টিউবারকুলিনাম (Tuberculinum)

#সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
১। রোগীর চেহারা গৌরবর্ণ, দেহ ক্ষীণ, বক্ষঃপাঞ্জর কবুতরের বুকের ন্যায়, ভ্রুদ্বয় যুক্ত, বয়স অপেক্ষা বেশি বুদ্ধিমান।
২। পরের মনে ব্যথা দেয়, মা বাবা ভাই বোনের উপর দরদের অভাব, সর্প ও কুকুর বিষয়ক স্বপ্ন দেখে, যদি পরিবারের ভিতর কাহার ও যক্ষ্মা রোগের ইতিহাস থাকে।
৩। একজিমা যখন রোগীর সর্বদেহ আবৃত করে রাখে, তখন ভয়ানক চুলকানী হয়। তা থেকে আঁশের ন্যায় জিনিস বের হয়। একজিমা সাধারণত কানের পশ্চাতে চুলের ভিতর, চামড়ার ভাঁজে ভাঁজে হয়।
৪। তীব্র মাথার যন্ত্রণা যেন একটি লৌহ বেস্টনী দ্বারা মস্তক বেষ্টিত আছে এইরূপ বোধ। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীর মাথা ধরা, যদি মানসিক পরিশ্রমের জন্য।
৫। স্তনের টিউমার, সবসময় শীত শীত ভাব, মাংস খেতে ইচ্ছা থাকে না, ঠান্ডা দুধ চায়।
#টিউবারকুলিনামের রোগীরা দেখতে কেমন হবে?
(১) লম্বা। (২) হালকা পাতলা দেহ। (৩) বুকটা সংকীর্ণ, কবুতরের বুকের মতো। (৪) এনিমিক। (৫) গৌর বর্ণ। (৬) ভ্রু দুটি যুক্ত। (৭) ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের চুলে জটা। (৮) ঠোঁট রক্তবর্ণ (বেল, ল্যাকেসিস, সালফার)। (৯) পেট জয়ঢাকের মতো। (১০) এরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বাড়ন্ত প্রকৃতির হয়। (১১) চোখে চশমা থাকতে পারে কারণ এদের ঘন ঘন চশমা বদলাতে হয় ।
# টিউবারকুলিনামের কিছু নির্দেশক লক্ষণ:
১) লক্ষণসমূহ বারবার পরিবর্তিত হয়, একটি অঙ্গ আক্রমণ করে ,পরে সেটি কমে গিয়ে অন্য অঙ্গে আক্রমণ করে।
২) লক্ষণগুলো হঠাৎ আসে হঠাৎ যায়।
৩) শিশুদের মধ্যে অকালপক্কতা দেখা যায়।
৪) শারীরিকভাবে দূর্বল, সহজেই/এমনকী কোন কারণ ছাড়াই ক্লান্ত হয়ে যায়।
৫) কাজকর্ম করতে চায় না।
৬) পরিবর্তনশীল মানসিকতা, একারণে এদেরকে সন্তুষ্ট করা কঠিন ।
৭) পরিবর্তনশীল মানসিকতার জন্য ঘনঘন চাকরি বদলায়, সম্পর্ক বদলায়, বাসা বদলায়, স্থান বদলায়।
৮) মনমরাভাব, খারাপ ভাষায় কথা বলে, মানুষকে অভিশাপ দেয়, কসম কাটে ।
৯) প্রাণিভীতি, বিশেষ করে কুকুরকে, বিড়ালেও ভয়।
১০) সুনির্বাচিত ঔষধও কাজ করেনা।
১১) সামান্য কারণেই ঠান্ডা লাগে এবং গ্ল্যান্ড ফুলে যায় ।
১২) দ্রুত শুকিয়ে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল।
১৩) দুর্বলতা ও বাচলতা।
১৪) ক্ষুধা বেশি, রাতেও উঠে খায়, তারপরও শুকিয়ে যায়।
১৫) প্রচন্ড রাগ, রাগে ফেটে পড়ে।
১৬) প্রথম মাসিক স্রাব বিলম্বে হয়, প্রচন্ড বাধক ব্যথা হয়।
