Acid Phos (এসিড ফস)

উৎসঃ ফসফরাস ও অক্মিজেনের সমন্বয়ে প্রস্তুত৷
# নিজস্বকথাঃ
১। অবসাদ বা অবসন্নতা।
২। দুধের মত সাদা প্রস্রাব বা ঘন ঘন প্রচুর প্রস্রাব।
৩। উদরাময়ে উপশম এবং মলত্যাগকালে প্রচুর বায়ু নিঃসারণ।
৪। সম্পূর্ণ তন্দ্রাচ্ছন্নভাব বা উদাসভাব।
#মূলকথাঃ
১। প্রথমে মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়ে পরে শরীরের অন্যান্য স্থান আক্রান্ত হয়।
২। জৈব তরল পদার্থের ক্ষয় হেতু অসুস্থতা, দুধের মত সাদা মূত্র ও সাদা মল, পাতলা দাস্ত হলে রোগের উপশম।
৩। অনুভূতিশক্তির অভাব বা উদাসিনতা, মনে হয় পা দুটি মাথার উপরে উঠে গেছে।
৪। দিনে নিদ্রালুতা ও রাতে নিদ্রাহীনতা, অল্পক্ষণ ঘুমালেই সব দূর্বলতা দূর হয়ে যায়।
৫। গোঁফ, ভ্রæ, মাথা ও জননেন্দ্রিয় স্থানের চুল উঠে যায়।
#উপযোগিতাঃ
*যারা প্রথম জীবনে শক্ত সবল ধাতুর লোক ছিলেন কিন্তু জৈব তরল পদার্থের অপচয়, অতিরিক্ত যৌন চারিতায় (চায়না), ভয়ঙ্কর তরুণ রোগে ভুগে, মনোকষ্ট শোক দুঃখ প্রভৃতি মানসিক আবেগে দীর্ঘদিন ভুগে অসুস্থ হয়েছেন তাদের অসুখে উপযোগী।
রোগের কারণঃ
*দুশ্চিন্তা, দূর্ভাবনা, মনোকষ্ট, শোক, দুঃখ, গৃহ কাতরতা (ইগ্নে) প্রভৃতি কারণে রোগ্রস্ত হয়। রোগীর ঘুমঘুম ভাব, অনবরত কান্নাকাটি করা, ভোরের দিকে শরীর ঘামাতে থাকে এসব লক্ষণে উপযোগী।
*গায়ের চামড়া ফ্যাকাসে, রুগ্ন চেহারা, চোখ দুটো বসা ও চোখের চারপাশে নীল কালিমা (পালস) পড়ে এমন লক্ষণযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে উপযোগী।
*রোগীর শরীর কাঁপে, পা দু’টি দূর্বল, সহজেই হোঁচট খায়, পা ঠিকমত পড়ে না, শরীর দূর্বল, দৈনন্দিন জীবনের প্রতি অনীহা এমন রোগীতে প্রযোজ্য।
*শিশু ও যুবক যুবতী যারা অতিদ্রুত লম্বা হয়ে ওঠে (ক্যাল্কে-কার্ব, ক্যাল্কে-ফস), তাদের পিঠে হাতে পায়ে পিটিয়ে মারার মত থেৎলানো ব্যথায় উপযোগী।
#মানসিক লক্ষণঃ
রোগী অমনোযোগী, উদাসীন, জীবন সম্বন্ধে উদাসীন, শোকে দুঃখে যেন বোবা। বিশেষতঃ যে জিনিষের প্রতি তার পূর্বে আগ্রহ ছিল বা থাকত সেই সবের প্রতি বিতৃষ্ণা ও অনিহা।যদি শারীরিক দূর্বলতা ও শীর্ণতা থাকে তবে ঐ মনোভাব হয়।
প্রলাপঃ রোগী বিড় বিড় করে, বোঝা যায় না। আচ্ছন্নভাব, বোবার মত শুয়ে থাকে। চারপাশে কি হয় বুঝতে পারে না। ঘুম থেকে জাগালে সজ্ঞানে ধীরে ধীরে নির্ভূলভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়। তারপর আবার নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে।
#মস্তিষ্কঃ
মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়ে টাইফয়েড বা টাইফাস জ্বর- রোগী পুরোপুরি উদাসীন ও আচ্ছন্নভাব, কোনদিকে লক্ষ্য নেই। ‘কাঠের গুড়ির মত’ পড়ে থাকে- আশেপাশে কি ঘটছে তাতে কোন লক্ষ্য নেই। ঐসাথে অন্ত্র হতে কালচে রক্তস্রাব।
#মাথাযন্ত্রণাঃ
