মেন্টাল মেথড অফ ট্রিটমেন্ট- ডাঃ রবিন বর্মন

১নং পার্ট

মাইন্ড মেথড অফ ট্রিটমেন্ট অর্থাৎ কেবলমাত্র মানসিক লক্ষণ নিয়ে রোগীর চিকিৎসা করতে হবে— এই থিওরিটা অনেকদিন থেকেই শুনছিলাম, কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ যাওয়ার পরে দেখলাম, ওখানে অনেকের মগজের মধ্যেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা মাধ্যমের এই নবতম সংযোজনটি ভীষণভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকে নাকি এই মেথডে প্রাকটিস করে-ও দারুন সুফল পাচ্ছেন।

জানলাম এই মেথডের — উদ্ভাবনী প্রতিভা আমাদের ভারতের কিছু হোমিওপ্যাথ দ্বারা। কিন্তু সেই সব হোমিওপ্যাথদের এই দেশে এই মেথড নিয়ে খুব একটা আলোচনা বা লেখালেখি দেখি না। ঐ মেথডের উপর কোন সেমিনার-ও করতে দেখি না। কারনটা আমার মনে হয় যে— এখানকার Qualitative B H M S, বা M. D. চিকিৎসকরা যারা হ্যানিম্যান, বোনিংহোহোসেন, কেন্ট, স্টুয়ার্ট ক্লোজ, এইচ এ রবার্টস, ফিলিস স্পাইট, ডানহাম —ইত্যাদি, মহা-মনীষীদের ফিলজফি পড়েছেন ও বাস্তব বা ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগ করে চলেছেন তারা এই নব নির্মিত বা নব চিন্তিত শুধু মানসিক লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা করতে হবে —- তাতে যে কোনো গুরুত্বই দেবেন না, বরং very badly ক্রিটিসাইজ করবে—মনে হয়, সেটা বুঝেই।  অর্থাৎ—” বাংলার মাটি, দূর্জয় ঘাঁটি”—- কথাটা স্মরণ রেখেই — তারা এখানে এই বিষয় নিয়ে খুব নাড়াচাড়া করেন না৷

এই সব সেমিনারগুলি তাই দেখলাম– তারা বেশিরভাগ বাংলাদেশেই করছেন। অবশ্যই–ডেলিগেট ফি নামে মোটা অংকের টাকা নিয়ে।

মাঝ সমুদ্রে জাহাজ ডুবতে থাকলে যাত্রীরা যেমন সামনে যা পায় তাই আঁকড়ে ধরতে চায়,—–ঠিক তেমন ভাবেই উদ্ভ্রান্ত, ভবিষ্যৎ উদ্বিগ্ন, দিকভ্রান্ত, অনেক জুনিয়র চিকিৎসকরা এইসব ভ্রান্ত নীতিকে সঠিক ও আদর্শ ভেবে আঁকড়ে ধরতে চাইছে । এই চিকিৎসা পদ্ধতি যারা উদ্ভাবন করেছেন তারা তাই ধর্ম প্রচারের মতন দিকে দিকে এই ভ্রান্ত নীতি ছড়িয়ে দিতে চাইছেন।

কিন্তু তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে আমি কোন আক্রমণ করব না, আক্রমণ করতে চাই বা সমালোচনা করতে চাই — তাদের এই নীতিকে, এই পদ্ধতিকে।

আমার মতে এই নীতি বা হোমিও চিকিৎসার এই পদ্ধতি ভুল, উদ্ভ্রান্তকর, জুনিয়র বা নব্য হোমিওপ্যাথদের বিপথে বিচলিত করা বা বিভ্রান্ত করা বা বিপথগামী করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

শোনা যায়– আরও অনেকে নাকি হোমিও চিকিৎসার অনেক রকম মেথড বা নীতি আবিষ্কার করেছেন এবং করে চলেছেন। কেউ কেউ নাকি নিজের টাইটেল মিলিয়ে একটা মেথড সৃষ্টি করতে চাইছেন যেমন— মল্লিক মেথড অফ ট্রিটমেন্ট, কেউ নাকি আবার বলছেন– গো ব্যাক থিওরি অফ ট্রিটমেন্ট, আর যেটা আলোচনা করছি অর্থাৎ কেউ কেউ বলছেন– মেন্টাল মেথড অফ ট্রিটমেন্ট। তবে সবাই ব্যবহার করছেন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ। অর্থাৎ–হ্যানিমানের আবিষ্কার করা ঔষধ। নিজেদের কোন আবিষ্কার করা ঔষধ নয়। তার মানে দাঁড়াচ্ছে হ্যানিম্যানের হোমিওপ্যাথিক ঔষধগুলি আমি বাক্সে রাখবো, ব্যবহার করবো, কিন্তু তিনি তার আবিষ্কার করা এইসব ঔষধ যেভাবে ব্যবহার করার জন্য নীতি নির্ধারণ করে গেছেন তা মানবো না, তা পড়বো না, তা বুঝবো না, তা প্রতিফলিত করার চেষ্টা করবো না। অর্থাৎ জনমানসে এটাই বুঝাতে চাইবো, এটাই পরিচিতি করাতে চাইবো যে — দেখো বন্ধুগণ — আমি হ্যানিমান, কেন্টের, থেকেও বড় পন্ডিত হয়েছি।

হ্যানিমানের ঔষধ ব্যবহার করবো, কিন্তু তার নীতি না মেনে নিজের ইচ্ছা মতন একটা নীতি বাণীয়েছি- গো। আমার কত মেধা, কত সাহস, কত বিরল প্রতিভা — সবাই একবার দেখো-গো।

কিন্তু বন্ধুরা, আমি অতি দুঃখের সাথে জানাতে বাধ্য হচ্ছি এ জিনিস আপনারা করতে পারেন না। হ্যানিমানের হোমিওপ্যাথি নিয়ে এই ভন্ডামি আপনারা করতে পারেন না। কারণ হানিমানের নির্দেশ — তার হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার করতে হলে তার অর্গানন বইয়ের, তার ক্রনিক ডিজিজ বইয়ের, নির্ধারিত নীতি মেনে চলতে হয়। আপনি যদি তা না মানেন, বা না মানতে চান তাহলে হ্যানিম্যানের ঔষধ ব্যবহার করবেন কেন? আপনি আলাদা কোন ঔষধ আবিষ্কার করুন — তাতে কেউ বারণ করবে না৷ বরং আপনার বা আপনাদের পান্ডিত্য আরও প্রকট হবে। সবচেয়ে আপত্তিকর ব্যাপার হল এইভাবে চিকিৎসা করা যেহেতু যথাযথ নয়, যেহেতু রোগীর মানসিক + শারীরিক সব সিমপটমস মিলিয়ে ট্রিটমেন্ট করার নিয়ম — তা না মেনে চললে সব কেস আরোগ্য করা মোটেই সম্ভব নয়। এ আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। কোন রকম শারীরিক সিমপটমস ছাড়া সকল কেস যদি আপনারা কেবলমাত্র মানসিক লক্ষন দিয়ে সারিয়ে দিতে পারেন বলে মনে করেন — তাহলে কোন সেমিনারে দাঁড়িয়ে ওপেন চ্যালেঞ্জ নিন, আমি ১০টা কেস নিয়ে হাজির হবো। প্রেসক্রিপশন করুন এবং ফলো আপ রেজাল্ট দেখান৷

তবে তার আগে শুধু মেন্টাল মেথডে বেশ কিছু কমপ্লিকেটেড কেস সারিয়েছেন, তার রোগীর ভার্সান + কেস হিসট্রি সহ ভিডিও রেকর্ডিং দিন, সবাই দেখুক। এমনও ত হতে পারে, যথার্থতা পেলে আমিও আপনাদের মেথড গ্রহণ করতে পারি এবং কেন্টের রেপার্টরীর প্রথম ৯৫ পাতা রেখে বাকী অংশ বাদ দিয়ে টেবিলটাকে হালকা করতে পারি।

আমি কিন্তু কয়েক শত কেস ফেসবুকে আপলোড করেছি — অনেকেই দেখেছেন যে শুধু মেন্টাল নয়, তার সাথে অহরহঃ অন্যান্য ফিজিকাল জেনারেল এবং পারটিকুলারস সিমপটমস-ও লেগেছে।

— আর তা যদি আপনাদের পক্ষে দেখানো সম্ভব না হয়, তাহলে বলবো — এই পদ্ধতি নিয়ে দূর্বল, কিংকর্তব্যবিমূঢ় জুনিয়র হোমিওপ্যাথদের মাথা খারাপ করবেন না।

যেখানে যেখানে আপনারা এই মেথডের আলোচনা করছেন, প্রচার করছেন– বিনা পারিশ্রমিকে-ও করছেন না। জুনিয়র হোমিওপ্যাথদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা ডেলিগেট ফি হিসাবে নিচ্ছেন।

২নং পার্ট

” যারা অন্ধ, তারা চোখে সব থেকে বেশি দেখে আজ “—

কবি জীবনানন্দ দাশের লেখা এই লাইনটা বোধ হয় আজ সব থেকে বলার বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়ছে বড় বড় তথাকথিত আমাদের দিগগজ হোমিও পন্ডিতদের জন্য।

তার মানে— হোমিওপ্যাথির জনক হ্যানিমান যা বুঝলো না, অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী মহামতি কেন্ট যা বুঝলো না, এ্যালেন, স্টুয়ার্ট ক্লোজ, ইংল্যান্ডের রানীর চিকিৎসক স্যার জন ওয়্যার যা বুঝলো না, এখনকার বড় বড় self made কিছু পন্ডিত তাদের থেকে অনেক বেশি বুঝে গেলেন। তার মানে দাঁড়াচ্ছে — এদের আইকিউ অত্যন্ত বেশি, আর ওই সব মানুষদের আইকিউ ছিল অত্যন্ত কম। তাই কি?

আসুন, তবে দেখা যাক— হোমিওপ্যাথির রথী-মহারথীরা বিভিন্ন সিমটমস সম্বন্ধে কোথায় কি বলেছেন।

তবে তার আগে একটা কথা বারবার বলতে ইচ্ছা করছে, বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রতি নিয়ত দেখা যায়— কোন জিনিসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে নিজের আবিষ্কার বা আবিষ্কৃত জিনিসকে সত্য বলতে চাইলে বা সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে আমরণ চেষ্টা করতে হয়। চেষ্টা করেছে সবাই৷ হ্যানিম্যানকেও তার হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠা করার জন্য জীবনব্যাপী অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। যীশুখ্রীষ্ট, হযরত মোহাম্মদকেও তাদের কথা ও বাণী প্রচার করার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়েছে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, অনেক দুঃখ বরণ করতে হয়েছে। গ্যালিলিও, কোপার্নিকাস, সক্রেটিস, ব্রুনো, অ্যারিস্টোটল, প্রত্যেকে তাদের সত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য জীবনব্যাপী সংগ্রাম করেছেন। জীবন দিতেও হয়েছে অনেককে।

কিন্তু আজ হোমিওপ্যাথি জগতে যারা বলছেন শুধু মানসিক লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা করবো, অন্য কোন সিমটমসের দাম দেব না, তারা তাদের এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সংগ্রাম করছেন না কেন?

সমস্ত বই থেকে ফিজিক্যাল জেনারেল এবং পার্টিকুলার সিমটমস সব বাতিল করতে হবে, ফেলে দিতে হবে, সে সব কথা বলছেন না কেন? বিভিন্ন দেশের হোমিওপ্যাথিক বোর্ড, কাউন্সিল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে—- শুধু মানসিক সিম্পটমস নিয়ে পড়ানোর জন্য কোর্স করার জন্য, শুধু মানসিক সিমপটমস নিয়ে বই লেখার জন্য, মানসিক সিমপটমসের মেটিরিয়া রেখে অন্য সব মেটিরিয়া বাজেয়াপ্ত করার জন্য, দরবার করছেন না কেন? নিজেদের সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আন্দোলন করছেন না কেন? এত বড় সত্য প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সমস্ত হোমিওপ্যাথি অথরিটিদের কাছে ধর্নায় বসছেন না কেন? একটি সত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য সে সব কর্মকান্ড করছেন না কেন? তা না করে আমরা ফেসবুকে কেউ প্রতিবাদ করলে বা পছন্দ না করলে ভালো ভালো শব্দ যা ছোট বেলা থেকে হয়তো ঘর থেকে শিখে এসেছেন, সেগুলি ব্যবহার করছেন।

আর কি করছেন? সেমিনারের নামে, এই অমূল্য জিনিস (?) শেখানোর নামে, টাকা পয়সা লুটে চলেছেন। একবারও তো বলছেন না — জুনিয়র চিকিৎসকরা— তোমরা এখনো প্র্যাকটিস আরম্ভ করতে পারোনি, তোমরা এখনো চেম্বার দিতে পারোনি, তোমাদের হাতে টাকা পয়সা নেই, তা না থাক— এসো, এই অমূল্য সত্য আমরা তোমাদের বিনা পয়সায় শেখাবো, বিনা পারিশ্রমিকে কেস ডেমোনেসট্রেশন দেবো। তা ত বলছেন না, তা ত করছেন না। কিছু চামচা নিয়োগ করেছেন বিভিন্ন জায়গায়, আর সেই সব চামচারা যত্র তত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে, ফেসবুকে জোর করে এর মধ্যে, তার মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছে মাইন্ড মেথডের সেমিনারের বিজ্ঞাপন— এত টাকা ফেলুন, অর্থাৎ– ফেলো করি, মাখো তেল — এই অমৃত শিক্ষা তোমাদেরকে দেবো।

যাক—আজকের এই পর্বে ওনাদের অমৃত শিক্ষা অাসলে যে গরল শিক্ষা তা জুনিয়র ভাই বোনদের বোঝাতে কিছু মহা পুরুষদের লেখা থেকে উদ্ধৃত করছি।

মাইন্ড মেথডের ফলোয়াররা, শুধু বলুন—-এই সব লেখাগুলি বা কোটেশানগুলি বা বাক্যগুলি অাপনারা মানেন কি না? ক্যাটিগরিক্যালি উত্তর দিন—-হ্যাঁ কি না? মানেন কি না?

যদি না মানেন, আবার সেই একই কথা বলতে চাই— আপনাদের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য খুব বড় আকারে আন্দোলন করুন। জাগ্রত করুন সবাইকে। জোর গলায় বলুন—- পুরানো মান্ধাতা আমলের হ্যানিমানিয়ান, কেন্টিয়ান থিওরি ফেলে দিতে হবে। —– হোমিওপ্যাথিক কাউন্সিল গুলিতে, বোর্ড গুলিতে, বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে, ধরনা দিন, আন্দোলন করুন। ঠিক যেমন — ধর্ম প্রচারের জন্য জন্য বুদ্ধদেব, হযরত মোহাম্মদ, বা আরও অনেককেকে চারিদিকে ঘুরতে হয়েছিলো, দূত পাঠাতে হয়েছিলো, যেমন — কৃষ্ণ নাম প্রচারের জন্য ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা প্রভুপাদ বিনা পয়সায়, বিনা পারিশ্রমিকে — আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের পার্কে পার্কে, রাস্তায় রাস্তায়, ঘুরে ঘুরে মানুষকে বুঝিয়েছিলেন, তাদের মতের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আপ্রাণ সংগ্রাম করেছিলেন। একটি সত্যকে আপনারা সেই রকম বিনা পয়সায় প্রচার না করে বুঝাতে এত টাকা লাগবে, এই ভাবে চলছেন কেন? আমি ত বাংলাদেশে দশটি সেমিনার করে এলাম, ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি বোঝানোর স্বার্থে, মানে সব সিমটমস লাগে শুধু মেন্টাল সিম্পটমস নয় এটা বোঝাতে। কোথাও থেকে তো একটি পয়সাও গ্রহণ করিনি। তাহলে আপনাদের মাইন্ড মেথড বোঝাতে প্রচুর টাকা লাগছে কেন? 
কি বলবেন সবাই? বিজনেস? হিপোক্রেসি?

যাই হোক নিচের প্রশ্নগুলির উত্তর দিন? কিছু অথেনটিক বই থেকে ফটোকপি দিচ্ছি, বলুন, কথাগুলি মানতে চান, কি চান না? বইয়ের পাতাগুলি ছিঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিতে চান, কি চান না?

কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি—

★কেন্টের লেকচারস অন হোমিওপ্যাথিক ফিলোসফি, লেকচার-৩৩, পৃষ্ঠা নং-২৩৫-Dreams are so closely allied to the mental state that he may well say,” I dreamed last night “, –that is a general state —- বলুন স্বপ্ন সিমপটমস নেবেন বা মানবেন? না ফেলে দিতে চান?

পৃষ্ঠা নং ২৩৭—- Menstruation is so closely relates to the whole woman that it becomes most important —- বলুন, কেন্টের লেখামতন মহিলাদের মাসিক সিমপটমসের দাম দেবেন, কি দেবেন না? অর্থাৎ তার বক্তব্য মানবেন? না কি মানবেন না?

★ ফিলিস স্পাইট—- নেম অফ দ্য বুক—- প্রিন্সিপলস অফ হোমিওপ্যাথি—- চ্যাপ্টার —-অ্যান অ্যানালাইসিস অফ সিমটমস, পেজ-৯৬ Modalities is important ——the reaction of the patient to bodily Environment, to heat and cold, damp and dry, position, time, etc.

