অর্গানন: সূত্র- ১০৩ থেকে ১৪৯ পর্যন্ত।

#সূত্রঃ ১০৩। সাধারণত অস্থায়ী প্রকৃতির মহামারী সম্বন্ধে যে কথা এখানে বলা হইল আদি রোগবীজজনিত রোগ সম্বন্ধে— যেগুলি (বিশেষত সোরা) মূলে একই থাকে বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে -তাহাদের লক্ষণসমূহ আরও বেশি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে অনুসন্ধান করিয়া জানিতে হইবে। কারণ তাদের ক্ষেত্রেও একটি রোগীর মধ্যে আংশিক লক্ষণ পাওয়া যায়; দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং আরও অন্যান্য রোগীতে অন্য কতকগুলি লক্ষণ দেখা যায় এবং সেগুলি ও (বিশিষ্টভাবে) সমগ্র রোগের লক্ষণ সমষ্টির অংশ মাত্র। অতএব এইরূপ একটি চিররোগের বিশেষত সোরার লক্ষণবৈচিত্র পাওয়া সম্ভব কেবল ব্যক্তিগতভাবে অনেকগুলি চিররোগীকে পর্যবেক্ষণ করিয়া। এই প্রকার রোগ সমূহ কে সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও তাদের সমষ্ঠিগত চিত্র ব্যতীত হোমিওপ্যাথি মতে সমগ্র ব্যাধিকে নিরাময় করিবার জন্য ঔষধ (যথা সোরাবিষঘ্ন) আবিষ্কার করা সম্ভব নহে । এইরূপ চিররোগাক্রান্ত অনেক রোগীর আবার এই সকল ওষুধই প্রকৃত মহৌষধ।
#সূত্রঃ ১০৪। রোগের বিশিষ্ট পরিচালক লক্ষণাবলী অথবা অন্য কথায় যে প্রকার রোগই হউক না তাহার সঠিকভাবে চিত্রাঙ্কন একবার হইয়া গেলে কার্যের সর্বাপেক্ষা কঠিন অংশ শেষ হয়। চিকিৎসা পরিচালনার জন্য রোগের চিত্রটি, বিশেষত চিররোগ হইলে তাহা চিকিৎসকের সম্মুখে সর্বদা থাকে। তিনি তখন রোগের সকল দিক অনুসন্ধান করিয়া বিশেষ লক্ষণগুলি বাছিয়া লইতে পারেন এবং সমগ্র রোগকে প্রতিরোধ করিবার জন্য বিশুদ্ধভাবে পরীক্ষিত ভেষজভান্ডার হইতে হোমিওপ্যাথিক ঔষধরূপ একটি সদৃশ কৃত্রিম রোগশক্তিকে নির্বাচিত করিয়া প্রয়োগ করিতে পারেন। চিকিৎসা চলিতে থাকা কালে ঔষধ কতটা কাজ করিল এবং ঔষধ দ্বারা রোগীর অবস্থার কতটা পরিবর্তন ঘটিয়াছে যখন তিনি নির্ধারণ করিতে চাহেন তখন আবার প্রথম রোগী দেখিবার সময় যে সকল লক্ষণ লিপিবদ্ধ করা হইয়াছিল তাহার মধ্যে হইতে যেগুলির উপশম হইয়াছে সেগুলিকে কাটিয়ে দিতে পারেন। তখন কি বাকি রহিল তাহা দেখা যাইবে এবং কোন নতুন লক্ষণ দেখা গেলে তাহা যোগ করিয়া লইতে হইবে।
#সূত্রঃ ১০৫। প্রকৃত চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় দ্বিতীয় বিষয় হইল প্রাকৃতিক ব্যাধির আরোগ্যসাধনের উপায়সমূহ সম্বন্ধে জ্ঞানলাভ ; ঔষধসমূহের রোগ উৎপাদনকারী ক্ষমতা সম্বন্ধে অনুসন্ধান। তদ্দ্বারা চিকিৎসাক্ষেত্রে তাহার মধ্য হইতে এমন একটি ঔষধ নির্বাচন করা সম্ভব হইবে যাহার লক্ষণসমষ্টির তালিকা হইতে যে প্রাকৃতিক ব্যাধিকে নিরাময় করিতে হইবে তাহার যতদূরসম্ভব সদৃশ একটি কৃত্রিম ব্যাধি সৃষ্টি করা যায়।
#সূত্রঃ ১০৬। নানা ওষুধের রোগ উৎপাদন করিবার ক্রিয়া সমগ্রভাবে অবশ্যই জানিতে হইবে । অর্থাৎ অধিকাংশ প্রাকৃতিক ব্যাধির জন্য তাহার মধ্য হইতে উপযুক্ত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন করিয়া বাহির করিবার পূর্বে যতদূর সম্ভব তাহাদের প্রত্যেকটির কি ব্যাধিলক্ষণ প্রকাশ করিবার, বিশেষত সুস্থদেহে স্বাস্থ্যের কি পরিবর্তন সৃষ্টি করিবার শক্তি আছে, তাহা সমস্তই জানিয়া লইতে হইবে।
#সূত্রঃ ১০৭। ইহা নির্ধারণ করিতে যাইয়া ওষুধসমূহ যদি কেবল রুগ্ন ব্যক্তিদের উপর পৃথকভাবে একটি করিয়া ও প্রয়োগ করা হয় তাহা হইলে ও তাহাদের প্রকৃত ক্রিয়া সম্বন্ধে সঠিকভাবে কিছুই জানা যাইবে না। কারণ, ঔষধ প্রয়োগের ফলে স্বাস্থ্যের যে বিশেষ পরিবর্তন আশা করা যায় তাহা রোগ লক্ষণের সঙ্গে মিশিয়া যায় এবং সেই জন্য সুস্পষ্টভাবে সেইগুলি লক্ষ্য করা সম্ভব হয় না।
#সূত্রঃ ১০৮। অতএব, সুস্থ মানুষের উপর ছাড়া আর কোন উপায় ঔষধ সমূহের বিশেষ ক্রিয়া সঠিকভাবে জানা যাইতে পারে না । এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কতকগুলি ঔষধ পরিমিত মাত্রায় সুস্থ মানব দেহের উপর প্রয়োগ ও পরীক্ষা ছাড়া আর কোন নিশ্চিত স্বাভাবিক পন্থা নাই। তাহা হইলে, উহাদের প্রভাবে দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কি পরিবর্তন, কি লক্ষণ ও নিদর্শন প্রত্যেকটি দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রকাশিত হইল অর্থাৎ কি প্রকারের পীড়া উৎপন্ন করিবার ক্ষমতা ও প্রবণতা আছে তাহা জানা যাইবে। যেহেতু ইহা প্রমাণিত হইয়াছে (২৪-২৭) যে, ঔষধ সমূহের রোগ আরোগ্যকারী ক্ষমতা তাহাদের মানবদেহের সুস্থ অবস্থাকে পরিবর্তিত করিবার ক্ষমতা মধ্যেই নিহিত আছে এবং তাহার পর্যবেক্ষণের ভিতর দিয়াই আরোগ্যকারী ঔষধের ক্ষমতার প্রকাশ জানা যায়।
