বেলেডোনা (Belladona)

DHMS (1st year).
♣ সমনামঃ এটরোপা বেলেডোনা, ডেডলি নাইট সেড, বিউটিফুল লেডি।
♣ মায়াজমঃ সোরিক, টিউবারকুলার, সিফিলিটিক।
♣ সাইডঃ ডানপাশ, ওপরে বামপাশ নিচে ডানপাশ, ডানপাশ হতে বামপাশ।
♣ কাতরতাঃ শীতকাতর।
♣ উপযোগিতাঃ রক্তপ্রধান ধাতু বিশিষ্ট ব্যক্তি, হৃষ্টপুষ্ট, মোটাসোটা, হাস্যময়, প্রফুল্ল, প্রাণবন্ত, সুন্দর চেহারা। পিত্ত, রস ও রক্তপ্রধান ধাতুর লোক যারা সুস্হ অবস্হায় ভাবভঙ্গী ও চলাফেরায় সজীবতা বিদ্যমান ও আমেদপ্রিয়। কফ ও পিত্তপ্রধান ধাতুবিশিষ্ট। মোটা স্ত্রীলোক ও শিশু যাদের পাতলা চুল, গায়ের রঙ ফর্সা, অনূভূতিপ্রবণ, স্মায়ুবিক, টিউবারকুলার ধাতুযুক্ত, একটুতেই সর্দি-কাশি লাগে, চুল কাটার পরে বা ঠাণ্ডা বাতাসে চড়লে টনসিল প্রদাহ হয় (অ্যাকোন, হিপার, রাস)।
♣ ক্রিয়াস্থলঃ মস্তিষ্ক, স্নায়ুকেন্দ্র, রক্তবাহিনালী, কৈশিকনালী, শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী, চক্ষু, মুখ, গহ্বর, গলদেশ, গাত্রদেশ, গাত্রচর্ম, ডানদিক, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস।
♣ বৈশিষ্ট্যঃ বেলেডোনার ব্যথা নিচের দিকে ধাবিত হয় যেমন মাথা থেকে দূরে। সাইলিসিয়া ও জেলসের ব্যথা পিঠে ওপর দিকে ওঠে। স্হুলমাত্রার ব্যবহারে এর দ্বারা হৃদপিণ্ডের (নিউমোগ্যাস্ট্রিকের) পক্ষাঘাত, সিমপ্যাথেটিকের শক্তি বৃদ্ধি, হৃদপিণ্ডের ক্রিয়া দ্রুত এবং নাড়ি পূর্ণ ও বেগবতী হয়।
♣ সারসংক্ষেপঃ হৃষ্টপুষ্ট, মোটাসোটা, হাস্যময়, প্রফুল্ল, প্রাণবন্ত, পিত্ত, রস ও রক্তপ্রধান ধাতুর লোক। উত্তাপ, আরক্তিমতা, দপদপকর ; ঢেউয়ের মতো অনুভূতি, জ্বালা, স্পর্শকাতরতা ও সংবেদনশীলতা। ব্যথা হঠাৎ আসে হঠাৎ যায়। অপরাহ্নে, সন্ধাকালে, বায়ু প্রবাহে, ঠান্ডা লাগালে পরে, সঞ্চালনে, ঘুমের শুরুতে ও ঘুমের সময়ে, স্পর্শে ও হাঁটলে বাড়ে। গরম ঘরে, অন্ধকারে, শুয়ে থাকলে ও উনুনের গরমে কমে। উৎকন্ঠা, দংশনে প্রবৃত্তি, খিটখিটে, অস্থিরতা ও স্নায়বিকতা, হঠাৎ চকিত হয়, প্রলাপ, ভ্রান্তবিশ্বাস ও ভয়। চুল কাটলে, সূর্যে, ঘাম চাপা পড়ায়, ঠান্ডায় রোগোৎপত্তি। জ্বরে শীত, উত্তাপ ও ঘামাবস্হাগোলো পর্যায়ক্রমে আসে।
♣ অনুভূতিঃ ১) যখন চোখ বন্ধ করে তখন উদ্ভট দৃশ্য দেখে। ২) দপদপকর মাথা ব্যথা গুলিবেঁধামতো অনুভূতির সাথে শেষ হয়। ৩) পড়ে যাওয়ার অনুভূতিতে নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়।