The times of the day at which symptoms occur or are aggravated are often of great value in determining the Homoeopathic remedy.

We must also bear in mind that side modalities is also important—- Side modality important, যেমন — Lyco, Lach, বা Side to Side — Lac Can, etc.—— বলুন, মানবেন, না মানতে চাইবেন না?

★ ডাঃ এস. পি. দে.—- বাংলার বিখ্যাত ক্লাসিকাল সিঙ্গল প্রেসক্রাইবার ছিলেন। তাঁর ফিলজফি বই—- Essentials of Principles of Practice of Homoeopathy বই থেকে–Chapter— Evaluation of Symptoms —- Page— 148—

* After Mind—- next comes the Sleep and Dreams. Dreams reveals the subconscious state of the mind of a man

* We are to consider the symptoms concerning the overall modalities.

* Next we are to judge the patients appetite, thirst, craving for and aversion to particular type of food or drink, etc.

* The next items are whether the patient is hot or chilly, his perspiration, burning sensation, etc. মানবেন এসব কথা, না বইগুলি ফেলে দিতে চান?

সুতরাং নতুন উৎসাহিত বন্ধুরা, সাবধান। সময় ও কষ্টার্জিত অর্থের অপচয় করবেন না। মেথড একটাই — হ্যানিম্যানিয়ান, কেন্টিয়ান।

হ্যানিমানের হোমিওপ্যাথি করতে হলে তার উপরেই ভরসা রাখুন। যেমন বিশ্বস্রষ্টা ভেবে—আল্লাহ বা GOD বা, ভগবানের উপর ভরসা রাখেন, তেমনি হোমিওপ্যাথির যে স্রষ্টা — তার উপর ভরসা রাখুন, তার কথামতন চলুন ।

৩নং পার্ট

বন্ধুরা, মাইন্ড মেথড চিকিৎসা পদ্ধতি সম্মন্ধে আমি প্রথম ও দ্বিতীয় অংশ লিখেছি।

আজ লিখছি তৃতীয় অংশ। কিন্তু ব্যস্ততা থাকার দরুন আজকের অংশে বিশেষ কিছু লিখব না। কেবলমাত্র আগের দুটি অংশের যেসব সমালোচনা হয়েছে সেই ব্যাপারে একটু আলোচনা করছি। আমি লক্ষ্য করেছি যে মাইন্ড মেথড চিকিৎসা করার পক্ষে বেশ কিছু চিকিৎসক আছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই অত্যন্ত ভদ্র, সভ্য ও মার্জিত ভাবে আমাকে বিভিন্ন কমেন্ট করেছেন। যেমন ডঃ আরিফ, ডঃ মোঃ ফরিদুল ইসলাম, এরা এই মেথডকে সাপোর্ট করে আমাকে পরীক্ষা করতেও বলেছেন। ডঃ তোফায়েল মহম্মদ বলেছেন— বিশ্বের বহু জায়গায় এই মেথড চলছে এবং ভারতের বহু জায়গায় প্রায়ই এই মেথডের উপর সেমিনার হচ্ছে। ডাক্তার মহম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, নীতিশ চাকমা, মুক্তাদির আমিন— এরা সবাই এই চিকিৎসার পক্ষে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করেছেন..।

ডাঃ তোফায়েল মহঃ বলেছেন— বিশ্বের বহু দেশে এই মেথড চলছে এবং সেখান থেকে বহু ডাক্তার ভারতবর্ষে ট্রেনিং নিতে আসছেন।

তোফায়েল সাহেব, আপনি বোধ হয় জানেন না, বর্তমানে এই উপমহাদেশের বাইরে সারা বিশ্বে হোমিওপ্যাথি টিমটিম করে জ্বলা হারিকেনের মতন। কোথাও কলেজ নেই, কোথাও ইনফ্রাস্ট্রাকচার নেই, গভর্মেন্টের স্বীকৃতি নেই। মাঝে মাঝে পাঁচ দিন, দশ দিন বা পনেরো দিনের কোর্স হয় নাম মাত্র। নাম দেওয়া হয় সামার কোর্স, উইন্টার কোর্স, এইরকম। সেইসব হাতুড়ে হোমিওপ্যাথরা কিছু ভারতবর্ষে আসে— ডুবন্ত জাহাজের যাত্রীরা যেমন খড় কুটো অাঁকড়ে ধরতে চায়, সেরকম এখান থেকে কিছু যদি শিখতে পারে তাই। তাছাড়া অনেকে আসে বেড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়ে। আর বাইরের ১টাকা সমান ত এখানকার ১০০ টাকা, অসুবিধা থাকে না। আর সেই সুযোগ নিয়ে আমাদের অনেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে—বিভিন্ন মেথডের নাম দিয়ে বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ওরিয়েন্টেড কোর্স, স্পেশাল কোর্স, ট্রেনিং কোর্স ইত্যাদি নামে। বাকীটা নাই বা লিখলাম। আমাদের কলকাতার বেশ কিছু চিকিৎসকরাও এমন ব্যবসা করেন ফরেনারদের নিয়ে। আমাদের ফরেন মানে ত বাংলাদেশও হচ্ছে।

তাই বাইরের চিকিৎসকরা দলে দলে শিখতে আসছে বিভিন্ন মেথড বা আপনাদের মাইন্ড মেথড— এই সব উপমা আমাকে দেওয়া যাবে না, কেননা আমি পৃথিবীর সমস্ত দেশের হোমিওপ্যাথি সম্বন্ধে জানি, হোমিওপ্যাথির হাল-হকিকত সম্বন্ধেও খবর রাখি।

ডাঃ কওসার মামন— আমি যে বলেছি এটা নিয়ে ব্যবসা হয় বা বাণিজ্য হয়, সেই ব্যাপারে আপত্তি এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তোফায়েল সাহেবও বলেছেন বাণিজ্য খুব একটা হয় না। যারা স্পিকার থাকেন, তাদের খুব একটা টাকা পয়সা দেওয়া হয় না। বিভিন্ন আনুষঙ্গিকেই বেশি খরচ হয়ে যায — এইজন্যই টাকা নেওয়া হয়।

কথা হল—বাণিজ্য হয় কি না, সে ব্যাপারে আমি বিশেষ ওয়াকিবহাল নই, তবে অনেকে বলছেন, এখনও ত দেখছেন ফেসবুকে অনেকেই বলে চলেছে— সাংঘাতিক ভাবে ব্যবসা হয়। তাই আমি-ও বলেছিলাম। বাণিজ্য বা ব্যবসা যদি সত্যিই না হয়, তবে তা বলার জন্য আপনাদের মনে যদি কোন রকম দুঃখবোধ হয়ে থাকে সেজন্য আমি সত্যিই দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন এর বেসিক ব্যাপারটা হল, ” পেজেন্ট অল্টার মেন্টাল স্টেট “, — কি ব্যাপার ঠিক বুঝলাম না।

যাইহোক, মোট কথা হলো —এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে যদি রোগ সারে, আপনারা যদি খুশি হন, রোগী যদি সুস্থ হয়, আমার আপত্তির কিছু নেই। কেন আপত্তি করবো?

কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে এই চিকিৎসা পদ্ধতি বিশ্বাস করি না, মানি না, মানতে চাই না। কারণ একটাই— এটা হ্যানিম্যানিয়ান পদ্ধতি মেনে নয়। অর্গানন মেনে নয় । এবং যেহেতু অর্গানন ভিত্তিক নয়, হাজার হাজার প্রুভড ফিজিকাল এবং পারটিকুল সিমপটমস নেওয়া হয় না, তাই এই পদ্ধতিকে আমি অাদর্শ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে মানতে মোটেই রাজী নই। তাই মানতে চাই না, গুরুত্ব দিতে চাই না, স্বীকৃতি দিতে চাই না। আমার মতে একমাত্র যে সব কেসে কিছু strong mental symptoms থাকবে, সেই সব কেস ছাড়া অন্য কোথাও রোগী আরোগ্য হবেই না । কারন— due to ignoring of symptoms —- সহজ বাংলা কথায়– হাতের লক্ষী পায়ে ঠেলে ফেলে দেওয়ার জন্য।

তাই একজন সিনিয়র হোমিওপ্যাথ হিসাবে, অভিভাবকের ভূমিকা নিয়ে জুনিয়র হোমিও ছাত্রদের বা জুনিয়র হোমিও চিকিৎসকদেরকে এই অ-হ্যানিম্যানিয়ান চিকিৎসা পদ্ধতিতে যেতে আমি অবশ্যই বারন করতে চাই।

জুনিয়র হোমিও ভাই-বোনদেরকে তাই বলতে চাইছি— আমি যেমন প্রায় প্রতিদিন অহরহঃ হ্যানিম্যানিয়ান পদ্ধতিতে —-মেন্টাল জেনারেল, ফিজিক্যাল জেনারেল এবং পিকিউলিয়ার পার্টিকুলারস— এই তিন ক্যাটাগরী সিমপটমসের সমন্বয়ে অনেক কেস সারাচছি, এবং প্রায় প্রত্যহ ভিডিও রেকর্ডিং করে তোমাদের দেখাচ্ছি, তেমন ভাবে যদি মেন্টাল মেথডের চিকিৎসকরা অনেক লাইভ কেস with analysis and interpretation দেখাতে পারে, তাদের কথা বা নীতির সত্যতা প্রমাণ করতে পারে, তবেই তোমরা যেতে পারো, নচেৎ নয়।

কিছু প্রাকটিকাল কেস দেখাতে না পারলে শুধু থিওরিটিক্যাল লেকচার শোনার জন্য অহেতুক অর্থ খরচ করে মিথ্যা মরীচিকার পিছনে দৌড়াবে না।

লিখছি এই কারনেই —-আমার মনে হচ্ছে এটা আমার একটা কর্তব্য — অাসল হোমিওপ্যাথিকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে।

জুনিয়র ভাই-বোনেরা অর্থাৎ ভবিষ্যৎ হোমিওপ্যাথরা—-তোমাদের প্রতি তাই আমার একান্ত অনুরোধ—-অযথা সময় ও অর্থ নষ্ট না করে হ্যানিম্যানিয়ান পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার দিকে আগ্রহ বাড়াও, তাতে রোগী সারানোর ম্যাজিক দেখে অবাক হবে, আনন্দ-ও পাবে । সৎ পথে অর্থ, নাম, যশ, প্রতিপত্তি সবই পাবে।

আজকের আলোচনার সব শেষে এই মেথডের চিকিৎসকদেরকে বলি—-

আপনারা যেমন শেগল-সাহেবকে গুরু বলে মানেন, অামি বা আমরা হ্যানিম্যান এবং কেন্টকে গুরু বলে মানি। কেন্টের রেপার্টরী আমার খুবই পছন্দের বই এবং আপনাদের প্রথম ৯৫ পাতায় কাজ মিটলেও আমার ১৪২৩ পাতা পর্যন্ত সব পাতাই প্রত্যহ অসংখ্যবার দেখতে হয়।

ডাঃ পিয়ার স্মিথ তাই এই বইকে বলেছেন– গোল্ডেন বুক।

এই রেপার্টরী খুব ভাল ভাবে পড়তে হলে, বুঝতে হলে, জানতে হলে, যে অন্য বইটি পড়তে হয়– সেই বইটি হলো—- আমেরিকার বিশিষ্ট অধ্যাপক Dr. Glen Irving Bidwell র—– ” How To Use The Repertory ” ।

এই বইয়ের ৮নং পৃষ্ঠায় তিনি হ্যানিমানের অর্গানন পড়া এবং মেনে চলার ব্যাপারে যা বলেছেন তা তুলে দিচছি।

” I firmly believe that if Homoeopathy is to survive in this age of therapeutic nihilism, when so many bastard practices are being fostered as Homoeopathic, its survival will come from a comprehensive study of the Organon “.

যারা ইংরাজী কম বোঝেন, তাদের জন্য বাংলা করে দিলাম— —-

“রোগীর কথা, রোগীর সিমটোমেটলজী বাদ দিয়ে যারা এ যুগে শুধু রোগ নিয়ে ভাবছেন, এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক নাম নিয়েও অর্গানন না মেনে অন্য ভাবে চিকিৎসা করছেন, (তাদের কি বলেছেন, বাংলা নীচে দিয়েছি, তাতে সাময়িক হোমিওপ্যাথির ক্ষতি হলেও পরবর্তীতে অাবার একমাত্র অর্গানন ভাল ভাবে পড়ার ও মানার উপরেই এই প্যাথি মাথা উঁচু করে ফিরে অাসবে বা জেগে উঠবে”।

ডাঃ বিডওয়েল অতি দুঃখের সাথে কথাগুলি বলেছিলেন তখন, যখন আমেরিকায় একটা গ্রুপ এই রকম নানা ভাবে অপ হোমিওপ্যাথি করে, অর্গানন না মেনে হ্যাফাজার্ড ওয়েতে চিকিৎসা চালিয়ে হোমিওপ্যাথি ধংসের পথে নিয়ে যাচ্ছিলো।

আজ এই দুর্দিনে তাই আমি বিডওয়েলের লেখাটাকে আবার গুরুত্ব দিতে চাইছি।

জুনিয়র ভাই-বোনেরা, বিডওয়েলের লেখা ইংরাজী লাইনটার একটি শব্দ সবাই ভাল করে খেয়াল করো— যারা অর্গানন না মেনে অপ-হোমিওপ্যাথি করেন, তাদেরকে উনি bastard শব্দে বিশেষিত করেছেন।

আমি চতুর্থ অংশে অনেক রেফারেন্স, কেস, তথ্য, ড্যাটা, ইত্যাদি দিয়ে হ্যানিম্যানিয়ান হোমিওপ্যাথিই যে অাসল এবং শ্রেষ্ঠ, এবং একমাত্র হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা, তা আবার প্রমাণ করবো।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মেথড একটাই— হ্যানিমানের নির্দেশিত পথ।

কোন কোম্পানী টিভি, ফ্রিজ, গাড়ী, ইত্যাদি তৈরী করলে তা ব্যবহারের নির্দেশাবলী দেয়।

হ্যানিম্যান সাহেব ও একটা নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করে — সেই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার নিয়ম- কানুন বর্ণনা দিয়ে গেছেন।

যে কোন রাজনৈতিক পার্টির-ও তাদের মতাদর্শের কনষ্টিটিউশন বা নিয়মাবলী থাকে, তা না মানলে তাকে বিতারিত করা হয়, এবং দিকভ্রষ্ট বলা হয়।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেকে বারবার দিকভ্রষ্ট হয়েছেন — কারন কোম্পানীর নির্দেশাবলী মানে নি।

এই ভাবে বিশাল আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে হোমিওপ্যাথি শেষ হয়েছে বা হরিয়ে গেছে।

দিকভ্রষ্ট হয়ে এই উপমহাদেশ থেকেও তোমরা হোমিওপ্যাথি শেষ করবে কি না, নতুন প্রজন্মের নব্য তরুন চিকিৎসকরা—একবার ভাববে।

একটি ক্রিটিক্যাল কেসে, হ্যানিম্যানের পদ্ধতিতে কলকাতায় বসে কয়েক ডোজ ঔষধ খেযে বাংলাদেশ বর্ডার পার হতে হতেই রোগী ঠিক। যে ডাঃ বাবু পাঠিয়েছিলেন তার কমেন্ট।

৪নং পার্ট

রাত জেগে লিখতে কষ্ট হচ্ছে, তবু লিখতে হচছে। লজ্জাও লাগছে — কারন— একটা well established প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানকে —-কিছু লোক ফাজলামি, ইতরামিতে নামাচ্ছে। একটা মুনাফা লোটার ব্যবসায়ে পর্যবসিত করছে। বলতে ইচ্ছা করে—- ব্যবসা করার ত অনেক কিছুই অাছে, কিন্তু এক মহান মানুষের এই মহামূল্য সম্পদ এবং তার অাত্মত্যাগের এবং জীবন সাধনার ফসল, যা ২২০ বছর ধরে হাজার হাজার চিকিৎসক দ্বারা লক্ষ লক্ষ রোগীদের উপর পরীক্ষিত, তা নিয়ে ব্যবসা কেন? নিজেরা বাগান বানিয়ে, নতুন ফসল ফলিয়ে ব্যবসা করতে দোষ কি?

