দ্বিতীয় ব্যবস্থাপত্রঃ চিকিৎসকের করনিয়

১. রোগী যখন বলে “আমি ভাল অনুভব করছি।” তখন আপনি অপেক্ষা করুন।
এমন কি নুতন কোন ওষুধের পরিস্কার চিত্র পাওয়া গেলেও তা দিবেন না।
হোমিওপ্যাথ হিসেবে আমরা জানি যে যখন রোগী ভাল বোধ করতে থাকেন তখন বুঝতে হবে রোগীর ভাইটালিটির উন্নতি ঘটছে।
২. কখনও ওষুধ প্রেসক্রাইব করবেন না যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি পরিস্কার কোন ওষুধের চিত্র না পাবেন। অথবা যখন দেখছেন রোগীর চিত্র দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।
যদি দেখেন আপনার প্রথম ব্যবস্থাকৃত ওষুধ কোন কাজ করে নি আবার আপনি নতুন কোন ওষুধের পরিস্কার কোন চিত্রও পাচ্ছেন না তখন আপনার উচিত হবে কোন ওষুধ না দিয়ে পর্যক্ষণ করা। প্লাসিবো দিবেন যতক্ষণ না কোন ওষুধের ক্লিয়ার চিত্র না পাচ্ছেন।
আপনি যদি অপেক্ষা করেন তবে শরীরে নতুন লক্ষণাবলী প্রকাশ পাবে যা আপনাকে কোন সঠিক ওষুধের দিকে নিয়ে যাবে।
৩. যদি রোগীর কোন পুরনো লক্ষণ প্রকাশ পায়, এমন কি তাতে যদি রোগী কিছুটা কষ্টও পায় তবুও তার জন্য ওষুধ দিতে তাড়াহুড়ো করবেন না।
যদি রোগী সার্বিকভাবে ভাল বোধ করেন তবে নিশ্চিত থাকেন আপনার ওষুধ কাজ করছে এবং আপনার উচিত হবে অপেক্ষা করা।
যদি কোন স্রাব দেখা দেয় বা চর্মরোগ প্রকাশ পায় এবং সেটা যদি আপনার ওষুধ প্রয়োগের ফলে প্রকাশ পায় এবং রোগী যদি সার্বিকভাবে ভাল বোধ করে তবে নতুন কোন ওষুধ প্রয়োগ করবেন না।
৪. প্রথম ব্যবস্থাকৃত ওষুধ প্রয়োগের পর যদি দেখেন রোগীর দেহ থেকে অধিকাংশ লক্ষণই দূরিভূত হয়েছে, কিন্তু এখন কিছু লক্ষণ রয়ে গেছে তবে অপেক্ষা করুন, প্লাসিবো দেন। কিন্তু রোগীর যদি কোন গভীরে নিপতিত কোন প্যাথলজি থাকে তবে ওষুধ পরিবর্তিত মাত্রায় রিপিট করুন।
৫. কিছু কিছু রোগী আছে খুবই উদ্বিগ্ন। তারা তাদের লক্ষণ বাড়িয়ে বলে। ডাক্তার হিসেবে আপনাকেই যাচাই করতে হবে কোন লক্ষণের গুরুত্ব দিবেন কোন লক্ষনের গুরুত্ব কম দিবেন। রোগীর কথায় প্রভাবিত হয়ে ওষুধ প্রেসক্রাইব করবেন না।
উদ্বিগ্ন রোগীরা আপনাকে “আরো শক্তিশালী” ওষুধ চেয়ে যে প্রভাবিত করতে না পারে।
৬. যদি রোগীর কষ্টের তীব্রতা কমে যায় বা রোগের আক্রমণ আরো দেরিতে দেরিতে দেখা দেয় তবে ওষুধ পরিবর্তন করবেন না।
৭. যদি কোন ওষুধ ভাল কাজ করে তবে ওষুধ পরিবর্তন করবেন না। রোগী যদি তার ভাল হওয়া রোগের পুনরাক্রমণ নিয়ে আসে তবে পূর্বের ওষুধ সেই শক্তিমাত্রায় প্রয়োগ করবেন। যদি তাতে উপকার না হয় তবে উচ্চ শক্তিতে প্রয়োগ করবেন। (দরকার হলে নিম্নের শক্তিতেও প্রয়োগ করা যাবে।)।
৮. রোগীতে যদি ওষুধজনিত বৃদ্ধি ঘটে তবে তা অন্য হোমিওপ্যাথিক ওষুধ দিয়ে এন্টিডোট না করতে যাওয়াই ভাল। কারণ এতে বিশৃঙ্খলা আরো বাড়ে। অপেক্ষা করলে এই বৃদ্ধি এমনিতেই কমে যায়। সমস্যা বেশি তীব্র হলে রোগীকে কড়া ব্লাক কফি পান করান।
৯. আপনি যদি স্বল্প সময়ে ওষুধ বারবার পুনঃপ্রয়োগে করেন তবে তা পূর্ববর্তী ক্রিয়ারত মাত্রার ব্যঘাত করে এবং রোগীর আরোগ্য ক্রিয়াকে নষ্ট করে। বারে বারে প্রয়োগ করার সময় মেডিসিনাল এগ্রাভেশন হয় কি না সে ব্যাপারে তীক্ষ্ন নজর রাখুন।
১০. রোগীর সাসসেপ্টিবিলিটি যদি ডিমান্ড করে তবেই ওষুধ দিবেন, শুধু রোগী চাইলেই দিয়ে দিবেন না।
১১. রোগী যদি রোগের পুনরাক্রমণ নিয়ে আসে তবে আগে দেখুন রোগাবস্থা ১০০ ভাগ আগের মতো দেখা দিয়েছে কী না – যদি আগের মতো তীব্রতা নিয়ে দেখা দেয় তবে ওষুধ পুনঃ প্রয়োগ করবেন। কিন্তু তীব্রতা যদি কম হয় বা রোগটি যদি দেহের ফাংশন জনিত কারনে হয় তবে প্রথমে প্লাসিবো দেন, দেখা যায় তাতেই রোগ চলে যাবে। যদি না যায় তবে ওষুধ পুনঃপ্রয়োগ করুন। আর রোগ ফাংশনাল না হয়ে প্যাথলজিক্যাল হলে ওষুধ পুনঃপ্রয়োগ করতে হবে।
১২. হেরিং এর আরোগ্য নীতি মাথায় রাখবেন । আরোগ্য নীতি হলো –
=> রোগ ভিতর থেকে বাইরের দিকে ধাবিত হবে
=> উপর থেকে নিচের দিকে যাবে
=> অধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ধাবিত হবে।
=> পূর্বের চাপা পড়া রোগ ক্রমানুসারে দেখা দেবে।
Dr. Farokh J. Master এর The Bedside Organon of Medicine বই থেকে নেয়া।
বইটা সবার পড়া উচিত। যদিও সবার হজম হবে না।

Dr Mohammad Mohshinuzzaman