(15) Causticum (কস্টিকাম)

♣ সমনামঃ হ্যানিমানস কস্টিকাম, পটাসিয়াম হাইড্রেট।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, সিফিলিটিক, টিউবারকুলার।
♣ সাইডঃ ডানপাশ, ওপরে ডানপাশ নিচে বামপাশ, ডানপাশ হতে বামপাশ।
♣ কাতরতাঃ শীতকাতর ।
♣ উপযোগিতাঃ কস্টিকাম বিশেষভাবে ভীরু, স্নায়বিক এবং উদ্বিগ্ন প্রকৃতির লোকের প্রতি উত্তম কাজ করে, যারা সব সময় ভয়ের বিষয় কল্পনা করে। কালো বর্ণ, কালো চুল, কালো চক্ষুতারকা, পেশি শক্ত অথচ দুর্বল, যাদের বাত, পক্ষাঘাত, শ্বাসযন্ত্র, ও মূত্রযন্ত্র সংক্রান্ত, অসুখ হওয়ার প্রবণতা। জৈব উত্তাপ ও প্রতিক্রিয়াহীনতার অভাব।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ মস্তিক, স্নায়ুগুলো, মূত্রথলী ও শ্বাসযন্ত্রের মাংসপেশি, ফুসফুস, স্বরযন্ত্র, পাকাশয়, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি, মুখ, চামড়া।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ কস্টিকামের প্রধান ক্ষেত্র পক্ষাঘাতের ওপর, স্বৈরপেশি ও স্বাধীন পেশির ওপর এর কার্যকারিতা দেখা যায়। সর্বজন বিধিত যে, অ্যালোপ্যাথিক পদ্ধতিতে পটাসিয়ামের অত্যধিক প্রয়োগে দুর্বলতা দেখা দেয় এবং কস্টিকাম প্রমাণে এটি তা শক্তিশালীভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পক্ষাঘাতের দুর্বলতা একক অঙ্গ বা একক স্নায়ুর পক্ষাঘাত ।
♣ ফিজিওলজিক্যাল কাজঃ কস্টিকাম শরীরের তিনটি প্রধান স্থানে কাজ প্রকাশ করে- ০১. এটি গতিবিধায়ক স্নায়ুর পক্ষাঘাত উৎপন্ন করে। ০২. এটি
শ্লৈষ্কিক ঝিল্লির দুর্বলতা এবং প্রদাহ উৎপন্ন করে। ০৩. এটি পরিপাক যন্ত্রের দুর্বলতা আনয়ন করে অজীর্ণ ও উদরাময় উৎপন্ন করে।
♣ সারসংক্ষেপঃ ভীরু, স্নায়বিক এবং উদ্বিগ্ন প্রকৃতির লোক, প্রতিক্রিয়াহীনতার অভাব। পক্ষাঘাত ( স্বৈরপেশি ও স্বাধীন পেশি), শ্লৈষ্কিক ঝিল্লি ও পরিপাক যন্ত্রের দুর্বলতা। ব্যথাযুক্ত পক্ষাঘাতে জ্বালা, ঝিঁ-ঝিঁ লাগা ও সংকোচনবোধ। সন্ধাকালে, ঠান্ডায়, শুকনো আবহাওয়ায়, জাগরণে ও কফিপানে বাড়ে। শীতল পানীয়ে, গরমে ও ভেজা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় উপশম। সহানুভূতিশীল, অশ্রুপূর্ণ ভাব, অন্যমনষ্ক, উৎকন্ঠা ও ভয়, অস্হিরতা ও সন্দেহযুক্ত মন। আহারকালে তাড়াতাড়ি করা। না দাঁড়িয়ে মলত্যাগে অসুবিধা। ধীরে ধীরে হাত-পায়ের পক্ষাঘাত দেখা দেয়।
