(13) Carbo Anim (কার্বো এনিম)

সমনাম– এনম্যিাল চারকোল।
অনুপূরক– গ্রন্থিরোগে ক্যাল-ফস, পচা খাদ্য ভক্ষণে কার্বোভেজ।
ক্রিয়ানাশক– আর্সেনিক, নাক্সভম, ক্যাম্ফর।
পরবর্তী ঔষধ– বেলেডোনা, আর্সেনিক, ব্রায়োনিয়া, এসিড নাইট্রিক, ফসফরাস, পালসেটিলা, সিপিয়া, সাইলেসিয়া, সালফার, ভেরেট্রাম।
ধাতুগত লক্ষণ– সিফিলিস দোষটি যখন ধাতুগত রূপ নিয়ে শেষ অবস্থায় উপনীত হয়, তখনই ব্যপকভাবে ইহার ক্ষেত্রটি আসিয়া পড়ে।
বৃদ্ধি– দাড়ি/চুল কামাইবার পর, শরীরের কোন তরল পদার্থের ক্ষয়। আহারের সময়, ডানপাশে শয়নে কাশি, ঋতু¯্রাবের পর, খোলা বাতাসে।
হ্রাস- না শীত না গরম আবহাওয়ায়, গরম ঘরে, আক্রান্ত অঙ্গে হাত বুলাইলে।
রোগের কারণ– শরীরের তরল পদার্থের ক্ষয়, ভারী জিনিস তোলা, পচা মাছ-গোস্ত-তরকারী ভক্ষণ।
ক্রিয়াস্থল– গ্রন্থি, চর্ম ও পরিপাক যন্ত্রের উপর ইহার প্রধান ক্রিয়া। গø্যান্ড সমূহের বিশৃংখলা, স্তন ও জরায়ুর ক্যানসার, ফুসফুসে ক্ষত, অন্ত্রের ক্ষয়পীড়া, প্লুরিসি, দুষ্ট জাতীয় অর্শ ইত্যাদি।
চরিত্রগত লক্ষণ-
(১) রোগির মনটি বিষন্ন ও উৎকণ্ঠায় পরিপূর্ণ। অন্ধকারে বা সন্ধ্যার প্রাক্কালে একটি ভীতিরভাব দেখা দেয়। অথচ লোকসঙ্গে বিতৃষ্ণা থাকায় রোগি সব সময়েই নির্জনতা পছন্দ করে।
(২) শরীরস্থ যাবতীয় স্বাভাবিক ¯্রাব, যথা প্র¯্রাব, ঘর্ম, ঋতু¯্রাব ইত্যাদি যে কোনও প্রকার ¯্রাব সামান্যতম মাত্রায় নির্গত হইলেই নিদারুণ অস্বাভাবিক প্রকৃতির ক্লান্তি ও দুর্বলতার আবির্ভাব।
(৩) শিরঃপীড়া, মনে হয় মাথাটি টুকরা হয়ে ফেটে গিয়েছে। রক্ত বেগে ধাবিত হয়, তৎসহ বিভ্রান্তি। মনে হয় যেন কোন কিছু চোখের উপর অবস্থান করছে এবং এই কারণে সে (স্ত্রী) উপর দিকে দৃষ্টিপাত করতে পারছেনা।
(৪) নাসিকা স্ফীত, নাসিকার অগ্রভাগ নীলাভ এবং তাহার উপর ক্ষদ্র অর্বুদ।
(৫) শ্রবণ গোলমেলে, কোন দিক হতে শব্দ আসছে তা বলতে পারে না।
(৬) আহার রোগিকে ক্লান্ত করে। পাকাশয়ের মধ্যে দুর্বলতা এবং শূণ্যতাবোধ, জ¦লন এবং মোচড় দেওয়া। দূর্বল পরিপাক শক্তি, বায়ু সঞ্চয়।
(৭) গর্ভাবস্থায় বমনেচ্ছ, রাতে বৃদ্ধি। প্রসবান্তে বেøদময় ¯্রাব, দুর্গন্ধযুক্ত। বহুদিন স্থায়ী ¯্রাব, তারপর আসে ক্লান্তি, এতই দুর্বল যে প্রায় একরকম কথা বলতেই পারে না। স্তনে তীরবিদ্ধবৎ বেদনা, স্তনের উপর বেদনাদায়ক কঠিন অর্বুদ, বিশেষতঃ ডানদিকে। জরায়ুর ক্যান্সার।
