হোমিওপ্যাথিক ঔষধের সংক্ষপ্তি লক্ষন সমূহঃ ২য় পর্যায় (৫০টি)

১. এবিস নাইগ্রাঃ (১) পাকস্থলীর পীড়ার বায়ু ও অম্লের লক্ষণের সহিত হৃদপিণ্ডের পীড়া। (২) আহারের পর পেট বেদনা, অতিরিক্ত চা পান ও তামাক খাওয়ার জন বদহজম। (৩) বুকের ভিতর বা ভুক্তদ্রব্য পেটের ভিতর শক্ত গোলার মত আটকে থাকার অনুভুতি। (৪) দুপুরে ও রাতে অত্যন্ত ক্ষুধা, সকালে ক্ষুধাহীনতা।
২. এডিস ক্রাইসোঃ
৩. ইস্কুলাস হিপঃ (১) মলদ্বারে অস্বস্তিবোধ। (২) কটিবাত,কোমরে ব্যাথা। (৩) পূর্নতাবোধ বা অঙ্গ-প্রতঙ্গে ভারবোধ। (৪) বেদনা ভ্রমনশীল।
৪. অ্যালো সোকঃ (১) অসাড়ে মলত্যাগ ও অক্ষমতা। (২) অতিরিক্ত বায়ুনি:সরন ও মলদ্বারে পূর্নতাবোধ। (৩) আহারে বৃদ্ধি, প্রাতঃকালে বৃদ্ধি। (৪) ঠান্ডা পানিতে অর্শের উপশম।
৫. অ্যালুমিনাঃ (১) স্মৃতিভ্রংশ ও পক্ষাঘাত সদৃশ্য দূর্বলতা। (২) মলত্যাগে কষ্ট। (৩) শীতার্ততা ও শুস্কতা। (৪) আলু সহ্য হয় না।
৬. অ্যানাকার্ডিয়াম অক্সিঃ (১) মুখে বা দেহত্বকে প্রথমে ফোস্কার ন্যায় টোপতোলা উদ্ভেদ পরে লেপামত হয়ে অত্যন্ত চুলকানি (রাসটক্স)। (২) আঁচিল, পায়ের কড়া, ক্ষত ও পায়ের তলা ফাটা। (৩) চর্ম প্রদাহ। (৪) কুষ্ঠব্যাধি।
৭. অ্যানাকার্ডিয়াম ওরিঃ (১) স্মৃতি শক্তির দূর্বলতা। (২) অভিশাপ ও শপথ করার ইচ্ছা। (৩) খাদ্যে হ্রাস। (৪) মলদ্বারে হুল ফোটানো অনুভুতি।
৮. অ্যান্টিম ক্রুডঃ (১) স্থুলদেহ ও জিহবায় সাদা প্রলেপ। (২) অরুচি এবং খাবারের পর বমি। (৩) ক্রোধ, ক্রন্দন, বিরক্তি, বিষন্নতা। (৪) গোসল অসহ্য।
৯. অ্যান্টিম টার্টঃ (১) নিদ্রার সাথে শ্বাসকষ্ট ও নিদারুন দূর্বলতা। (২) মুখমন্ডল ঘর্মাক্ত ও নীলাভ। (৩) ক্রুদ্ধভাব ও কোলে উঠিতে চাওয়া। (৪) টিকার কুফল।
১০. আর্জেন্ট নাইট্রিকঃ (১) ব্যস্ততা ও ত্রস্তভাব। (২) চিনি বা মিষ্টি খাবার প্রবল ইচ্ছা, কিন্তু তা সহ্য হয় না। (৩) মলের রং পরিবর্তন ও বায়ুনি:সরন। (৪) কাটা/হুল ফোটার মত বেদনা।
১১. অরাম মেটঃ (১) আত্মহত্যার ইচ্ছা, জীবনে বিতৃষ্ণা। (২) রাত,ঠান্ডা ও শীতকালে বৃদ্ধি। (৩) বেদনা ভ্রমনশীল। (৪) মানসিক ও শারীরিক ব্যস্তবাগীশ ভাব।
১২. ব্যারাইটা কার্বঃ (১) খর্বতা, মানসিক ও শারিরীক। (২) টনসিল বৃদ্ধি, ধাতুগত গন্ডমালা দোষ। (৩) বাম পাশ চেপে শুইলে বৃদ্ধি। (৪) অন্যমনস্কে উপশম।
১৩. বোরাক্সঃ (১) আতঙ্ক নিম্নগতিতে। (২) শব্দভীতি। (৩) চুলে জটা, মুখে ঘা। (৪) শ্বেতপ্রদর, বন্ধ্যাত্ব ও যোনি চুলকানি।