আমার ৩নং পার্টে আমি বলেছিলাম— কেউ ব্যবসা করছে বলবো না। আগের পার্টে যে টুকু বলেছি তাতে কারুর মনে যদি কোন রকম ব্যথা লেগে থাকে, তবে তারা যেন আমাকে ক্ষমা করেন৷ তবে যার ভাল লাগছে সে করুক। কিন্তু আমার কাছে মোটেই পছন্দের নয় — তাই বিবেকবান অভিভাবকের মতন আমি ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এদিকে না এগোয়, এই চিকিৎসা পদ্ধতি যে ভুল —-তা যুক্তি দিয়ে বুঝাবো।

কিনতু আমি ঐ সব কথা ভদ্রভাবে লেখার পরেও হোমিও নামধারী কিছু পার্টটাইম অ-হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক রাগে আর গাত্রদাহে আমাকে বিশ্রী বিশ্রী নোংরা ও কদর্য ভাষার শব্দ চয়নে আক্রমন করেছে। ভালই করেছে, কারন this shows what type of behaviour they have taught at home, because charity begins at home । আর দিনের আলোর মতন এটা এখন পরিষ্কার হয়েছে যে — এটা নিয়ে এরা ব্যবসাই চালাচ্ছে।

অর্থাৎ এইসব ব্যবসায়ীরা জাল নিয়ে ঘোলা জলে ঘুরছিলো, দূর্বল মাছ ধরবে বলে, কিনতু আমি জল ক্রমশঃ পরিষ্কার করতে থাকায় আর বেশী মাছ ধরতে পারবে না ভেবেই তাদের এই নগ্ন, কদর্য আক্রমন।

—- তাই এত রাগ, তাই পেটে কৃমি থাকার মতন এমন দাঁত কিড়মিড় করা, তাই আমাদের হায়োসিয়ামাস ঔষধটির মতন এমন নির্লজ্জ এবং অশ্লীল লাফালাফি।

আমি বলবো — চিকিৎসার নামে এই নাটক — এই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ চালবাজি বা জালিয়াতির নাটক । এই জালিয়াতিটা ব্যবসায়ীরা এমন ভাবে ছড়িয়েছে যে সর্বত্র হাসাহাসি আর বিদ্রুপের বন্যা বইছে। এই যেমন— সেদিন দেখা হয়েছিল আমার এক সার্জন বন্ধুর সাথে। বললো কাগজের ছুরি, কাঁচি বের করছি আমরা। জিজ্ঞাসা করলাম, কেন, কি ব্যাপার?

—- অাহা ওগুলি হবে মেন্টাল ছুরি কাঁচি। কেন— তোমরা যদি মেন্টাল সিমপটম দিয়ে সব রোগ সারাতে পারো, তবে আমরা এই কাগজের মেন্টাল ছুরি, কাঁচি দিয়ে সব অপারেশন করতে পারবো না?

যাক—এবারে তাহলে আসা যাক কেন আমরা শুধু মেন্টাল সিমপটমস দিয়ে সব রোগ সারাতে পারবো না বা পারি না —-

★★কিছু এমার্জেন্সী কেসের ক্ষেত্রে—-অর্থাৎ কতকগুলি specific bodily disease, —- যেখানে কোন মেন্টাল সিমপটমস র ব্যাপারটা বড় কথা নয়, বা মেন্টাল সিমপটমস মোটেই লাগে না, মেন্টাল সিমপটমসের কোন ব্যবহারই নেই। জানতে ইচ্ছা করছে– সেখানে কি করবেন মেন্টাল বাবুরা?

১) যে কোন কাটা ছেঁড়ায় —- Calendula lotion লাগাবেন, না মেন্টাল সিমপটমস খোঁজ করবেন?

২) বেদম মার খেয়েছে একটি ছেলে, সারা শরীর, গা, হাত, পা ব্যথা, —- প্রথমে Arnica Montana দেবেন না কি মেন্টাল সিমপটমস খুঁজবেন?

৩) হাড় ভেঙে গেছে, জোড়া লাগানোর ঔষধ হিসাবে C P, বা Symphytom দেবেন না কি মেন্টাল সিমপটমস খুঁজবেন?

৪) সেরিব্রাল স্ট্রোকে ব্রেনের মধ্যে কোন এক জায়গায় রক্ত জমেছে বা ক্লট বেধেছে, —Blood immediately absorp করার জন্য Arnica Montana কয়েক ডোজ দেবেন, না কি মেন্টাল সিমপটমস খুঁজবেন?

৫) কোথাও পুড়ে গেছে, সেখানে Cantharis lotion লাগাবেন, না মেন্টাল সিমপটমস খুঁজবেন? ইত্যাদি।

★★ যেখানে Physical level এ Specific Causations থাকে, তার উপরেই ঔষধ কাজ করবে, দুইশত বছর ধরে হাজার হাজার কেসে ক্লিনিক্যালি পরীক্ষিত—

১) তৈলাক্ত মাংস খাওয়ার পর থেকেই পেটব্যথা, জিভ সাদা, পিপাসা নেই, শীত শীত ভাব — তবু খোলা হাওয়া ভাল লাগছে —- Pulsatilla Nigricans,

২) খুব মশলা খাবার খেয়ে পেটব্যথা, বারবার পায়খানা পাচ্ছে কিন্তু বসলে বেশী হচ্ছে না, শরীরে শীত ভাব, জিভ সামান্য সাদা, —– নাক্স ভমিকা

৩) অনেকক্ষন বৃষ্টিতে ভেজার পরে জ্বর, —গা, হাত, পা, বা সারা শরীর প্রচন্ড ব্যথা, জিভের সামনের দিকে লাল ত্রিভুজাকৃতি—- রাস টকস

৪) মেরুদণ্ডে আঘাত লাগার পর থেকে সারা পিঠে খুবই ব্যথা, শিরদাঁড়াটা ব্যথায় ভীষন টনটন করছে, গরম সেঁকে ভাল লাগছে বা আরাম বোধ হচছে—- Hypericum Perfoliatum.

৫) ছেলেটি পড়ে মাথায় আঘাত লাগার পর থেকে বমি বন্ধ হচছে না, চোখে ভাল দেখতে পাচ্ছে না, কেমন যেন ঝাপসা দেখছে —- Natrum Sulphuricum, etc.

—– দেখা যাচ্ছে উপরের উদাহরণ দেওযা কেসগুলিতে সিমটম ভিত্তিক এই ঔষধের বাইরে কোন ঔষধ আসে না, বা অন্য ঔষধ দেওযার কোন scope-ও নেই,——–অথচ কোথাও একটিও মেন্টাল সিমপটমস নেই, কোন মেন্টাল সিমপটমস লাগবেও না, বা এই মুহূর্তে জিজ্ঞাসারও কোন প্রয়োজন নেই।—– কি বলবেন, শেগালপন্থী ব্যবসায়ী বাবুরা?

ব্যবসা বন্ধ হচ্ছে বলে রেগে না গিয়ে ভদ্র ও মার্জিত ভাষায় পয়েন্ট ধরে ধরে জবাব দিতে পারবেন?

চতুর্থ অংশ

আমি লক্ষ্য করে দেখলাম মেন্টাল মেথডে ট্রিটমেন্ট করার বা ফলোয়ার খুব একটা কম নেই। তাই বলতে চাই— করুন না, এই মেথডে চিকিৎসা করে আপনারা যদি উপকার পান করতে ত কোনো বাধা নেই, বারণ নেই।

কিন্তু একটা জিনিস দেখছি— ধর্ম যাজকরা যেমন নিজের ধর্ম প্রচারের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন, মদ্যপায়ীরা যেমন তার মতন মদ্যপ বন্ধু জোগাড় করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, মেন্টাল মেথডে চিকিৎসা করতে থাকা চিকিৎসকরা তেমন ভাবেই মেন্টাল মেথডে ট্রিটমেন্ট করানোর জন্য চিকিৎসক জোগাড় করতে বড় ব্যস্ত, বড় আগ্রহান্বিত। এর কারণটা কি? তাও আবার অনেক টাকা নিয়ে সেমিনারের নামে।

ফেসবুকের মাধ্যমে, বা নিজেদের লেখা বইয়ের মাধ্যমে, বা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখার মাধ্যমে ত করা যায়, কোনরকম অসুবিধা ত থাকে না। তা না করে নতুন পাশ করা দিশাহারা জুনিয়র হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে সেমিনার করার উদ্দেশ্য টা কি? এটাতে আমার একটু আপত্তি আছে।

দ্বিতীয় কথা হলো— শুধু মানসিক লক্ষণ দিয়ে যে একটা মানুষের চিকিৎসা হয় না, তা দুইশত বছর ধরে প্রমাণিত এবং সমস্ত সার্বদৈহিক ও মানসিক লক্ষণের উপরে যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা চলছে, তা বোঝানোর জন্য, বলার জন্য, অত্যন্ত ভদ্রভাবে আলোচনা বা সমালোচনা করলে কিছু মেন্টাল মেথডের চিকিৎসকরা ইতর ভাষায় আক্রমণ করছেন কেন? অভদ্র ভাষা ব্যবহার করছেন কেন? ব্যাপারটা টা ঠিক বুঝতে পারি না। ইতিমধ্যে তাদের অনেককেই বিভিন্ন রকম অভদ্র কথাবার্তা বলার জন্য ব্লক করেছি।

ডাঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, ডাঃ আরিফ, ডাঃ পারভেজ, এইসব চিকিৎসকরাও মেন্টাল মেথডের ফলোয়ার কিন্তু তাদের কথার মধ্যে ভদ্রতা ও শালীনতা আছে। মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেব একটি পোস্টে আমাকে কিছু খারাপ শব্দ ব্যবহার করলেও এটা বুঝতে পারি— তিনি ভদ্র, শিক্ষিত লোক, পড়াশোনাও করেন। অনেক সময় মুখ ফসকে কিছু কথা হয়ত অনেক মানুষের বেরিয়ে যায়, বা লেখার সময়েও তেমন ভাবে কিছু লেখা হয়ে যায়— কিন্তু বেসিক্যালি সে হয়তো অতটা খারাপ নয়। হয়ত সে ঐভাবে বলতে চায়নি বা লিখতে চায়নি। মোয়াজ্জেম সাহেবের ক্ষেত্রে মনে হয় ব্যাপারটি তাই হয়েছিলো ।

যাই হোক আপনারা যারা মেন্টাল মেথডের ফলোয়ার, তাদেরকে আমি কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই, কিছু সিমপটমস দেখাতে চাই। আপনারা লজিক্যাল ওয়েতে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন —-

বলুন —এই সব সিমপটমস দিয়ে আপনারা চিকিৎসা করবেন কি না, চিকিৎসা করা যাবে কি না এবং এই সব সিমপটমস ছাড়া শুধু মেন্টাল সিম্পটমস দিয়ে এই সব কেসগুলি কিভাবে চিকিৎসা করবেন, তা যুক্তিপূর্ণভাবে বুঝান।

আপনাদের যুক্তি সঠিক হলে আমরাও তো মেন্টাল মেথড মানতে পারি এবং এই মেথডের দ্বারা চিকিৎসা করতে পারি।

নীচে কিছু ঔষধের লক্ষন বলছি, যেখানে কোন মানসিক সিমপটমস নেই, অথচ মানসিক সিমপটমস ছাড়াই ১৮০০ সাল থেকে ২১৮ বছর ধরে বহু হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক রোগ সারিয়ে আসছেন বা রোগী সুস্থ করছেন। আজ কিছু উদাহরণ দিচ্ছি, পরে আরও দেবো—

★ বাচ্চা রোগা, লিকলিকে চেহারা, পায়ের দিকটা বেশী সরু হয়ে যাচ্ছে, প্রবল ক্ষুধা— খায় খুব— তবু এই রকম শুকিয়ে যাচ্ছে, প্রায়ই ডায়েরিয়াতে ভুগছে— আবার কিছুদিন ডায়েরিয়া, কিছুদিন কোষ্ঠবদ্ধতায়ও ভোগে——Abrotanum দেবো, বাচ্চাটির সব দিক থেকে উন্নতি হবেই।

★ বয়স–৫৫, ক্যান্সার বা ডায়াবেটিসে ভুগছে, প্রচুর জলপিপাসা, প্রচুর প্রস্রাব হয়, খিদে নেই নিদারুন দূর্বলতা, শ্বাসকষ্ট—–Acetic Acid দেবো এবং রোগী ভাল থাকবে।

★ পা খুব ফুলে গেছে, ফোলা জায়গাটায় ভীষন জ্বালা, সাথে সুঁচ ফোটানো ব্যথা, জ্বালা-ব্যথা দুটিই, ঠান্ডা সেঁক দিলে ভাল বোধ করছে, চোখের নীচটাও খুব ফুলে গেছে, প্রস্রাব খুব কম, জল পিপাসা মোটেই নেই ——–Apis Mel দেবো এবং রোগী সুস্থ হবেই।

★ এক ভদ্রলোকের হাত, পা দিনের মধ্যে বারবার কেঁপে কেঁপে ওঠে — যাকে বলা যেতে পারে — নর্তন বা স্পন্দন, কিন্তু দিনে বা রাতে ঘুমের মধ্যে কখনই হয় না — শুধু জেগে থাকাকালীন হয়; তার ভারট্রিব্রাল কালাম অর্থাৎ মেরুদণ্ড খুবই স্পর্শকাতর — সামান্য হাত দিলেই ব্যথা পায় বা শিরশির করে ওঠে, তাছাড়া মনে হচছে তার শরীরের এখানে ওখানে কেউ যেন ঠান্ডা বা গরম সুঁচ ফুটাচছে; শীত বেশী— ঠান্ডা হাওয়া সহ্য হয় না—–Agaricus Muscarius প্রেসক্রিপশন করবো।

★ ক্রনিক কোষ্ঠবদ্ধতা, পায়খানার বেগ হচ্ছে, যাচ্ছে, কিন্তু বসার সাথে সাথে পায়খানার বেগ চলে যাচ্ছে এবং পায়খানা হচ্ছে না, মনে হচ্ছে মলদ্বারে যেন হঠাৎ কেউ ছিপি বা কোন প্লাগ জাতীয় কিছু দিয়ে আটকে দিলো; মাঝে মাঝে তার পেটব্যথা করে কিন্তু কিছু খেলেই পেটব্যথা কমে যায়।——- Anacardium Orientale প্রেসক্রিপসন করবো।

★ গরমকাল চলছে, একটি ৬ মাসের বাচ্চাকে মায়ের বুকের দুধ বা গরুর দুধ– যে দুধই খাওয়ানো হচ্ছে, সাথে সাথেই চাপ চাপ দই কাটার মতন বমি হয়ে উঠে যাচ্ছে, তারপরই বাচ্চা দূর্বল হয়ে নেতিয়ে পড়ছে এবং ঘুমিয়ে পড়ছে। ঘুম থেকে উঠে আবার দুধ খেতে চাইছে— দুধ খাচ্ছে, কিন্তু আবার যা তাই — মানে দুধ খাওয়ার সাথে সাথেই আবার চাপ চাপ দইয়ের মতন বমি করছে এবং দূর্বল হয়ে পড়ছে ও ঘুমিয়ে পড়ছে—–Aethusa Cynapium দিয়ে ১৮০০ সাল থেকে হাজার হাজার বাচ্চা সুস্থ হচ্ছে।

উপরের কোন কেসেই মেন্টাল সিমপটমস নেই, কিনতু রোগী সেরেছে, সারছে এবং অনাগত ভবিষ্যতেও সারবে।

সুতরাং নব্য যুগের নব্য পন্ডিতপ্রবর শেগালবাবুর থিওরি- শুধু হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মানসিক লক্ষন দিয়ে রোগ সারনোর ব্যাপারটা শুধু আমার একার নয়, বিশ্বের লক্ষ লক্ষ হোমিওপ্যাথদের মানা একটু মুস্কিল হয়ে পড়ছে।

৫নং পার্ট

কেন মানতে পারি না—–বহু ক্ষেত্রে যে সব ঔষধগুলি কোন রকম মানসিক লক্ষণ ছাড়াই রাত দিন প্রেসক্রাইব করা হচ্ছে বা প্রেসক্রিপশন করা সম্ভব । 1800 সাল থেকে 2019— 218 বছর ধরে হাজার হাজার রোগীকে বহু হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক কোন মানসিক লক্ষন না পেলেও বিভিন্ন শারীরিক লক্ষনের উপরে চিকিৎসা করে তাদেরকে সুস্থ করে চলেছেন, আমরাও চলছি, ভবিষ্যতেও চলবে।

কিছু উদাহরণ দেওয়া যাক—-

★ কোষ্ঠবদ্ধতা, শরীরের শুষ্কতা, আলু সহ্য হয় না, কাঠ কয়লা, মাটি, চক, ইত্যাদি আজেবাজে জিনিস খেতে ভালোবাসে, শরীরের এখানে ওখানে শুষ্ক চুলকানি — Alumina প্রেসক্রাইব করবো।

★ জিভের উপরে সাদা পুরু কোটিং, অনেক ভূরি-ভোজন খাওয়ার পরে পেটের গোলমাল, ক্ষুধার অভাব, বমি বা বমি বমি ভাব, টক খাওয়ার ইচ্ছা, তৃষ্ণাহীনতা—–Antim Crud প্রেসক্রাইব করবো।

★ ফুড পয়জনিং হয়েছে, পাতলা দূর্গন্ধ পায়খানা হচ্ছে, সাথে বমি, প্রবল পিপাসা– কিন্তু ক্ষণে ক্ষণে অল্প পরিমাণে জল খায়, জল পান করার পরেই আবার বমি হয়, খাদ্য দ্রব্যের গন্ধ সহ্য করতে পারে না, পেটের মধ্যে জ্বালা, রোগের প্রকোপ যত বেশী তুলনামূলকভাবে দুর্বলতা তার থেকে অনেক বেশী—–Arsenic Alba প্রেসক্রাইব করবো।

★ জ্বর প্রত্যহ সকাল সাতটা বা আটটার মধ্যে আসে, সারা শরীরে বিশেষ করে হাড়ের মধ্যে অসহ্য যন্ত্রণা — মনে হয় যেন হাড় ভেঙে গেছে, বাম দিকে চেপে শুতে পারে না, পিত্ত বা তিতা বমি ——Eupatorium Perfoliatum প্রেসক্রাইব করবো।

★ বমি বেশী হচ্ছে না, কিন্তু ক্রমাগত বমির ভাবটাই চলছে বেশী, জিভ পরিষ্কার, জল পিপাসা নেই——-Ipecac প্রেসক্রাইব করবো।

