Ammonium carbonicum (অ্যামোনিয়াম কার্বোনিকাম) গুরুত্বপূর্ণ রুব্রিকসহ

১০৬.১। Ammonium carbonicum (অ্যামোনিয়াম কার্বোনিকাম)।
DHMS (3rd year).
♣ সমনামঃ হাটশার্ন, অ্যামন কার্ব ।
কমননামঃ স্মেলিং সল্ট ।
♣ মায়াজমঃ সোরিক
♣ সাইডঃ ডানদিক, ওপরে ডানদিক, নিচে বামদিক, ডানদিক হতে বামদিক ।
♣ কাতরতাঃ শীতকাতর ।
♣ উপযোগিতাঃ যাদের রক্তস্রাবের প্রবণতা, রক্তে তরলতা, লাল রক্তকণিকার ভাগ অল্প, ক্ষতে পচন ধরে তাদের পক্ষে উপযোগী । হৃষ্টপুষ্ট, মোটাসোটা, থলথলে, মেদপূর্ণ ও লাল চামড়া বিশিষ্ট স্ত্রীলোক- যারা বসে বসে দিন কাটায় তাদের বিভিন্ন অসুখে আবার স্ত্রীলোকেরা যারা কোমলাঙ্গী, হাতের কাজে স্মেলিং সল্টের শিশি রাখেন এবং শীতে একটুতেই সর্দিতে ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে উপযোগী ।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ হার্ট, রক্ত সঞ্চালন, রক্ত, শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া, ফুসফুস, ব্রঙ্কাই বা বায়ুনালি, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি, স্নায়ুমণ্ডল ।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ অ্যামন কার্ব, একটি ডানপাশীয় এবং শিরাসংক্রান্ত ওষুধ। অনেক লক্ষণের মাঝে অক্সিজেনের সংযোগ বিদ্যমান । একই সাথে এটি একটি শীতকাতর মেডিসিন তার সাথে ঠাণ্ডাযুক্ত বাতাসের প্রতি অত্যানুভূতি, বৃদ্ধি আদ্র, ঝড়োহাওয়া; গা ধোলে; শীতল পুলটিস থেকে; উপশম গরমে ।
♣ ফিজিওলজিক্যাল কাজঃ অ্যামোনিয়াম সল্টে শৈষ্মিক ঝিল্লি ভীষণভাবে আক্রান্ত হয় এবং টিস্যুগুলো অত্যন্ত প্রদাহযুক্ত হয়। প্রদাহ এতো প্রবল হয় যে,সামান্য জ্বলন হতে আরম্ভ করে শৈষ্মিক ঝিল্লিতে প্রদাহ বিস্তার করে শৈষ্মিক ঝিল্লির চামড়া ধ্বংস করে ফেলে এবং ক্ষত উৎপন্ন করে ।
♣ সারসংক্ষেপঃ রক্তস্রাব প্রবণতাযুক্ত, হৃষ্টপুষ্ট, মোটাসোটা, থলথলে ও মেদপূর্ণ । কষ্টকর শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে হৃদপিণ্ডের দুর্বলতা সে সাথে বুকে শীতলতা ও ডুবে যাওয়ার অনুভূতি। ঋতুস্রাব চলাকালে, আহারকালে, আর্দ্র আবহাওয়ায় ও ধৌতকালে বাড়ে । জাগরণে, গরমে ও মুক্ত বায়ুতে উপশম। ভুলোমন, অন্যমনষ্ক, উৎকণ্ঠা, ভ্রান্ত বিশ্বাস, অবাধ্যতা ও অপরিচ্ছন্নতা । খোলা বাতাসে বিতৃষ্ণা ও গোসলে ভীতি। রাতে নাক বন্ধ হয়ে যায়। প্রাতঃকালে মুখ ধুয়ার সময় নাক দিয়ে রক্তস্রাব । শরীরের যাবতীয় যন্ত্রের ভারবোধ ।
♣ অনুভূতিঃ