১৪. ক্যান্থারিসঃ (১) জ্বালা, আগুনের মত জ্বালা ও প্রদাহ। (২) মূত্রকৃচ্ছ্রতা সাথে অসহ্য বেগ। (৩) রক্তস্রাব। (৪) টনসিল প্রদাহ, মুখে ঘা, হাতে পায়ে শোথ ও উদরী।
১৫. সিনাঃ (১) ক্ষুধা, রাক্ষুসে ক্ষুধা। (২) নাক, মুখ কড়মড় করা। (৩) স্পর্শকাতরতা ও ক্রুদ্ধ স্বভাব। (৪) শিশু কোলে থাকিতে চায়। (৫) মিষ্ঠান্ন খাবার প্রবল ইচ্ছা।
১৬. কার্বো এনিমঃ (১) প্রদাহযুক্ত গ্লাণ্ড শক্ত হয়ে থাকা। (২)
১৭. কলোসিন্থঃ (১) ব্যাথা চেপে ধরলে উপশম। (২) অসুস্থতা ক্রোধজনিত। (৩) আহারে বৃদ্ধি। (৪) ব্যাথার সাথে বমি।
১৮. কোনিয়াম ম্যাকঃ (১) অবরুদ্ধ সঙ্গমেচ্ছার কূফল। (২) শয়নকালে মাথাঘোরা ও ঘুমকালে ঘর্ম। (৩) শীতার্ততা, পক্ষাঘাত সদৃশ্য দূর্বলতা। (৪) বাধাপ্রাপ্ত প্রস্রাব।
১৯. ডালকামারাঃ (১) শরৎকালীন অসুস্থতা। (২) ঠান্ডা লেগে প্রসাবের বেগ বা শ্লেম্ষার প্রকোপ। (৩) উত্তাপ ও সঞ্চালনে উপশম। (৪) ঘাম বা চর্মরোগ চাপা দিবার কুফল।
২০. ইল্যাপ্সকরঃ (১) রক্তস্রাব দোয়াতে কালির ন্যায় কালবর্ণের, ঠাণ্ডা অসহ্য। (২) ঠাণ্ডা অসহ্য, একটু ঠাণ্ডায় সর্দি হয়। (৩) কান, নাক ও ফুসফুসের পীড়া। (৪) ডানদিকের পক্ষাঘাত, বগলের গ্ল্যাণ্ড পাঁকে।
২১. ফরমিকা রুফাঃ (১) বাত বেদনা, নড়াচড়ায় বৃদ্ধি ও চাপে উপশম, ডানদিকে অধিক আক্রান্ত। (২) পলিপ, গ্যাঁজের মত টিউমার। (৩) পাকস্থলীর উর্দ্ধাংশে চাপবোধ ও নিম্নাঙ্গে দুর্বলতা। (৪) বুকে চাপবোধ ও পেশীর দুর্বলতা।
২২. ফ্রাক্সিনাস এমঃ (১) জরায়ুর স্থানচ্যূচি। (২) জরায়ুর টিউমার। (৩) পুরাতন বাত, গেঁটে বাত, গ্রন্থিস্ফীতি। (৪) উপরের পেটে বেদনা, ন্যাবা, গরহজম।
২৩. এইচ.বি.এসঃ (১) ঘুমের পর হঠাৎ রোগলক্ষণ প্রকাশ। (২) ক্ষুধাহীনতা ও বমি ভাব। (৩) মাথায় যন্ত্রণা। (৪) পেটবেদনা ও অস্বস্তিবোধ।
২৪. হাইপেরিকামঃ (১) ইঁদুর বিড়ালের কামড়াইলে, হাতে পায়ে সূচ বা পেরেক ফুটিলে। (২) মেরুদণ্ড মস্তিষ্ক বা স্নায়ুকেন্দ্রে আঘাত, অস্ত্রোপচার। (৩) আঘাত বা ক্ষতজনিত ধনুষ্টঙ্কার। (৪) ব্যথা স্নায়ুপথ দিয়ে উর্ধ্বে উঠে এবং উত্তাপে প্রশমিত।
২৫. ইগ্নেশিয়াঃ (১) অসুস্থতা অবরুদ্ধ মনোভাবজনিত। (২) নির্জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘ-নি:শ্বাস। (৩) সান্তনায় বৃদ্ধি ও মানসিক পরিবর্তনশীলতা। (৪) বিরুদ্ধভাবাপন্ন হ্রাস বা বৃদ্ধি।
২৬. ইনসুলিনঃ
২৭. ইপিকাকঃ (১) বমনেচ্ছা ও বমি। (২) তৃষ্ণাহীনতা ও পরিস্কার জিহবা। (৩) শ্বাসকষ্ট। (৪) রক্তস্রাব।
