেল, সিনা, হেলি, ওপি, স্ট্যামো, ভিরেট, জিঙ্ক।
১১.৩) আক্ষেপ: সংজ্ঞাসহ- A= সিনা, স্ট্র্যামো।
১১.৪) আক্ষেপ: মৃগীরোগ সদৃশ- A= অ্যাগারি, আর্জ-নাই, বেল, ক্যাল্ক, কস্টি, সাইকু, সিনা, কুপ্রা, গ্লোন, হায়োস, প্লাম্বা, স্ট্যামো, সালফ, ভিস্কা ।
১২) ওপুড় হয়ে শুলে উপশম- A= বেল। B= চেলিডো, সিনা, কলো, ইল্যাপ্স, নাই-অ্যাসি, ফস, স্ট্যানা।
১৩.১) ব্যথা : অসাড় মতো ব্যথানুভব ( Paralytic) – A= বেল, কস্টি, সিনা, ককুল, কলচি, সাইক্লে, ইউফর্বি, ইউফ্রে, ইগ্নে, নাক্স-ভ, স্যাবি।
১৩.২) ব্যথা : ক্ষতের মতো মোচড়ানো ( Sore, bruised) – A= আর্জ-মে, আর্নি, সাইকু, সিমিসি, সিনা, কলো, ড্রসে, হ্যামামে, প্লাটি, পাইরো, রাস, রুটা, সাইলি।
১৩.৩) ব্যথা : পেশিতে ঝাঁকিমারা- A= সিনা, নাক্স-ভ, স্কুই।
১৩.৪) ব্যথা : ছিন্নকর বাহ্যিকভাবে – A= অ্যাকোন, ইস্কু, আর্নি, বেল, বার্বে, ব্রায়ো, কার্বো-সাল, চায়না, সাইকু, সিনা, কলচি, হাইপেরি, ইগ্নে, ক্যালি-কা, ক্যালি-ফস, ক্যালি-সাল, লিডাম, লাইকো, ন্যাট্র-মি, ন্যাট্র-ফস, ন্যাট্র-সাল, নাই-অ্যাসি, পালস, সিপি, সাইলি, সালফ।
১৪) বামদিক ( Left) – A= আর্জ-নাই, অ্যাসাফ, অ্যাসার, ক্যাপটিস, সিনা, ক্লিমে, ক্রোকা, গ্র্যাফ, ক্রিয়ো, ল্যাকে, স্যালে, সিপি, স্কুই, সালফ।
১৫) মুক্তবাতাসে বাড়ে ( in open air agg.)- A= আর্স, ক্যাল্ক, ম্যাগ-ফস, নাক্স-ভ, স্পাইজে, সালফ। B= বেল, ব্রায়ো, ক্যাম্ফ, কার্বো-অ্যাসি, কার্বো-অ্যানি, কার্বো-ভে, চেলিডো, সিনা, কফি, কলচি, কোনি, ইউফ্রে, মার্ক, স্ট্র্যামো, ভায়ো-ট্রা।
১৬) পানি লাগলে দেহের অভ্যন্তর অঙ্গে ধাক্কা লাগার অনুভূতি ( Water, dashing inner parts, sensation of) – B= রডো, স্পাইজে। C= বেল, সিনা, ক্রোট-টি, ডিজি, ফেরাম, হেলি, লরো, ফস-অ্যাসি।
লেখক-Dr. Moin Uddin
সূত্র-অনলাইন কালেকশন
-ডা. এইচ এম আলীমুল হক,
আলহক্ব হোমিও ফার্মেসী,
মুক্তিস্মরণী (চিটাগাংরোড) শিমরাইল মোড়,
সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০১৯২০-৮৬৬ ৬১০