#সূত্রঃ ১০৯। আমিই সর্বপ্রথমে এই পথ উন্মুক্ত করিয়াছি এবং তাহা এইরূপ অধ্যাবসায়ের সহিত অনুসরণ করিয়াছি যাহা মানুষের কল্যাণময় সেই মহান সত্যের উপর সুদৃঢ় প্রত্যয় হইতে উথিতএবং তাহার পরিপুষ্ট। সেই প্রত্যয় হইল, একমাত্র হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ দ্বারাই মানুষের ব্যাধিসমূহের সুনিশ্চিত আরোগ্য সম্ভব।
#সূত্রঃ ১১০ । আমি আর ও দেখিয়াছি যে ভুলবশত অধিকমাত্রায়, আত্মহত্যা বা অপরকে হত্যা করিবার জন্য কিংবা অন্য কোন অবস্থায় ভেষজদ্রব্যসমূহ সুস্থ মানুষের পাকস্থলীতে যাওয়ার ফলে যে সকল লক্ষণ পূর্ববর্তী গ্রন্থকারগণ পর্যবেক্ষণ করিয়াছেন তাহা, সেই একই ভেষজ দ্রব্য আমার এবং অন্যান্য সুস্থ ব্যক্তিদের উপর পরীক্ষার ফলে যাহা পর্যবেক্ষণ করা গিয়াছে, বেশ মিলিয়া যায়।যাহাতে অন্য কেহ ব্যবহার না করে প্রধানত সেই কারণে ঐ সকল গ্রন্থকার শক্তিশালী ভেষজসমূহের বিষক্রিয়া যেরূপ ঘটিয়াছিল তাহার ইতিবৃত্ত এবং তাহাদের ক্ষতিকর ক্রিয়া প্রামাণ্যভাবে বিকৃত করিয়াছেন।
#সূত্রঃ ১১১। ভেষজের বিশুদ্ধ ক্রিয়া সম্বন্ধে আমার পর্যবেক্ষণের সহিত প্রাচীন অভিজ্ঞতার— যদিও তাহা আরোগ্য বিজ্ঞান উপলক্ষ্যে লিপিবদ্ধ করা হয় নাই— যে মিল এবং এই সকল বিবরণের সহিত অন্যান্য লেখকদের একই প্রকারের যে মিল তাহা আমাদের কাছে সহজেই প্রতিপন্ন করে যে ভেষজ পদার্থসমূহ সুস্থ দেহে যে বিকৃতি সাধন করে প্রকৃতির ধ্রুব ও চিরন্তন নিয়ম অনুসারে এবং সেই নিয়মের বশবর্তিহইয়া নিজ নিজ প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য অনুসারে সুনিশ্চিত, নির্ভরযোগ্য ব্যাধিলক্ষণসমূহ উৎপন্ন করতে সমর্থ হয়।
#সূত্রঃ ১১২। পুরাতন ব্যবস্থাপত্র সমূহে ঔষধ সমূহের অত্যন্ত অধিক মাত্রার প্রায়ই ভয়ঙ্কর কুফলগুলির মধ্যে আমরা এমন কতকগুলি অবস্থা দেখিতে পায় যেগুলি প্রথম দিকে আবির্ভূত হয় নাই, কিন্তু বিষাদময় পরিণামের শেষের দিকে আসিয়াছে এবং ইহা প্রথমে আসা অবস্থা ঠিক বিপরীত। এই সকল লক্ষণ হইল প্রাথমিক ক্রিয়া (৬০ সূত্র) বা জীবনীশক্তির উপর ঔষধের এর যথার্থ ক্রিয়ার ঠিক বিপরীত অর্থাৎ দেহস্হিত জীবনেশক্তির প্রতিক্রিয়া (৬২-৬৭) । সুস্থ দেহের উপর পরিমিত মাত্রায় পরীক্ষণ হইলে কিন্তু ইহা দেখা যায় না বললেই হয়, অল্প মাত্রায় একেবারেই দেখা যায় না। হোমিওপ্যাথিক আরোগ্য বিধানে জীবন্ত শরীরে ঔষধ দ্বারা সেইটুকু মাত্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় যে টুকু তৎকালীন স্বাভাবিক সুস্থ অবস্থায় উন্নীত করিবার জন্য প্রয়োজন হয়।
#সূত্রঃ ১১৩। ইহার একমাত্র ব্যতিক্রম হইল অবসাদ ঔষধসমুহ । কারণ, তাহারা প্রাথমিক ক্রিয়ার কখনও কখনও চেতনা ও অনুভূতি, কখন ও উত্তেজনা হরণ করিয়া লয়। এমনকি, সুস্থদেহে পরীক্ষণহেতু পরিমিত মাত্রা প্রয়োগেও তাহাদের গৌণ ক্রিয়ার ঘটে অধিকতার অনুভূতিপ্রবণতা (এবং অধিকতর উত্তেজনা) ।
#সূত্রঃ ১১৪। এই সকল অবসাদ দ্রব্য ব্যতীত সুস্থ শরীরে পরিমিত মাত্রায় ঔষধের পরীক্ষণে আমরা কেবল দেখিতে পাই তাহাদের প্রাথমিক ক্রিয়া, অর্থাৎ সেই সকল লক্ষণ যাহার ঔষধ মানুষের স্বাস্থ্যের বিশৃঙ্খলা সূচনা করে এবং দেহে দীর্ঘ বা অল্পকালস্থায়ী এক পীড়াবস্তা প্রবর্তন করে।
#সূত্রঃ ১১৫। কতকগুলি ঔষধের ক্ষেত্রে এই সকল লক্ষণের মধ্যে এমন অনেকগুলি দেখা যায় যেগুলি আংশিকভাবে বা কোনো বিশেষ অবস্থায় যে সকল লক্ষণ পূর্বে বা পরে আবির্ভূত হইয়াছে ঠিক তাহার বিপরীত, কিন্তু সেইজন্য সেগুলিকে প্রকৃত গৌণ ক্রিয়া বা জীবনীশক্তির প্রতিক্রিয়া মাত্র বলিয়া গণ্য করা উচিত নহে । সেইগুলি হইল প্রাথমিক ক্রিয়ারই অন্তর্গত বিভিন্ন প্রকোল্পের পর্যায়ক্রমিক অবস্থা । তাহাদিগকে পরিবর্তী ক্রিয়া (alternating action) বলা হয় ।
#সূত্রঃ ১১৬। ঔষধ দ্বারা কতকগুলি লক্ষণ ঘন ঘন অর্থাৎ বহু লোকের মধ্যে প্রকাশিত হয়, অন্য কতকগুলি লক্ষণ অপেক্ষাকৃত বিরলভাবে কিংবা অল্প কয়টি লোকের মধ্যে, আবার কয়েকটি লক্ষণ কেবলমাত্র খুব অল্প কয়টি সুস্থ দেহে দেখা যায়।