★ মাংসপেশীতে আঘাত জনিত ব্যথা, ব্যথার জায়গা অত্যন্ত স্পর্শকাতর, রক্ত জমে কালশিটে হয়ে আছে, যে বিছানায় শুয়ে থাকে সেই বিছানা খুব শক্ত মনে হয় —–Arnica Montana প্রেসক্রাইব করবো।

★ ক্রমাগত হেউ হেউ করে জোরে জোরে ঢেকুর তুলছে, চিনি বা মিষ্টি খেতে ভালবাসে, উদারাময় বা ডায়েরিয়ায় ভোগে, কোথাও কোন এনগেজমেন্টে যাওয়ার আগে পায়খানা পায়, শরীরের আক্রান্ত স্থানে কাঁটা ফুটে আছে এইরকম অনুভূতি হয়—–Argentum Nitricum প্রেসক্রাইব করবো।

★শরীর দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে, অত্যন্ত গরমকাতরতা, ক্ষুধা মোটেই সহ্য করতে পারে না— ক্ষুধার সময় না খেতে পারলে বিভিন্ন রকম অসুবিধা হয়, শরীরর গ্লান্ড ফুলে উঠে— বিশেষ করে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড বা ম্যামারি গ্লান্ড ——–Iodium প্রেসক্রাইব করবো।

★ জ্বর কিছুতেই কমছে না— টাইফয়েডের দিকে যাচ্ছে, ভীষণ দূর্বলতা, শরীরের সকল স্রাব ভীষণ দূর্গন্ধ, শ্বাস-প্রশ্বাসেও ভীষন দূর্গন্ধ, পায়খানা, প্রস্রাব, ঘাম, সবকিছুই ভীষন দূর্গন্ধ, মুখের মধ্যে ঘা হচ্ছে, কুকুরের মতো বেঁকে শুয়ে থাকতে চায়—জিভের মাঝখানটা সাদা, পাশগুলি লাল ——–Baptisia Tinctoria প্রেসক্রাইব করবো।

★ হঠাৎ অনেক জ্বর এসেছে, মাথা ভীষন ব্যাথা করছে, পেটও ভীষণ ব্যথা করছে, ব্যথার চরিত্র দপদপানি, ব্যথার জায়গাটা অত্যন্ত লাল ও গরম, ব্যথার সাথে জ্বালা, ভীষন স্পর্শকাতরতা, ব্যথা হঠাৎ হঠাৎ আসছে এবং হঠাৎ হঠাৎ কমে যাচ্ছে ——-Belladonna প্রেসক্রাইব করবো।

★ নিম্নগতিতে ভীষণ ভয় ও আতঙ্ক, বাচ্চাদের আদর করে দুহাত দিয়ে উপরে তুলে নামানোর সময় ভয়ে চীৎকার করে ও কাঁদে, নাগরদোলায় বসলে উপর থেকে নাগরদোলা নীচে নামার সময় খুবই ভয় পায় ও চীৎকার করতে থাকে, লিফটের ক্ষেত্রেও তাই, অত্যন্ত ভীরু, সামান্য শব্দেও চমকে উঠে, মুখের মধ্যে সাদা ফাংগাসের মতন ঘা হচ্ছে, চুলগুলো বড্ড জড়িয়ে যায় ——–Borax প্রেসক্রাইব করবো।

★ কিডনি রিজিয়নে, অর্থাৎ পেটে কিডনির জায়গায় ব্যথা, বিশেষ করে বাম দিকে কিডনির জায়গায় ব্যথা, যেখানে ব্যথা হচ্ছে সেখান থেকে ব্যথা চারিদিকে বা এদিক ওদিক, অনেকদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে, পেটের ভিতরে বিশেষ করে ব্যথার জায়গায় বুজবুজ করার মতন অনুভূতি, প্রস্রাব ক্লিয়ার হচ্ছে না বা অল্প অল্প করে বারবার হচছে—–আপাততঃ Palliative হিসাবে Berberis Valgaris প্রেসক্রাইব করবো।

★ যে কোন রোগে রোগী যদি চুপচাপ শুয়ে থাকে, সামান্য নড়াচড়াও করতে চায় না– কারণ সামান্য নড়াচড়ায়ও তার সব রোগ যন্ত্রনা বৃদ্ধি হয়, শরীরের সমস্ত মিউকাস মেমব্রেনের শুষ্কতা, মুখ শুকিয়ে যায়, ঠোঁট শুকিয়ে যায়, কোষ্ঠকাঠিন্যতা, প্রবল জলপিপাসা –কিনতু অনেকটা করে জল অনেকক্ষন পরপর খায়। আক্রান্ত স্থান বা বেদনাযুক্ত স্থান জোরে চেপে ধরলে উপশম হয়, জিভ শুকনো এবং সাদা কোটেড, শরীরের ডান দিকে রোগ আক্রমণ বেশি ——Bryonia Alba প্রেসক্রাইব করবো।

★ দেহের স্থূলতা অর্থাৎ মোটাসোটা থলথলে চেহারা, শরীরে ঘাম বেশি— বিশেষ করে মাথাটা খুব ঘামে, সহজে সর্দি কাশি লাগে, হাত পা ঠান্ডা থাকে, ডিম খেতে ভালোবাসে, লবন খেতে চায়, ——–Calcarea Carb প্রেসক্রাইব করবো।

★ প্রায়ই ডায়েরিয়া বা উদরাময়ে ভোগে, রিকেটি চেহারা, পায়খানা করার সময় পেটের মধ্যে হড়হড় ঘড়ঘড় শব্দ হয়, খেতে বসলেই পেটব্যথা আরম্ভ হয়, স্কুলে যাওয়া মেয়েদের স্কুল থেকে ফেরার সময় মাথা ব্যথা করে, মাসিকের সময় মুখে ব্রণ বের হয়, মাংস খেতে ভালবাসে——Calcarea Phos প্রেসক্রাইব করবো।

★ খাদ্য দ্রব্যে অভক্তি বা বিরক্তি, বা খাদ্যদ্রব্যের গন্ধ মোটেই সহ্য করতে পারে না, বিশেষ করে মাছ মাংসের, বমি বমি ভাব আসে, পেটের মধ্যে অতিরিক্ত বায়ু জমে, প্রস্রাব কমে যায়, ঘাম বেশী——–Colchicum Autumnale প্রেসক্রাইব করবো।


★ গাড়ীতে চড়লে বমির ভাব, মাথা ঘোরে, তার সাথে যদি অনিদ্রাজনিত কোনরকম অসুস্থতা হয়, মাসিকের সময় মহিলারা যদি মহিলাদের খুবই দুর্বলতা বোধ হয় ——–Cocculus Indica প্রেসক্রাইব করবো।

★ অত্যন্ত দুর্বল, অত্যন্ত শীতকাতরতা, শুলেই মাথা ঘোরে, ঘুমিয়ে পড়লে সারা শরীরে ঘাম হয়, প্রস্রাব সহজে নির্গত হতে চায় না- থেমে থেমে হয়, ধাতুদৌর্বল্য- সামান্যতেই প্রস্টেটিক ডিসচার্জ হয়, অনেক বয়স হয়েছে কিন্তু বিয়ে করেনি ——–Conium Maculatum প্রেসক্রাইব করবো।


★ পেট ব্যাথা সামনের দিকে ঝুঁকে খুব জোরে চেপে ধরলে কমে এবং কিছু খাওয়ার পরেই বাড়ে, বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে——–Colocynthis প্রেসক্রাইব করবো।

★ ডান দিকের স্কাপুলা হাড়ের নীচে ব্যথা, মাথা ব্যাথা বা অন্য যে কোন ব্যথা শরীরের ডান দিকেই বেশী দেখা দেয়, জিভের উপরে মোটা হলুদ বর্ণের লেপ, ডান দিকের পা ঠান্ডা বাম দিকে গরম, ভীষণ স্পর্শকাতরতা এবং নড়াচড়ায় সব রোগের বৃদ্ধি, মাথা ব্যথার সময় ডান দিকের চোখ দিয়ে জল পড়ে ———-Chelidonium Majalis প্রেসক্রাইব করবো।

★ যত বেশি মাসিক স্রাব হয় তত বেশি পেটে ব্যথা হয়, ব্যথা পেটে আড়া-অাড়ি ভাবে হয়- মানে বাম দিক থেকে ডান দিক বা ডান দিক থেকে বাম দিকে হয়, স্রাব অত্যন্ত বেশী এবং চাপ চাপ হয়——Cimicifuga Racemosa প্রেসক্রাইব করবো।

★ ক্ষুধা অত্যন্ত বেশি- বলা যেতে পারে রাক্ষুসে ক্ষুধা, পেটের উপর চাপ দিয়ে শুতে চায় , রাত্রে দাঁত কড়মড় করে, মুখে সবসময় জল উঠে, চোখের চারিদিকে কালো ছাপ, নাভির চারিদিকে ব্যথা, পড়তে বসলেই মাথা ব্যথা হয়, প্রস্রাবের জায়গায় সাদা দাগ পড়ে——–Cina প্রেসক্রাইব করবো৷

উপরোক্ত ঔষধগুলির কারুর কারুর ভাল মানসিক লক্ষন অাছে, নিশ্চয় দেখবো, শুনবো বা জিজ্ঞাসা করবো প্রসক্রিপশন করতে সহায়কও হবে। কিন্তু আমি দেখাতে চাইছি —- সাপোজ, কোন ক্ষেত্রে মানসিক লক্ষন নেই বা পেলাম না, তাহলেও আমরা যেসব স্ট্রং শারীরিক সিমপটমস পাচ্ছি — তাতে প্রেসক্রিপশন করতে কোন বাধা বা অসুবিধা নেই।

৬নং পার্ট

মানি না, বা মানতে পারা যায় না এই রকম অবাস্তব চিকিৎসা পদ্ধতি। যার কারণ আগেও লিখেছি এবং আজও আবার লিখছি, যে—– ১৮০০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত, মানে ২১৮ বছর ধরে মেন্টাল সিম্পটমস ছাড়াই বহু ফিজিক্যাল সিমপটমসের উপরে প্রেসক্রিপশন হয়েছে এবং কাজ হচ্ছে , মানে রোগী ভাল অাছে, ভাল হচছে। আর তা প্রত্যক্ষ করে অাসছেন আমাদের দেশের এবং পাশচাত্যের হাজার হাজার বিদগ্ধ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা।

আজ আরও কিছু উদাহরণ দিচ্ছি।

★ অতিরিক্ত জীবনীরস বা vital fluids ক্ষয়জনিত অসুস্থতা—- যেমন– রক্তপাতের পর, পুরুষদের অত্যাধিক বীর্যক্ষয়ের পর, মায়ের অতিরিক্ত স্তন্য দানের পর, বা বহুদিন ডায়রিয়াতে ভোগার পর, যদি অত্যন্ত দুর্বলতা বা এনিমিয়া দেখি, তার সাথে শীতার্ততা, দুর্বলতা, ঘুমের মধ্যে ঘাম, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া-যা রাত্রে বৃদ্ধি পায়, এবং খাদ্যদ্রব্য অভুক্ত অবস্থায় মলের সাথে নির্গত হতে থাকে, মুখে তিতা ভাব থাকে, একটি হাত গরম অপরটি ঠান্ডা, ইত্যাদি নানা রকম শারীরিক লক্ষন পাই —- তবে তাকে Cinchona Officinalis প্রেসক্রাইব করবো।

★ যদি কারুর Stricture of Urethra বা পুরুষদের পুরুষাঙ্গের মধ্যে থাকা প্রস্রাব পাস হওয়া পাইপের সংকীর্ণতা দেখি, প্রস্রাবের বেগ থাকা সত্ত্বেও প্রস্রাব সহজে নির্গত হচ্ছে না, থেমে থেমে ফোঁটা ফোঁটা করে যন্ত্রনাদায়ক ভাবে হচছে, Inguinal glands বা কুঁচকির গ্লান্ডগুলি শক্ত হয়ে ফুলে উঠছে, ইত্যাদি লক্ষন থাকে——– তবে আমি তাকে Clematis Erecta প্রেসক্রাইব করবো।

★ যদি কারুর Paralysis of single parts, অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট অঙ্গের বা শরীরের পুরো একটি সাইডের প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাত দেখি, তার সাথে যদি তার থাকে খুব শীতকাতরতা, হাতে বা মুখে আঁচিল থাকে, সীসা নিয়ে কাজ করার ইতিহাস থাকে, বা ছোটবেলায় শরীরের কোন অংশ বা অনেকটা অংশ আগুনে পুড়ে যাওয়ার ইতিহাস থাকে, বা বেশীরভাগ রোগলক্ষনগুলি শরীরের ডানদিকে প্রকাশ হতে দেখি, কাশি ঠান্ডা জল খেলে কমতে দেখি, রাতের নিদ্রাকালীন সময়ে বিছানায় শারীরিক অস্থিরতা দেখি, মিষ্টি দ্রব্যে অরুচি দেখি, পাতে কাঁচা নুন খায় শুনি, ব্লাডার বা মূত্রাধারের পক্ষাঘাতের জন্য প্রস্রাব পেলে চেক বা কন্ট্রোল করতে পারে না শুনি, বা মাঝেমধ্যে রাত্রে বিছানায় অসাড়ে প্রস্রাব করে ফেলে শুনি,—— তাহলে কোন শেগাল, বেগাল, থিওরী অামি পড়বো না, মানবো না, আর টাকা খরচ করে ঐ সব নাটকীয় হিপোক্রেটিক সেমিনারেও যাবো না৷ বহু কষ্ট করে হ্যানিম্যানের নিজের প্রুভিং করা ঔষধ Causticum প্রেসক্রিপশন করবো। শত শত বছর ধরে হাজার হাজার রোগীরা, হোমিও রথী, মহারথীদের হাত দিয়ে– এই সব সিমপটমসের উপরে কষ্টিকাম খেয়ে ভাল হয়েছে বা সুস্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবেই হবে৷ নকল রাজা সাজার মতন কারুর কোন পন্ডিতিয়ানায় তা অাটকাবে না ।

★ যদি রাতে ঘুমের মধ্যে কাশি হয়, অথচ ঘুম ভাঙে না, শীতকাতরতা অথচ খোলা হাওয়া পছন্দ করে, হাতের তালু, পায়ের তলা গরম থাকে, এবং রাতে জ্বালা করে, বা যদি দেখা যায় — একটি গাল লাল ও গরম এবং অন্যটি ফ্যাকাসে ও ঠান্ডা, অসহ্য বাতের ব্যথায়- ব্যথার জায়গাটা যদি অসাড় মনে হয়, কানের ব্যথা গরম সেঁকে কমে, কিন্ত দাঁতের ব্যথা ঠান্ডা সেঁকে কমে, মাসিক স্রাব অত্যন্ত কালো ও চাপচাপ হয়, অার ব্যথার জায়গাগুলি যদি খুবই স্পর্শকাতর হয়, ——-তাহলে কলহপ্রিয়তা, ঝগড়াটে স্বভাব, অসভ্যতা, বদমেজাজী, সহ্যশক্তির অভাব, এসব মানসিক লক্ষন না থাকলেও অামি ঐ সব শারীরিক লক্ষনের উপরে Chamomilla Matricaria প্রেসক্রাইব করতে পারবো।

★ যদি দেখি কারুর পেট গ্যাসে ভরে যাচ্ছে— বিশেষ করে একটু বয়স্ক ব্যক্তিদের, বিশেষ করে উপরের পেটে, ঢেকুর উঠলে বা নীচ দিয়ে বায়ু পাস করলে একটু রিলিফ পাচ্ছে, দূর্গন্ধযুক্ত পাতলা পায়খানা হচ্ছে, যা খেলে সহ্য হয় না- তাই খেতে চায়, হাত-পা বা সারা শরীর খুব ঠান্ডা থাকে তবু জ্বালা জ্বালা ভাব থাকে, সন্ধ্যার দিকে একটু স্বরভঙ্গের মতন হয়, লবন ও মিষ্টি খেতে ভালবাসে, দুধ সহ্য হয় না, সব সময় চায় ফ্যানটা অাস্তে অাস্তে চলুক —–Carbo Vegitabilis প্রেসক্রাইব করবো।

★ যদি দেখি, কারুর convulsions বা খিঁচুনি, তড়কা বা অাক্ষেপ, যা শরীরের উপরের দিক থেকে অারমভ হয়, এবং পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে বা পড়তে চায়, সেই সব রোগীরা অন্য সময়ে যদি কাঁচা মাটি, বা শুকনো মাটি, বা পোড়া মাটি, বা কয়লা, বা চক, ইত্যাদি অখাদ্য, কুখাদ্য খেতে ভালবাসে, আর তারা যদি সশব্দে অর্থাৎ খুব জোরে জোরে বিকট শব্দ করে হিক্কা তোলে, বা তাদের যদি মাথায় বা শরীরের অন্য কোথাও এমন চর্মরোগ হয় যে—- বাইরে থেকে দেখলে কিছু বোঝা যায় না, অথচ দেখতে হালকা চর্মরোগের মতন জায়গাটা আঙুল দিয়ে চাপ দিলেই উপরের টুপি পরার মতন একটা লেয়ার টপ করে বসে যায়, এবং হলুদ রংয়ের গাড়, ঘন পুঁজ ভড়ভড় করে বেরিয়ে অাসে, তবে——আমি তাদেরকে চোখ বন্ধ করে Cicuta Virosa দেবো। নাটক দেখাতে, বা বড় দিগগজ পন্ডিত সাজতে, আমাকে এই রোগীর জন্য হাঁ করে চশমা নাকের মাঝে নামিয়ে কোন মানসিক লক্ষন বের করা বা ইন্টারপ্রিটেশন করার প্রয়োজন হবে না।