১৭) মহিলাদের ঋতুস্রাব নির্ধারিত সময়ের আগেই দেখা দেয়, প্রচুর পরিমাণে রক্ত যায় এবং তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত চলতে থাকে।
#ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড:
* টিউবারকুলিনামের রোগীদের পারিবারে টিবির ইতিহাস পাওয়া যায়, সেইসাথে শ্বাসকষ্ট একজিমা গলগন্ড ইত্যাদি থাকে।
# রোগীর অতীত ইতিহাস:
(১) বারবার ফোঁড়া হওয়ার ইতিহাস।
(২) বারবার ব্রঙ্কাইটিসের ইতিহাস।
(৩) ঘনঘন ডায়রিয়ার ইতিহাস।
(৪) বারবার চোখের পাতায় অঞ্জনী হওয়ার ইতিহাস।
(৫) ফুসফুস সংক্রমণের ইতিহাস যেমন-ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়া হওয়া।
(৬) বারবার টনসিলাইটিসে ভোগার ইতিহাস।
(৭) যক্ষা এবং টাইফয়েডে ভোগার ইতিহাস।
#ঘাম:
১। ঘাম-বেশি, বিশেষ করে রাতে।
২। বিছানায় প্রচুর ঘাম হয়, ফলে বিছানার চাদর এবং কাপড় পরিবর্তন করতে হয়।
৩। পদঘর্ম (সালফার, সাইলি)।
৪। মধ্য রাতের পরে, ঘুমের সময়, পরিশ্রমের পরে, জ্বরের উত্তাপবস্থায়, সামান্য পরিশ্রমে, ডায়রিয়ার সাথে, জ্বরের পরে, লেখার সময়, মানসিক পরিশ্রমে ঘাম হয়।
৫। ঘামগুলো আঠালো ঠান্ডা হয়ে থাকে, কাপড়ে হলুদ দাগ পড়ে, একাঙ্গীন ঘাম, পূতিগন্ধময় (fetid)।
৫। ঘামের সময় কেউ কেউ আচ্ছাদন রাখতে চায় আবার কারো কারো ক্ষেত্রে আচ্ছাদনে অনীহা দেখা যায় ।
#ঘুম:
১। এরা পেটের উপর ঘুমায় ।
২। মধ্যরাতের পর তারা ক্রমাগত শোয়ার অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে।
৩। মুখ বালিশে চেপে রেখে হাঁটুর উপর ঘুমায়।
৪। ঘুমের মধ্যে বেশি নড়াচড়া করে।
৫। অনেকে তন্দ্রালুতায় ভুগে, বিশেষ করে সকালে, দিনের বেলায় এবং আহারের পরে।
৬। কেউ কেউ অনিদ্রায় ভুগে, বিশেষ করে মধ্যরাত্রীর পরে, আরোগ্য চলাকালীন সময়ে, ক্ষুধা হতে, ঋতুস্রাবের পূর্বে, দুর্বলতা থেকে অনিদ্রায় ভুগে। নিদ্রাহীনতা খাওয়ার পর উপশম হয়।
৭। ঘুমিয়ে সতেজতা পায়না। মধ্য রাত্রিতে জেগে যায়। ভোর বেলায়, ভয় পেয়ে, ঘামের কারণে ঘুম ভেঙে যায় বা জেগে যায় ।
# লালা:-এদের লালা পড়ে, বিশেষ করে রাতে।
#স্বপ্ন:-
* স্বপ্নে এরা উদ্বিগ্ন হয়, কালো কুকুর দেখে, ঘুরে বেড়ায়, দুর্ভাগ্যের স্বপ্ন দেখে, সাপ দেখে, লাজুকতা দেখে, প্রাণবন্ত স্বপ্ন, শালীনতার ভানে ভরা স্ত্রীলোক(Prude) দেখে, মনোকষ্ট দেখে, বুক চাপা স্বপ্ন (Nightmares) দেখে।
#মল:-প্রাতঃকালীন উদরাময় বা দারুণ কোষ্ঠবদ্ধতা। মলত্যাগকালে বায়ু নিঃসরণ (এলো, আর্জ-নাই)।