♣ অদ্ভূত লক্ষণঃ সবিরাম জ্বরের অদ্ভূত লক্ষণ হচ্ছে ” শীতের পরে ঘাম হয় মাঝখানে উত্তপ্ত ছাড়াই “।
♣ বিশেষ লক্ষণঃ পানিতে ভেজার পর চেহারার পক্ষাঘাত।
♣ অনুভূতিঃ * যেনো মাথার খুলির হাড় ও মাথার মাঝখানে একটি শূন্যস্থান রয়েছেে, গরমে উপশম।
* অনবর অনুভূতি যেনো পাকস্থালীতে চুন ফুটছে বা জ্বলছে ; তার সাথে মুখে পানি ওঠা। তলপেটে চাপ ও পূর্ণতা মনে হয় যেনো এটি ফেটে যাবে।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) অপারেশন বা সার্জারির পর হতে মূত্ররুদ্ধতা তথা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া। ২) ধীরে ধীরে হাত-পায়ের পক্ষাঘাত দেখা দেয়। ৩) নাক ঝাড়লে দৃষ্টিতে ঝাপসা দেখে। ৪) বিরক্তি হতে তোতলামি ভাব হয়।
< বৃদ্ধিঃ প্রাতে, পূবাহ্নে, বিকেল ৪টা, সন্ধাকালে, গোধূলিকালে, পানিতে গোসলে, পরিষ্কার আবহাওয়ায়, সাধারণভাবে ঠান্ডায় ও ঠান্ডা বাতাসে, শুকনো আবহাওয়ায়, জাগরণে প্রকোপ, কফিপানে, উদ্ভেদ অবরুদ্ধে, আগুনে পোড়ার পর, শীতকালে, অমাবস্যায়, শরীরের ডানদিকে।
> হ্রাসঃ শীতল পানীয়ে, ঝাঁকুনি লাগায়, বিছানায় শুলে, একপাশে চেপে শুলে, ব্যথাযুক্ত পাশে শুলে, সঞ্চালনে, ঠান্ডা পানীয় পানে ( কাশি), ভেজা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায়, গরমে, গরম বিছানায়, গরম বাতাসে, ধৌত করলে, দ্বিপ্রহর রাতে, মৃদু সঞ্চালনে, উনুনের গরমে।
♣ কারণঃ ঠান্ডা, টাইফয়েড বা ডিপথেরিয়া পরবর্তী পক্ষাঘাত, পোড়া অথবা জলীয়দগ্ধ, যুদ্ধ করা, দুঃখ অথবা শোক, রাত জাগা, ভয়, উদ্ভেদের অবরুদ্ধ ক্ষত অথবা শিসাজনিত, ঘুম কম হলে, শিসা বিষাক্ততা, আনন্দ, ক্রোধ।
♣ ইচ্ছাঃ শুকনো মাংস বা আগুনে ঝলসানো মাংস, সীম, ধূমযুক্ত মাংস, ঠান্ডা পানীয়, লবণ, বলকারক ওষুধ, প্রচুর ক্ষুধা কিন্তু সামান্য অথবা দু ‘ এক গ্রাস খেলেই ক্ষুধা থাকে না। ঝাল খাদ্য খেতে ইচ্ছে। চুরি করার।
♣ অনিচ্ছাঃ মাছ, মাংস, মিষ্টি, চর্বিযুক্ত খাদ্য, কফি, অম্ল।
♣ অসহ্যঃ মাংস।
♣ শত্রুভাবাপন্নঃ অ্যাসিড-অ্যাসেটি, কফি, ফস, অ্যাসাফ, চায়না, লাইকো, মার্ক, সালফ।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ অ্যাসাফ, কফি, কলোসিন্থ, কলোফা, ডালকা, গুয়েকাম, নাক্স-ভ।
♣ এটি ক্রিয়ানাশকঃ অ্যাসাফ, চায়না, কলোসিন্থ, ইউফ্রে, প্লাম্বা, মার্ক, সালফ।

= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা কস্টিকাম প্রয়োগ করতে পারবো।