★ আবার তড়কা বা কনভালশন যদি প্রথমে শরীরের উপর দিক থেকে অারমভ না হয়ে যদি নীচের দিক থেকে অারমভ হয়, বিশেষ করে হাতের বা পায়ের অাঙুলগুলি থেকে অারমভ হয়, এবং অাক্ষেপ বা খিঁচুনি বা খিল ধরার সময় যদি অাঙুলগুলি হাত বা পায়ের ভিতরের দিকে বেঁকে যায় বা ঢুকে যায়, ইংরাজী বইয়ে যা বলা হয়েছে- Flexor type of cramps, অার এদের জলপান করার সময় যদি গলার মধ্যে ঢকঢক বা গড়গড় শব্দ হয়, বা কাশি বা অন্য কোন রোগলক্ষন যদি শীতল বা ঠান্ডা জলপানে আরামবোধ করে, বা সব রোগলক্ষন প্রত্যেক অমাবস্যায় যদি বৃদ্ধি হয়, বা সব রোগ লক্ষন যদি কেস টেকিং করার সময় শুনি যে হাম বা পকস আরম্ভ হয়েও গুটিগুলি (eruptions), ঠিকমতন প্রকাশ পায়নি এবং ঠিক তার পর থেকেই complaints গুলি অারমভ হয়েছে, তবে এখানেও নাকের মাঝে চশমা এনে রি-ডিসকভারির কথা না ভেবে হ্যানিমানের পুরানো ডিসকভারি মেনেই Cuprum Metallicum প্রেসক্রাইব করবো।

★ কিম্বা যদি দেখি- সামান্য ৩/৪ বার পাতলা পায়খানা বা কলেরার মতন পায়খানা করার পরেই রোগী একেবারে হঠাৎ করে ঝিমিয়ে পড়ছে, কোলাপ্স হয়ে যাচ্ছে, হাত-পা বা সারা শরীর বরফের মতন হিমশীতল ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, অথচ গায়ে কিছু কভার দিতে চাইছে না বা রাখতে চাইছে না, মনে হচ্ছে — রোগীকে মনে হয় অার বাঁচানো যাবে না, সে মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছে, আবার শরীরে সাংঘাতিক ডিহাইড্রেশন থাকা সত্ত্বেও পিপাসার অভাব,—– এইরকম দ্রুতগামী হিমাঙ্গ অবস্থার মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকে অাসন্ন এবং অবধারিত মৃত্যুর করাল কালো হাত থেকে বাঁচানোর জন্য—- মানসিক লক্ষন খুঁজে সময় নষ্ট না করে,—– আমি অবিলম্বে Camphora Officinalis প্রেসক্রাইব করবো।

৭নং পার্ট

ভদ্র-জনোচিত আলোচনা অবশ্যই ভালো। ডাঃ মেহমুদের একটি কমেন্ট দিলাম। উনি লিখেছেন — মন ভিত্তিক ঔষধ না দিলে রোগ আবার ফিরে আসে। কিন্তু যে সব ঔষধের মন লক্ষন বিশেষ পাওয়া যায়নি ? সেখানে কি বলবেন অাপনারা?

কথা হচ্ছে মেন্টাল সিমপটমসকে আমরা সবাই দাম দিতে চাই। কারন, মনই হলো শরীরের রাজা । আমরা প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ মানসিক লক্ষণ কে সবথেকে বেশি গুরুত্ব বা দাম দিই বা দিয়ে আসছি।

কিন্তু আপত্তিটা হচ্ছে- শুধু মানসিক লক্ষণ দিয়েই চিকিৎসা করার। তা কি সব ক্ষেত্রে সম্ভব? এইটাই আমরা বারবার বলতে চাইছি৷ তা কি করে সম্ভব? বিভিন্ন কেস সারিয়ে ভিডিও সহযোগে আমাদের কেউ প্রমান দিন, তা কেউ দিচ্ছেন না।

যে সব কেসে মানসিক লক্ষণ কে ছাপিয়ে শারীরিক লক্ষণগুলিই বেশী গুরুত্ব পাচ্ছে, সেখানে কি করবেন?

কিংবা মানসিক লক্ষণ যে সব কেসে আদৌ নেই অথচ গুরুত্বপূর্ণ অনেক শারীরিক লক্ষণ আছে সেখানে কি ঐসব শারীরিক লক্ষণ গুলির কোন দাম দেব না? সেখানে কি খুঁজবেন আপনারা ?

কিংবা এমন অনেক ঔষধ আছে যাদের কোন মানসিক লক্ষণ প্রুভিংয়ে পাওয়া যায়নি, বা ক্লিনিক্যাল সিমপটমস রেকর্ড করা কালীন-ও পাওয়া যায় নি। তাহলে কি সেই সব ঔষুধ ব্যবহার করা যাবে না? যদি যায়, তাহলে তাদেরকে কোন্ মানসিক লক্ষণের উপরে প্রেসক্রিপশন করবেন?

যেমন কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি।

★ ডালকামারা বর্ষাকালীন আবহাওয়ায় হওয়া সর্দি-কাশি, বাতের ব্যথা, চুলকানি, আমবাত, ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়। এর ইম্পরট্যান্ট কোন মানসিক লক্ষণ নেই। তাহলে এই ঔষধকে কিভাবে ব্যবহার করবেন?

★ হার্টের অর্গানিক প্রবলেমের জন্য কনসটিটিউশনাল ঔষধ দেওয়া যাচ্ছে না, আপাততঃ ক্রাটিগ্যাস দিতে চাইছি কিনতু এর কোন উল্লেখযোগ্য মানসিক লক্ষন নেই।

★ যেমন– লিভার ক্যান্সার রোগীর আপাততঃ প্যালিয়েশনের জন্য কোলেসট্রিনাম দিতে চাই। কিন্তু এই ঔষধের কোন মানসিক লক্ষন নেই।

★ যেমন– কোন ইনফেকশাস রোগ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ঔষধে উন্নতি না পেলে আমরা মর্বিলিনাম, ডিপথেরিনাম, প্যারটিডিনাম, ইত্যাদি ঔষধ ১ ডোজ প্রেসক্রাইব করি to remove the hindrance or block or obstacles of the cure. কিন্তু এদের কোন মানসিক লক্ষন নেই।

★ যেমন— অত্যধিক জরায়ুর রক্তস্রাবের জন্য ইমিডিয়েট প্যালিয়েটিভ ঔষধ হিসেবে আমরা Erigeron ব্যবহার করি। কিন্তু এই ঔষধের কোন উল্লেখযোগ্য মানসিক লক্ষণ নেই ।

★ যেমন— ক্যাটারাল কনজাংটিভাইটিসে চোখ দিয়ে অবিরত জল বা পানি পড়ছে, চোখ জ্বালা করছে, চুলকাচ্ছে—— আমরা Euphrasia officinalis প্রেসক্রাইব করি। কিন্তু এই ঔষধের কোন মানসিক লক্ষণ নেই৷

বহু ঔষধের কোন মানসিক লক্ষন নেই, কিন্তু বহু ছোটখাটো থেরাপিউটিকস ফিলডে অপরিহার্য হিসাবে পরিগণিত। যেমন— জাস্টিসিয়া, রাউলফিয়া, হাইপেরিকাম, ইন্ডিগো, জ্যাট্রোফা, ক্যালমিয়া, লরোনিরেসাস, লোবেলিয়া, লেপ্ট্রাডা, লেমনা মাইনর, মেফাইটিস, মার্ক কর, মিলিফোলিয়াম, মাইরিস্টিকা, ওলিয়েন্ডার, পিওনিয়া, প্যারাইরা ব্রাভা, পার্টুসিন, প্লান্টেগো, ফাইটোলাক্কা, পাইরোজেন, টিলিয়া, রেডিয়াম, রানানকিউলাস, রাটানিহা, রুটা, স্যাম্বুকাস, স্যানিকিউলা, সার্সাপেরিলা, সেনিসিও, স্পাইজেলিয়া, স্পনজিয়া, স্টিক্টা, স্কুইলা, সালফুরিক এ্যাসিড, সিমফাইটম, ট্যারেন্টুলা কিউবেনসিন, টেলুরিয়াম, টেরিবিন্থেনা, থ্যালাসপি বারসা, ট্রম্বিডিয়াম, ট্রিলিয়াম, আরটিকা, অাসটিলিগো, ভাইবারনাম, ভিনকা মাইনর, ভিসকাম এ্যালবাম, জ্যানথোজাইলাম, এক্স রে , ইত্যাদি।

আপনাদের কাছে সবিনয়ে জিজ্ঞাসা এই সব ঔষধ কি বেসিসে আপনারা প্রেসক্রিপশন করেন, কারন কারুরই কোন উল্লেখযোগ্য মানসিক লক্ষন নেই।

৭নং পার্ট

ডাঃ এস. কে. পাপন, সেহগাল বা মেন্টাল পদ্ধতির সুবিধা বা উপকারিতা বা সুফল প্রসঙ্গে অনেকগুলি কেসের চিকিৎসা কেমন হবে, উদাহরণ স্বরূপ আমার একটি পোস্টে কমেন্টের মাধ্যমে দিয়েছেন। তার মধ্যে একটি কেস —- একটি বাধক বেদনা অর্থাৎ মাসিকের ব্যথার রোগিনীর কিভাবে ওনারা চিকিৎসা করেন, দেখিয়েছেন। কেসটি নীচে পেস্ট করে দিয়েছি, সবাই পড়ুন।

নীচে দেখুন— পাপন সাহেবের দেওয়া কেস।

“একজন ৪৪ বয়সী মহিলার বাদক বেদনা সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসে। তার প্রচন্ড ভয়ানক বাদক বেদনার সমস্যা ছিল। ডাঃ কি সমস্যা? রোঃ আমি ভয়ানক বাদক বেদনায় ভুগছি। ডাঃ কবে আপনার শেষ মাসিক হয়েছিল? রোঃ আমার ঠিক মনে নেই, তবে সম্ভবত ৪-৫দিন হতে পারে। ডাঃ আর কোন সমস্যা? রোঃ না। (আমি তার পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি জানতে পারলাম, সে বর্তমানে তালাকপ্রাপ্ত এবং তার পিতামাতার সাথেই থাকে।) [ব্যথার সময় সে কিভাবে নিজেকে মেনেজ করে সেটা জানার চেষ্টা করলাম] ডাঃ আপনি ব্যথার আক্রমনের সময় কি করেন?
রোঃ (হেসে হেসে সে তার বাবার দিকে তাকাল) আসলে যখন এটা সহ্য করার মতো অবস্থায় না থাকে, তখন কি করবো আমি জানি না। আমি চেঁচায়, মাটিতে গড়াগড়ি করি এবং ক্রোধান্বিত হয়ে কি যে করি, আমি নিজেই জানি না। ডাঃ (তার বাবাকে) সে কেন হাসলো? রোগীর বাবাঃ ওহ্ ডাক্তার, আমি জানি না, আপনাকে কি বলবো। যখন তার মাসিক শুরু হয়, তখন সে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। সে যন্ত্রনায় চিৎকার করতে থাকে এবং এতটাই খারাপ অবস্থা প্রকাশ করে যে রাস্তায় থাকা মানুষগুলো বাসায় চলে আসে জানার জন্য্ যে কি হয়েছে। (এই অবস্থাটা খুবই বিরক্তকর আমাদের জন্য যে আমরা শেষ পর্যন্ত তাকে বকতে বাধ্য হই) ডাঃ ওহ্ আল্লাহ, তাই!!! আপনার জীবনে কি আর কোন ঝামেলা বা টেনশন আছে?
রোঃ আসলে ডাক্তার আপনি তো বুঝতেই পারেন, এই সমাজে একজন বিবাহিত একলা মহিলার জন্য কি কি সমস্যা হতে পারে। বাড়ীতে আমার বুড়ো বাবা-মা আমার কোন কথাই শুনে না। আমরা যদিও একত্রে থাকি, কিন্তু আমাদের মধ্যে তেমন কোন যোগাযোগ নেই। আমি আসলে এধরনের পরিবেশ পছন্দ করি না। মনে হয় আমরা যেন কোন পরিবার নই, শুধু রুমমেট (কক্ষসঙ্গী)। আমরা মুল দুশ্চিন্তা হলো বাবা-মা বৃদ্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে তারা তাদের দেখা শুনা করতে পারে না। যা আমাকে খুবই চিন্তায় ফেলে দেয়। যদিও আমি তাদের সাথে চিল্লাচিল্লি করি কেন তারা নিয়মিত খাবার খায় না, কেন ঠিক মতো ঔষধ নেয় না।
যদিও তারা বৃদ্ধ, কিন্তু এখনি তারা তাদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে পারে না। আমি কিভাবে একাই তাদের দেখাশুনা করবো? আমি তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে খুবই চিন্তিত কিন্তু তাদের বোকামি আমি বুঝতে পারি না নিয়মিত চিকিৎসার গুরুত্ব কি। শেষে সে বলল, এই বার আমার ব্যথা কোন ভাবেই যদি না কমে, তাহলে আমি একটি পয়সাও দিতে পারবো না (হেসে হেসে)। আপনি সবাইকে ভাল করতে পারেন, কিন্তু আমার ব্যথা নয় কেন? এটি ঠিক নয় (আবারো হাসলো)” “

পার্ট নং—৮

বন্ধুরা, ঐ মেথডের একজন ফলোয়ার ডাঃ এস কে পাপন—যিনি আবার কয়েকদিন পরে কোথাকার এক ডাঃ অশোক মহান্তীকে ঢাকায় এনে মেন্টালের পক্ষে সেমিনার করাতে চলেছেন—–

সে হঠাৎ আমার একটি পোস্টে মেন্টালের স্বপক্ষে গুণগান করতে গিয়ে কিছু কেস, ওনারা কিভাবে চিকিৎসা করেন তার উদাহরণ দিয়েছিলেন। তার দেওয়া কয়েকটি কেসের মধ্যে একটি শুধু দিয়েছিলাম আপনাদের দেখানোর জন্য যে—-

কতটা হাস্যকর এবং ভাঁড়মোতে ওনারা পর্যবসিত করতে চেয়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে। ওনার লেখাটা পেষ্ট করায় অনেকে আমার প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেছেন, অযথা সময় নষ্ট করে কেন ঐসব অাবোল তাবোল জিনিস পোস্ট করছি তাই।

বন্ধুরা, আমার উদ্দেশ্য ছিলো চিকিৎসার নামে ঐ মেথডে কি রকম প্রহসন চলে শুধু তা দেখানো। ঐ প্রহসন জিনিস পড়তে আপনাদের অনেকের অমূল্য সময় নষ্ট করেছি বলে আমি দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

কেসটিতে বলা হয়েছে—একজন মহিলা প্রত্যেকবার তার মাসিক হওয়ার সময় অসহ্য পেট ব্যথায় কষ্ট পায়, যেটা অত্যন্ত গোপনীয়তার ব্যাপার, কারন— প্রতিটি মহিলাই এসব নিয়ে বেশী খোলাখুলি কথা বলতে লজ্জা বোধ করে—–

কিনতু ঐ পেটব্যথার জন্য ওনাদের চিকিৎসার যা পদ্ধতি পড়লাম—- নানান রকম আবোল তাবোল প্রশ্ন, তাকে নিয়ে হাসাহাসি —–এই যদি হয় ওনাদের চিকিৎসা পদ্ধতি, তাহলে সত্যিই ওসব নিয়ে আর আলোচনা না করাই ভালো।

অন্য আর একজন আমার পোস্টের মধ্যে বোঝাতে চাইছিলেন—- ডালকামারার প্রচুর মানসিক লক্ষন, এবং সে সব অসংখ্য লক্ষন দিয়ে না কি তিনি বহু কেস সারিয়েছেন এবং আরও অনেক ডকুমেন্ট ওনার হাতে আছে। আমি এই প্রসঙ্গে বলতে চাই—- আপনি সারালে ভাল, আপনার কিওর কেস নিয়ে ত আমি উপহাস করতে পারি না, কিন্তু আমি বা আমরা অনেকে যেভাবে ভিডিও সহযোগে সবাইকে দেখাচছি তেমন ভাবে ডিসপ্লে করুন, আমরা সবাই দেখি। মুখের কথা দিয়ে তাহলে ত সবাই কাগুজে বাঘের মতন প্রত্যহ গাদাগাদা কেস সারানোর কথা বলবে বা বলতে থাকবে।

তাই আমি বা আমরা যারা হ্যানিম্যানিয়ান পদ্ধতিতে ভালভাবে কেস টেকিং করে সব সিমপটমস নিয়ে যেমন ভাবে রোগ সারাচছি, সেইভাবে দেখান।

যেমন —- দেখুন, আগে এই ছিলো, এখন আর নেই, বা, রোগী নিজে বলুক তার আরোগের কাহিনী, বা,

