মেটিরিয়া মেডিকা, ঔষধের শক্তি নির্বাচন এবং মায়াজম সম্বন্ধে কয়েকটি উপদেশ

-ডা.রবিন বর্মণ
★ যখন যে বইয়ের নাম শুনবে — কেনার জন্য ব্যস্ত হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। বেশীরভাগ বই বাজে, মিসগাইড করবে ,
★ মেটিরিয়া মেডিকার একটি ঔষধ কোন বইয়ে 15 পৃষ্ঠা, 20 পৃষ্ঠা করে, অর্থাৎ প্রচুর লেখা আছে। তা থেকে ঔষধের আসল চরিত্রটি হৃদয়াঙ্গম করা যায় না । একটি ঔষধকে 10, 15 লাইনের মধ্যে হৃদয়াঙ্গম করা যায় সেই ভাবেই আমি তোমাদের মাঝে মাঝে একটি দুটি করে বলতে থাকবো।
তোমার মা-বাবা ভাই-বোন কে চিনতে হলে, অর্থাৎ ভিঁড়ের মধ্যে থেকে আলাদা করতে হলে যদি ডেসক্রিপশন দিতে বলা হয় তোমাকে হাজার লাইন বলতে হয়, না কি বোঝানোর মতন বা চেনানোর মতন নাক চোখ মুখ চুল কানের কিছু বিশেষত্ব বললেই হয় ?
তবে হ্যাঁ , আসল চারিত্রিক সিমপটমস জানার পরে ফারদার রেফারেন্সের জন্য অন্য আনকমন সিমপটমস দেখতে রেপার্টরী বা বড় মেটিরিয়া দেখতে পারো। যেমন— সব থেকে ভাল বই বলা যেতে পারে — হেরিং গাইডিং সিমপটমস — ১০ ভলুমস।
★ ঔষধের শক্তি নির্বাচন এবং মায়াজম নিয়ে বড্ড বেশি মাথা ঘামানোর দরকার নেই ।
মায়াজম সম্বন্ধে হ্যানিম্যান বলেছেন মাত্র কয়েক পাতা, কিন্তু তাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে ঢোল করে বড় বড় বই বানিয়েছেন অন্যেরা।
আমি আগে অনেকবারই বলেছি,
তোমার কেসটা কোন মায়াজমেটিক গ্রুপের দিকে যাচছে তা দেখে বা বুঝে সেই মায়াজমেটিক গ্রুপের ঔষধ গুলির মধ্যে থেকে একটি ঔষধ সিলেকশন করলে ভালো হয়,
তা না হলে রোগ কমবে না যে তা নয়, হয়ত কমবে, কিন্তু পার্মানেন্ট বা স্থায়ী আরোগ্য আসবে না।
আর ঔষধের শক্তি নির্বাচন সম্বন্ধে বলতে চাই —-
শততমিক বা সহস্রতমিক যে কোন স্কেলের যে কোন শক্তি কিছু না কিছু কাজ করবেই। তাই শক্তি নিয়ে বেশী মাথা না ঘামালেও চলবে ।
একটা কথা মনে রাখতে হবে হ্যানিম্যান শততমিকে ৩০ শক্তিতে কাজ হবে বলেছেন,
পরে বলছেন সহস্রতমিকের একটি পোস্ত দানার মতন বড়িতেই কাজ হবে,
কেন্ট বা ন্যাশ বলেছেন 200, 1M, 10M ইত্যাদিতে ভাল কাজ
হবে ।
আমি বলছি—- ঔষধ নির্বাচন সঠিক হলে ঔষধের যে কোন শক্তিই তুমি দাও —-
প্রথমে কিছু না কিছু কাজ হবেই,
তবে হয়তো পরবর্তীতে আর সেই শক্তিতে কাজ না হতে পারে, তখন অন্য শক্তির প্রয়োজন হতে পারে।
শুধু খেয়াল রাখবে —-ক্যান্সার, বা অন্যান্য এ্যাডভ্যানস প্যাথলজিক্যাল ডিজিজে শততমিকের হাই পোটেনসি কখনই দেওয়া যাবে না। রোগীর জীবনী শক্তি সে ধাক্কা সামলাতে পারবে না, ফলে সাংঘাতিক রোগজ বৃদ্ধি হয়ে
রোগী কষ্ট পাবে। আমাদের এক চিকিৎসক বন্ধু ইদানিং যিনি স্বঘোষিত ক্যান্সার স্পেশালিস্ট বলে দাবি করছেন তার বহু প্রেসক্রিপশনে দেখি ক্যান্সারের অ্যাডভান্স স্টেজে 10 M, 50 M, ইত্যাদি শক্তির ডোজ রানডম প্রয়োগ করেন, তার মানে — ঔষধের শক্তি নির্বাচন সন্মন্ধে কোনো সম্যক ধারনাই তার নেই।
আর একটা কথা বলি—–
হ্যানিম্যান কি কোন যন্ত্র বা কম্পিউটার দিয়ে দেখেছিলেন কোন্ শক্তিতে কোন্ ঔষধের কতটা কার্যকরী ক্ষমতা আছে? তার পরেও কি কেউ দেখেছেন কোন যন্ত্রপাতি দিয়ে, বা কম্পিউটার দিয়ে 0/1, বা 0/2, বা 0/10 এ , বা 10M, 50M, CM এ কতটা ঔষধের পাওয়ার আছে? কেউ দেখে নি।