* মাথার শিথিলতার অনুভূতি যেনো এটি একপাশ থেকে অপর পাশে পড়ে যাবে, মাথা যেভাবেই নড়াচড়া হোক না কেন । মাথার খুলির মাঝে মস্তিক যেনো নড়াচড়া করছে ।
* পাকস্হলীর পূর্ণতবোধ প্রধানতঃ খাওয়ায় পরে । পাকস্থলীতে জ্বালার অনূভূতি ।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ
১) ক্যানসারজাত আরক্ত জ্বর সে সাথে/একই সাথে লালাস্রাব বেরোয় ।
২) শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাপ্রাপ্ত, অবরুদ্ধ সে সাথে শোথাবস্হা।
৩) কষ্টকর শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে হৃদপিণ্ডের দুর্বলতা সে সাথে বুকে শীতলতা ও ডুবে যাওয়ার অনুভূতি ।
< বৃদ্ধিঃ পূর্বাহ্নে, সন্ধ্যায়, বিকেলে, ধৌতকালে, ঠাণ্ডা লেগে, ধোয়ার কাজ করলে, গোসলে, কর্ষাকালে, ওপর দিকে ওঠলে, ভেজা জিনিস লাগালে, ঋতুস্রাব চলাকালে, মেঘলা দিন, আহারকালে, খাবার পরে, মিষ্টান্নে, সঞ্চালনে, ভোর ৩টা থেকে ৫টা, দাঁত চাপনে স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায়, কাপড় কাঁচলে, আর্দ্র আবহাওয়ায়, ঠাণ্ডা ও খোলা বাতাসে, আলাপ-আলোচনায়, শুয়ে থাকলে উপশম পরে বাড়ে, ডানপাশে শুলে ।
> হ্রাসঃ গরমে, চাপে, গ্রীষ্মকালে, একপাশে চেপে শুলে, আক্রান্ত পাশে শয়নে, পেটের শূল বেদনা শয়নে, ওপুড় হয়ে শুলে, জাগরণে, শুষ্ক আবহাওয়ায়, আহারে, বিছানায় শুলে, উনুনের গরমে, মুক্ত বায়ুতে ।
♣ কারণঃ কাঠ-কয়লার বাষ্প, সাপ বা পোকা-মাকড়ের কামড়, দিনের অধিকাংশ কোনো কাজ-কর্ম না করে শুয়ে বসে সময় যাপন, ঠাণ্ডায় অনাবৃত অবস্হায়, আর্দ্র ও ঝড়ো আবহায়ায় ।
♣ ইচ্ছাঃ মদ জাতীয় পানীয়, অম্ল, মিষ্টি, রুটি, ঋতুস্রাবকালে ঠাণ্ডা জাতীয় পানীয় ।
♣ অনিচ্ছাঃ দুধ।
♣ শত্রুভাবাপন্নঃ ল্যাকেসিস।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ আর্নিকা, ক্যাম্ফ, হিপার, ল্যাকে ।
= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা অ্যামোনিয়াম কার্বোনিকাম প্রয়োগ করতে পারবো।
গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুব্রিকঃ
১) অবাধ্যতা (Disobedience)- A= ট্যারেন্টু। B= অ্যামন-কা, চায়না, ডিজি, লাইকো । C= অ্যাকোন, অ্যাগ্নাস, অ্যামন-নি, আর্নি, ক্যান্থা, ক্যাপসি, কস্টি, গুয়াই, নাই-অ্যাসি, নাক্স-ভ, ফস, স্পাইজে, সালফ, ভায়োলা-ট্রা ।
২) বাইরে যেতে বিতৃষ্ণা (Going out, aversion to) B= সাইক্লে । C= অ্যামন-কা, অ্যান্হেমি, ক্লিমে, হাইড্রা।