#সূত্রঃ ১১৭। তথাকথিত ধাতু প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য (idiosyncracies) শেষোক্ত শ্রেণীর অন্তর্গত। ইহার অর্থ হইল, দেহের কতকগুলি বিশেষ ধাতু যাহা অন্যভাবে সুস্থ হইলে ও কতগুলি দ্রব্য দ্বারা তাহাদের অল্পাধিক পীড়িত হইবার প্রবণতা তাহাতে দেখা যায়।অথচ সেই সকল দ্রব্য ওপর অনেক লোকের ক্ষেত্রে কোন প্রভাব বিস্তার করে না বা কোন পরিবর্তন আনে না । কিন্তু প্রত্যেককে প্রভাবিত করিবার এই যে অক্ষমতা তাহা কেবল আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান ।যেহেতু মানুষের সুস্থ দেহে এই সকল ও অন্যান্য পীড়ার লক্ষণ উৎপাদন করিতে দুইটি বিষয়ের প্রয়োজন, প্রভাবক পদার্থের সহজাত ক্ষমতা এবং দেহের চৈতন্যদায়িনী জীবনীশক্তির ইহার দ্বারা প্রভাবিত হইবার প্রবণতা সেইহেতু, তথাকথিত ধাতুপ্রকৃতিবিশিষ্ট লোকের স্বাস্থ্যের সুস্পষ্ট শৃংখলার কারণকে শুধুমাত্র তাহাদের গঠন বৈশিষ্ট্যের উপর ন্যস্ত করা যায় না; সেই সকল পীড়া উৎপাদনকারী পদার্থসমূহও— তাহাদের মধ্যে সমস্ত মানবদেহেই একই প্রকার প্রভাব বিস্তার করিবার ক্ষমতা নিহিত আছে, অথচ তাহা এইরূপ যে অতি অল্প কয়েকটি সুস্থ দেহের তাহাদের দ্বারা পীড়িত হইবার প্রবণতা দেখা যায়—সে জন্য দায়ী। এই সকল পদার্থ যে প্রকৃতই প্রত্যেকটি সুস্থ ব্যক্তির উপর ক্রিয়াশীল তাহা ইহা হইতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে,ঔষধ রূপে তাহা যখন ব্যবহৃত হয় তখন তাহারা হোমিওপ্যাথি মতে সকল অসুস্থ ব্যক্তিরই সেই সকল পীড়ালক্ষণ বিষয়ে উপকার সাধন করে যেগুলি তথাকথিত ধাতুপ্রকৃতি গ্রস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রতীয়মান লক্ষণসমূহের সদৃশ।
#সূত্রঃ ১১৮। ঔষধ ভেদে লক্ষণের বিভিন্নতা দৃষ্ট হয়-
প্রত্যেকটি ঔষধ মনুষ্যদেহের উপর বিশেষ ক্রিয়া প্রদর্শন করে—অন্যজাতীয় ভেষজপদার্থ দ্বারা ঠিক একই প্রকারে প্রকাশিত হয় না।
#সূত্রঃ ১১৯। দুইটি ভিন্ন ভেষজ একজাতীয় লক্ষণ প্রকাশ করিতে পারেনা-
প্রত্যেক শ্রেণীর উদ্ভিদ যেমন বাহ্যিক আকারে জীবনধারণ পদ্ধতিতে বৃদ্ধির দিক হইতে স্বাদে-গন্ধে অন্য শ্রেণীর প্রত্যেকটি উদ্ভিদ হইতে স্বতন্ত্র, প্রত্যেকটি খনিজ ও লবণ জাতীয় পদার্থ যেমন বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীক প্রকৃতিতে ও রাসায়নিক গুণাবলীতে অন্য জাতীয় খনিজ ও লবণ জাতীয় পদার্থ হইতে নিশ্চিত ভাবেই পৃথক, ঠিক তেমনভাবে তাহারা রোগ সৃষ্টিকারী শক্তি এবং আরোগ্যকারী শক্তিতেও নিশ্চিতভাবেই পরস্পর সম্পূর্ণ পৃথক ও বিপরীত। এই সমস্ত দ্রব্য অদ্ভূত, পৃথক এবং সুনির্দিষ্ট ধারায় মানবস্বাস্থ্য পরিবর্তন করিতে সমর্থ। কাজেই ইহাদের একটিকে অন্যটির সহিত ভুল করিবার বা মিশ্রিত করিবার কোনো সম্ভাবনা থাকেনা।
#১২০। ভেষজের অভ্রান্ত গুনাগুন নির্ণয় করিতে হইলে সুস্থদেহে ইহার পরীক্ষা প্রয়োজন-
অতএব, যে ঔষধের উপর মানুষের জীবন, মৃত্যু, পীড়া ও স্বাস্থ্য নির্ভর করে তাহা সম্পূর্ণভাবে ও সর্বাধিক সাবধানের সহিত চিনিয়া লইতে হইবে এবং এই উদ্দেশ্যে সুস্থ দেহের উপর সযত্ন ও বিশুদ্ধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার দ্বারা তাহাদের ক্ষমতা ও প্রকৃত ক্রিয়া নির্ধারণ করিতে হইবে যাহাতে তাহাদের সম্বন্ধে সঠিক জ্ঞান লাভ করা যায় এবং পীড়ায় তাহাদের প্রয়োগ সম্বন্ধে কোন ভুল না হয়। কারণ, কেবল তাহাদের সঠিক নির্বাচন দ্বারাই সর্বোত্তম পার্থিব সূখস্বরূপ দেহ ও মনের স্বাস্থ্য দ্রুত ও স্থায়ীভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
#১২১। ঔষধের তীব্রতাভেদে ইহাদের বিভাগ ও প্রূভারের বিভিন্নতা-
স্বাস্থ্য বিপর্যয় ক্ষমতার উপর নির্ভর করিয়া ঔষধকে প্রধানতঃ তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- উগ্রবীর্য পদার্থ, মৃদুবীর্য পদার্থ এবং অতি লঘুবীর্য পদার্থ। সুস্থ মানবদেহের উপর ঔষধ এর ফলাফল পরীক্ষা করিবার সময় মনে রাখিতে হইবে যে, উগ্রবীর্য পদার্থগুলি অতি অল্প মাত্রায় প্রয়োগ করলেও বলিষ্ঠ গঠন ব্যক্তির স্বাস্থ্যের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। মৃদুবীর্য পদার্থগুলি স্থল মাত্রায় প্রয়োগ করা দরকার, নতুবা হয়তোবা লক্ষণসমূহ প্রকাশ করিতে অসমর্থ হইতে পারে। অতি লঘুবীর্য পদার্থগুলি নীরোগ অথচ দুর্বল, উত্তেজনাপ্রবণ ও অনুভূতিশীল ব্যক্তির উপর প্রয়োগ করিতে হইবে। নতুবা স্থুল মাত্রায় হয়তোবা ইহার নিজস্ব লক্ষণ প্রকাশ করিতে অপারগ হইতে পারে।
#সূত্রঃ ১২২। সুপরিচিত, বিশুদ্ধ, অকৃত্রিম ও কার্যকারিতা সম্বন্ধে নিশ্চিত ভেষজ পদার্থ সুস্থদেহে প্রয়োগ করা উচিত-