২৮. আইরিশ ভারঃ (১) মুখ হতে মলদ্বার পর্যন্ত জ্বালা। (২) সকল স্রাবই অত্যন্ত ক্ষতকর। (৩) জিহŸা বরফের মত ঠাণ্ডা। (৪) বমি অত্যন্ত টক।
২৯. কেলি বাইক্রমঃ (১) পর‌্যায়ক্রমে বাত ও শ্লেষ্মার প্রকোপ। (২) সূতার মত শ্লেষ্মা স্রাব। (৩) নির্দষ্ট দিনে বা নির্দষ্ট সময়ে বৃদ্ধি। (৪) ্।ভ্রমনশীল বেদনা।
৩০. কেলি ব্রোমঃ (১) দুর্দমনীয় কামভাব তজ্জন্য উম্মাদভাব বা মৃগী। (২) সর্বদা ঘুমাইতে চায়, দিনেও জাগিয়া থাকতে পারে না। (৩) মানসিক উদ্বেগ ও আশঙ্কাজনিত আক্ষেপ, অনিয়মিত ঋতু, বন্ধ্যাত্ব। (৪) পিতামাতার উপদংশ এবং পানাসক্তির কারণে মৃগী।
৩১. ক্যালমিয়া লেটঃ (১) ব্যথা নিম্নগামি কিন্তু বাতবেদনা ক্রমশ হৃৎপিণ্ড আক্রমণ করে, বামপার্শ্বে শুইতে অক্ষম। (২) স্বল্পমূত্র, শোথ, নাড়ীর গতি মন্দ। (৩) সঞ্চালনে বৃদ্ধি কিন্তু উত্তাপ প্রয়োগে বা ঠাণ্ডায় উপশম হয়না। (৪) গর্ভাবস্থায় মূত্রস্বল্পতা সহিত দৃষ্টি-বিভ্রম বা চক্ষশূল, যন্ত্রণা- সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
৩২. ক্রিয়োজোটঃ (১) ক্ষতকর স্রাব। (২) জ্বালা। (৩) দূর্গন্ধ। (৪) রক্তস্রাব ও অসাড়ে প্রসাব।
৩৩. ল্যাকনান্থিসঃ (১) ঘাড়বাত, ঘাড় আড়ষ্ট। (২) থাইসিস বা য²াকাশ পীড়ার প্রথম আক্রমন অবস্থার কাশি। (৩) হাত পায়ের তলায় জ্বালা। (৪) পেটডাকা- মলবেগ কিন্তু বাহ্যে হয় না, নিউমোনিয়াসহ পেটফোলা।
৩৪. লোবেলিয়া ইরিনাসঃ (১) ক্যান্সারজনিত চর্মের অস্বাভাবিক বিবৃদ্ধি ও শুষ্কতা। (২) মুখমন্ডলের এপিথেলিওমা ও আঙুলসমূহে উদ্ভেদ। (৩) পেটের ভিতর টিউমার। (৪) ওমেনটাম বা অন্ত্রপ্লাবকের ক্যান্সার।
৩৫. মেলেন্ড্রিনামঃ (১) বসন্ত ও হামের প্রতিষেধক। (২) টিকাজনিত কুফল, চোখে ও জিহŸার মধ্যস্থলে লাল রেখা। । (৩) নখ ক্ষতযুক্ত, শ্বাস-প্রশ্বাস দুর্গন্ধযুক্ত ও পিপাসাহীনতা। (৪) কানে পুঁজ ও ছেলেদের মাথায় একজিমা ।
৩৬. মেজেরিয়ামঃ (১) উদ্ভেদ বা একজিমা হতে প্রচুর রস নি:সরন। (২) টিকাজনিত কূফল বা চির্মরোগ চাপা দেবার কূফল। (৩) রাতে বৃদ্ধি। (৪) অত্যন্ত রাগী কিন্তু পরক্ষণেই অনুতপ্ত, উম্মাদ।
৩৭. ওপিয়ামঃ (১) অর্ধ নিমীলিত চোখ ও নিদ্রালুতা। (২) পক্ষাঘাত সদৃশ দূর্বলতা ও বেদনা বোধের অভাব। (৩) নিদ্রাকালে নাক ডাকা বা গলায় ঘড়ঘড় শব্দ। (৪) গরমে বৃদ্ধি ও গরম ঘাম।
৩৮. পেট্রোলিয়ামঃ (১) প্রত্যেক শীতকালে আঙ্গুল ফাটে ও পায়ে দূর্গন্ধ ঘাম। (২) গাড়ীতে বা নৌকায় চড়িতে পারে না। (৩) উদরাময়,দিবাভাগে বৃদ্ধি। (৪) পেট ব্যাথা, আহারে উপশম।
