Causticum (কস্টিকাম): গুরুত্বপূর্ণ রুব্রিকসহ

১৯.১। কস্টিকাম (Causticum)
DHMS (4th year).
♣ সমনামঃ হ্যানিমানস কস্টিকাম, পটাসিয়াম হাইড্রেট।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, সিফিলিটিক, টিউবারকুলার।
♣ সাইডঃ ডানপাশ, ওপরে ডানপাশ নিচে বামপাশ, ডানপাশ হতে বামপাশ।
♣ কাতরতাঃ শীতকাতর ।
♣ উপযোগিতাঃ কস্টিকাম বিশেষভাবে ভীরু, স্নায়বিক এবং উদ্বিগ্ন প্রকৃতির লোকের প্রতি উত্তম কাজ করে, যারা সব সময় ভয়ের বিষয় কল্পনা করে। কালো বর্ণ, কালো চুল, কালো চক্ষুতারকা, পেশি শক্ত অথচ দুর্বল, যাদের বাত, পক্ষাঘাত, শ্বাসযন্ত্র, ও মূত্রযন্ত্র সংক্রান্ত, অসুখ হওয়ার প্রবণতা। জৈব উত্তাপ ও প্রতিক্রিয়াহীনতার অভাব।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ মস্তিক, স্নায়ুগুলো, মূত্রথলী ও শ্বাসযন্ত্রের মাংসপেশি, ফুসফুস, স্বরযন্ত্র, পাকাশয়, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি, মুখ, চামড়া।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ কস্টিকামের প্রধান ক্ষেত্র পক্ষাঘাতের ওপর, স্বৈরপেশি ও স্বাধীন পেশির ওপর এর কার্যকারিতা দেখা যায়। সর্বজন বিধিত যে, অ্যালোপ্যাথিক পদ্ধতিতে পটাসিয়ামের অত্যধিক প্রয়োগে দুর্বলতা দেখা দেয় এবং কস্টিকাম প্রমাণে এটি তা শক্তিশালীভাবে প্রমাণিত হয়েছে। পক্ষাঘাতের দুর্বলতা একক অঙ্গ বা একক স্নায়ুর পক্ষাঘাত ।
♣ ফিজিওলজিক্যাল কাজঃ কস্টিকাম শরীরের তিনটি প্রধান স্থানে কাজ প্রকাশ করে-
০১. এটি গতিবিধায়ক স্নায়ুর পক্ষাঘাত উৎপন্ন করে।
০২. এটি শ্লৈষ্কিক ঝিল্লির দুর্বলতা এবং প্রদাহ উৎপন্ন করে।
০৩. এটি পরিপাক যন্ত্রের দুর্বলতা আনয়ন করে অজীর্ণ ও উদরাময় উৎপন্ন করে।
♣ সারসংক্ষেপঃ ভীরু, স্নায়বিক এবং উদ্বিগ্ন প্রকৃতির লোক, প্রতিক্রিয়াহীনতার অভাব। পক্ষাঘাত (স্বৈরপেশি ও স্বাধীন পেশি), শ্লৈষ্কিক ঝিল্লি ও পরিপাক যন্ত্রের দুর্বলতা। ব্যথাযুক্ত পক্ষাঘাতে জ্বালা, ঝিঁ-ঝিঁ লাগা ও সংকোচনবোধ। সন্ধাকালে, ঠান্ডায়, শুকনো আবহাওয়ায়, জাগরণে ও কফিপানে বাড়ে। শীতল পানীয়ে, গরমে ও ভেজা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় উপশম। সহানুভূতিশীল, অশ্রুপূর্ণ ভাব, অন্যমনষ্ক, উৎকন্ঠা ও ভয়, অস্হিরতা ও সন্দেহযুক্ত মন। আহারকালে তাড়াতাড়ি করা। না দাঁড়িয়ে মলত্যাগে অসুবিধা। ধীরে ধীরে হাত-পায়ের পক্ষাঘাত দেখা দেয়।
♣ অদ্ভূত লক্ষণঃ সবিরাম জ্বরের অদ্ভূত লক্ষণ হচ্ছে ” শীতের পরে ঘাম হয় মাঝখানে উত্তপ্ত ছাড়াই “।
♣ বিশেষ লক্ষণঃ পানিতে ভেজার পর চেহারার পক্ষাঘাত।
♣ অনুভূতিঃ * যেনো মাথার খুলির হাড় ও মাথার মাঝখানে একটি শূন্যস্থান রয়েছেে, গরমে উপশম।
* অনবর অনুভূতি যেনো পাকস্থালীতে চুন ফুটছে বা জ্বলছে ; তার সাথে মুখে পানি ওঠা। তলপেটে চাপ ও পূর্ণতা মনে হয় যেনো এটি ফেটে যাবে।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) অপারেশন বা সার্জারির পর হতে মূত্ররুদ্ধতা তথা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া। ২) ধীরে ধীরে হাত-পায়ের পক্ষাঘাত দেখা দেয়। ৩) নাক ঝাড়লে দৃষ্টিতে ঝাপসা দেখে। ৪) বিরক্তি হতে তোতলামি ভাব হয়।