এই সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষায়—যাহার উপর সমগ্র চিকিৎসা কলার যথার্থ এবং ভাবী মানুশ্য সমাজের কল্যাণ নির্ভর করে—-সম্পূর্ণ সুপরিচিতএবং যাদের বিশুদ্ধতা, ও কৃত্তিমতা ও কার্যকারিতা সম্বন্ধে আমরা সম্পূর্ণভাবে সুনিশ্চিত এইরূপ ঔষধ ব্যতিরেকে অন্য কোন ঔষধ প্রয়োগ করা উচিত নহে।
#সূত্রঃ ১২৩। পরীক্ষার জন্য ঔষধ প্রস্তুত পদ্ধতি-
এই সকল ঔষধের প্রত্যেকটিকে সম্পূর্ণ ও অবিমিশ্র ও অবিকৃত অবস্থায় গ্রহণ করিতে হইবে, দেশীয় গাছ গাছরা হইতে রস টাটকা নিংড়াইয়া লইয়া ও নষ্ট হইয়া যায় সেজন্য তাহার সহিত একটু সুরাসার মিশাইয়া, বিদেশি উদ্ভিজ্জাদি চূর্ণ আকারে বা তাহাদের টাটকা অবস্থায় থাকাকালে সুরাসার সহযোগে নির্যাস টিংচার প্রস্তুত করিয়া এবং পরে নির্দিষ্ট অনুপাতে জল মিশাইয়া এবং লবণ ও আঠাজাতীয় ভেষজকে ব্যবহার করিবার ঠিক পূর্বে জলে গুলিতে হইবে। উদ্ভিদকে যদি কেবল শুষ্ক আবহাওয়ায় সংগ্রহ করা সম্ভব হয় এবং তাহার কার্যকরী শক্তি স্বভাবতই যদি কম হয় তাহা হইলে তাহা ছোট ছোট টুকরা করিয়া কাটিয়া লইয়া ভেষজ অংশ বাহির করিয়া লইবার জন্য তাহার উপর গরম জল ঢালিয়া নির্যাস প্রস্তুত করিয়া লইতে হইবে এবং প্রস্তুত হইবামাত্র গরম থাকিতে থাকিতে খাইতে হইবে, যেহেত নিংড়ানো সকল উদ্ভিজ্জরস এবং সকল জলীয় নির্যাস সুরাসার মিশ্রিত না থাকিলে দ্রুত গুজিয়া উঠে ও পচিয়া যায় এবং তার ফলে তাহাদের সকল ভৈষজ্য গুণ নষ্ট হইয়া যায়।
#সূত্রঃ ১২৪। প্রয়োগকৃত ভেষজ বিশুদ্ধ ও একক হইতে হইবে-
এই সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রত্যেকটি ভেষজ পদার্থ সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে এবং বিশুদ্ধ অবস্থায় বাহিরের আর কিছু না মিশাইয়া প্রয়োগ করিতে হইবে।সেই দিন, কিংবা পরবর্তী কিছুদিন বরং ওষুধের গুনাগুন পর্যবেক্ষণের সময়ের মধ্যে ঔষধ জাতীয় আর কিছু গ্রহণ করার চলিবে না।
#সূত্রঃ ১২৫। পরীক্ষাকারী বা প্রুভারের খাদ্য ও পানীয় নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত নিয়মাবলী-
যতদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলিবে ততদিন পথ্যকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করিতে হইবে। উহা যথাসম্ভব মসলা বর্জিত, কেবল পুষ্টিকর ও সাদা-সিদা ধরনের হওয়া উচিত । কাঁচা তরিতরকারি, মূল, সবরকম স্যালাড ও শাকাদির ঝোল ( যাহা খুব সাবধানতার সহিত তৈয়ারি হইলেও তাহাতে গোলযোগকারি কিছু ভেষজগুণ বর্তমান থাকে) বর্জন করা উচিত । যে সকল পানীয় সর্বদা ব্যবহার করা হয় তাহা যতদূর সম্ভব কম উত্তেজক হওয়া উচিত।
#সূত্রঃ ১২৬। ভেষজ পরীক্ষক বা প্রুভারকে বিশ্বস্ত বুদ্ধিমান ও অনুভূতি প্রবণ হইতে হইবে-
যাহার উপর ওষুধের পরীক্ষণ হইবে তাহা কে অবশ্যই বিশ্বাস ভাজন ও বিবেকবান হইতে হইবে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়ে ও দেহের সকল প্রকার অতিরিক্ত পরিশ্রম, সকল প্রকার অমিতাচার ও বিরক্তিকর কামুকতা তাহাকে পরিহার করিয়া চলিতে হইবে । চিত্তচঞ্চলকারী জরুরি কাজের কোন আকর্ষণ তাহার থাকিবে না, সযত্ন আত্মসমীক্ষায় নিজেকে নিবিষ্ট রাখিতে হইবে এবং এইরূপ থাকাকালে কোনমতেই অস্থির হওয়া চলিবে না । তাহার পক্ষে যাহা সুব্যবস্থা সেই অবস্থায় তাহার দেহকে রাখিতে হইবে এবং সঠিকভাবে তাহার অনুভূতি সকল প্রকাশ ও বর্ণনা করিতে পারার মতো তাহার যথেষ্ট পরিমাণে বুদ্ধি থাকা প্রয়োজন।
#সূত্রঃ ১২৭। স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের উপরই ভেষজ প্রয়োগ করিতে হইবে-
ঔষধ সমুহ পুরুষ ও স্ত্রী উভয় ক্ষেত্রেই পরীক্ষা করিতে হইবে যাহাতে জননেন্দ্রিয় সংক্রান্ত স্বাস্থ্যের পরিবর্তনসমূহ পরিজ্ঞাত হওয়া যায় ।
#সূত্রঃ ১২৮। খুব সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের ফলে লক্ষ্য করা গিয়েছে যে, গুনাগুন পরীক্ষার জন্য ভেষজ পদার্থকে অবস্থায় পরীক্ষণ করা হইলে, তাহাদের অন্তনির্হিত পূর্ণশক্তির বিকাশ প্রায় দেখা যায় না । সেই শক্তি পূর্ণভাবে পরিস্ফুট হয় যখন সেগুলিকে যথাযথভাবে চূর্ণ করিয়া ও ঝাকি দিয়ে উচ্চ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। স্হূল অবস্থায় যে শক্তি তাহাদের মধ্যে সুপ্তপ্রায় থাকে এই রূপ সহজ উপায় দ্বারা তাহা অবিশ্বাস্য পরিমাণে বর্ধিত হয় এবং ক্রিয়াশীল হইয়া উঠে। যে সকল দ্রব্য অত্যন্ত মৃদু প্রকৃতির বলিয়া ধারণা আছে সেগুলির ও ভেষজ শক্তি এখন নির্ধারণ করার পক্ষে এইটি সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা বলিয়া আমরা মনে করি। যে প্রণালী আমরা অবলম্বন করি তাহাতে খালি পেটে পরীক্ষণ কারীকে প্রত্যহ পশুদের ত্রিশক্তির চারিটি হইতে ছয়টি ছোট বড়ি জলে ভিজাইয়া অল্পাধিক জলে উত্তমরূপে মিশাইয়া দেওয়া হয় এবং কয়েক দিন ধরিয়া এইরূপ ব্যবস্থা চালানো হয় ।