তাই আমরা কেউ সঠিক কিছু জানিও না। শুধু কেতাবী লেকচার আর তর্ক চলছে।
কথা যে যা বলেছে,
তা সে হ্যানিমানই হোক বা কেন্টই হোক, বা ভিতলকাসই হোক — সব নিজেদের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা থেকে।
তোমার আমারও আলাদা ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা হতে পারে, সুতরাং ঔষধের শক্তির ব্যাপারটা হ্যানিম্যান যা বলেছেন সেটাই যে ফাইনাল কথা, বা কেন্ট যা বলেছেন সেটাই মানতে হবে তেমন কোন ব্যাপার মাথায় ঢোকানোর দরকার নেই।
আজকের যুগের সাথে, পরিবেশের সাথে, ভৌগলিক অবস্থানের সাথে, খাদ্যাভাসের সাথে , মর্ডানাইজেশন লাইফের সাথে, কৃত্রিম জীবনযাত্রার সাথে, সভ্যতার বা আধুনিকতার উন্মেষের সাথে ,
—— ঔষধের শক্তি ও তার মাত্রা হ্যানিম্যান, কেন্টের সাথে মিলাতে হবে , এক সূত্রে গাঁথতে হবে, এমন কোন প্রেজুডিসড হওয়ার দরকার নেই।
তোমার নিজস্ব অভিজ্ঞতাও মূল্যহীন নয়।
0/1 দিয়ে আরম্ভ করার নিয়ম,
দেখলাম— রেয়ার ঔষধ, বহুদিন ব্যবহার হয় নি, 0/1 থেকে 0/12 পর্যন্ত সব গলে গেছে, 0/13 ভাল আছে,
বাধ্য হয়ে তাই দিলাম — রোগী সেরে গেছে।
চর্মরোগ, মফস্বলের একটি চেম্বারে 50 মিলিসিমালের বাক্স আসেনি, সালফার দিতে চাই, কিন্তু এখানকার চেম্বারে পুরানো সালফার 0/18 আছে, বাধ্য হয়ে তাই দিলাম, রোগী ভাল হয়েছে,
1M দেওয়ার পরে রোগী ভাল আছে, 10 M দিতে চাই , কিন্তু কাছে নেই, বাধ্য হয়ে আবার 1M দিলাম, —- পরের মাসেও 10M দিতে পারলাম না, কারন কেনা হয় নি, মনে ছিল না, কিন্তু রোগটা পুরো সারে নি, বাধ্য হয়ে আবার 1M দিলাম ।
এই করতে করতেই রোগী সেরে গেল।
0/16 র পরে আর নেই, বুদ্ধি করে তিনটি ১০০ মিলি শিশি দিলাম —১ ২ ৩ লিখে। ১ নং শিশিতে 0/16 দিয়ে বললাম– ১ নং শেষ হওয়ার সময় শেষের ১ চামচ ২ নং শিশিতে ঢেলে একই পদ্ধতিতে খাবেন, আবার ২ নং শেষ হওয়ার সময় শেষের ১ চামচ ৩ নং শিশিতে নেবেন এবং একই ভাবেই খাবেন। রোগী সেরে গেছে।
এটা আমার ক্লিনিকাল নলেজ অব এ্যাপ্লিকেশন হল কি না?
—-নিদ্দিষ্ট ঔষধের পরবর্তী শক্তি না থাকলে অন্যভাবে হ্যানিম্যানিয়ান পদ্ধতি মেনে এগিয়ে যাওয়া ? পরীক্ষা করে সাকসেসফুল হলাম।
তাই তত্ত্ব থেকে তথ্য অনেক বড়।
অন্ধভাবে অনুসরণ, অনুকরণ, অনুলিখন বড় কথা নয়,। যথার্থ গবেষনা, প্রয়োগ, প্রমাণই বড় কথা। হ্যানিম্যান নিজেও প্রমাণ ছাড়া কিছু বিশ্বাস করতেন না।
বিজ্ঞানের অন্যতম কথা হল–
বিজ্ঞান স্থিতিশীল নয়, বিজ্ঞান স্থবির নয়, বিজ্ঞান ধাপে ধাপে পূর্ণতার দিকে এগিয়ে চলে।
বিজ্ঞানে আছে সদা সর্বদা সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন।
এটা আমাদের ভুললে চলবে না।

#সংকলনে: ডা.এইচ.এম.আলীমুল হক
ডিএইচএমএস (বিএইচবি), কিউএইচসিবি (বিইউবি)
চেম্বার: আলহক্ব হোমিও ফার্মেসী, মৌচাক,
মিজমিজি, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শের জন্য: ১০০টাকা বিকাশ করুন
(বিকাশ পার্সনাল: ০১৯১৬-৫১১ ৩৩৭) তারপর কল করুন
এই নাম্বারে: 01616-511337, 01816-511337