♣ ক্রম ও সহচর লক্ষণঃ ১) ঘুমের মাঝে প্রলাপজাতীয় কথা বলে। ২) ভয়াবহ উদরাময় ও বমি সাথে মাথাব্যথায় চেহারা লাল হয়ে যায়। ৩) জ্বরে শীত, উত্তাপ ও ঘামাবস্হাগুলো পর্যায়ক্রমে আসে।
< বৃদ্ধিঃ অপরাহ্নে, সন্ধাকালে, বায়ু প্রবাহে, ঠাণ্ডা লাগালে পরে, মাথায় ঠাণ্ডা লাগালে, ঝাঁকুনি লাগায়, সঞ্চলনে, ঘুমের আগে, ঘুমের শুরুতে ও ঘুমের সময়ে, সূর্যালোকে থাকার ফলে, গ্রীষ্মকালে, স্পর্শে, হাঁটলে, বায়ুতে, ঠাণ্ডা বাতাস, চুল কাটলে, আলো, আলোকোজ্জ্বল ও চকচকে পদার্থের দিকে তাকালে (স্ট্যামো, লাইসিন), মস্তক অনাবৃত রাখলে, ঘামের পর, শুয়ে থাকলে, উনুনের গরমে কমে।
> হ্রাসঃ হেলান দেয়ার মতো অবস্হায় থাকলে, মাথায় চাপ দিলে উপশম, হাল্কা আচ্ছাদনে, বিছানার বিশ্রামে, সোজা হয়ে দাঁড়ালে, গরম ঘরে, অন্ধকারে, শুয়ে থাকলে, শুয়ে থাকার পরে, একপাশে চেপে শুলে, ব্যথাযুক্ত পাশে শুলে, ব্যথাশূন্য পাশে শুলে, চুম্বক শক্তিতে, নিচে বসতে গেলে, উনুনের গরমে, মদে, আক্রান্ত অঙ্গে হাত রাখলে, ঋতুস্রাবকালে।
♣ কারণঃ চুল কাটলে, সূর্যে, ঠাণ্ডা খোলা বাতাসে, ঠাণ্ডায় মাথা খোলা রাখলে, মাথা ভেজা থাকলে, রোদ লাগলে, মাংসের কাবাব বিশেষ, ঘাম চাপা পড়া।
♣ ইচ্ছাঃ লেবু, লেবুর রস, গরম পানীয়, দুষ্প্রাচ্য দ্রব্য, শীতল জলের প্রবল তৃষ্ণা, আলো পেতে।
♣ অনিচ্ছাঃ মাংস, খাদ্য, তরল পদার্থ, অম্ল, দুধ, কফি, বীয়ার।
♣ ক্রিয়ানাশকঃ বৃহৎ মাত্রার কুফলে- ভ্যাজিটেবল অ্যাসিড, সবুজ চা, কফিয়া, হায়োস। ক্ষুদ্র মাত্রার কুফলে- ক্যাম্ফ, কফি, অরাম-ট্রি, অ্যাট্রোপি চায়না, কুপ্রা, ফেরাম, হায়োস, জ্যাবুরান্ডি, মার্ক, ওপি, প্লাটি, প্লাম্বা। অ্যাকোন, হিপার, ব্রায়ো, পালস।
♣ শত্রুভাবাপন্নঃ অ্যাসিড-অ্যাসেটিক, ভিনেগার।
♣ প্রয়োগঃ ১) প্রদাহের প্রাথমিক অবস্হায় একোনাইটি, প্রদাহটি স্হান পরিগ্রহ করলে বেলেডোনা এবং পুজঁসঞ্চার আরম্ভ হলে মার্কারি ও হিপার প্রয়োজন হয়। ২)তরুণ রোগে পুনঃ পুনঃ প্রয়োগ করতে হয়। ৩) ক্যাল্কেরিয়া বেলেডোনার অনুপূরক এবং ক্রনিক। পুনঃ পুনঃ বেলেডোনার লক্ষণ উপস্হিত হলে- ক্যাল্কেরিয়া-কার্ব ব্যবহার করবে।
= উপরোক্ত লক্ষণ সাদৃশ্যে যে কোন রোগেই আমরা বেলেডোনা প্রয়োগ করতে পারবো।
লেখক-Dr. Moin Uddin
সূত্র-অনলাইন কালেকশন
ডা. এইচ এম আলীমুল হক, আলহক্ব হোমিও ফার্মেসী, মুক্তিস্মরণী, চিটাগাংরোড, শিমরাইল মোড়, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ। ০১৯২০-৮৬৬ ৬১০