#সূত্রঃ ১২৯ । এই মাত্রায় ফল যদি কম হইতে দেখা যায় তাহা হইলে প্রত্যহ আরও কয়েকটি বড়ি ব্যবহার করা যাইতে পারে যে পর্যন্ত না তারা আরো পরিস্ফুট ও জোরালো হয় এবং স্বাস্থ্যের পরিবর্তন আর ও সুস্পষ্ট হয়; কারণ সকল লোক একটি ঔষধ দ্বারা সমান ভাবে প্রভাবিত হয় না, বরং এই বিষয়ে অনেক বিভিন্নতা দেখা যায়। সেই জন্য শক্তিশালী বলিয়া পরিচিত ঔষধের মাত্রা দুর্বল বলিয়া প্রতীয়মান ব্যক্তির উপর কখনও কখনও আদৌ প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায় না; অথচ অপেক্ষাকৃত মৃদু ধরনের ঔষধ দ্বারা সেই ব্যক্তি অত্যন্ত প্রবল ভাবে আক্রান্ত হয়। অপরপক্ষে আবার বেশ বলিষ্ঠ লোকেরা মৃদু বলিয়া প্রতীয়মান ঔষধ দ্বারা অত্যাধিক প্রভাবিত হইয়া পড়ে এবং কড়া প্রকৃতির ঔষধে সামান্য লক্ষণ মাত্র প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে যখন পূর্ব হইতে কিছু জানা যায় না তখন প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ঔষধের অল্পমাত্রায় লইয়া আরম্ভ করা সঙ্গত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে দিনে মাত্রা বাড়ানো যাইতে পারে ।
#সূত্রঃ ১৩০। শুরুতেই প্রথম মাত্রার পরিমাণ যদি অনেক বেশী হইয়া যায় তাহা হইলে এই সুবিধা হয় যে, পরীক্ষণকারী লক্ষণগুলির ক্রম বুঝিতে পারে এবং কোন সময়ে প্রত্যেকটির আবির্ভাব ঘটিয়াছে তাহা ঠিক ঠিক লিখিয়া রাখিতে পারে।ঔষধ এর স্বরূপ সম্বন্ধে জ্ঞান লাভের পক্ষে অত্যাবশ্যক কারণ, তাহা হইলে প্রাথমিক ক্রিয়ার ও পর্যায়গত ক্রিয়ার ক্রম একেবারে নিঃসংশয়ভাবে লক্ষ্য করা যায়। অত্যন্ত পরিমিত মাত্রা দ্বারা ও এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলিতে পারে যদি পরীক্ষাকারীর যথেষ্ট পরিমাণে সূক্ষ্ম অনুভবশক্তি থাকে এবং সে যদি তাহার অনুভূতিসমূহের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী হয়। ঔষধের ক্রিয়ার ভোগকাল কেবলমাত্র কতকগুলি পরীক্ষার ফল তুলনা করিয়া নির্ধারণ করা সম্ভব
#সূত্রঃ ১৩১। কিন্তু যদি কোন কিছু নির্ধারণের জন্য একে ঔষধ ক্রমবর্ধমান মাত্রায় পরপর কয়েকদিন একই লক্ষ্যে দেওয়া হয় তাহা হইলে তদ্দ্বারা সাধারণভাবে ওষুধজনিত পীড়ার বিভিন্ন অবস্থা নিঃসন্দেহে জানিতে পারি, কিন্তু সেগুলি পর পর কিভাবে আসিল তাহা জানিতে পারি না। আর পরবর্তী মাত্রা আরোগ্যকারী রূপে প্রায়ই পূর্ব মাত্রাজনিত একটি না একটি লক্ষণকে দূরীভূত করে কিংবা তাহার পরিবর্তে একটি বিপরীত অবস্থা সৃষ্টি করে। এই রূপ উৎপন্ন লক্ষণ সংশয়মূলক বলিয়া সেগুলিকে বন্ধনীর মধ্যে লেখা উচিত—যে পর্যন্ত না পরবর্তী আর ও বিশুদ্ধ পরীক্ষা দ্বারা নির্ধারিত হয় যে সেগুলি দেহের প্রতিক্রিয়ার (গৌণক্রিয়া) লক্ষণ বা ওষুধজনিত পরিবর্তী ক্রিয়ালক্ষণ ।
#সূত্রঃ ১৩২। কিন্তু যখন লক্ষণের পর্যায়ক্রমিক সম্বন্ধে এবং ঔষধের ভোগকালবিষয় লক্ষ নারাখিয়া কেবলমাত্র লক্ষণগুলি নির্ধারণ করা উদ্দেশ্য হয় ( বিশেষ করে মৃদু প্রকৃতির ঔষধের), তখন শ্রেয় পন্থা হইল পরপর কয়েকদিন ধরিয়া মাত্রা বৃদ্ধি করিয়া ঔষধ দেওয়া । এইভাবে অপরিচিত অথচ মৃদুতম ঔষধ এর ক্রিয়া ও প্রকাশিত হইয়া পড়িবে বিশেষতঃ যদি তারা অনুভূতিশীল ব্যক্তির উপর পরীক্ষিত হয়।
#সূত্রঃ ১৩৩। ঔষধ জনিত কোন বিশেষ অনুভূতি বা লক্ষণ উপস্থিত হইলে উহার সঠিক পরিচয় পাইবার জন্য বিভিন্ন অবস্থায় অবস্থান করিয়া, আক্রান্ত অঙ্গ সঞ্চালন করিয়া, ঘরের মধ্যে বা মুক্ত বাতাসে হাঁটিয়া, দাঁড়াইয়া, শুইয়া উহা বাড়ে, কমে বা দূরীভূত হয় তাহা পর্যবেক্ষণ করা শুধু উচিত নয় প্রয়োজন ও বটে। যে অবস্থায় লক্ষণটি প্রথম দেখা গিয়েছিল সেই অবস্থা পুনরায় গ্রহণ করিলে লক্ষণ আবার ফিরিয়া আসে কিনা, পানভোজনে, অন্য কোন অবস্থায়, কথা বলায়, কাশিবার হাঁচিবার সময়ে বা দেহের অন্য কোন ক্রিয়ায় লক্ষণটির কোন পরিবর্তন দেখা যায় কিনা তাহা লক্ষ্য করিতে হইবে, আর সেইসঙ্গে ইহা ও জানিতে হইবে যে দিন বা রাত্রির কোন সময়ে তাহা সর্বাপেক্ষা প্রকাশমান হয় । এতদ্বারা প্রত্যেকটি লক্ষণের বৈশিষ্ট্য ও প্রকৃতির পরিচয় পাওয়া যাইবে ।
