(16) China off (চায়না অফ)

♣ সমনামঃ হলুদ পেরুভিয়ান বার্ক, কুইন কুইনা, জেসুইস বার্ক প্রভৃতি।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, টিউবারকুলার, সিফিলিটিক।
♣ সাইডঃ বামপাশ, ওপরে বামপাশ নিচে ডানপাশ।
♣ কাতরতাঃ শীতকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ ফ্যাকাসে এবং অত্যন্ত দুর্বলতা, চোখের, চারপাশে নীলচে দাগ, জিহ্বা সাদা প্রলেপযুক্ত ও রুগ্ন মুখাকৃতি।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ রক্ত, রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া, স্নায়ু, দৈহিক নিঃসরণ-হজম ক্রিয়ার যন্ত্রসমূহ, যকৃত, প্লীহা, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ কোনো জীবনীয় তরল ধাতুর অতিরিক্ত ক্ষয়ের ফলে যে তরুণ রোগ বা তরুণ লক্ষণ উপস্হিত হয় তার জন্য চায়নার ব্যবহার ফলপ্রদ, কিন্তু পুরনো অবস্হা আসলে চায়না কোনো ফল প্রদর্শন করতে পারেনা। এর কারণ অন্য কিছুই নয়, কেবল ওষুধটির ক্রিয়া আদৌ গভীর নয় বলেই এরূপ হয়ে থাকে। গ্যাংলিয়োনিক নার্ভাস সিস্টেমের ওপর এর প্রধান ক্রিয়া।
♣ সারসংক্ষেপঃ রক্তপ্রধান ধাতু বিশিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিক্রিয়াহীনতার অভাব, জৈব তরল পদার্থের ক্ষয়ে শীর্ণতা প্রাপ্তির পর তরুণ রোগ ও দুর্বলতা। রক্তস্রাব-প্রবণতা, শোথ ও রক্তস্রাবের সাথে আক্ষেপ। রাতে, সাধারণভাবে ঠাণ্ডায়, দুধে, ফলে, সঞ্চালনে, ঘামের পর, জীবনী শক্তিপ্রদ তরল পদার্থের ক্ষয়ে, স্পর্শে, শব্দে ও নিদির্ষ্ট সময়ে বাড়ে। জাগরণে, দাঁতে ও মাথায় খুব জোরে চাপে, কাপড় আলগা করলে ও উত্তাপে কমে। উৎকণ্ঠা, অত্যানুভূতিযুক্ত, বিতৃষ্ণা: জীবনের প্রতি, মানসিক কাজে। ভ্রান্ত বিশ্বাস, মানসিক অবসাদ, বিষণ্নতা, অলসভাব উৎসাহহীনতা ও ভয়। রক্তস্রাবের সাথে ঠাণ্ডা চটচটে ঘাম হয়।
♣ অনুভূতিঃ ১) প্রতিবার শ্বাস গ্রহণকালে পেটে শীতলতা বোধ করে। ২) জরায়ুতে ভারবোধ হাঁটলে বাড়ে।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) গৃহপালিত জীবযন্তুর ভয়। ২) নড়াচড়ায় পিঠে ঘাম হয়/ঘাড়ে ঘাম হয়। ৩) পাকস্হলীর লক্ষণ উপবাসে উপশম হয়। ৪) সীম খেলে/মুসরীর ডাল খেলে/টাটকা মাংস খেলে/নাশপাতি খেলে বুক জ্বালা করে।
< বৃদ্ধিঃ রাতে, সাধারণভাবে ঠাণ্ডায়, দুধে, ফলে, টক খাদ্যে, সঞ্চালনে, ঘামের পর, জীবনী শক্তিপ্রদ তরল পদার্থের ক্ষয়ে, স্পর্শে, শব্দে নিদির্ষ্ট সময়ে ।
> হ্রাসঃ একপাশে চেপে শুলে, চুম্বক শক্তিতে, জাগরণে, ঘুমের পরে, উপুর হলে, দাঁতে ও মাথায় খুব জোরে চাপে, কাপড় আলগা করলে, শয়নে, মুক্ত বাতাসে, উত্তাপে।
♣ কারণঃ দেহের তরল পদার্থের ক্ষয় (যেমন- রক্ত, শুক্র, শ্বেতপ্রদহ, পুঁজ, স্তনদুধ, উদরাময়, লালাস্রাব ইত্যাদি), মার্কারি ও কুইনাইনের অপব্যহার, হস্তমৈথুন, রাগ, সর্দি চাপা পড়া, মদ, চা পান, জ্বর, ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে লাগালে, মানসিক আবেগে, টকফল খেয়ে।
♣ ইচ্ছাঃ ঘন ঘন ঠাণ্ডা পানির ইচ্ছা, অল্প পরিমাণ পানি পান, প্রচণ্ড ক্ষুধার্থ, টক, ফল, মিষ্টি, মদ, ব্রান্ডি, হুইস্কি, অম্লদ্রব্য।
♣ অনিচ্ছাঃ সকল খাবার, সীম, মাংস, গরম খাবার, কফি, দুধ, ফল।
♣ অসহ্যঃ দুধ, মাথায় চিরুণী।
♣ শত্রুভাবাপন্নঃ ডিজি এবং সেলিনিয়াম এর পর।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ অ্যারেলিয়া, আর্নিকা, অ্যাপিস, আর্স, বেল, ব্রায়ো, কার্বো-ভে, কার্বো-অ্যানি, ক্যাল্ক, ক্যাপসি, কস্টি, সিনা, ইউপে-পার্ফ, ফেরাম, ইপি, ল্যাকে, লিডাম, লাইকো, মেনিয়েন্থিস, মার্ক, নেট্রা-কা, নেট্র-মি, নাক্স-ভ, পালস, রাস, সিপিয়া, সালফ, ভ্যারেট।
♣ এটি ক্রিয়ানাশকঃ আর্স, ক্যাল্ক, ক্যামো, কফি, ফেরাম, হেলি, আয়োড, মার্ক, সালফ, ভ্যারেট।
♣ প্রয়োগঃ ১) রাতের জ্বরে চায়না ব্যবহৃত হয় না।—- ডা. হরিপ্রসাদ চক্রবর্তী।
২) চায়না নিম্নশক্তি অপেক্ষা উচ্চশক্তি ভালো কাজ করে।

= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা চায়না প্রয়োগ করতে পারবো।