ভারি কিছু চাপা পড়ে মাথার উপরটায় ফেটে যাওয়ার মত ব্যথা হয়। বহুদিন যাবৎ শোকদুঃখ ভোগ করে, স্নায়ুর অবসাদ হয়ে মাথার পেছনটা ও ঘাড়ে যন্ত্রণা, সাধারণতঃ মাথার পিছনদিকে শুরু হয়ে সামনে বেড়ে যায়। সামান্য নড়াচড়ায় গোলমালে বিশেষতঃ সঙ্গীতে বাড়ে, শুয়ে থাকলে কমে (ব্রায়ো, জেলস, সাইলি)।
যে সব ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা বেশী করে, চোখের পরিশ্রম করে (ক্যাল্কে-ফস, নেট-মি) তাদের মাথার যন্ত্রণায় উপযোগী।
#বুকে দূর্বলতাঃ
কথা বললে বা কাশলে বুকে দূর্বলতা অনুভব করে (স্ট্যানাম)। ক্ষয়রোগে বুকে দূর্বলতা। জৈব তরল পদার্থের অপচয় হয়ে মানসিক আবেগ হতে অবসন্নতা, অতি দ্রুত বেড়ে উঠা- এসব লক্ষণের সাথে বুকে দূর্বলতা অনুভব করলে উপযোগী।
#অস্থিপ্রদাহঃ
স্ত্রুফুলা, সাইকোসিস, সিফিলিস ও পারদদোষে দুই হাড়ের মাঝে প্রদাহ হয়, অস্থি আবরণীর প্রদাহ, যন্ত্রণায় জ্বালা থাকে, ছিঁড়ে ফেলার মত যন্ত্রণা, যেন ছুরি দিয়ে চেঁচেঁ ফেলা হয়েছে (রাসটক্স)। অস্থিক্ষয়, রিকেটগ্রস্থ্ কিন্তু পচন ধরে না, বেদনা শুধু বাড়তেই থাকে। হাতপায়ের স্নায়ূগুলোতে টেনে ধরার মত, ফুটো করার মত, খুঁড়ে ফেলার মত যন্ত্রণা। অস্ত্রপ্রচারের পর ছিন্ন অংশে পচন (এলিয়াম সেপা) ধরলে ব্যবহার্য।
#উদরাময়ঃ
পেটব্যথা হয় না, শরীর দুর্বল হয় না, সাদা বা হলদে জলের মত মল, টক খেয়ে, মলত্যাগ অসাড়ে হয়। মলের সাথে বায়ু বের হয় (এলো, নেট-মি)। ভয় পেয়ে কলেরা লক্ষণযুক্ত উদরাময় হলে ব্যবহার্য।
#বহুমুত্রঃ
শ্লেষ্মা মেশানো সাদা দুধের মত প্রস্রাব, রক্তের ছিট থাকে। সহজেই পচে উঠে। রাতে পরিস্কার পানির মত প্রচুর পরিমাণে প্রস্রাব হয়। যা সাথে সাথেই সাদা মেঘের মত রঙ হয়ে যায় (প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফসফেট-র স্নায়ুর ছেঁড়া অংশ বের হয়ে ঐরকম হয়)।
#ধাতুদৌবল্যঃ
বারে বারে প্রচুর পরিমানে বীর্যপাত যা শরীর দুর্বল করে দেয়। সঙ্গমের পরেও বীর্যপাত হয়। বীর্যপাতের পরেও অত্যন্ত সঙ্গমের ইচ্ছা থাকে। একই রাতে কয়েকবার বীর্যপাত হয়। ঐজন্য নিজে লজ্জিত, দুঃখিত ও আরোগ্য সম্বন্ধে হতাশ হয়ে পরে। হস্তমৈথুনের অদম্য ইচ্ছার সাথে ঐসব লক্ষনে প্রযোজ্য(ওস্টেলিগো)।হস্তমৈথুনে অভ্যস্ত রোগী যখন তার কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ করে (ডায়োস্কো, স্ট্যাফি) সেই ক্ষেত্রে উপযোগী।
#সম্বন্ধঃ
*টাইফয়েড জ্বরে- ফসফো, পালস, এসি-পিক, সাইলি, এসি-মিউ তুলনীয়।
*আচ্ছন্ন নিদ্রা ও প্রলাপে- নাই-স্পিরি-ডালসিস তুলনীয়।
*ক্ষয়কারী ঘাম হওয়া, উদরাময় ও প্রলাপ লক্ষণে- এসিড ফস চায়নার আগে বা পরে ভাল ফল দেয়।
#বৃদ্ধিঃ
মানসিক কারণে, জৈব তরল পদার্থের অপচয়ে বিশেষতঃ বীর্যক্ষয়ে হস্তমৈথুন করলে ও অতিরিক্ত ইন্দ্রিয় সেবা করলে। কথা বললে বুকের দূর্বলতা বড়ে (স্ট্যানাম)।
#শক্তিঃ ৩এক্স হতে ২০০ শক্তি।
সূত্র- এলেন কিনোটস অব মেটিরিয়া মেডিকা
-ডা. এইচ এম আলীমুল হক, আলহক্ব হোমিও ফার্মেসী, মুক্তিস্মরণী, চিটাগাংরোড, শিমরাইল মোড়, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। ০১৯২০-৮৬৬ ৬১০

11 Comments