#সূত্রঃ ১৩৪। বাহ্য প্রভাবসমূহের, বিশেষ করিয়া ভেষজের এরূপ শক্তি আছে, যদ্দারা জীবদেহের স্বাস্থ্যেএকপ্রকার বিশেষ পরিবর্তন উৎপন্ন হইতে পারে এবং তাহা তাহাদেরই নিজস্ব প্রকৃতি অনুসারে । কিন্তু কোন ভেষজের নিজস্ব প্রকৃতিগিত সকল লক্ষণ একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে, একই সঙ্গে, কিংবা একই পরীক্ষাকালে আবির্ভূত হয় না। পরন্তু, কতকগুলি লক্ষণ কাহারো ক্ষেত্রে প্রধানত একবারে আবার কারো ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বা তৃতীয় পরীক্ষা কালে আসিয়া উপস্থিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে ওপর এমন কতকগুলি লক্ষণ দেখা যায়, যাহার মধ্যে কিছু হয়তো, চতুর্থ, অষ্টম বা ব্যক্তির মধ্যে প্রকাশ পাইয়াছে যাহা আবার পূর্বেই দ্বিতীয়, ষষ্ঠ বা নবম ব্যক্তির মধ্যে দেখা গিয়েছে এবং একইভাবে চলিতে থাকে। উপরন্ত সেইগুলির একই সময়ে আবির্ভাব নাও ঘটতে পারে।
#সূত্রঃ ১৩৫। কেবল বিভিন্ন ধাতুবিশিষ্ট স্ত্রী-পুরুষের উপযুক্ত ক্ষেত্রে বহু পর্যবেক্ষণ দ্বারা কোন ভেষজসৃষ্ট ব্যাধির সমগ্র প্রকাশকে সম্পূর্ণ করিয়া তোলা যায়। রোগ উৎপাদনকারী ক্ষমতা অর্থাৎ স্বাস্থ্যকে পরিবর্তন করিবার যথার্থ শক্তি সম্বন্ধে কোন ভেষজ সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষিত হইয়াছে বলিয়া আমরা তখনই নিশ্চিত হইতে পারি যখন পরবর্তী পরীক্ষাকগণ তাহার ক্রিয়া হইতে আর বিশেষ নূতন কিছুই না এবং প্রায় সকল লক্ষণ এ দেখিতে পান যেগুলি পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণ করিয়াছেন।
#সূত্রঃ ১৩৬। যেমন পূর্বে বলা হইয়াছে, একটি ভেষজকে সুস্থ দেহে পরীক্ষণ করা হইলে কোন একটি ক্ষেত্রে যে সকল পরিবর্তন আনয়ন করিতে সমর্থ যদিও তাহার সকল গুলি উৎপাদন করিতে পারে না এবং দৈহিক ও মানসিক ধাতু প্রকৃতির তারতম্য অনুসারে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ইহা প্রয়োগ করা হয়লেই কেবল ইহা সম্ভব হয়, তথাপি প্রকৃতির এক শাশ্বত ও অপরিবর্তনীয় নিয়ম অনুসারে প্রত্যেকটি মানুষের ক্ষেত্রে সকল লক্ষণ উৎপন্ন করিবার প্রবণতা সেই ভেষজের মধ্যে বিদ্যমান থাকে (সূত্র১১৭) । সেই প্রবনতার জন্য তাহার সকল গুণ—-এমন কি, যেগুলি সুস্থ শরীরে কদাচিৎ প্রকাশ পায়—তাহা সদৃশ লক্ষণ অনুসারে প্রয়োগ করা হইলে প্রত্যেকটি পীড়িত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। তাহা তখন হোমিওপ্যাথি মতে নির্বাচিত বলিয়া ক্ষুদ্রতম মাত্রাতে ও রোগীর রোগীর ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক পীড়ার খুব সদৃশ একটি কৃত্রিম অবস্থার সৃষ্টি করে—যাহা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে রোগমুক্ত করিয়া তাহাকে আরোগ্য প্রদান করে।
#সূত্রঃ ১৩৭। পর্যবেক্ষণের সুবিধার জন্য যদি আমরা এমন একজনকে নির্বাচিত করি যে সত্যপ্রিয়, সর্বপ্রকারে সংযমী, সুক্ষ্ম বোধশক্তিসম্পন্ন এবং যিনি তাঁহার অনুভূতি সম্পর্কে একান্ত মনোযোগী তাহা হইলে কতকটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ঔষধের মাত্রা যত বেশি পড়িবে ততই তাহার প্রাথমিক লক্ষণ গুলি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠিবে এবং জীবনীশক্তির প্রতিক্রিয়া বা গৌনক্রিয়ার সহিত মিশ্রিত না হইয়া সর্বাপেক্ষা জ্ঞাতব্য কেবলমাত্র সেই সকল লক্ষণই আবির্ভূত হইতে থাকিবে। কিন্তু যখন অপরিমিত বৃহৎ মাত্রা ব্যবহার করা হয়, তখন লক্ষণ গুলির মধ্যে কতকগুলি গৌণ ক্রিয়ার ফল ও যে শুধু থাকিবে তাহাই নহে, প্রাথমিক ক্রিয়া ও এত তাড়াহুড়ো ও ব্যস্ত ভাবে আসিয়া উপস্থিত হইবে যে, কিছুই সঠিকভাবে তখন লক্ষ্য করা সম্ভব হইবে না। ইহার সঙ্গে বিপদের সম্ভাবনা জড়িত আছে তাহা ছাড়িয়ে দিলেও যাহার কিছুমাত্র মানবতাবোধ আছে এবং যে মানুষকে ও ভ্রাতৃজ্ঞানে দেখিয়ে থাকে, সে কখনো তাহা অপেক্ষার বিষয় বলিয়া মনে করিবে না।
#সূত্রঃ ১৩৮। ঔষধের ক্রিয়াকালে পরীক্ষণকারীর সকল অসুস্থ, আকস্মিক ঘটনা ও স্বাস্থ্যের পরিবর্তন ( অবশ্য যদি উত্তম ও বিশুদ্ধ পরীক্ষণ এর জন্য ১২৪-১২৭) সূত্রে উদ্বৃত শর্তগুলি মানিয়ে চলা হয়) কেবলমাত্র ঔষধ হইতে উদ্ভূত এবং তাহা ওষুধেরই বিশেষত্ব বলিয়া গণ্য করিতে ও লিপিবদ্ধ করিতে হইবে। যদি পরীক্ষণ কারীর একই প্রকার ঘটনা বহুকাল পূর্বে ও হইয়া থাকে তাহা হইলে ও সেগুলিকে ঔষধেরই লক্ষণ লক্ষণ বলিয়া ধরিতে হইবে। ঔষধের পরীক্ষণ কালে সেগুলির পুনরাবির্ভাব ইহাই নির্দেশ করে যে, সেই ব্যক্তির বিশেষ ধাতু প্রকৃতির জন্য ওই প্রকার লক্ষণের প্রবণতা হইয়াছে। এই ক্ষেত্রে তাহা ঔষধেরই ক্রিয়া । যতদিন স্বাস্থ্যের উপর ঔষুধের মেয়াদ চলিতে থাকে লক্ষণসমূহ আপনা হইতেই উদ্ভূত হয় না, ঔষধ দ্বারাই উৎপন্ন হয় ।