* ল্যাবরেটরী/ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টের দ্বারা কিছু কেস দেখান—– রিপোর্টে আগে ছিলো, এখন আর নেই, বা, ক্যানসার রোগী ভাল থাকছে, ব্রেন টিউমার রোগীর উন্নতি হচ্ছে, গ্যাংগ্রীনাস আলসার — সার্জন পা কেটে বাদ দিতে চেয়েছিলো, সেই পা রাখা সম্ভব হয়েছে, প্যারালাইসিসে বিছানায় পড়ে ছিলো— উঠে আবার নর্মাল জীবন অতিবাহিত করছে, জরায়ুর টিউমার, ওভারিয়ান সিস্ট, কিলয়েড ইত্যাদি কমছে, শ্বেতী কমছে, কিডনীর পাথর বেরিয়েছে —– এমন সব কেস ডকুমেন্টেড ওয়েতে দেখান ।

ডালকামারা, আমরা জানি একটা সর্ট এ্যাকটিং সুপারফিসিয়াল মেডিসিন, সেইজন্য হ্যানিম্যান এই ঔষধকে তার ক্রনিক ডিজিজ বইয়ে ঢোকান নি, যার duration of action খুব বেশী হলে ক্রনিক ব্যাপারে মাত্র ৩০ দিন, তাতে কি করে শত শত ক্রনিক কেস সারে তা আমাদের বিস্ময় উদ্রেক করে। তাছাড়া উক্ত ভদ্রলোক ডালকামারার যে সব মেন্টাল সিমপটমস লিখেছেন বা ইনটারপ্রিটেশন দিয়েছেন, তা কোন রেপার্টরী বা মেটিরিয়াতে আমি দেখতে চেয়েও পেলাম না। তবে কি সিমপটমসগুলি ওনাদের নিজস্ব চিন্তাধারার ফসল, এবং কেবলমাত্র নিজেদের বইয়ে নিজেদের মেথডের জন্যই লেখা? ঠিক বুঝলাম না।

আমার আগে ধারনা ছিলো যে ওরা বোধ হয় strong, peculiar, uncommon মেন্টাল সিমপটমস কালেকশন করে তার ভিত্তিতে চিকিৎসা করে।

কিন্তু বর্তমানে যা বুঝলাম– ওদের নিজস্ব কথাবার্তা, লেখা এবং সিমপটমসের হাস্যকর এভালুয়েশন, এবং সর্বোপরি রোগীকে নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের মতন ঘোরানো, প্যাঁচানো, গ্যাজানো, মূল চিকিৎসার বিষয় থেকে সরে গিয়ে মানুষকে বিব্রত করা,

—-এইসব, ছেলেমানুষী, অসভ্যতা, হাস্যকর, এবং বাল্যখেলার মতন চপলতা, এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ নষ্ট করা সত্ত্বেও তাকে সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা না দেওয়ার মতন এক ঘৃণ্য, জঘন্য, কদর্য নির্লজ্জ প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়।

হ্যানিম্যান, কেন্টের হোমিওপ্যাথি যেমন ছিলো, ঠিক তেমনই থাকবে। কিনতু অচিরেই দুদিনের এই নকল রাজা সাজনেওয়ালাদের মুখের চুনকালি সরে গিয়ে আব্রুতা বেরিয়ে পড়বেই পড়বে। কারন মানুষ দূর করে ছুঁড়ে ফেলে দেবে চিকিৎসার নামে এই বুজরুকি, জালিয়াতি এবং হাস্যকর লোক ঠকানো পদ্ধতি।

আমাদের প্রাণপ্রিয় কবি নজরুল একদা জাতপাতের বৈষম্য নিয়ে লিখেছিলেন—- জাতের নামে বজ্জাতি, সব জাত জালিয়াত খেলছো জুয়া?

কবির কাব্যকে নকল করেই তাই বলতে বড় ইচ্ছা করছে— মানুষের সেবার নামে করছো ভাঁড়ামো, আর জুনিয়র ভাইবোনদের শেখানোর নামে টাকা লুটে করছো পাকামো ???

পার্ট নং— ৯

বন্ধুরা শুধুমাত্র মানসিক লক্ষন দিয়ে চিকিৎসা করলেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা হয় না, এটা বোঝানোর জন্য আমি একটার পর একটা পর্ব লিখে চলেছি। আমার উদ্দেশ্য একটাই— স্বার্থ। কিসের স্বার্থ? আমার নিজের কোন স্বার্থ কি? না। হোমিওপ্যাথিকে বাঁচানোর স্বার্থ৷

কারন আমি পড়েছি, হোমিওপ্যাথিতে নতুনত্ব আনতে গিয়ে, বেশী মডার্নাইজড করতে গিয়ে, আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশে হোমিওপ্যাথি শেষ হয়েছে। (Ref— Rise and fall of Homoeopathy in U S A—-Dr. J. N. Kanjilal)

১৮৫০ থেকে ১৯৩০, এক ধরনের হইহই রইরই করে ঢুকে পড়া এলোপ্যাথিক ডাক্তারেরা এই সময়ে দলে দলে হোমিওপ্যাথিতে ঢুকে এই চিকিৎসাকে Treat the patient, not the disease, dictim বাতিল করে ১০০ ভাগ থেরাপিউটিক ওয়েতে Treat the disease, not the patient, করতে চাইলো।

তখন ভাল মেটিরিয়া মেডিকা আর হোমিওপ্যাথিক ফিলজফি বইয়ের পরিবর্তে একটার পর একটা বেরুতে থাকলো— Cough, Headache, Haemorrhoids, Leucorrhoea, Appendicitis , Spasms & Convulsions, Eye, Liver dis, Kidney dis. , Heart dis., Uterine Therapeutics, Diarrhoea, Constipation, etc. ফলে Miasmatic Constitutional treatment হারিয়ে গেল পরিবর্তে এসে পড়লো Surface Palliation treatment. রোগ আর সারছিল না, রোগী আর সুস্থ হচ্ছিল না, হোমিওপ্যাথি শেষ হয়ে গেল।

আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে একটার পর একটা টেকনিক, বা মেথড, বা প্রটোকল করতে করতে হোমিওপ্যাথির যেন ঐ অবস্থা না হয়, কেবলমাত্র তার জন্যই আমার এই আন্তরিক চেষ্টা ও প্রয়াস।

তাই আবার বলছি, বিভিন্ন পদ্ধতিতে চিকিৎসা করে কেউ কেউ যদি উপকার পান, ভালো লাগে, বা তা নিয়ে যদি ব্যবসা করতে চান, আমার ব্যক্তিগতভাবে কোন আপত্তি নেই।

আমি শুধু চাইছি এই অতি আধুনিকতার নামে এই নতুন ডিসকভারির নামে, হোমিওপ্যাথি যেন এই উপমহাদেশে শেষ না হয়ে যায়।

কারণ, এই ভাবে রোগ সারে না। রোগ সারতে পারে না। নাটক করে, সেমিনার করে, একটি রবিবার প্রোগ্রাম করে, যতই বিনোদন করা হোক না কেন– যতই অর্থ উপার্জন করা হোক না কেন –যতই চমক দেওয়ার কাজ করা হোক না কেন —অসংখ্য রোগী কোনদিনও সারানো যাবে না। আর রোগী না সারলে সাধারন মানুষদের মধ্যে ধারণা জন্মাতে থাকবে হোমিওপ্যাথিতে রোগ সারে না, রোগ লক্ষন যাচ্ছে না।

তাহলে তখন আমরা যারা আসল হ্যানিম্যানিয়ান চিকিৎসা করছি, আরও অনেকে যারা করবে, তাদের কাছেও রোগী আসবে না। তারপর এক সময় অাসবে দুঃসময়, হোমিওপ্যাথি বিলুপ্তির পথে যাবে । এই দুঃসময় যেন না অাসে, তা অবরোধ করার জন্যই আমার এই আন্তরিক চেষ্টা ও প্রয়াস। এছাড়া আমার আর কোনো উদ্দেশ্য নেই।

আবার বলছি, যারা মেন্টাল মেথডে চিকিৎসা করছেন, যদি উপকার পান আমার কোন আপত্তি নেই। যারা এই মেথডে চিকিৎসা করছেন, করুন। কিন্তু যেহেতু আমার বিশ্বাস নেই, যেহেতু আমি মানি না, যেহেতু আরোগ্যের পর্যাপ্ত প্রাকটিকাল উদাহরণ আমাকে কেউ দেখাতে পারছে না, তাই আমি নতুন জুনিয়র ভাই বোনদের এই পথে যেতে বারণ করবো। আর আমি যেহেতু দেখতে পাচ্ছি চিরাচরিত হ্যানিম্যানিয়ান প্রথায় কেস টেকিংয়ের পরে — কনস্টিটিউশনাল ট্রিটমেন্ট করলে বিভিন্ন রকম জটিল রোগ সারছে, তাহলে আমি অযথা সময় নষ্ট করে হ্যানিম্যানের আদর্শ থেকে কেন বিচ্যুত হবো?

তাই আমি নিজে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করবো না, এবং নতুনদেরকেও মোটেই উৎসাহিত করবো না।

আমি ধর্মের দিক দিয়ে একটি উদাহরণ দিচ্ছি । আমি নিজে হিন্দু হলেও ইসলাম ধর্মকে খুবই সম্মান করি এবং মনে করি এই ধর্মের অনেক কিছুই অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত । ইসলাম ধর্মে মনে করা হয় সর্বশক্তিমান উপরওয়ালা একজন আছেন, তিনি আল্লাহ । তিনি বারবার মানুষকে ঠিক পথে চলার জন্য বা পরিচালনা করার জন্য দূত পাঠিয়েছেন। শেষ দূত অর্থাৎ শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ। তিনি আল্লাহর নির্দেশে কিছু উপদেশ দিয়ে গেছেন, যেমন, দিনে পাঁচবার নামাজ করা। তার উপদেশ বা কথামতন পাঁচবার নামাজ পড়ে + মুসলিম ধর্মের আরও অনেক কিছু নিয়ম কানুন পালন করে যদি কেউ ভালো থাকে, যদি সুস্থ বোধ করে, যদি মানসিক দিক দিয়ে কেউ খুশি থাকে, মনে শান্তি পায় —- এমন সময়ে যদি কেউ একজন বলে আমি মুসলমান ধর্মে নতুন ডিসকভারি করছি, পাঁচবার নয়— শুধু সকালে একবার নামাজ করলেই হবে। তা কি কেউ মানবেন? মানা যাবে? মানা ঠিক হবে?

ঠিক এই পয়েন্ট বা এই চিন্তাধারা দিয়ে মেন্টাল ট্রিটমেন্টের পথে যাওয়া কে বিচার করতে হবে। নবীর কথা মানার মতন— আমরা এখানে হ্যানিম্যানের সব কথাই মানবো। রি- ডিসকভারি নাম দিয়ে তার কথার উলট-পালট করা উচিত হবে না।

তাই আমি বলতে চাই— যারা করছেন করুন, নতুনদেরকে আমি সাবধান করবো, বারন করবো এই দিকে যেতে। 
তাতে ত কারুর গাত্রদাহের কোন কারণ থাকতে পারে না। একটি রাজনৈতিক দল যেমন অন্য রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে প্রচার করে, ওরা খারাপ, ওরা ক্ষমতায় আসলে খারাপ হবে, আমিও তাই বলতে চাইছি। কার কথা সত্যি, কার কথা ঠিক, যেমন জনগণ বিচার করেন— তেমনি এখানেও জনগণের মতন—–নতুন জুনিয়র ভাই বোনেরা বিচার করবে— আমার কথা ঠিক কি না, আমার অনুরোধ রাখবে কি না।

নবীর কথা যেমন সব ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মেনে চলেন, হ্যানিমানের কথাও তেমনি সব নিবেদিত হোমিওপ্যাথদের মেনে চলা উচিত । আর হ্যানিম্যানের কথা মেনে তার নির্দেশিত পথে চললে ঔষধে যে কাজ হচ্ছে, তার প্রমান তো হাজার হাজার দেখা যাচ্ছে, সেই ১৮০০ সাল থেকেই।

আমার আগের পোস্টে—ডাঃ আনোয়ার হোসেন নামে– একজন যে চারটি কেসের কথা বলেছেন – সেখানে সবাইকে মিসগাইড করা, এবং চমক দেওয়ার জন্য অসত্যের অাশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

কেন? কিভাবে? সকালে তা প্রমান সহকারে জানাবো বা লিখবো।

পর্ব——১০

বন্ধুরা Dr. Anowar Hossain, মেন্টাল মেথড চিকিৎসার প্রশংসা করে তার গুরু Dr. Kalyan Kumar Sur কে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন—- ৪ টি সাংঘাতিক জটিল কেসে Dr. Sur অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভাবে আরোগ্য সম্পন্ন করেছেন। দুইটি কেসে তিনি ডকুমেন্টেড পেপারস-ও দিয়েছেন। কিন্ত বাস্তব কি বলে দেখা যাক—–

১) নং কেসে উনি জানাচ্ছেন — এক ভদ্রমহিলা, নাম- Moseda Bibi, age-30, 9/12/2018 তে Amri হসপিটালে Brain র U S G করায়। লেখা অাছে রোগীকে পাঠানো হয়েছে একটি হসপিটাল থেকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে-

—-একটি খুবই ছোট Meningioma— সাইজ 1’9 x 1’7 cm.,—– তার মানে ডাইরেক্ট ব্রেন টিউমার নয়, যাকে Glioma বলা হয় , এবং,—- একটি Arachnoid cyst —- মানে ব্রেনের কভারিংয়ের বা চাদরের সিস্ট। সাইজ 3’6 x 2 cm.

Dr. Anowar বললেন, Dr. Sur চিকিৎসা আরম্ভ করেন। তবে কবে থেকে উনি চিকিৎসা আরম্ভ করলেন তার ডিটেইলস অবশ্য বলা নেই।

যাই হোক, দ্বিতীয় বার আবার U S G করা হলো ঐ একই জায়গা থেকে, মানে Amri থেকেই৷ তারিখ –22/ 09/2018— অর্থাৎ ২ মাস পরে। রিপোর্ট বলছে—সিস্ট টা নেই, তবে Meningiomaটি আছে, সাইজ কমেছে কি বেড়েছে তা লেখা নেই। একই জায়গা হলেও দুইবার দুই জন আলাদা লোক U S G করেছে। এবারের সনোলজিস্ট আবার MRI করার উপদেশ দিয়েছে।

কথা হচ্ছে — সিস্ট হচ্ছে ছোট বেলুনের মতন ফোলা। ভিতরে লিকুইড মতন থাকে। যেমন— সিবাসিয়াস সিস্ট, ডারময়েড সিস্ট, ইত্যাদি। এখানে সিস্টটির মধ্যে নিশচয় ছিলো C S F। যাই হোক সিস্ট টা এখন আর নেই। কিনতু ব্রেনের কভারিংয়ের টিউমারটি অাছে, যার নাম– Meningioma.

দ্বিতীয় বার AMRI থেকে M R I করতে উপদেশ দিলেও তা করানো হয় নি।

তৃতীয় বারও ঐ AMRI থেকেই U S G করানো হয়েছে, রিপোর্ট —-নর্মাল— মানে মেনিনজিওমা টিউমারটি নেই।

আমার বক্তব্য ও সমালোচনা—-

১) ২ টি ব্রেন টিউমার আছে— সঠিক তথ্য নয়। একটিও ব্রেন টিউমার অর্থাৎ Glioma নয়।

২) C C 30 ১ ডোজ খাওয়ার পরে ঘুম কমে যাচ্ছিল লিখেছে। ঘুম, ক্ষুধা, ইত্যাদি বেসিক ফিজিওলজিকাল সিমপটমস কমে যাওয়া বা নর্মাল থেকে খারাপের দিকে যাওয়া অাদর্শ আরোগ্য ইঙ্গিত করে না। যখন টোটালিটি কভার না হয়ে সারফেস প্যালিয়েশন হয়, তখন ক্ষুধা, ঘুম, ইত্যাদি জেনারেল সিমপটমস খারাপের দিকে যায় ।

৩) ২ মাস পরে USG করালে বড় টিউমারটি চলে গেছে— সম্পূর্ন ভুল কথা। Arachnoid cyst টা চলে গেছে। Meningioma টিউমার ছিলো, অাছে।

৪) উনি দাবি করছেন + রিপোর্টের ফটোকপি দিয়েছেন — ২ মাস পরে, অর্থাৎ ২০১৯ র ১৪ ই ফেব্রুয়ারীতে আবার ঐ AMRI থেকে U S G করে দেখা গেছে —- ব্রেন টিউমার ভ্যানিস।

বন্ধুরা—– ভাল করে AMRI হাসপাতালের প্রথম, দ্বিতীয়, এবং তৃতীয় ৩ টি রিপোর্ট দেখুন । প্রথম ২টির প্যাডের সাথে শেষের প্যাডটির কোন মিল নেই। শেষেরটি অন্য প্যাডে। বড় কর্পোরেট হাসপাতালে কম্পিউটারাইজড যে অটোমেটিক ফর্মাট প্যাডে টাইপ করা হয়, প্রথম ২ টি তাই। পরের টি কিন্তু তা নয়। একই হাসপাতালের সর্বক্ষনের কমপিটিউরাইজড প্যাড হঠাৎ অালাদা শুধু নয়— অনেকটা সাদা-মাটা দেখতে লাগবে কেন — অনুসন্ধিৎসু চোখে প্রশ্ন জাগতেই পারে।

আগের ২ টি রিপোর্টে রোগীর নাম ছিলো- Moseda Bibi, age— 30 বছর,

শেষের রিপোর্টে রোগীর নাম–Murshida Bibi, age–24 বছর।

৫) প্রত্যেকবারই রিপোর্টে উল্লেখ অাছে— রোগী একটি হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয়েছে, কোনবারও Dr Kalyan Sur পাঠিয়েছে লেখা নেই।