♣ < বৃদ্ধিঃ প্রাতে, পূবাহ্নে, বিকেল ৪টা, সন্ধাকালে, গোধূলিকালে, পানিতে গোসলে, পরিষ্কার আবহাওয়ায়, সাধারণভাবে ঠান্ডায় ও ঠান্ডা বাতাসে, শুকনো আবহাওয়ায়, জাগরণে প্রকোপ, কফিপানে, উদ্ভেদ অবরুদ্ধে, আগুনে পোড়ার পর, শীতকালে, অমাবস্যায়, শরীরের ডানদিকে।
♣ > হ্রাসঃ শীতল পানীয়ে, ঝাঁকুনি লাগায়, বিছানায় শুলে, একপাশে চেপে শুলে, ব্যথাযুক্ত পাশে শুলে, সঞ্চালনে, ঠান্ডা পানীয় পানে ( কাশি), ভেজা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায়, গরমে, গরম বিছানায়, গরম বাতাসে, ধৌত করলে, দ্বিপ্রহর রাতে, মৃদু সঞ্চালনে, উনুনের গরমে।
♣ কারণঃ ঠান্ডা, টাইফয়েড বা ডিপথেরিয়া পরবর্তী পক্ষাঘাত, পোড়া অথবা জলীয়দগ্ধ, যুদ্ধ করা, দুঃখ অথবা শোক, রাত জাগা, ভয়, উদ্ভেদের অবরুদ্ধ ক্ষত অথবা শিসাজনিত, ঘুম কম হলে, শিসা বিষাক্ততা, আনন্দ, ক্রোধ।
♣ ইচ্ছাঃ শুকনো মাংস বা আগুনে ঝলসানো মাংস, সীম, ধূমযুক্ত মাংস, ঠান্ডা পানীয়, লবণ, বলকারক ওষুধ, প্রচুর ক্ষুধা কিন্তু সামান্য অথবা দু ‘ এক গ্রাস খেলেই ক্ষুধা থাকে না। ঝাল খাদ্য খেতে ইচ্ছে। চুরি করার।
♣ অনিচ্ছাঃ মাছ, মাংস, মিষ্টি, চর্বিযুক্ত খাদ্য, কফি, অম্ল।
♣ অসহ্যঃ মাংস।
♣ শত্রুভাবাপন্নঃ অ্যাসিড-অ্যাসেটি, কফি, ফস, অ্যাসাফ, চায়না, লাইকো, মার্ক, সালফ।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ অ্যাসাফ, কফি, কলোসিন্থ, কলোফা, ডালকা, গুয়েকাম, নাক্স-ভ।
♣ এটি ক্রিয়ানাশকঃ অ্যাসাফ, চায়না, কলোসিন্থ, ইউফ্রে, প্লাম্বা, মার্ক, সালফ।
= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা কস্টিকাম প্রয়োগ করতে পারবো।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুব্রিকঃ
১) অন্যমনস্ক (Absent-minded) / অন্য বিষয়ে নিবিষ্টচিত্ত (pre-Occupied) – A= অ্যাপিস, ক্যানা-ই, কস্টি, ক্যামো, হেলি, ল্যাকে, মেজের, ন্যাট্র-মি, নাক্স-ম, প্লাটি, পালস, সিপি, ভিরেট ।
২) উৎকন্ঠা (Anxiety) : ভয়ের সাথে – অ্যাকোন, অ্যানাকা, আর্স, কস্টি, ইগ্নে, সোরিন,সিকেলি।
৩) তাড়াতাড়ি করে: খাওয়ার সময়- A= কস্টি, হিপার, সাল-অ্যাসি । B= ল্যাকে। C= ক্যালাডি, কফি, পাইপা-মে।
৪) কৃতনিশ্চয়তা: (Positiveness) -C= ক্যাম্ফ, কস্টি, ফেরাম, ল্যাকে, মার্ক ।
৫.১) অস্হিরতা: সন্ধ্যাকালে- A= কস্টি । B= অ্যালু, অ্যামন-মি, আর্স, ক্যাম্ফ, কার্বো-ভে, মার্ক, ন্যাট্র-কা, রিউমেক্স।
৫.১) অস্হিরতা: রাতে- A= আর্স, কস্টি, হায়োস, ক্যালি-আর্স, ক্রিয়ো, লাইকো, মার্ক, পালস, রাস, সালফ ।
৬) চমকে ওঠে: ঘুম হতে- A= বেল, বোরা, কস্টি, হায়োস, স্পঞ্জি ।
৭) সন্দেহযুক্ত (Suspicious)/অবিশ্বাসযুক্ত -(Distrustful) -A= অ্যাকোন, আর্স, ব্যারা-কা, ব্রায়ো, ক্যানা-ই, কস্টি, সেঙ্ক্রি, সাইকু, ডিজি, ক্যালি-আর্স, আর্স, ল্যাকে, লাইকো, পালস, রাস, সিকেলি, স্ট্যামো, সালফ ।