#সূত্রঃ১৩৯। চিকিৎসক নিজের উপর ঔষুধের পরীক্ষণ না করিয়া যদি অন্য কাহারও উপর করেন, তাহা হইলে সেই ব্যক্তি তাহার নিজের অনুভূতি, অসুস্থতাবোধ, আকস্মিক ঘটনা এবং স্বাস্থ্যের পরিবর্তন সম্বন্ধে যেরূপ অভিজ্ঞতা হয় তাহা স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করিবে । ঔষধ সেবনের কত পরে লক্ষণ এর আবির্ভাব ঘটিল এবং তাহা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে তাহার ভোগকালও উল্লেখ করিতে হইবে। পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্র চিকিৎসক সেই বিবরণ পরীক্ষা কারীর উপস্থিতিতে দেখিয়ে লইবেন বা পরীক্ষণ যদি কয়েকদিন ধরিয়া চলে তবে তিনি প্রত্যেহ এরূপ করিবেন। প্রত্যেকটি বিষয় টাটকা মনে করার সময়েই তাহার ঠিক প্রকৃতি জিজ্ঞাসা করিয়া লইতে হইবে এবং এই ভাবে প্রাপ্ত খুঁটিনাটি সঠিক বিবরণ লিখিয়া লইতে হইবে অথবা পরীক্ষাকারী যেভাবে চাহে সেইভাবে অদলবদল করিতে লইতে হইবে।
#সূত্রঃ ১৪০। যদি সেই ব্যক্তি লিখিতে না পারে তাহা হইলে প্রত্যহ কি ঘটিয়েছে ও কিভাবে ঘটিয়াছে তাহা চিকিৎসককে জানাইতে হইবে। এই বিষয়ে যাহা বিশ্বাসযোগ্য বলিয়া লিখিতে হইবে তাহা প্রধানত পরীক্ষণকারীর স্বতঃপ্রবৃত্ত বিবরণ হওয়া উচিত, তাহাতে অনুমাননির্ভর কিছুই থাকিবে না এবং কোন প্রশ্ন সোজাভাবে করা হইলে তাহার উত্তর যত কম সম্ভব তাহাতে স্থান পাইবে। দ্রষ্টব্য বিষয়ের অনুসন্ধান এবং প্রাকৃতিক রোগের চিত্রাঙ্গনের জন্য যে সকল সাবধানতার উপদেশ (সূত্র ৮৪-৯৯) আমি বিবৃত করিয়াছে তাহার সকল কিছুই সেই প্রকার সাবধানতার সহিতই নির্ধারণ করিতে হইবে ।
#সূত্রঃ ১৪১। সাধারণ ওষুধের বিশুদ্ধ ক্রিয়া দ্বারা মানুষের স্বাস্থ্যের উপর কি পরিবর্তন আসতে পারে এবং তদ্বারা সুস্থ দেহে কি প্রকার কৃত্তিম ব্যাধি ও লক্ষণসমূহ উৎপন্ন হইতে পারে তাহার সর্বোত্তম পরীক্ষণ সম্ভব যদি তাহা স্বাস্থ্যবান, সংস্কারমুক্ত এবং অনুভূতিপ্রবণ চিকিৎসক, এখানে যে সকল যত্ন ও সাবধানতা কথা বলা হইয়াছে উহা মানিয়া, নিজের উপর করেন। নিজের দেহে যাহা-কিছু তিনি প্রত্যক্ষ করেন তাহা তিনি অত্যন্ত সুনিশ্চিত ভাবে উপলব্ধি করিয়া থাকেন।
#সূত্রঃ ১৪২। কিন্তু আরোগ্য- প্রদানকল্পে প্রযুক্ত অবিমিশ্র ঔষধের কতকগুলি লক্ষণকে মূল রোগের লক্ষণ সমূহ হইতে এমন কল্যানৈপুণ্যের বিষয়ীভূত এবং যাহারা পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত পারদর্শী তাহাদের উপর তাহা ছাড়িয়া দিতে হইবে ।
#সূত্রঃ ১৪৩। এইরূপে সুস্থ মানব দেহে অনেকগুলি অবিমিশ্র ঔষধ পরীক্ষা করিয়া কৃত্তিম উৎপাদনকারী রূপে তাহারা যেসকল উৎপাদন ও লক্ষণ সৃষ্টি করিতে সমর্থ সেগুলি যদি যত্ন সহকারে ও বিশ্বস্ততার সহিত আমরা লিখি তবে আমরা প্রকৃত মেটেরিয়া মেডিকা (ভৈষজ্ বিজ্ঞান) পাই । সেটি হইল অবিমিশ্র ও ঔষধসমূহের যথার্থ, বিশুদ্ধ ও বিশ্বাসযোগ্য ক্রিয়া প্রণালীর সংগ্রহ, প্রকৃতি দেবীর একখানি গ্রন্থ, যাহাতে শক্তিশালী ঔষধ সমুহ দ্বারা উদ্ভূত স্বাস্থ্যের বিশেষ পরিবর্তন ও লক্ষণসমূহ যেভাবে পর্যবেক্ষকের কাছে ধরা পড়িয়াছে সেইভাবে লিপিবদ্ধ করা হইয়াছে এবং যাতে পরে সেই সকল ঔষধ দ্বারা আরোগ্যযোগ্য অনেক প্রাকৃতিক সদৃশ চিত্র সন্নিবেশিত আছে। এককথায় তাহার মধ্যে আছে কৃত্তিম পীড়ার অবস্থা সমূহ যাহা তাহাদের সদৃশ প্রাকৃতিক পীড়ার সুনিশ্চিত ও স্থায়ী আরোগ্যের জন্য একমাত্র প্রকৃত, হোমিওপ্যাথিক অর্থাৎ অমোঘ নিরাময়ের উপায় প্রদান করে।
#সূত্রঃ ১৪৪। এই মেটেরিয়া মেডিকা হইতে যাহা কিছু অনুমান নির্ভর, কেবল কথার কথা কিংবা কল্পনাপ্রসূত নিষ্ঠার সহিত বর্জন করিতে হইবে। তাহার প্রত্যেকটি হইবে যত্ন ও সরলতার সহিত জিজ্ঞাসিত প্রকৃতির ভাষা।