৩৯. পেট্রোসেলিনিয়ামঃ (১) প্রমেহ রোগের শেষ অবস্থ। (২) মূত্রযন্ত্রেরপীড়া। (৩) হঠাৎ প্রবল মূত্রবেগ এবং পরক্ষনেই মুত্রত্যাগ। (৪) মূত্রনালীতে ভয়ানক জ্বালা ও অনবরত মূত্রবেগ।
৪০. ফসফরাসঃ (১) তীক্ষ বুদ্ধি,লম্বা,পাতলা একহারা চেহারা। (২) রক্তস্রাবের প্রবনতা। (৩) বামপাশ চেপে শুতে পারে না,আক্রান্ত পাশ চেপে শুতে পারে না। (৪) রাক্ষসে ক্ষুধা,জ্বালা ও শুন্যবোধ।
৪১. পডোফাইলামঃ (১) প্রাতঃকালে প্রচুর ভেদ। (২) ভেদ অত্যান্ত দূর্গন্ধ। (৩) পর্যায়ক্রমে উদরাময় ও কোষ্ঠবদ্ধতা বা পর্যায়ক্রমে শির:পীড়া ও উদরাময়। (৪) মলদ্বারে শিথিলতা বা হারিশ বাহির হয়ে পড়ে।
৪২. স্যাবাইনাঃ (১) সেক্রাম হতে পিউবিস বা পাছা হতে প্রসাবদ্বার পর্যন্ত ধাবমান ব্যাথা। (২) প্রবল রক্তস্রাবের সাথে কাল কাল রক্তের চাপ। (৩) স্রাব সান্য নড়াচড়াতেই বৃদ্ধি পায়। (৪) গান বাজনায় বিরক্তি।
৪৩. স্যাঙ্গুনেরিয়া ক্যানঃ (১) শরীরের ডানদিকে রোগাক্রমন। (২) উদরাময়ে উপশম। (৩) গন্ডদেশে চক্রাকার রক্তিমাভা। (৪) ঝাল বা উগ্রদ্রব্য খাইবার প্রবল ইচ্ছা।
৪৪. স্যাঙ্গুনেরিয়া নাইটঃ (১) নাকে পলিপাস। (২) পানির মত সর্দিস্রাব ও হাঁচি। (৩) ডানদিকের টনসিলের বেদনা, গিলিতে কষ্ট। (৪) স্বরযন্ত্রে জ্বালা ও ক্ষতের মত বেদনা।
৪৫. সিকেলীকরঃ (১) জ্বালা ও গরমকাতরতা। (২) রক্তস্রাব ও আক্ষেপ। (৩) জরায়ুর ও মলদ্বারের শিথিলতা। (৪) রাক্ষসে ক্ষুধা ও অদম্য পিপাসা।
৪৬. সেলিনিয়ামঃ (১) অতিরিক্ত শুক্রক্ষয় বা অতি দীর্ঘ রোগ ভোগের পর দেহ ও মনে অবসাদ। (২) মলৈত্যাগ কারে শুক্রক্ষরন। (৩) কামভাবের প্রাবাল্য ও শুক্রতারল্য। (৪) স্বরভঙ্গ ও কোষ্টকাঠিন্য।
৪৭. স্পাইজেলিয়াঃ (১) স্নায়ুশূল, নড়াচড়ায় বৃদ্ধি। (২) বামদিকে রোগাক্রমন। (৩) বর্ষায় বা জলো হাওয়ায় বৃদ্ধি। (৪) শিরঃপীড়া সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
৪৮. থাইরোডিনামঃ (১) দেহ ও মনের খর্বতা। (২) অতিরিক্ত মোটা হইতে থাকা কিম্বা অতিরিক্ত রক্তহীনতা ও শীর্ণতা। (৩) চর্মরোগ ও চুল উঠা। (৪) উম্মাদভাব ও অনিদ্রা।
৪৯. ইউরেনিয়াম নাইট্রিকঃ (১) ডায়াবেটিস মেলিটাস, শর্করাযুক্ত বহুমুত্রজনিত পিপাসা ও ক্ষুধা, শরীর শুকাইয়া যাওয়া। (২) ধ্বজভঙ্গ, ঋতুরোধ। (৩) পেটের মধ্যে অতিরিক্ত বায়ু, উদগার। (৪) শোথ, উদরী, নেফ্রাইটিস ও উচ্চরক্তচাপ।
৫০. জিঙ্কাম মেটঃ (১) স্নায়ুবিক অবসাদ। (২) পদদ্বয়ের অস্থিরতা বা পদসঞ্চালন। (৩) অবরোধ জনিত বৃদ্ধি বা বাধাপ্রাপ্ত অসুস্থতা। (৪) নির্গমনে নিবৃত্তি।