(৮) স্পঞ্জের ন্যায় নরম ক্ষত, তা¤্রবর্ণের উদ্ভেদ সমূহ।
(৯) রক্তাভ মুখের উপর ব্রণ সমূহ। বৃদ্ধ ব্যক্তির হাত এবং মুখমÐলের উপর আঁচিলের ন্যায় একপ্রকার উদ্ভেদ, তৎসহ প্রত্যঙ্গাদির নীলাভ রঙ। গ্রন্থিগুলির কাঠিন্যতা।
(১০) মস্তকে রকোচ্ছাসের একটি প্রবল অনুভূতি, ইহার মধ্যে জাগ্রত থাকায় রোগির শ^াসকষ্ট ও তজ্জনিত বুক ধড়ফড়ানি সহ কপালে প্রচুর ঘর্ম। রোগি নিদ্রা যাইতে পারে না। ঘামে পোষাক পরিচ্ছেদে হলদে ছাপ পড়ে।
নির্দেশক লক্ষণ-
(১) যে সব রোগ ধীরে ধীরে আক্রমণ করার পর উৎকট আকার ধারণ করে।
(২) শীতকালের ঠান্ডা খোলা বাতাস একেবারেই সহ্য করিতে পারে না।
(৩) শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার অভাব।
(৪) স্তন ক্যানসারের শেষ অবস্থা।
(৫) ঋতু¯্রাব শীঘ্র শীঘ্র এবং দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়, দুর্গন্ধযুক্ত, কালে ও দলাদলা, কেবলমাত্র সকালবেলা নির্গত হয়। গর্ভকালীন বমি বমিভাব রাতে বৃদ্ধি।
(৬) বিভিন্ন গ্রন্থি- গলা, বগল, কুচকি, স্তনের গ্রন্থি ফুলে শক্ত হয়ে যায়। জ¦ালাযুক্ত ব্যথা। স্তনে চিড়িকমারা ব্যথা বিশেষত ডান স্তনে।
(৭) রজঃ¯্রাবের পর রোগি এত দুর্বল হয়ে পড়ে যে কথা বলতে কষ্ট হয়। সামান্য পরিশ্রম করলে বা ভারী জিনিস তুললে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে।
(৮) প্রচুর দুর্গন্ধযুক্ত নৈশঘর্ম।
(৯) কোন শব্দ ঠিক কোন দিক থেকে আসে রোগি বলতে পারে না।
(১০) চর্বিযুক্ত খাদ্যে ঘৃণা, মুখ দিয়ে টক/লবণাক্ত পানি উঠে, পেট ফাঁপে, পেট খালি খালি বোধ, আহারে দূর হয় না।
(১১) যে কোন ¯্রাব নির্গমনে যেমন লিউকোরিয়া, ঋতু¯্রাব, ডায়রিয়া ইত্যাদির পর রোগি অত্যন্ত দূবল হয়ে পড়ে।
(১২) দাঁত নড়ে, কোন কিছু চিবাইলে ও সামান্য ঠান্ডা পানিতেও কষ্ট বৃদ্ধি হয়। লবণাক্ত জিনিস খেলে দাঁত ব্যথার উপশম হয়।
(১৩) শিরঃপীড়া- মাথায় রক্ত চলাচল বেড়ে যায়, মনে খুলি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে, কিছু খেলে ভাল লাগে, নড়াচড়া করলে বা কাশি দিলে কষ্ট বৃদ্ধি পায়। ঋতু¯্রাবের পর মাথায় দপদপানি ব্যথা, মাথাঘোরার সাথে নাক হতে রক্তপাত।
(১৪) এক থাকতে চায়, কথাবার্তা বলতে চায়না, রাতে অস্থিরতা, বিষণœতা, ভাবুক, গৃহকাতরতা, অন্ধকারে ভয়, স্পষ্ট জীবন্ত স্বপ্ন দেখে, স্বপ্নে কথা বলে, আর্তনাদ করে।