C C 30 1 dose দিয়ে যদি একটি Meningioma সারে, তাহলে আমাদের অাপত্তির কোন ব্যাপার নেই। শুধু মানসিক লক্ষন দিয়ে সব কেস চিকিৎসা করা যায় না, হোমিওপ্যাথিক ফিলজফি তা বলে না, এইটাই আমরা বারবার বলছি। একটিও কেস যে সারবে না তা কখনই বলছি না।

যাই হোক Dr. Anowarর দেওয়া প্রথম কেসটির তথ্যগুলিতে যে অসংখ্য অসঙ্গতি অাছে তা সবাইকে জানালাম।

পরে অন্য একটি পোস্টে তার দেওয়া অন্য তিনটি কেসের অসঙ্গতিগুলি জানাচ্ছি ।

পর্ব—–১১

ডাঃ আনোয়ার হোসেনের বাকী ৩ টি কেসের ব্যাপারে বলছি—

মিথ্যা বা অন্যায়ভাবে নীছক ক্রিটিসাইজ আমি করি না, এক্ষেত্রে-ও আমার ডাক্তারি নলেজে + সাধারন জ্ঞাণে যা মনে হয়েছে তাই বলছি—

কেস নং ২ —- এক জন প্রেগন্যান্ট লেডি দুই দিন টানা পেটব্যথার জন্য এ্যালোপ্যাথিক হসপিটালে ভর্তি ছিলেন, তবুও তার ব্যথা না কমায় রাত ১২ টায় ডাঃ কল্যান শুরকে ফোন করা হলে তিনি Stramonium 30 দেন এবং রোগী সুস্থ হয়।

*একমাত্র ক্যানসারের মারাত্মক ব্যথা ছাড়া এ্যালোপ্যাথিতে সকল রকম ব্যথা প্যালিয়েট অর্থাৎ কমানো যায় বলেই ত জানি।

* হসপিটালের মধ্যে রাত ১২ টায়, ফিমেল ওয়ার্ডে, বাইরের লোক, বাইরের ঔষধ, —– অবিশ্বাস ঠিক করছি না, কিনতু কেমন বেমানান লাগে।

কেস নং ৩) —- Stramonium 30 1 dose দিয়ে টনসিলের ক্যানসার সারিয়েছেন ডাঃ কল্যান শুর, লিখেছেন।

—– Biopsy report টা ফেসবুক বন্ধুদেরকে একটু পোস্ট করে দেখাতে পারবেন? কারন E N T বইয়ে টনসিলাইটিসের কমপ্লিকেশনে ক্যানসার হয়, কোথাও পাই নি। ক্রনিক টনসিলাইটিসেরর কমপ্লিকেশনে যা হয়, পেয়েছি বা পড়েছি—- * Peri tonsillar Abscess, বা Quinsy, এবং, * Rheumatic Fever

তাছাড়া টনসিলের ফোলা কমিয়ে নর্মালে অানতে যেখানে আমাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে, বছরকে বছর লেগে যাচ্ছে, সেখানে মাত্র ১ ডোজ ঔষধে, যে ঔষধের আবার spheres of action মোটেই Glandular tissue বা Lymphoid tissue নয়, —- সত্যিই অবাক হচ্ছি।

ধুতুরা ফলের বীজ থেকে তৈরী হোমিওপ্যাথিক ঔষধ মাত্র ১ বার ১ ফোঁটায় টনসিলের ক্যানসার সারা মানে তাহলে ত—-” সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবারের”, মতন বলতে হয়—-

সব ডাক্তার বারবার,—————–একবার, নতুবা, সব ঔষধ বারবার, Stramonium 30, একবার।

৩) লিখেছেন, আপনার বাবাকে না কি ডাঃ শুর অবধারিত করোনারী স্টেনোসিসের জন্য মেন্টাল মেথডের মাধ্যমে হোমিও চিকিৎসায় করোনারী বাইপাসের হার্ট অপারেশন থেকে বাঁচিয়েছেন।

—- ২২/১১/২০১৭ তে আপনার বাবার করোনারী এ্যানজিওগ্রামে ৫০% স্টেনোসিস ছিলো। আপনাকে অবগতির জন্য জানাই– ৭০% স্টেনোসিস না হলে— বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধরফড়ানি, মাথাঘোরা, ঘাম, —- এসব উপসর্গ খুব একটা হয় না, এবং এ্যানজিওগ্রাম ও বাইপাস সার্জারীর কোন প্রয়োজন হয় না।

আপনার বাবার ক্ষেত্রে তাই ভাল, সৎ কার্ডিওলজিস্টরা কখন এ্যানজিওগ্রাম বা বাইপাস অপারেশনের কথা বলবে না। এক্ষেত্রে যদি কেউ বলেছিলো এবং এ্যানজিওগ্রাম করিয়েছিলেন, তবে তা কি উদ্দেশ্যে তা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন।

২২/১১/২০১৭ র পরে ২৩/৩/২০১৯, মানে বলতে চাইছেন— এক বছর তিন মাস আপনি মেন্টাল মেথডের মাধ্যমে আপনার বাবাকে ডাঃ শুরকে দিয়ে হোমিও চিকিৎসা করিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।

আমি বলবো— না, বিশেষ কিছু উন্নতি আপনার বাবার হয় নি। কারন, আগে ছিলো 50% Stenosis, আর এক বছর তিন মাস চিকিৎসার পরে রিপোর্টে Stenosis 40% ।

কমেন্টের শেষ লাইনে আপনি লিখেছেন—- জেগে ঘুমায় যারা, তাদের ঘুম ভাঙানো সম্ভব নয়।

বুঝতে পারছেন নিশ্চয়— আমরা জেগে ঘুমাই নি, সারা জীবন না ঘুমিয়ে রাত-দিন পড়াশোনা করে চলেছি । আর তাই সব অনিয়মের নিয়ম ধরতে ও বুঝতে বেশী সময় লাগে না।

ভাল থাকবেন, মানসিক লক্ষনের আমরাও ভীষন গুরুত্ব দিই, কিন্তু ১০৬ ডিগ্রী সেপটিক ফিভারে, লাল টুকটুকে জিভ আর ১৩০ পালস বিট পেয়ে Pyrogen দিয়েই রোগী সুস্থ করেছি। ওখানে হাঁ করে মনের অবস্থা কেমন দেখতে গেলে রোগীর বাড়ীর লোকদের কয়েক ঘন্টা পরে হয়ত জোগাড় করতে হতো— এক বান্ডিল ধূপ, একটি খাটিয়া, আর একটা ফুলের মালা—- যা আমাদেরকে দেবতার আসনে বসানো সাধারন মানুষদের কাম্য নয়।

হ্যানিম্যান বলেছেন—- When we have to do with an art whose end is the saving of human life, so any slightest neglect make ourselves a crime.

পর্ব— ১২

শুধু মানসিক লক্ষন দিয়ে চিকিৎসা হয় না, এবারে দেখা যাক– বহু বিশিষ্ট চিকিৎসকরা নানা রকম ফিজিক্যাল সিমপটমসের উপরে প্রেসক্রাইব করে কিভাবে বিভিন্ন কেস আরোগ্য করেছেন।

আজ দেখাবো, ডাঃ এস. আর. পাঠকের কিছু কেস—-

১) Cold sensation like a piece of ice between the scapulae—- পিঠের মাঝখানে যেন এক খন্ড বরফ রয়েছে—– একজন রোগীকে এই সিমপটমটি উনি Ammon Mur দিয়ে সারিয়েছিলেন।

উনি বলছেন, —-Within one week he got rid of the troubledome feeling. Since then I started the practice of Homoeopathy.

২) Asthmatic attacks precipitated only if she took sweets, হাঁপানির কষ্ট মিষ্টি খেলে বাড়ে—- এই লক্ষনে উনি আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম দিয়ে একজন মহিলাকে সুস্থ করেন।

৩) একজন ২২ বছরের মহিলার শ্বাসকষ্ট একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের চিকিৎসায় কমে যায়, কিন্তু শীঘ্রই তার ডানদিকের পা ফুলে যায়। ডাঃ পাঠক, বোগারের সিনপটিক কি মেটিরিয়া মেডিকার, ২৮৯ পাতায় দেখলেন—Compensatory effects—- Prunus Spinosa তিনি বলছেন, —- I gave her “Prunus Spinosa” which put her all right.

৪) আমি একটি বাচ্চার বাম দিকের টর্টিকলিস রোগে (ঘাড় একদিকে শক্ত হয়ে বেঁকে যাওয়া), Belladonna দিয়ে সারিয়েছিলাম। কোন ঔষধে উন্নতি না হতে থাকায় আমি ফ্যারিংটনের ক্লিনিক্যাল মেটিরিয়া মেডিকার Index খুলি, এবং ওখানে দেখি—-“Torticolis, apt to affect the left side —-, I gave the boy Belladonna, and he was cured”.

৫) একজন রোগীর তীব্র পিঠের ব্যথা কোন ঔষধেই কমছিল না, কিন্তু যখনই শুনলাম— রোগী কাঠের শক্ত চেয়ারে, বা দেয়ালে পিঠ জোরে চেপে বসলে আরাম বোধ করে, তখন মেটিরিয়া ঘাঁটতে ঘাঁটতে বোরিকের বইয়ের ২৮০ পাতায় দেখি Euponium এ ঐ সিমপটম লেখা অাছে, তখন তাকে Euponium দিই, এবং সে সুস্থ হয়।

৬) একজন লোক জানায় — সে তার বান্ধবীদের সাথে সহবাসে লিপ্ত হলে potent থাকে, কিন্তু নিজের স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করতে গেলে Impotent হয়ে যায়। খুঁজতে খুঁজতে বোরিকের মেটিরিয়া মেডিকায় Onosmodium ঔষধে দেখি লেখা অাছে — Psychic impotence. এই সিমপটমের উপরে বেস করে Onosmodium prescribe করি, এবং রোগী সমপূর্ণ সুস্থ হয়।

৭) একজন রোগীর hard pavements র উপর দিয়ে হাঁটার সময় মাথা ঘুরতো। বোগারের সিনপটিক কি বইয়ের ৪৪৬ পাতায় পেলাম,—–Walk on hard pavements can’t—- Conium আছে। Conium প্রেসক্রাইব করি এবং রোগী সুস্থ হয়।

পর্ব ——12

বন্ধুরা, বারবারই বলছি, মেন্টাল সিম্পটমস সব সময় দামী। একটা মানুষের মনই তার শরীরকে পরিচালিত করে। হ্যানিম্যানই চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রথম ব্যক্তি যিনি মানসিক লক্ষণের দাম সবথেকে বেশী দিয়েছেন। তিনি জার্মানীতে একবার একটি মানসিক হাসপাতালের দায়িত্ব পেয়ে সকল পাগল রোগীদের খাঁচাবন্দী রুদ্ধ অবস্থা থেকে বাইরে বের করে আনেন এবং খোলামেলা জায়গায় রেখে তাদেরকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

আমরাও প্রতিদিন প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে মানসিক লক্ষণকে অবশ্যই অত্যন্ত বেশী গুরুত্ব দিই, কিন্তু সাথে সাথে অন্যান্য শারীরিক লক্ষণাবলী অর্থাৎ ফিজিক্যাল জেনারেল এবং কোয়ালিফাইড পার্টিকুলার সিমপটমসদেরকে-ও দাম দিয়ে থাকি। এই তিন ধরনের সিমপটমসের সমন্বয়েই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করা হয়।

কিন্তু ইদানীং এক ধরনের অপ-হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা আরম্ভ হয়েছে যেখানে শুধু মানসিক লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে । কিন্তু এভাবে চিকিৎসা করা মানে বহু প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ফিজিক্যাল সিমপটমস বাদ পড়ে যায়, যেগুলি দিয়ে প্রকৃতপক্ষে আরও সঠিক বা সিমিলিমাম ঔষধ প্রেসক্রাইব করা সম্ভব হতো।

এই কাজ করার জন্য তারা নিজেরা কিছু আলাদা রেপার্টরি বানাচ্ছে—যেখানে কেন্টের রুব্রিকসগুলিরও আলাদা করে অর্থ করছেন। রুবরিক গুলির আসল মানে বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া কিছু মানে বানিয়ে জল ঘোলা করছেন, আর সেই ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন। মানে নব্যপন্থায় রোগ সারানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ঘোলা জলে 2/4 টি চুনো বা পুঁটি মাছ ধরা পড়ে, বড় রুই কাতলা থাকে না, কারন তারা গভীর ও স্বচ্ছ জলে তলিয়ে থাকে। এখানেও ব্যাপারটা ঠিক তাই। ঘোলা জলে মাছ ধরার মতন দুই চারটে অপ্রয়োজনীয় কম দামী মানসিক লক্ষন নিয়ে ওনারা নিজেদের মন গড়া অভিব্যক্তিতে তা বিশ্লেষণ করে কিছু সর্ট এ্যাকটিং, নন মায়াজমেটিক, নট ওয়েলপ্রুভড ঔষধ প্রেসক্রিপশন করছেন। ফলে রোগ ত সারছে না, কারন সারে না, সারতে পারে না।

ফলে কি হচ্ছে — এই পন্থার রাঘব বোয়ালরা চতুর রাজনীতিবিদদের মতন কিছু চামচা বা চাটুকার তৈরী করে চলেছেন। কিন্তু তা করলেও শেষ পর্যন্ত তারা হালে পানি পাচছেন না। চাটুকারদের দিয়ে ফলস ল্যাবরেটরী বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামে প্যাড বানিয়েও ধরা পড়ে যাচ্ছেন। দারুন রি-ডিসকভারি চিকিৎসা পদ্ধতি বলে চালাতে গিয়ে ফলস বা অসত্য ক্লেম করেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। কারন ছোটখাটো চামচারা শিখিয়ে দেওয়া এইসব কাজে ভুল করে ফেলছে।

আর ভুল ত করবেই। কারন— বুদ্ধি তুমি যতই দাও, আসলে ত চামচা,  ধুতি তুমি ভাবতে পারো, কিন্তু ধুতি ত নয়, গামছা ।

তাই জুনিয়র বন্ধুদের বারবার বলছি, এই সব বাজে বিষয়ের মধ্যে মাথা ঢুকিও না। একটা মানুষের প্রতিটি ছোটখাটো শব্দ বা লাইনকে ইনটারপ্রিটিটেট করার নামে বেকার মাথা ঘামিয়ে ওনাদের মতন কেন্টের রুবরিকস গুলির ভিন্ন বা বিকৃত অর্থ করে মহামতি কেন্ট সাহেবকে অপমানও করো না ।

কারন, এইভাবে চিকিৎসা হয় না, হতে পারে না। সব রোগীদের সব ক্ষেত্রে মানসিক লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা করা যায় না।

★ বাচ্চার নাক দিয়ে আঠালো সর্দি লম্বা হয়ে ঝুলছে দেখতে পেলে, আর তার সাথে নাকের উপরের দিকে ব্যথা হচ্ছে বললে— ক্যালি বাইক্রম দেবে।

★ এক ঘন্টা বৃষ্টিতে ভিজে সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা আর তার সাথে জ্বর হলে — রাস টক্স দেবে।

★ শুকনো কাশি, সাদা কোটেড জিভ, মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে, ঘন ঘন পিপাসা পাচ্ছে — আর জল পানও করছে গ্লাস গ্লাস, তার সাথে তিন দিন পায়খানা হচ্ছে না, চুপচাপ শুয়ে থাকতে চাইছে— ব্রাইওনিয়া দেবে।

★ নখ সমেত আঙ্গুলের মাথায় আঘাত পেয়েছে —- হাইপেরিকাম দেবে।

★ কারুর পায়ে খেজুর কাঁটা ফুটে ব্যথা হয়েছে–লিডাম দেবে।

★ শীতকালের ঠান্ডা লেগে গলায় প্রচন্ড ব্যথা হয়েছে, যেন গলার মধ্যে কাঁটা ফুটে অাছে—- হিপার দেবে।

★ রাতের বেলা শিশুর নাক বন্ধ হয়ে শ্বাস নিতে পারছে না, দমবন্ধ হয়ে ঘুম থেকে হঠাৎ হঠাৎ উঠে পড়ছে, মাঝরাতে দমকা মারা কাশি হচ্ছে —– স্যাম্বুকাস নায়গ্রা দেবে।

★ গলার মধ্যে সুড়সুড় করে অনবরত কাশি হচ্ছে, ঐ কাশি রাতের দিকে, এবং শুলেই বাড়ছে, ঠান্ডা বাতাস লাগলেও বাড়ছে—- রিউমেক্স ক্রিসপাস দেবে।

★ মলত্যাগের পর মলদ্বারে ভীষণ কাঁটা ফোটার মতন যন্ত্রনা– হচ্ছে, পিপাসা নেই, শীত বেশী, প্রস্রাবে খুব দূর্গন্ধ , ঠোঁটের কোন্, মলদ্বারের সাইডে ফেটে যায় , দুধ খেলেই পাতলা পায়খানা হয়— নাইট্রিক এ্যাসিড দেবে।

★ প্রত্যেক শীতকালে হাত পায়ের অাঙুলের ডগাগুলি ফেটে যায়, ঘামে খুব দূর্গন্ধ হয়, বাঁধাকপি সহ্য হয় না, গাড়ী চড়লে বমির ভাব হয়—- পেট্রলিয়াম দেবে।

★ কানের পুঁজের সাথে বগলে দূর্গন্ধ ঘাম — টেলুরিয়াম দেবে।

★ কানের পুঁজের সাথে পায়ের তলার দূর্গন্ধ ঘাম— সাইলিসিয়া দেবে, ইত্যাদি, ইত্যাদি ।

কিন্তু এইসব নানারকম দামী দামী শারীরিক লক্ষন না খুঁজে, না দেখে, কেবলমাত্র সব ব্যাপারেই কি বলছে, কি করছে ওনারা?