৮) কাঁদেঃ শিশুরা সামান্য মাত্র অস্বস্তিতে- A- কস্টি। C= লাইকো, নাই-অ্যাসি।
৯.১) নর্তন রোগ ( Chorea) – A= অ্যাগারি, আর্টি-ভা, ক্যাল্ক, কস্টি, সাইকু, চায়না, সিমিসি, সিনা, কুপ্রা, ইগ্নে, স্ট্র্যামো, ট্যারেন্টু।
৯.২) নর্তন রোগ : ডানপাশে – B= আর্স, কস্টি, ন্যাট্র-সাল। C= ফাইজস, ট্যারেন্টু।
৯.৩) নর্তন রোগ : ভয় হতে- A= কস্টি। B= ক্যাল্ক, ইগ্নে, ক্যালি-ব্রো, লরো, ন্যাট্র-মি।
৯.৪) নর্তন রোগ : কিছুর অনুকরণ করার ফলে- B= কস্টি। C= কুপ্রা, মাইগেল, ট্যারেন্টু।
৯.৫) নর্তন রোগ : গর্ভাবস্থায়- B= কস্টি, কুপ্রা।
৯.৬) নর্তন রোগ : বাতরোগজ- A= কস্টি। B= সিমিসি, রাস।
১০) পরিষ্কার আবহাওয়ায় বাড়ে- ( Clear weather agg.) B= ব্রায়ো, কস্টি, হিপার, নাক্স-ভ।
১১) শুষ্ক আবহাওয়ায় বাড়ে- A= অ্যাকোন, অ্যাসের, কস্টি, হিপার, ক্যালি-কা, নাক্স-ভ।
১২.১) খাদ্য : কফিপানে বাড়ে- A= ক্যান্থা, কস্টি, ক্যামো, ইগ্নে, নাক্স-ভ।
১২.২) খাদ্য : শীতল পানীয়ে উপশম- A= বিসমা, ব্রায়ো, কস্টি, ফস, সিপি।
১৩.১) উত্তাপের ঝলকাবোধ ( Flashes of heat) – A= ক্যাল্ক, কস্টি, ককুল, গ্লোন, ল্যাকে, লাইকো, ম্যাঙ্গে, ন্যাট্র-সাল, নাই-অ্যাসি, ফস, সোরিন, সিপি, সালফ, সাল-অ্যাসি, স্যাম্বুল, থুজা, টিউবার।
১৩.২) উত্তাপের ঝলকাবোধ : পরে শীত শীত ভাব দেখায়- A= কস্টি। C= স্যাঙ্গুই।
১৪.১) বার্ধক্যজনিত পক্ষাঘাত : ধীরে ধীরে আগমন- A= কস্টি।
১৪.২) বার্ধক্যজনিত পক্ষাঘাত : ডানদিকে – A= কস্টি। B= আর্নি, বেল, ক্যাল্ক, ক্যান্থা, ইল্যাপ্স, ন্যাট্র-কা, রাস।
১৪.৩) বার্ধক্যজনিত পক্ষাঘাত/অসাড় স্থানে শীতলতা/ঠান্ডা ভাব- B= কস্টি, ডালকা। C= আর্স, ককুল, গ্রাফ, নাক্স-ভ, প্লাম্বা, রাস, জিঙ্ক।
১৫) ঘামে উপশম হয় না এমন ( Perstiration gives no relief) – A= কস্টি, ক্যামো, ফর্মি, মার্ক, নাক্স-ভ, রাস, সিপি, সালফ, ভিরেট।
১৬) গ্রন্হিগুলোতে – A= কস্টি, মার্ক। B= অ্যামন-মি, ক্যাল্ক, ক্যালি-কা, ফস, সাইলি, সালফ।
১৭.১) জাগরণে প্রকোপ বাড়ে- ( Rising agg.)- A= অ্যাকোন, ব্রায়ো, কস্টি, ককুল, ডিজি, লাইকো, নাক্স-ভ, ওপি, প্লাটি, রাস, সাইলি, সালফ।
১৭.২) জাগরণে : উপশম – A= অ্যালু, অ্যামন-কা, অ্যাসাফ, ক্যাল্ক, কস্টি, চেলিডো, চায়না, সাইকু, স্যাম্বু, সিপি।
১৮) টেনে লম্বা করার অনুভূতি ( Stretching) – A= আর্স, কস্টি, ক্যামো, নাক্স-ভ, পালস, রাস।
১৯) সাধারণ ফোলা : শক্ত ( hard) – A= কস্টি, কোনি, আই, রাস।
২০) সাইকোসিস ( Sycosis) – A= আর্জ-মে, আর্জ-নাই, ক্যালি-সাল, মেডো, সিপি, স্ট্যাফি, থুজা।
#সংকলনে: ডা.এইচ.এম.আলীমুল হক
ডিএইচএমএস (বিএইচবি), কিউএইচসিবি (বিইউবি)
চেম্বার: আলহক্ব হোমিও ফার্মেসী, মৌচাক, মিজমিজি
সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শের জন্য: ১০০টাকা বিকাশ করুন
(বিকাশ পার্সনাল: ০১৯১৬-৫১১ ৩৩৭) তারপর কল করুন
এই নাম্বারে: 01616-511337, 01816-511337