#মূত্র:-প্রস্রাব এত কষ্টকর যে বেগ দিতে দিতে মল বের হয়ে পড়ে (এলুমিনা)। থেমে থেমে প্রস্রাব (কোনিয়াম)।
#ক্ষুধা:-অক্ষুধা বা অতিরিক্ত ক্ষুধা।খায় দায় শুকিয়ে যায়।
#পিপাসা:-পিপাসা বিদ্যমান।
#খাদ্য:
* ইচ্ছা- ঠান্ডা দুধপানের ইচ্ছা, যা সহ্য হয়না তা খাওয়ার ইচ্ছা। রসালো ফলমূল খাওয়ার প্রবণতা। মাংসে ইচ্ছা, ঠান্ডা দুধ প্রিয়, ঠান্ডা খাবার, আইসক্রিম, চকলেট, ডিম, বরফ, দুধ, লবণ, চিনি, মিষ্টি, গরম পানীয়, এলকোহল, কলা, ঘি।
* অনিচ্ছা- মাংসে অরুচি।
#কাতরতা:- উভয়কাতর, শীতকাতর।
#ঋতুস্রাব:
* জরায়ুর দুর্বলতাবশত বালিকারা যথাসময়ে ঋতুমতী হয়না, তৎপরিবর্তে শুষ্ক কাশি দেখা দেয়।
* ঋতুরোধ, মাসে দুইবার ঋতু।
* ঋতুস্রাব আরম্ভ হওয়ার সময় স্তনে দারুণ যন্ত্রণা ।
* ঋতু সম্বন্ধীয় নানাবিধ গোলযোগ ।
* স্রাবের সাথে যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়।
* স্রাবের দাগ ধুলেও উঠতে চায় না।
* রক্তস্রাব প্রবণতা, রক্তকাশ, রক্ত প্রস্রাব, রক্তভেদ, অতিরজঃ।
#ব্যথার ধরণ:- বাতের ব্যথা ঘুরে বেড়াতে থাকে। ব্যথা নড়াচড়ায় উপশম, উত্তাপ প্রয়োগে উপশম।
#হ্রাস:- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দারুণ ব্যথা বা কামড়ানি, গরমে উপশম; নড়াচড়ায় উপশম, সন্ধ্যায় বৃদ্ধি। খোলা বাতাসে রোগের উপশম।
#বৃদ্ধি:- গরম ঘরে থাকতে কষ্টবোধ, ঝড়বৃষ্টি বা জলো হাওয়া/বাতাস সহ্য হয়না। কোনরূপ ঠান্ডাই সহ্য হয়না। জ্বর বেলা ১০/১১-টায় বা যে কোন সময়ে বিশেষত সন্ধ্যায়। কাশি ডানপাশ চেপে শুলে বৃদ্ধি। মাথাব্যথা, ডানদিকে মাথাব্যথা। সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বৃদ্ধি; অধ্যয়ন বা মস্তিষ্ক পরিচালনায় বৃদ্ধি। আহার মাত্রই বমি। বিকালের দিকে নাড়ী দ্রুতগতি।
#উত্তেজককারণ:
১) দন্তোদগমনকালে উদরাময় অকস্মাৎ মেনিঞ্ছাইটিসে পরিণত হলে।
২) হাম-বসন্তের উদ্ভেদ চাপা পড়ে অকস্মাৎ রক্তাতিসার বা নিউমোনিয়া দেখা দিলে।
৩) পূর্বানুমান হতে অসুস্থততা।
৪) নীরব দুঃখ বা দুঃখ চাপা রাখার কারণে অসুস্থতা।
৫) ভালবাসায় ব্যার্থ হয়ে অসুস্থততা।
৬) মানসিক পরিশ্রমের কারণে অসুস্থততা।
#সতর্কতা:
১) ঘনঘন প্রয়োগ করা যায় না। ২) মূত্রযন্ত্র সংক্রান্ত ব্যাধিতে টিউবার ব্যবহারে সতর্কতা প্রয়োজন। যেখানে ক্ষুদ্রান্ত স্বাভাবিক কাজ করেনা সেখানে উচ্চশক্তি বিপদজনক।
লেখক- Fayek Enam
সূত্র- অনলাইন কালেকশন
ডা. এইচ এম আলীমুল হক, আলহক্ব হোমিও ফার্মেসী, মুক্তিস্মরণী, চিটাগাংরোড, শিমরাইল মোড়, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। ০১৯২০-৮৬৬ ৬১০