ওরা জানতে চায়— রোগী কি ভাবে কথা বলছে, কি ভাবে তাকাচ্ছে, কি ভাবে হাসছে কেন হাসছে , কেন কাঁদছে কেন? কেন? কেন?

—–বসে বসে এক ঘন্টা ধরে এইসব জিজ্ঞাসা করতে হবে?

আমি বলি, ওহে বনধুরা—– হোমিওপ্যাথির মূলনীতি না মেনে তুমি বা তোমরা এমন করছো কেন? —- সেটাও ত তোমাদের একটা altered mental symptom আমরা দেখছি। তোমরা নাকি শুধু alteted mental symptom খোঁজো। তাহলে তোমরা বলো— তোমাদের এই altered mental symptoms র জন্য তোমাদের জন্য কি রুবরিক নিতে হবে আর তোমাদেরকে কি ঔষধ খাওয়াতে হবে?

সেই কবিতাটির লাইন মনে পড়ছে—-

তেলের শিশি ভাঙলো বলে খুকুর পরে রাগ করো,

আর তোমরা যে সব ধেড়ে খোকা ভারত ভেঙে ভাগ করো, তার বেলা?

তাহলে বলতে চাইছি —ওহে, মেন্টাল মেথডের বন্ধুরা — তোমাদের হোমিওপ্যাথির এই মূলস্রোত থেকে altered হয়ে যাওয়া সিমপটমসের জন্য তোমরা বাপু কি ঔষধ খাবে?

মানসিক লক্ষণ, মানসিক লক্ষন, আর মানসিক লক্ষন—- কান ঝালামালা হয়ে গেলো।

ফেসবুকে ওনাদের চ্যালাদের পোস্টের পর পোস্ট। যেটা নিয়ে চিকিৎসা করবে তার বানান-ও বিচিত্র রকমের, কোথাও— মানুষিক লিখছে, কোথাও— মানশিক লিখছে , কোথাও— মানুসিক লিখছে ।

বঙ্কিম, বিদ্যাসাগর — তোমরা দয়া করে তাকাবে না, লজ্জা পেয়ে যাবে।

* মা বাচ্চার প্যান্ট খোলার সময় প্যান্টের চেন পেনিসের চামড়ায় আটকে পেনিসের চামড়া কিছুটা ছিড়ে গেছে। ডাঃ বাবু— একটা ঔষধ দেবেন? —– দাঁড়াও বাপু, আগে বলো ত তোমার ছেলে হাসছে না কাঁদছে? চেনটা তুমি কোন হাত দিয়ে কোন দিকে তাকিয়ে টেনেছিলে?

* ডাঃ বাবু , আমার খুব সাদা স্রাব হচ্ছে, —– আচছা তাতে তোমার কি মনে হচছে? তোমার কি মরতে ইচছা করছে ? এই সাদা স্রাব হওয়ার জন্য তোমার কি রাগ হচ্ছে না দুঃখ হচ্ছে ?

* ডাঃ বাবু, কৃমিতে আমার রোজ রাতে মলদ্বারে সুড়সুড় করে চুলকায়।—- চুলকালে কি মনে হয়, চোখে জল আসে, মানে সেই সময় তোমার মুখটা আয়নাতে দেখতে কেমন লাগে? হাসো না কাঁদো?

* ডাঃ বাবু, আমাকে বাঁচান—আজ ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ের হাড়ে খুব লেগেছে। —– লাগার সময় কি মনে হয়েছিল? তুমি কি কেঁদেছিলে? কতটা কেঁদেছিলে? এখনও কি কান্না পাচ্ছে? না কি হাসি পাচ্ছে ?

* ডাঃ বাবু, দাড়ি কাটতে গিয়ে আজ আমার মুখের আঁচিলাটা কেটে একটু রক্ত বেরিয়েছে, কিছু ঔষধ দেবেন? —– আরে বাপু ঔষধ দেওয়া কি এতই সহজ কাম? বলো অাঁচিলটা কাটার সময় কি ভাবছিলে? কাটার পরে তোমার কি মনে খুব কষ্ট হয়েছিল? কি রকম কষ্ট হয়েছিল?

* ডাঃ বাবু, গতকাল বিয়ে বাড়িতে প্রচুর তৈলাক্ত খাবার খেয়ে আজ অামার সারাদিন পেটে ব্যথা হচ্ছে, কি করবো? —– আচ্ছা, ব্যথা হওয়ার জন্য কি তোমার আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করছে? যখন অনেকটা খেয়েছিলে তখন কি সবার সামনে বলে তোমার লজ্জা লেগেছিলো?

* ডাঃ বাবু , গত সাত দিন হোটেলে খেয়ে অামার আমাশা হয়েছে। কিছু ঔষধ দিন। —- তুমি কি হোটেল মালিকের উপরে কোন রাগ বা ঘৃণা বর্ষন করেছো? তুমি কি মনে করছো এই পেটের রোগে মারা গেলে তোমার ফ্যামিলির কি কোন ক্ষতি হবে?

এ বড় অদ্ভুত ব্যাপার। এরপরে ত অনেকে এই সব দেশে গান বাঁধবে—- এক যে আছে মজার দেশ—–।

বিশ্ববন্দিত চলচিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় একটি সিনেমা করেছিলেন— হীরক রাজার দেশে । রাজার সুঁচালো দাড়িওয়ালা এক বৈজ্ঞানিক ছিলো। তাকে রাজা ব্যবহার করতেন ভালো শিক্ষিত লোকদের মগজ ধোলাই করতে, যেন রাজার বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা না বলে, সবাইকে বলতে হবে—- হীরকের রাজা ভগবান। বৈজ্ঞানিক তাই একটা মেশিন বানিয়েছিলো, যার মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে কয়েক মিনিট পরে বের করালে সব বিদ্রোহীরাও মুখ কাঁচুমাঁচু করে —- হীরকের রাজা ভগবান, গান গাইতে গাইতে বাড়ী চলে যেতেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি। পরে সবাই রাজার মূর্তিকে দড়ি বেঁধে দুইদিক থেকে টানতে টানতে ভেঙে ফেলে এই কথা বলে—-

দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হোক খান খান।

তা সময়ে অবশ্য সব কিছুই খান খান হয়।

যাই হোক– বেশ কিছু দিন ধরে গজিয়ে ওঠা এই মানসিক লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা করার মেথডের দিকে বেশী মনোনিবেশ না করে সকল জুনিয়র হোমিও বন্ধুদেরকে বলি —

হোমিওপ্যাথিক সমস্ত লিটারেচারে যা রাত দিন দেখে আসছি, পড়ে আসছি, শুনে আসছি, সমস্ত রিনাউন্ড বা বিদগ্ধ হোমিওপ্যাথিক পণ্ডিতেরা—–

শুধু মানসিক লক্ষণ নয়— সব রকম শারীরিক লক্ষনের উপরেও জোর দিয়ে, হ্যানিম্যানের অর্গাননের 153 নং এ্যাপহোরিজম ফলো করে পিকিউলিয়ার, আনকমন, এবং রেয়ার সিমপটমসকে দাম দিয়ে টোটালিটি তৈরি করে হাজার হাজার রোগী আরোগ্য করেছেন, এবং আমরাও অনেকে ঐ একই ফর্মুলাতে শত শত রোগী আরোগ্য করে চলেছি।

আমরা তাই সেই দিকেই থাকতে চাই, সেই কথাই ভাবতে চাই, সেই পথেই চলতে চাই, সেই পথই অনুসরণ করতে চাই, সেই পথই অনুকরন করতে চাই।

আমি তাই মনে প্রানে চাইছি— নতুন ছেলে মেয়েরা পথভ্রষ্ট না হয়ে, দিকভ্রষ্ট না হয়ে, এইসব অবাঞ্ছিত পথে না গিয়ে হ্যানিম্যানিয়ান পদ্ধতিতে কেস টেকিং করে সমস্ত সিমপটমস নিয়ে চিকিৎসা করার চেষ্টা করো, সাকসেস তোমরা হবেই।

আর তার জন্যই আমার এত খাটুনি, এত প্রচেষ্টা। এর পরেও যদি কারুর ঐ সব ব্যাঙের ছাতার মতন চিন্তাধারার চিকিৎসা পদ্ধতি ভাল লাগে, সে করবে, যাবে।

আমি আমার সমস্ত ফেসবুক বন্ধুদেরকে —

যারা হ্যানিম্যানিয়ান হোমিওপ্যাথি, মানে টোটালিটি অফ সিমটমস মেনে, অর্থাৎ শারীরিক ও মানসিক সব সিমপটমস একত্রে নিয়ে চিকিৎসা করতে চাও, তাদেরকে বলি——

কে কি করছে, কে কি বলছে , সে দিকে তাকানোর দরকার নেই। বরং, আমি নতুন একটা কথা বলতে চাইছি, শুনতে খারাপ লাগলেও বলি— এই উপমহাদেশে হোমিওপ্যাথিতে পরিষ্কার ভাবে দুইটি গ্রুপ যখন হয়ে যাচ্ছে — মানে, আমরা– ওরা —-

আমরা মানে , হ্যানিম্যানয়ান বা ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির বন্ধুরা — তাহলে—-

বন্ধুর তালিকা থেকে মেন্টাল মেথডপন্থীদেরকে আনফ্রন্ড করলে ওদের বিভিন্ন আজগুবি, অর্থহীন, অবৈজ্ঞানিক পোস্ট থেকে চোখ সরিয়ে রেখে মন ও মেজাজ ভাল রাখতে পারবো, মন কোন দিকে প্ররোচিত হবে না ।

আমি যেহেতু ফেসবুকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত আলোচনা, এবং জুনিয়রদের দেখানো এবং শেখানো ছাড়া অন্য কিছু খুব বেশী পোস্ট করি না—–

তাই, ঠিক করলাম, আমার শেখানো বা বুঝানো –এই হ্যানিম্যানিয়ান পদ্ধতি, অর্থাৎ, যেখানে শারীরিক ও মানসিক সবরকম লক্ষন নিয়ে কেস টেকিং করি, তা—– মেন্টাল মেথড ফলো করে এমন বন্ধুদের যখন কাজে লাগবে না, যখন এর থেকে তাদের কিছুই শেখার থাকবে না —-

তাই তাদেরকে আনফ্রেন্ড করে, ফেসবুকে 5000 ফ্রেন্ড অতিক্রম হওয়ার জন্য যে সব নতুন ফ্রেন্ডদের নিতে পারছি না —-তাদেরকে এ্যাড করতে পারবো । হ্যানিম্যানিয়ান পদ্ধতিতে চলা সমস্ত বন্ধুদেরও তাই আর কোন তর্ক বিতর্ক, না করার চাইতে কেবলমাত্র মানসিক লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা করা বন্ধুদের এড়িয়ে চলার জন্য Unfriend করা মনে হয়—– is the best policy to cool one’s brain. আমি কিন্তু সেই কাজ আরম্ভ করে দিয়েছি।

পর্ব——-১৩

বন্ধুরা, আমার এই লেখাটি একজন ডাঃ বন্ধু, Mahmud Hussain র একটি পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে, যে পোস্টটির পেস্ট নীচে দিয়েছি। Dr. Mahumed Hossain র লেখাটি—

স্যার, জ্ঞানগর্ব আলোচনার জন্য ধন্যবাদ। দিন-রাত রোগার্ত মানুষের সেবা করেন,আমাদের মত মূর্খ হোমিওপ্যাথিদের যথার্থ হোমিওপ্যাথ বানানোর আপ্রান চেষ্টা করছেন, হোমিওপ্যাথির মত আদর্শ একটি চিকিৎসা পদ্ধতিকে ধরনীর বুকে টিকিয়ে রাখতে প্রানপন চেষ্টা করছেন, এ জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে খাটো করতে চাই না।

বিষয় হল, মানসিক লক্ষনের গুরুত্বের কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু ব্যবহার তেমন একটা করেন না,করতে পারেন না, খুঁজে পান না।ফলে রেপার্টরীর মাইন্ড অধ্যায়টি এত দিন ছিল অব্যবহৃত, অবহেলিত।অপর দিকে একক,বিরল,দৃষ্টি আকর্ষণীয় লক্ষনের কথা বলেন,তাও সব রোগীতে খুঁজে পান না।ফলে একক,বিরল,দৃষ্টি আকর্ষণীয় ও মানসিক লক্ষন ব্যতিত যে লক্ষন সমষ্টি নিয়ে ঔষধ নির্বাচন করা হয়, তা হয়ে পরে জনহীন প্রান্তর মরুভূমির মত।

পক্ষান্তরে মাইন্ড মেথডে রোগীর তরতাজা কথা,প্রেজেন্ট মেন্টাল স্টেট নিয়ে ঔষধ নির্বাচন করা হয়।ফলাফল চমৎকার। 
এই তো কয়েক দিন আগে এক রোগী তার পায়ের গোড়ালীতে ব্যথা নিয়ে আসছেন আমার কাছে। বলছেন, “পায়ের গোড়ালীতে অনেক ব্যথা,হাটতে কষ্ট হচ্ছে।এলোপ্যাথিক ঔষধ খাচ্ছি।প্রাইভেট জব করি। কাজে না গেলে চাকরি থাকবে না।”আমি বললাম, এলো ঔষধ খেয়ে ব্যথা তো অনেক কমে গেছে,তাহলে হোমিও খেতে এলেন কেন? রোগীঃহোমিও ঔষধ ভাল, কোন সাইড ইফেক্ট নেই।
আমি রুব্রিক নিলামঃ

1) Mind:Delusions poisoned-medicine being poisoned by.

2)Mind:Anxiety sitting bent.

3)Mind:Anxiety business about.

Rhus-t-30/2dose তিন দিন পর রোগী জানাল তার ব্যথা অনেকটাই কম।ফাইটাম চলছে।

ডাঃ, হুসেইন —-আপনি মাইন্ড মেথডে চিকিৎসা করেন, পছন্দও করেন। আপনার লেখনী ও বকতব্য কিছুটা সুন্দর ও পরিষ্কার । এই রকম ভদ্র ও পরিষ্কার কথাবার্তা ও আলোচনাই ত হওয়া উচিত।

আপনার কেসটি পর্যালোচনা করে বলতে চাই—-

১) এই রকম গোড়ালীর ব্যথায় কেস টেকিং করে ঔষধ না দিলেও—গড়ে সবাই রাস টকস, রুটা, এসব দেবেই। আর প্রাথমিক ভাবে কিছুটা ব্যথাও কমেই।

২) ” কাজে না গেলে চাকরী থাকবে না”—-কথাটা অত্যন্ত ক্যাজুয়ালি বলায় —- এটাকে যদি– Anxiety about business বলতে চান,—তাহলে বলতে চাই —- এই ধরনের কমন anxiety পৃথিবীতে কার নেই বলুন ত?

৩) Anxiety, sitting bent— কি ভাবে নিলেন? —বাংলা মানে দাঁড়ায়, —ব্যথার জন্য উৎকন্ঠা ঝুঁকে বসলে বাড়ে। —কিনতু এখানে ত রোগী তেমন কোন কথা বলে নি।

৪) আপনাদের অনেক কেসে দেখছি– Delirium আর Delusion র উপরে বেশী সিমপটমস নিচছেন। এখানে আপনারা গোলমালটা ও বেশী করছেন।

Delirium =

★ রোগী টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ইত্যাদি রোগে উচচ জ্বরের জন্য, বা,

★ হিস্টিরিক ফিটের মধ্যে , বা,

★অতিরিক্ত মদ্যপানের পরে, বা, —–

★ যে কোন semi unconscious অবস্থায়,

★ বা, যে কোন রকম ঘোরের মধ্যে থাকা অবস্থায় —- ভুল বকছে, বা প্রলাপ বকছে।

রোগী নর্মাল অবস্থায় বা নর্মাল জ্ঞানে নেই।

আর Delusion হচছে — রোগী শারীরিক বা মানসিক দিক থেকে সুস্থ বা অসুস্থ যাই থাকুক না কেন , 
বর্তমানে সে কোন ঘোরের মধ্যে নেই, কোন Unconscious state ও নেই।

কিন্তু মনের মধ্যে তার একটা ভ্রান্ত ধারনা আছে। যা বাস্তবে সত্য নয়, মিথ্যা। তবুও তার ধারনা– সেটাই সত্য। যেমন—- দড়িকে সাপ ভাবা,, কোন ছায়াকে ভূত ভাবা, ইত্যাদি ।

আপনার এই রোগীর ক্ষেত্রে— রোগী বলছে— ” হোমিও ঔষধ ভালো, কোন সাইড এফেক্ট নেই “– এই কথাটা সঠিক, মিথ্যা ধারনা নয়।

তাই, এই সত্য কথা, বা সত্য ধারনাকে কখনই Delusion বলা যাবে না, এটি কোন false believe নয়—–তাই Delusion rubric নেওয়া যায় না, বা যাবে না। বলুন, কি বলবেন?