#সূত্রঃ ১৪৫। বাস্তবিকই কেবলমাত্র মানুষের স্বাস্থ্যের পরিবর্তন আনয়নকারী বহুসংখ্যক ভেষজের বিশুদ্ধ ক্রিয়া প্রণালীর সহিত সঠিক পরিচয়ের ভিতর দিয়া অগণিত প্রাকৃতিক পীড়ার প্রত্যেকটির জন্য এবং জগতের প্রতিটি ব্যাধির জন্য আমরা একটি উপযুক্ত কৃত্রিম (আরোগ্যদানকারী) পীড়ার সাদৃশ্যযুক্ত একটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আবিষ্কার করিবার যোগ্যতা লাভ করিতে পারি। লক্ষণসমূহের যথার্থতা এবং শক্তিশালী ভেষজসমূহের প্রত্যেকটির ক্রিয়ার দ্বারা সুস্থ দেহের উপরে যে সকল প্রচুর রোগ উপাদানের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে তাহাকে ধন্যবাদ; ইতোমধ্যে এখনই অতি অল্পসংখ্যক রোগ আছে যাহার জন্য বিশুদ্ধ ক্রিয়া সম্বন্ধে অধুনা পরীক্ষিত ঔষধ সমূহের মধ্য হইতে একটিকে পাওয়া যায় না । তাহা বিশেষ কোন গোলযোগ সৃষ্টি না করিয়া মৃদু, সুনিশ্চিত ও স্থায়ীভাবে, মিশ্রিত ও অজ্ঞাত ওষুধসমূহ সম্মানিত পুরাতন এলোপ্যাথিক চিকিৎসাকলার সাধারণ ও বিশেষ ভেষজ বিজ্ঞান দ্বারা সাধিত চিকিৎসা অপেক্ষা বহুগুণে নিশ্চিত ও নিরাপদে স্বাস্থ্য পুনঃপ্রদান করিতে পারে । এই প্রকার মিশ্রিত ঔষধ প্রয়োগে কেবল রোগের বৃদ্ধি ছাড়া রোগসমূহ তো নিরাময় হয়ই না, অচিরপীড়াতেও আরোগ্যদানের সহায়ক না হইয়া বাধা সৃষ্টি করে ও প্রায়ই জীবনকে বিপদগ্রস্ত করে ।
#সূত্রঃ ১৪৬। প্রকৃত চিকিৎসকের তৃতীয় কর্তব্য হইল হোমিওপ্যাথিক মতে প্রাকৃতিক পীড়ার আরোগ্যপ্রদানকল্পে সেই সকল কৃত্রিম পীড়া উৎপাদক পদার্থের (ঔষধ) বিবেচনাপূর্বক প্রয়োগ যেগুলির বিশুদ্ধ ক্রিয়া নির্ণয়ের জন্য সুস্থ দেহে পরীক্ষণ করা হইয়াছে ।
#সূত্রঃ ১৪৭। মানুষের স্বাস্হ্যে পরিবর্তন আনয়ন করিবার ক্ষমতা সম্বন্ধে যে সকল ঔষধের পরীক্ষা করা হইয়াছে তাহাদের মধ্যে যেটিরই লক্ষণসমূহে কোন প্রাকৃতিক পীড়ার লক্ষণসমষ্টির সর্বাপেক্ষা সাদৃশ্য আমরা দেখিব তাহাই সর্বাপেক্ষা উপযোগী, সেই রোগের সর্বাপেক্ষা সুনিশ্চিত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ এবং তাহাই হইবে সেই রোগের ক্ষেত্রে অব্যর্থ ওষুধ ।
#সূত্রঃ ১৪৮। প্রাকৃতিক ব্যাধিকে দেহের ভিতরে কিংবা বাহিরে অবস্থিত অনিষ্টকারী একটি স্হূল বস্তু বলিয়া মনে করা কখনই উচিত নহে ( সূত্র ১১-১৩) । তাহা এক বিরুদ্ধ ধর্মী সূক্ষ্ম শক্তির দ্বারা (ধারণযোগ্য) উৎপন্ন বলিয়া ধরিতে হইবে। এই শক্তি একপ্রকার সংক্রমনের ন্যায় দেহাভ্যন্তরস্থিত অতীন্দ্রিয় মূল জীবনীশক্তির স্বতঃস্ফূরিত সত্তাকে পিশাচের মত উৎপীড়ন দ্বারা কতগুলি পীড়া ও বিশৃঙ্খলা উৎপাদন করতে বাধ্য করিয়া দেহ ধর্মের নিয়মিত ধারাকে বিপর্যস্ত করে। এই গুলিকে বলা হয় লক্ষণ (রোগ) । এখন যদি এই বিরুদ্ধ শক্তির প্রভাবকে, যাহা শুধু এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির হেতু নহে তাহা বজায় রাখিবার ও হেতু, অপসারিত করা যায় যাহা চিকিৎসক যখন একটি কৃত্রিম শক্তি প্রয়োগ করেন, যে কৃত্রিম শক্তি জীবনী শক্তিকে সর্বাপেক্ষা সদৃশ উপায় (হোমিওপ্যাথিক ঔষধ) পরিবর্তিত করতে পারে এবং যাহা ক্ষুদ্রতম মাত্রায় শক্তিতে প্রাকৃতিক পীড়া অপেক্ষা অধিকতর, তাহা হইলে জীবনীশক্তির উপর মূল অনিষ্টকারী শক্তির প্রভাব বলবত্তর সদৃশ কৃত্রিম রোগের কার্যকালে নষ্ট হইয়া যায়। তখন আর জীবনীশক্তির উপর কোন দুষ্ট প্রভাব থাকে না—তাহা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। যেমন বলা হইয়াছে সেই ভাবে যদি নির্বাচিত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ঠিকমতো প্রয়োগ করা হয়, তাহা হইলে সদ্যোবূদ্ধিপ্রাপ্ত অচির প্রাকৃতিক পীড়া—যাহাকে দমন করিতে হইবে—-কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অজ্ঞাতসারেই অন্তর্হিত হইবে। আরও পুরাতন, অধিকতর চিররোগ সমস্ত অস্বাচ্ছন্দ্য সহ তদপেক্ষা কিছু বিলম্বে একই ঔষধের উচ্চতর শক্তির কয়েকমাত্রা ব্যবহারে কিংবা অপর কোন সদৃশতর হোমিওপ্যাথিক ওষুধে প্রশমিত হইবে। অজ্ঞাতসারে সর্বদা দ্রুত পরিবর্তন ভিতর দিয়া স্বাস্থ্য ও আরোগ্য ফিরে আসে। জীবনীশক্তি আবার ব্যাধিমুক্ত হইয়া পূর্বের ন্যায় দেহের সুস্থ প্রাণ প্রিয়া পরিচালনা করিতে সমর্থ হয়, বল ফিরিয়া আসে।
#সূত্রঃ ১৪৯। দীর্ঘদিনের ব্যাধির (বিশেষত যেগুলি জটিল প্রকৃতির) আরোগ্যের জন্য অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সময় লাগে। বিশেষ করিয়া এলোপ্যাথির আনাড়ি চিকিৎসার সহিত আরোগ্যবিহীন প্রাকৃতিক পীড়ার সংমিশ্রণে যে সকল চিররোগের সৃষ্টি হয় তাহাদের আরোগ্যের জন্য আরও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। নির্লজ্জভাবে রোগীর বলশক্তি ও রসরক্তাদি অপহরণের (শিরাকর্তন, জোলাপ প্রভৃতি), দীর্ঘকালব্যাপী বেশি মাত্রায় প্রচন্ড ঔষধসমূহ ব্যবহারে—যাহা অনুরূপ ব্যাধিতে কার্যকরী হইয়াছে বলিয়া অসার মিথ্যা কল্পনার উপর ভিত্তি করিয়া প্রদত্ত হইয়া থাকে—এবং অনুপযুক্ত ধাতব জলে স্নান প্রভৃতির ন্যায় যে সকল প্রধান ব্যবস্থা এলোপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করিয়া থাকেন তাহলে সেই সকল ব্যাধি আরোগ্যের বাহিরে চলিয়া যায়।