৩) কুৎসা করার প্রবৃত্তি (Slander, disposition to)-/মিথ্যা দোষারোপ (Calumniate)- B= নাক্স-ভ । C= অ্যামন-কা, অ্যানাকা, আর্স, বেল, বোরা, হায়োস, ইপি, লাইকো, নাই-অ্যাসি, পেট্রো, সিপি, স্ট্যামো, ভিরেট ।
৪) কখনোই কৃতকার্য হয় না ( Succeeds, never) – C= অ্যামন-কা, অ্যাসের, অরাম, ক্যান্থা, মিউ-অ্যাসি, ন্যাট্র-কা, ন্যাট্র-সাল, নাক্স-ভ।
৫) বন্ধুজনোচিত নয় এবূপ মেজাজ ( Unfriendly humor) – C= অ্যামন-কা, ম্যাগ-মি, প্ল্যাটি।
৬) গোসলে ( Bathing) ভীতি- A= অ্যামন-কা, অ্যান্টি-ক্রু, ক্লিমে, সোরিন, রাস, সিপি, স্পাইজে, সালফ।
৭) গোসলে বাড়ে- A= অ্যামন-কা, অ্যান্টি-ক্রু, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-সাল, ক্লিমে, রাস, সিপি, সালফ।
৮) আর্দ্র আবহাওয়া বাড়ে- A- অ্যামন-কা, আর্স, ব্যাডি, ক্যাল্ক, ক্যাল্ক-ফস, কলচি, ডালকা, মেডো, ন্যাট্র-সাল, নাক্স-ম, পাইরো, রডো, রাস, সাইলি, টিউবার ।
৯) হিমাঙ্গাবস্হা (Collapse)- A= অ্যামন-কা, আর্স, কার্বো-সাল, কার্বো-ভে । B= আর্স-হাই, কার্বো-অ্যাসি, ক্রোটেল, কুপ্রা, লরো, মেডোর, ফস, সিকেলি ভিরেট।
১০) আহারকালে বাড়ে- A= অ্যামন-কা, কার্বো-অ্যানি, কার্বো-ভে, কোনি, ক্যালি-কা, নাই-অ্যাসি, সালফ ।
১১) আলস্য (Lissitude)- A= অ্যালু, অ্যামন-কা, অ্যাপিস, অ্যারেনি, ক্যালাডি, ক্যাল্ক, কার্বো-সাল, কোনি, ক্রোটেল-ক্যাস্ক, কুপ্রা, ফেরাম, জেলস, গ্র্যাফ, ল্যাকে, ফস-অ্যাসি, পিক্রি-অ্যাসি, রুটা, স্যাঙ্গুই, সাইলি, সাল-অ্যাসি, ট্যারেন্টু ।
১২) ঋতুস্রাবকালে- A- অ্যামন-কা, আর্জ-নাই, বোভি, কার্বো-সাল, ক্যামো, গ্র্যাফ, হায়োস, ক্যালি-কা, ম্যাগ-কা, নাক্স-ভ, পালস, সিপি, সালফ, জিঙ্ক।
১৩) শিউরে ওঠা ( Shrivelling) – C= অ্যামন-কা, অ্যাগ্নাস, আর্নি, চায়না, কুপ্রা, মার্ক, রডো, ভিরেট, জিঙ্ক।
১৪) ভেজালাগা: আবহাওয়ায় (Weather)- A= অ্যামন-কা, আর্স, আর্ন-আই, ব্যাডি, ক্যাল্ক, ডালকা, ন্যাটো-হ, ন্যাট্র-সাল, নাক্স-ম, পালস, রডো, রাস।
১৫.১) কথা বলা: ঘুমের মাঝে গোপন কথা বলে দেয়-C= অ্যামন-কা, আর্স ।
১৫.২) কথা বলা: ঘুমের মাঝে জাগাবস্হায় যা চিন্তা করছিলো তাই বলে- C=অ্যামন-কা।
#সংকলনে: ডা.এইচ.এম.আলীমুল হক
ডিএইচএমএস (বিএইচবি), কিউএইচসিবি (বিইউবি)
চেম্বার: আলহক্ব হোমিও ফার্মেসী, মৌচাক, মিজমিজি
সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ।
চিকিৎসা বিষয়ক পরামর্শের জন্য ১০০টাকা বিকাশ করুন এই নাম্বারে ০১৯১৬-৫১১ ৩৩৭ (পার্সনাল)। তারপর কল করুন এই নাম্বারে: 01816-511337 (সকাল ৯.৩০ থেকে রাত ৯.৩০ পর্যন্ত নামাজের সময় ছাড়া)